ধর্ম ও জীবন

তাফসিরুল কুরআন

প্রকাশিত হয়েছে: ২৬-০৪-২০১৯ ইং ০১:০৯:১৭ | সংবাদটি ৭৭ বার পঠিত

সূরা : বাক্বারাহ
[পূর্ব প্রকাশের পর]
(৬২) নিঃসন্দেহে যারা মুসলমান হয়েছে এবং যারা ইহুদী, নাসারা ও সাবেঈন (তাদের মধ্য থেকে) যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও কিয়ামত দিবসের প্রতি এবং সৎ কাজ করেছে, তাদের জন্য রয়েছে তার সওয়াব তাদের পালনকর্তার কাছে। আর তাদের কোনই ভয়-ভীতি নেই, তারা দুঃখিতও হবে না। (৬৩) আর আমি যখন তোমাদের কাছ থেকে অঙ্গিকার নিয়েছিলাম এবং তুর পর্বতকে তোমাদের মাথার উপর তুলে ধরেছিলাম এই বলে যে, তোমাদিগকে যে কিতাব দেয়া হয়েছে তাকে ধর সুদৃঢ়ভাবে এবং এতে যা কিছু রয়েছে তা মনে রেখো যাতে তোমরা ভয় কর। (৬৪) তারপরেও তোমরা তা থেকে ফিরে গেছে। কাজেই আল্লাহর অনুগ্রহ ও মেহেরবাণী যদি তোমাদের উপর না থাকত, তবে অবশ্যই তোমরা ধ্বংস হয়ে যেতে। (৬৫) তোমরা তাদেরকে ভালোরূপে জেনেছ, যারা শনিবারের ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘন করেছিল। আমি বলেছিলামÑ তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও। (৬৬) অতঃপর আমি এ ঘটনাকে তাদের সমসাময়িক ও পরবর্তীদের জন্য দৃষ্টান্ত এবং আল্লাহভীরুদের জন্য উপদেশ গ্রহণের উপাদান করে দিয়েছি। (৬৭) যখন মুসা (আ.) স্বীয় সম্প্রদায়কে বললেনÑ আল্লাহ তোমাদের একটি গরু জবাই করতে বলেছেন। তারা বলল, তুমি কি আমাদের সাথে উপহাস করছ? মুসা (আ.) বললেন, মুর্খদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে আমি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (৬৮) তারা বলেন, তুমি তোমার পালনকর্তার কাছে আমাদের জন্য প্রার্থনা কর, যেন সেটির রূপ বিশ্লেষণ করা হয়। মুসা (আ.) বললেন, তিনি বলেছেনÑ সেটা হবে একটা গাভী, যা বৃদ্ধ নয় এবং কুমারীও নয়Ñ বার্ধক্য ও যৌবনের মাঝামাঝি বয়সের। এখন আদিষ্ট কাজ করে ফেল। (৬৯) তারা বলল, তোমরা পালনকর্তার কাছে আমাদের জন্যে প্রার্থনা কর যে, তার রং কিরূপ হবে? মুসা (আ.) বললেন, তিনি বলেছেন যে, গাঢ় পীতবর্ণের গাভীÑ যা দর্শকদের চমৎকৃত করবে।
আনুষাঙ্গিক জ্ঞাতব্য বিষয় :
জ্ঞাতব্য : নীতি বা আইনের মর্ম সুষ্পষ্ট। আল্লাহ পাক বলেছেন যে, আমার দরবারে কোনো ব্যক্তির বিশেষ মর্যাদা নেই। যে ব্যক্তি বিশ্বাস ও কর্মে পুরোপুরি আনুগত্য স্বীকার করবে, সে পূর্বে যেমনই থাকুক না কেন, আমার নিকট গ্রহণযোগ্য এবং তার আমল পছন্দনীয় ও প্রশংসনীয়। আর এটাও সুস্পষ্ট যে, কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার পর ‘পূর্ণ আনুগত্য’ মুহাম্মদ (সা.) এর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে মুসলমান হওয়াতেই সীমাবদ্ধ। যার অর্থ এই যে, মুসলমান হবে, সে-ই পরকালে নাজাতের অধিকারী হবে। এখানে পূর্ববর্তী ধারণার উত্তর হয়ে গেল। অর্থাৎ, এতোসব অনাচার ও গর্হিক আচরণের পরেও কেউ যদি মুসলমান হয়ে যায়, তবে আমি সব মাফ করে দেব।
জ্ঞাতব্য : যখন হযরত মুসা (আ.) কে তুর পর্বতে তওরাত প্রদান করা হলো, তখন তিনি ফিরে এসে তা বনী-ইসরাঈলকে দেখাতে ও শোনাতে আরম্ভ করলেন। এতে হুকুমগুলো কিছুটা কঠোর ছিলো কিন্তু তাদের অবস্থানুযায়ীই ছিলো। এ সম্পর্কে প্রথম তারা এ কথাই বলেছিল যে, যখন স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা অমাাদেরকে বলে দেবেন যে, ‘এটা আমার কিতাব’ তখনই আমরা মেনে নেব। (যে বর্ণনা উপরে চলে গেছে)
মোটকথা, যে সত্তর জন লোক মুসা (আ.) এর সাথে গিয়েছিল, তারাও ফিরে এসে সাক্ষী দিল। কিন্তু তাদের সাক্ষ্যের সাথে একথাটিও নিজেদের পক্ষ হতে সংযুক্ত করে দিল যে, আল্লাহ তা’আলা সর্বশেষ একথাও বলে দিয়েছেন, ‘তোমরা যতোটুকু পার আমল কর, আর যা না পার, তা আমি ক্ষমা করে দেব।’
তখন তা কতকটা তাদের স্বভাবজাত দুরন্তপনা ও হঠকারিতা, হুকুমগুলোর কিছুটা কঠোরতা এবং কতকটা এ সংযোগের ফলে তাদের এক সুবর্ণ সুযোগ হয়ে গেল। তারা পরিষ্কারভাবে বলে দিল, আমাদের দ্বারা এ গ্রন্থের উপর আমল করা সম্ভব হবে না। ফলে আল্লাহ পাক ফেরেশতাদেরকে হুকুম করলেন, তুর পর্বতের একটি অংশ তুলে নিয়ে তাদের মাথার উপর ঝুলিয়ে দাও এবং বল, হয় কিতাব মেনে নাও, নইলে এক্ষুণি মাথার উপর পড়ল। অবশেষে নিরুপায় হয়ে মেনে নিতে হলো।
[চলবে]

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT