সাহিত্য

রবীন্দ্রনাথ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

রতীশচন্দ্র দাস তালুকদার প্রকাশিত হয়েছে: ২৮-০৪-২০১৯ ইং ০০:১৯:৪৮ | সংবাদটি ৩২৯ বার পঠিত

বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষিত সম্প্রদায়ের একাংশের মধ্যে এ ধারণা প্রচলিত আছে যে, বিংশশতাব্দীর প্রথমার্ধে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর বিরোধিতা করেছিলেন। কেউ কেউ বই বা পত্র পত্রিকায় এবং ইদানীং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ব্যাপারে লেখালেখি করছেন আবার অনেকে সভাসমাবেশেও রবীন্দ্রনাথের ভূমিকা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করছেন। তবে যারা এ বিষয়ে লিখছেন বা বলছেন তারা কিন্তু রবীন্দ্রনাথের ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় বিরোধীতা concrete কোন প্রমাণ দিতে পারছেন না বা যারা এ ব্যাপারে বিভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন তাও গভীর পর্যালোচনা শেষে মিথ্যা বলে প্রমাণিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে ডঃ আকবর আলী খান অতি সম্প্রতি (জানুয়ারি ২০১৯) প্রথমা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত ‘দুর্ভাবনা ও ভাবনা রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে’ গবেষণামূলক বইয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। আবার অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রবীন্দ্রনাথ প্রসঙ্গ’ বইতে (অক্টোবর ২০১৪) রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য যুক্তিসহকারে খন্ডন করেছেন। ‘শোনা কথা’ বা hearsay বলে একটি কথা প্রচলিত আছে। যাচাই বাছাই না করে কোন কথা আমরা বাঙালিরা প্রায়ই বিশ্বাস করে থাকি। কেউ যদি বলে ‘চিলে কান নিয়ে গেছে’ তাহলে আমরা অনেকে সেটাও বিশ্বাস করি। কানটি স্বস্থানে আছে কিনা সেটা যাচাই করার চেষ্টাও করি না। রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধি ছিলেন এ কথাটি যারা বলেন তাদের ক্ষেত্রে এ বিষয়টি সত্য বলে মনে হয়। আবার সাম্প্রদায়িক অসূয়ায় আমরা সবাই কমবেশি আক্রান্ত। এটিও এক্ষেত্রে কাজ করে বলে প্রতীয়মান হয়।
১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকার অভিজাত সমাজের আমন্ত্রণে, রবীন্দ্রনাথ ঢাকা সফরে আসেন। সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম ছাত্ররা সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে রবীন্দ্রনাথকে উষ্ণ সম্বর্ধনা প্রদান করেন। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক আবুল ফজল লিখেছেন, ‘আমি আমার জীবনে ওরকম দ্বিতীয় সম্বর্ধনা দেখিনি- দেখিনি অতখানি আন্তরিকতা।’ তিনি আরও লিখেছেন- ‘কবি যখন ঢুকলেন তখন সমস্ত হল দন্ডায়মান- হল ঘরের প্রবেশ থেকেই কবির উপর শুরু হয়েছে পুষ্পবৃষ্টি। কবির আসন গ্রহণের পরও থেকে থেকে তাঁর উপর পুষ্প বৃষ্টি চলতে লাগল’। ১৯১৪-২০ সময়কালে ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে শিক্ষিত হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি অগ্রগণ্য গোষ্ঠী বিরোধিতা করেছিলেন এটা সত্য। অনেকে বলে থাকেন, রবীন্দ্রনাথও তাদের দলে ছিলেন। ডঃ আকবর আলি খান, ‘দুর্ভাবনা ও ভাবনা রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে’ বইএ বলেছেন- ‘রবীন্দ্রনাথ যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠায় বিরোধিতা করে থাকতেন তাহলে কোন দিনই মুসলিম ছাত্ররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ ধরনের উষ্ণ সম্বর্ধনার আয়োজন করতেন না। সম্ভবত, রবীন্দ্রনাথও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণ গ্রহণ করতেন না। সম্ভবত রীবন্দ্রনাথ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণ গ্রহণ করতেন না।’ এখানে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে যে, ১৯১৪-২০ সময়কালে হিন্দু বুদ্ধিজীবীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন এবং ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়। আবার ১৯২৬ সালে রবীন্দ্রনাথকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম ছাত্ররা প্রাণঢালা সম্বর্ধনা প্রদান করেন। রবীন্দ্রনাথ যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরোধিতাই করতেন তবে প্রতিষ্ঠার ঠিক পাঁচ বছরের মাথায় ঐ প্রতিষ্ঠানেরই ছাত্ররা এমন আড়ম্বরপূর্ণ ও উষ্ণ সম্বর্ধনা প্রদান করবে তা কি বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয়। এছাড়াও ১৯৩৬ সালের ২৯ জুলাই রবীন্দ্রনাথকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ডক্টর অব লিটারেচার’ পদবীতে ভূষিত করে এবং রবীন্দ্রনাথকে প্রদত্ত সার্টিফিকেটে তৎকালীন উপাচার্য এ এফ রহমান এবং নিবন্ধক নাজির উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষর করেন। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, সেই সময় কিন্তু মুসলিম লীগের নেতৃত্বে মুসলমানদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনও বেগবান ছিল।
অধ্যাপক তাজ হাশমি ২০১৩ সালে ‘The Tagaor mania: Identity crises and anti Bangladesh syndrome’ শীর্ষক রচনায় তাঁর শিক্ষক অধ্যাপক আহমদ শরীফের বরাত দিয়ে লিখেছেন- রবীন্দ্রনাথ ১৯১৪-২০ সময়কালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন। ডঃ আকবর আলী খান তাঁর বইয়ে বলেছেন, ‘বাধ্য হয়ে অধ্যাপক আহমদ শরীফের লেখায় এ ধরনের বক্তব্য আছে কিনা তা খোঁজ করি। কিন্তু তাঁর কোন লেখাতেই এরূপ কোন বক্তব্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।’ আবার ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিলেট অধিবেশনের বক্তৃতায় তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিকি রবীন্দ্রনাথের একটি কবিতা উদ্বৃত করেন। তখন সিলেটের জনৈক সদস্য এ কবিতা প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং বলেন, রবীন্দ্রনাথ যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন তাই তাঁর কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে বক্তব্য পেশ করা সংগত নয়। ভাবতে আশ্চর্য লাগে, যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশনে ২০১০ সালে এসে জনৈক সদস্য রবীন্দ্রনাথের কবিতা উদ্ধৃতির বিরোধিতা করছেন, সেই বিশ্ববিদ্যালয়েই এর ঠিক ৮৪ বৎসর পূর্বে ১৯২৬ সালে কবিকে প্রাণঢালা সম্বর্ধনা দেওয়া হয়েছিল এবং ১৯৩৬ সালে কবিকে ‘ডি লিট’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। ডঃ আকবর আলী খান, ‘দুর্ভাবনা ও ভাবনা রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে’ ‘বইতে এ প্রসঙ্গে লিখেছেন, ‘রবীন্দ্রনাথ যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছেন, তার কোন প্রমাণ সিনেটের সদস্য দাখিল করতে পারেননি। তবু এ গুজব মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী গোষ্ঠীরা ক্রমাগত ছড়িয়ে যাচ্ছে।’ ‘মুক্তমনা ডটকম’ নামক ব্লগে রবীন্দ্র বিরোধী অনেক লেখা পাওয়া যায়। সেখানে ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয় বিরোধিতা প্রসঙ্গে প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী নীরদ চন্দ্র চৌধুরীর ’Autobiography of an unknown indian’ গ্রন্থের উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ উক্ত বইটি পড়ে কোথাও রবীন্দ্রনাথের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধাচরণের কোন তথ্য খুঁজে পাওয়া যায় না। সুতরাং বুঝা যাচ্ছে, ভিত্তিহীন সূত্র উল্লেখ করে অনেকেই রবীন্দ্রনাথের বিরোধিতা করে যাচ্ছেন।
২০০০ সালে সাবেক এনএসআই প্রধান এবং পরবর্তীকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল এমএ মতিন ‘আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ধারাবাহিকতা এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা’ নামক একটি বই লিখেন। সে বইয়ে এক জায়গায় তিনি বলেছেন, ‘১৯১২ সালের ২৮ মার্চ কলিকাতার গড়ের মাঠে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সভাপতিত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিবাদে এক বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়’। এই বইতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধাচরণের কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ছিলেন হিন্দু সমাজ তথা হিন্দু মানসিকতা ও হিন্দু চেতনা ও হিন্দু ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ একজন হিন্দু স্বভাব কবি’। এখানে পাঁচ জায়গায় রবীন্দ্রনাথ প্রসঙ্গে হিন্দু শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ সবাই জানেন রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন না, তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম এবং তাঁর পিতা দেবেন্দ্র নাথ ঠাকুর ছিলেন ব্রাহ্ম ধর্মের প্রচারক। ২৮ মার্চ ১৯১২ সাল ছিল ১৫ চৈত্র, ১৩১৮ বাংলা। ডঃ আকবর আলী খান এ প্রসঙ্গে বলেছেন ‘রবীন্দ্রনাথের পক্ষে ১৯১২ সালের ২৮ মার্চ এ ধরনের সভায় সভাপতিত্ব করা দূরের কথা, উপস্থিত থাকাই সম্ভব ছিল না।’ প্রমাণস্বরূপ তিনি রবীন্দ্র জীবনীকার প্রশান্ত কুমার পালের রবীন্দ্রজীবনী ৬ষ্ঠ খ-ের উল্লেখ করেছেন। সেখানে দেখা যায়, ডাক্তারের পরামর্শে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পুত্র ও পুত্রবধূসহ ২৪ মার্চ, ১৯১২ সালে শিলাইদহে চলে যান এবং ১২ এপ্রিল ১৯১২ সাল পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন। সে বইতে ঠাকুরবাড়ির ক্যাশ বহির একটি হিসাব উদ্ধৃত করা হয়েছে সেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঐ দিন শিলাইদহ গমনের ব্যয়ের ভাউচার পাওয়া যায়।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে ২৮ মার্চ এবং এর পরেও শিলাইদহ ছিলেন এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন কবিতার রচনাকাল এবং আত্মীয় ও বন্ধুদের কাছে পাঠানো চিঠির তারিখ উল্লেখ করা যায়। গীতিমাল্য কাব্যগ্রন্থের ‘স্থির নয়নে তাকিয়ে আছি’ কবিতার নিচে লেখা আছে ‘শিলাইদহ, ১৫ চৈত্র ১৩১৮ (২৮ মার্চ ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দ) আবার শিলাইদহ থেকে জগদানন্দ রায়কে পাঠানো চিঠির তারিখ ছিল ২৮ মার্চ, ১৯১২ সাল। ডঃ আকবর আলী খান লিখেছেন- ‘এ কথা সুস্পষ্ট যে, রবীন্দ্রনাথ আদৌ গড়ের মাঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিরোধী কোনো সভায় ২৮ মার্চ ১৯১২ সালে যোগ দেননি। এই তারিখ ছাড়া রবীন্দ্রনাথ অন্য কোন সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিরোধী কোনো সভায় অংশ নিয়েছেন, এ রকম কোনো তথ্য রবীন্দ্রনাথ বিরোধীরা এখন পর্যন্ত পেশ করেননি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ফলে তৎকালীন বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে সেখানে মুসলমানরাই সংখ্যা গরিষ্ঠ ছিলেন সেখানে উচ্চ শিক্ষার হার উন্মোচিত হয় এবং এর ফলে মুসলিম ছাত্রছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি চাকরিতে নিযুক্ত হওয়ার সুযোগ লাভ করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৩১৪ বঙ্গাব্দে পাবনায় হিন্দু-মুসলমানের বিরোধের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন- ‘আমরা গোড়া হইতে ইংরেজের ইস্কুলে বেশি মনোযোগের সঙ্গে পড়া মুখস্থ করিয়াছি বলিয়া গভর্নমেন্টের চাকরি ও সম্মানের ভাগ মুসলমান ভ্রাতাদের চেয়ে আমাদের অংশে বেশি পড়িয়াছে সন্দেহ নাই। এইরূপ আমাদের মধ্যে একটা পার্থক্য ঘটিয়াছে। এইটুকু কোনোমতে না মিটিয়া গেলে আমাদের ঠিক মনের মিলন হইবে না, আমাদের মাঝখানে একটা অসূয়ার অন্তরাল থাকিয়া যাইবে’। যিনি বিশ্বাস করতেন, মুসলমানদের মধ্যে ইংরেজি শিক্ষার প্রসার ঘটলে এবং মুসলমানরা চাকরির ক্ষেত্রে হিন্দুদের সমকক্ষতা অর্জন করলে হিন্দু-মুসলমান বিরোধ দূর হবে, তিনি মুসলমান প্রদান অঞ্চলে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করবেন তার কোন বোধগম্য কারণ নেই। অথচ দুঃখের বিষয়, সঠিক তথ্যের উল্লেখ না করে অনেকেই রবীন্দ্রনাথের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধাচারের কথা প্রচার করছেন, ফলে একশ্রেণীর জনগোষ্ঠী তা সত্য বলে ধরে নিচ্ছে। যে কারও বিরুদ্ধে কিছু বলতে হলে অবশ্যই তথ্য নির্ভর সূত্র উল্লেখ করতে হবে, শুধু মনগড়া কথা বলে কারো কুৎসা রটনা করা বিভ্রান্তিকর, দুর্ভাগ্যজনক ও মানহানিকর।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT