সাহিত্য গ্রন্থালোচনা

আমার দৃষ্টিতে বাংলাদেশ

আবদুস সবুর মাখন প্রকাশিত হয়েছে: ২৮-০৪-২০১৯ ইং ০০:১৭:০৮ | সংবাদটি ৭৬ বার পঠিত

সবুজের বুকে লাল সূর্য খচিত একটি পতাকার গর্বিত দাবীদার আমরা। আমরা বিশ্বের বুকে সবচেয়ে সুন্দর দেশের বাসিন্দা। আমাদের দেশ স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। আমরা প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে উপভোগ করি এই দেশের অনিন্দ্য সুন্দর রূপ মাধুর্য্য। দেশপ্রেমিক প্রতিটি বাঙালিই এই দেশটির ভালো মন্দ, দুঃখ-কষ্ট আর সফলতা-ব্যর্থতা নিয়ে ভাবেন প্রতিনিয়ত। তেমনি একজন সৈয়দ নাজমুজ্জামান শামীম। তিনি নানা আঙ্গিকে তার প্রিয় জন্মভূমিকে নিয়ে গবেষণা করেছেন। আর সেগুলোই তিনি নিজের মতো করে লিখেছেন ‘আমার দৃষ্টিতে বাংলাদেশ’ শীর্ষক গ্রন্থে।
‘বাংলা শব্দের উৎপত্তি কিংবা ‘বাংলাদেশ’ নামকরণের ইতিহাস থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত নানা বিষয় ওঠে এসেছে এই গ্রন্থে। আর প্রতিটি বিষয়েই তিনি তার ব্যক্তি চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। যা অনেক ক্ষেত্রেই সর্বজনীন হয়ে ওঠেছে। তিনি যা বলার স্পষ্ট বলেছেন। যে কারণে তার বক্তব্যে কোন কোন মহলের গাত্রদাহও হতে পারে। কিন্তু যারা সোজাসাপ্টা স্পষ্টবাদী তাদের চিন্তায় কর্মে কোন আপসকামীতা থাকে না, কপটতা থাকে না; বরং থাকে সততা আর নিষ্ঠা। সৈয়দ নাজমুজ্জামান শামীম সেই ধরনের একজন ব্যক্তি বলেই মনে হয়। এ প্রসঙ্গে তার ‘বাংলাদেশ নামকরণ এবং সংক্ষিপ্ত ইতিহাস’ প্রবন্ধের কয়েকটি লাইন তুলে ধরা যায়। যেমন- ‘পাকিস্তানি বাহিনী উক্ত দুই দলের সদস্যদের নিয়ে নতুন ফন্দি আটলো। গঠন করলো শান্তি বাহিনী’ রাজাকার বাহিনী, আলবদর বাহিনী এবং আল শামস বাহিনী। বন্দুক তুলে দিলো তাদের হাতে। ধর্মের নামে মুখোশ পরা, পাকিস্তানের দোসর হিসেবে বাঙালি জাতির কাছে চিহ্নিত হলো। বন্দুক হাতে পেয়ে পাকিস্তানের পক্ষ হয়ে ওরা ঝাঁপিয়ে পড়লো স্বজাতির ওপর।’
লেখক প্রবাসে থেকেও জন্মভূমির উন্নয়ন অগ্রগতি নিয়ে যেমন ভাবছেন তেমনি নানা ধরনের সমস্যা নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন; যা তার প্রবন্ধগুলোতে পরিস্ফুট হয়েছে। ‘বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন’ প্রবন্ধে তিনি বলেন- ‘স্বর্ণলতার মতো যা কিছু হাতের কাছে পাচ্ছে তাকেই জড়িয়ে ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতি সামনের দিকে এগুচ্ছে।
জন্মলগ্ন থেকে বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট পরনির্ভরশীল ছিলো। বর্তমানে সেই অবস্থার অবসান ঘটিয়ে বাঙালি জাতি এখন স্বনির্ভর বাজেটের দিকে এগুচ্ছে।’ তেমনি আরেক জায়গায় তিনি দেশের সমসাময়িক রাজনীতি প্রসঙ্গে বলেন- ‘গণতন্ত্র এবং ভোটের প্রয়োগ সঠিক হলে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রকৃত নেতা পাওয়া যাবে এবং দেশ ও জাতির উন্নতির পথ সুগম হবে। সঠিক নেতৃত্ব পেলে দুর্নীতি নামক ক্যান্সার রোগের হাত থেকে বাঁচার সম্ভাবনা দেখা দেবে।’ এ প্রসঙ্গে তার আরেকটি উক্তি হচ্ছে-দুর্নীতি বিরোধী সংগ্রাম, স্বাধীনতা সংগ্রামের চেয়েও অনেক বড়। .... দুর্নীতি থেকে মুক্তি পেতে হলে দীর্ঘস্থায়ী সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।’ তাছাড়া, ধর্ম নিয়ে যারা রাজনীতি করে, যারা ধর্মের অপব্যবহার করে তাদের ব্যাপারেও লেখক স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করেছেন- ‘ইসলামের নামে স্বজাতিকে হত্যা না করে যদি ইসলামী রাজনীতিবিদরা বা চিন্তাবিদরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতেন তাহলে দেশ জাতি তথা ধর্ম সবই উপকৃত হতো।’
সৈয়দ নাজমুজ্জামান শামীম এর ৮০ পৃষ্ঠার গ্রন্থের প্রকাশক চৌধুরী আমীরুল হোসেন, পানজেরি কম্পিউটার, সিলেট।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT