সম্পাদকীয়

আইনগত সহায়তা দিবস

প্রকাশিত হয়েছে: ২৮-০৪-২০১৯ ইং ০০:২১:১২ | সংবাদটি ১০৫ বার পঠিত


জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত হচ্ছে আজ সারা দেশের মতো সিলেটেও। সকলের জন্য আইনগত সহায়তা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষে এই দিবসটি পালিত হয় প্রতি বছর। সুবিচার চাওয়া এবং পাওয়া প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। আর যথাযথ বিচার পেতে হলে দরকার আইনের যথাযথ প্রয়োগ। কিন্তু আমাদের দেশে সার্বিকভাবে বেশীর ভাগ মানুষই আইনগত সহায়তা পাচ্ছে না প্রত্যাশিতভাবে। একদিকে সুবিধা বঞ্চিত বিশাল জনগোষ্ঠী আইনের সহায়তা পাচ্ছে না; অনেক সময় তারা আইনগত সাহায্য পেতে গিয়ে নানাভাবে হয়রানীর শিকার হচ্ছে। অপরদিকে সমাজের প্রভাবশালী লোকজন আইনগত সর্বোচ্চ সহায়তা ভোগ করছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা সহায়তা যতোটুকু পাওয়ার দাবীদার নয়, তার চেয়ে বেশীই পাচ্ছে। দেশে এবার দিবসটি পালিত হচ্ছে ষষ্ঠবারের মতো। এ উপলক্ষে মূলত তৃণমূল পর্যায়ে সরকারী আইনী সেবার বার্তা পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করা হবে নানা ধরণের কর্মসূচীর মাধ্যমে। এর মধ্যে রয়েছে র‌্যালী, সেমিনার, মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সত্যি বলতে কি, এদেশের অসংখ্য মানুষ প্রতিনিয়ত নানাভাবে অন্যায়-অবিচারের শিকার হচ্ছে। প্রভাবশালী লোকদের হাতে নির্যাতিত- নিপীড়িত হচ্ছে নিরীহ মানুষ। কিন্তু তারা পাচ্ছে না সুবিচার। প্রথমত এরা পুলিশের শরণাপন্নই হতে পারে না বা পুলিশের কাছে যেতে সাহস পায় না; দ্বিতীয়ত এরা কোনভাবে পুলিশের কাছে যেতে পারলেও সহযোগিতা পায় না পুলিশের। বরং বিচারপ্রার্থীরা নানাভাবে পুলিশের কাছে হয়রানীর শিকার হয়। আদালতে গিয়েও এরা একই ধরণের হয়রানীর শিকার হচ্ছে। অনেক সময়ই নিরীহ গরীব বিচারপ্রার্থীরা সঠিক বিচার পাচ্ছে না। অপর দিকে সম্পদশালীরা প্রভাব খাটিয়ে আইনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। নারী শিশু থেকে শুরু করে সকল বয়সের মানুষই প্রত্যাশিতভাবে আইনগত সহায়তা পায় না। সকল নাগরিকের আইনগত সমান অধিকার পাওয়ার যে সাংবিধানিক নির্দেশনা রয়েছে, সেটা লংঘিত হচ্ছে। এর দায় রাষ্ট্রের যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদেরও। অসহায়রা আইনগত সহায়তা পাবে, এটা মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার। আমাদের সংবিধানে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে-প্রজাতন্ত্রের সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হবে। আর সেই লক্ষে আর্থিকভাবে অসচ্ছল সহায় সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থসামাজিক কারণে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থী জনগণকে আইনগত সহায়তা প্রদানকল্পে ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০’ প্রণীত হয়। সেই সঙ্গে গঠন করা হয়েছে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা। প্রতিটি জেলায় স্থাপিত হয়েছে লিগ্যাল এইড অফিস। এইসব অফিসে একজন করে সহকারী জজ অথবা সহকারী জজ পদমর্যাদার অফিসারকে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই সেবা প্রদান সহজতর করতে টোল ফ্রি হেল্পলাইন (১৬৪৩০) চালু করা হয়েছে।
২০১৩ সাল থেকেই এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে একেক বছর একেক প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে। কিন্তু এইসব সুন্দর সুন্দর স্লোগান গুলোর বাস্তবতা চোখে পড়ে না। এই দিবসটি ছাড়াও সারা বছর একের পর এক বিশেষ বিশেষ দিবস পালিত হয় দেশে। প্রতিটি দিবসেই এর তাৎপর্য ও গুরুত্ব নিয়ে লেখালেখি হয়। কিন্তু দিবস চলে গেলেই সব শেষ। এ নিয়ে আর কেউ মাথা ঘামায় না। জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে যতোসব উপদেশ পরামর্শ ওঠে আসে বিভিন্ন মহল থেকে-তার কতোটুকু বাস্তবে প্রতিফলিত হবে সেটাই বড় প্রশ্ন। অসহায় বিচার প্রার্থীদের বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। শুধু অসহায় নয়, সব শ্রেণীর মানুষই যাতে সুবিচার পায়, আইনগত সহায়তা পায়, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া দরকার।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT