পাঁচ মিশালী

স্মৃতির আয়নায় সামাদ আজাদ

অধ্যাপক মো. আহবাব খান প্রকাশিত হয়েছে: ২৭-০৪-২০১৯ ইং ০০:০৭:৫৩ | সংবাদটি ১১৭ বার পঠিত

আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ আজাদ ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১, সুনামগঞ্জ-৩ ও সুনামগঞ্জ-৪ এই ৩টি আসন থেকে নির্বাচন করেন। এই ৩টি আসনেই নেতা বিজয়ী হতে পারেননি। এরশাদ সরকারের ওই সময়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী সিলেট-১ ও সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিজয়ী হয়ে সিলেট-১ আসন রেখে সুনামগঞ্জ-৩ আসন ছেড়ে দেন। সুনামগঞ্জ-৩ আসন জগন্নাথপুর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ নিয়ে গঠিত। ওই আসনে উপ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ আজাদকে ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ করেন অপরদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসাবে হুমায়ূন রশীদ চৌধুরীর ভাই ফারুক রশীদ চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। আব্দুস সামাদ আজাদ ও ফারুক রশীদ চৌধুরী ভোটারদের মন জয় করতে বিভিন্নভাবে কৌশল অবলম্বন করেন। সামাদ আজাদ সামরিক শাসনে জনগণের কোন উন্নয়ন হয় না, তা তুলে ধরেন। অপর দিকে হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী যেভাবে এরশাদ সাহেবকে জগন্নাথপুর এনে জগন্নাথপুর বালিকা বিদ্যালয়কে সরকারি করেছেন একইভাবে জগন্নাথপুর বালক বিদ্যালয়কে সরকারি করবেন এভাবেই ফারুক রশীদ চৌধুরী প্রতিশ্রুতির উপর প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণকে কাছে টানার চেষ্টা করেন।
সামাদ আজাদ সেই সময় জনগণের নেতা। তিনি জনগণকে সাথে নিয়ে সভা সমাবেশ করে যাচ্ছেন, আর স্বৈরাচারী সামরিক সরকারের কার্যকলাপের কথা তুলে ধরে এ থেকে পরিত্রাণ পেতে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে তাঁকে নির্বাচিত করার আহবান জানান। সামাদ আজাদ ওই নির্বাচনে রিবারবেল্ট বলে পরিচিত ফেছিবাজার থেকে সভা সমাবেশ-এর উপর জোর দেন। নির্বাচনের মাঝামাঝি সময়ে সিলেট থেকে শেরপুর হয়ে কুশিয়ারা নদীপথে সামাদ আজাদ তাঁর নির্বাচনী এলাকা ফেছিবাজার, স্বাধীনবাজার, রাণীগঞ্জবাজার ও রৌয়াইলবাজারে জনসমাবেশ করবেন। সিলেট থেকে তাঁর সাথে গেলেন এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, আমি অধ্যাপক মোঃ আহবাব খান, এস.এম কাদের, কবির উদ্দিন আহমেদ ও আব্দুল কাইযুম মোশাহিদ। শেরপুর নামার সাথে সাথে আওয়ামী লীগ নেতা চেয়ারম্যান কবির ভাই, মোস্তাকুর রহমান মফুর নেতাকে স্বাগত জানিয়ে আওয়ামী লীগ অফিসে নিয়ে যান। শেরপুর আওয়ামী লীগ অফিসে হালকা নাস্তা করেন। নেতা ও তাঁর সফরসঙ্গী এখান থেকে বিদায় নিয়ে মিসবাহ সিলেট চলে যান। কবির ভাই ও মফুর নেতাকে বললেন লিডার আপনার নৌকা রেডি। নেতা বললেন আর দেরি নয়, এখন উঠি বলেই তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে নৌকায় উঠলেন। নৌকায় উঠেই বললেন এ নৌকা ইঞ্জিনের নৌকা নয়, যেন অত্যাধুনিক লঞ্চ, এটা আওয়ামীলীগ ও মফুরের উচ্চতর মনমানসিকতা। আর অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা কবির ভাই আমাদের নেতাকে এক ছড়ি বড় সাইজের পাকা চাম্পা কলা দিলেন রাস্তায় খাওয়ার জন্য। নেতা কলার ছড়ি দেখে বললেন কবিরের কাজ সে জানে, আমি শেরপুরের চাম্পা কলা খুবই পছন্দ করি। আল্লাহর নাম স্মরণ করে আমাদের নেতার নির্দেশে কুশিয়ারা নদী ভাটির দিকে নৌকার চালক নৌকা ছাড়লেন। আমি অধ্যাপক মোঃ আহবাব খান, এস.এম কাদের, মো. মোস্তাকুর রহমান মফুর, কবির উদ্দিন আহমেদ ও আব্দুল কাইয়ুম মোশাহিদ নেতাকে ঘিরে বসলাম। নেতা সামরিক শাসক এরশাদের শাসনের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
আব্দুস সামাদ আজাদের কাছ থেকে দেশ-বিদেশ-এর খবরাখবর শুনতে শুনতে ফেছিবাজারে নৌকা ঘাটে নৌকা থামলো। এখানে প্রবীণ নেতা সিদ্দিক ভাই, সৈয়দ আতাউর ভাই ও স্থানীয় নেতা মোঃ হাফিজুর রহমান লাকধন ভাইয়ের নেতৃত্বে বিরাট মিছিল নিয়ে নেতাকে ফেছিবাজারের আওয়ামী লীগ অফিসে নিয়ে যান। এখানে চা নাস্তার পর নেতা জনসমাবেশে যান। নেতাকে দেখেই হাজার হাজার লোক “সামাদ ভাইয়ের মার্কা কি নৌকা নৌকা” বলে নেতাকে স্বাগত জানান। তিনি মঞ্চে উঠে চতুর্দিকে হাত নেড়ে জনগণের অভিবাদনের জবাব দেন। ফেছিবাজারের সভায় সভাপতিত্ব করেন হাফিজুর রহমান লাকধন চেয়ারম্যান। জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জননেতা সামাদ আজাদ বলেন এরশাদের সামরিক শাসনে মানুষ আজ ভোটের ও ভাতের অধিকার থেকে বঞ্চিত। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠন করতে হলে আমাদের অনেক চড়াই-উৎরাই পাড়ি দিতে হবে, মনে রাখতে হবে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান আজ আমাদের মাঝে নেই, রেখে গেছেন তার আদর্শ ও অনুপ্রেরণা।
ফেছিবাজারে সভা শেষে আবার নৌকায়, এখানে সামাদ আজাদের সাথে যোগ দেন সিদ্দিক ভাই, সৈয়দ আতাউর ভাই, জিল্লুর রহমান খান ভাই ও হাফিজুর রহমান লাকধন চেয়ারম্যান। নৌকা কুশিয়ারা নদী দিয়ে চললো, কিছুক্ষণের মধ্যে নৌকা স্বাধীনবাজার ঘাটে ভিড়লো স্বাধীনবাজার ঘাটে এডভোকেট মোঃ আমিরুল ইসলামের নেতৃত্বে বিরাট মিছিল নিয়ে স্বাগত জানালেন। সামাদ আজাদ সরাসরি তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে মঞ্চে উঠলেন। স্বাধীনবাজারের নির্বাচনী সভায় সভাপতিত্ব করেন এডভোকেট মোঃ আমিরুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন সামাদ আজাদ, সিদ্দিক ভাই, সৈয়দ আতাউর রহমান ভাই, জিল্লুর রহমান খান ভাই ও হাফিজুর রহমান লাখধন চেয়ারম্যান।
এরপর রাণীগঞ্জের জনসভা শেষে আবারও নৌকায়, গন্তব্য রৌয়াইলবাজার। রৌয়াইলবাজারে হাজার হাজার জনতা নেতার বক্তব্য শোনার জন্য অপেক্ষা করছেন। নেতা রৌয়াইলে মঞ্চে সরাসরি উঠলেন এবং বললেন সন্ধ্যা হয়ে গেছে, বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করতে হবে। বলেই বললেন সিদ্দিক ও সৈয়দ আতাউর আমার সফর সঙ্গীদের মাঝ থেকে বক্তব্য রাখবে। এ পর্যায়ে সিদ্দিক ভাই ও সৈয়দ আতাউর ভাই বক্তব্য রাখলেন এবং বললেন নৌকায় আমাদের নেতাকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠাতে হবে, তবেই আমাদের নেতা জাতীয় সংসদের ভেতরে ও বাহিরে এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে পারবে।
আজ ২৭ এপ্রিল আব্দুস সামাদ- এর ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। আমিন।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT