স্বাস্থ্য কুশল

কণ্ঠনালির সমস্যা ও প্রতিকার

ডা. নূরুল হুদা নাঈম প্রকাশিত হয়েছে: ২৯-০৪-২০১৯ ইং ০০:৪৯:২০ | সংবাদটি ২৬৭ বার পঠিত

কন্ঠ মানুষের ব্যাক্তিত্বেরও পরিচায়ক। এই কণ্ঠ প্রতিটি মানুষের জন্য ইউনিক। এটি বংশগত একটা প্রাপ্তি। আমরা অনুশিলনের মাধ্যমে কিছুটা পরিমার্জিত করতে পারি। প্রতি বছর ১৬ এপ্রিল বিশ্ব কণ্ঠ দিবস পালন করা হয়। কণ্ঠ ও কণ্ঠনালির সমস্যা এবং কণ্ঠকে সুস্থ রাখার উপায় সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘ইব শরহফ রিঃয ুড়ঁৎ াড়রপব’। গলার স্বর পরিবর্তনের পনের দিনের মধ্যে ভালো না হলে, চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া দরকার। রোগীর ইতিহাস, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার নির্ণয় করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গলার ক্যান্সার বা কণ্ঠনালির ক্যান্সারকে মোটেও অবহেলা করা উচিত নয়। এটা জেনে খুশী হবেন যে কন্ঠনালির ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করা যায় এবং চিকিৎসা করলে সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায় এবং এ রোগের সব ধরণের চিকিৎসা যেমনÑসার্জারী, কেমোথেরাপী ও রেডিওথেরাপী আমাদের দেশে বিদ্যমান। কথা বলা বা গান গাওয়ার সময় ভোকাল কর্ডের কম্পন হয় প্রতি সেকেন্ডে ১০০ থেকে এক হাজারবার। একজন প্রাপ্তবয়স্ক লোকের দিনে ১০ লাখবার কণ্ঠনালি দুটির সংস্পর্শ হয়। কণ্ঠনালির ওপর আমরা কতটুকু নির্ভরশীল, তা এ থেকেই বোঝা যায়।
কণ্ঠস্বর পরিবর্তনের প্রধান কারণ হলো, কণ্ঠনালির ভাইরাসজনিত তীব্র প্রদাহ। শ্বাসনালির ভাইরাসজনিত প্রদাহে কণ্ঠনালি ফুলে যায়, এতে কণ্ঠনালির কম্পনের সমস্যা সৃষ্টি করে, ফলে স্বর পরিবর্তন হয়। কণ্ঠনালির সমস্যার লক্ষণ হলোÑস্বরভঙ্গ, কাশি, গলা ব্যথা, কিছু গিলতে অসুবিধা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি। আবহাওয়া পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণের কারণেও কণ্ঠনালির প্রদাহ বা ল্যারিনজাইটিস হতে পারে। প্রচুর পরিমাণ পানি পান করলে এবং কণ্ঠনালিকে বিশ্রাম দিলে এটা ভালো হয়ে যায়।
কণ্ঠনালিতে রক্তক্ষরণ :
প্রচ- জোরে চিৎকার করলে, অধিক শক্তি দিয়ে কথা বললে অথবা গলায় আঘাত পেলে হঠাৎ কথা বলা বন্ধ হতে পারে। কণ্ঠনালির সূক্ষ্ম রক্তনালি ছিঁড়ে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। এ অবস্থায় কথা বলা বন্ধ রাখতে হবে, যত দিন না জমাট রক্ত মিলিয়ে যায় এবং গবযঃযড়ষ এর ভাপ নিতে পারেন, এতে ভালো উপকার পাবেন।
কণ্ঠ সুস্থ রাখতে করণীয় :
পানি কণ্ঠনালিকে আর্দ্র রাখে ও আর্দ্র কণ্ঠনালি শুষ্ক কণ্ঠনালি থেকে বেশি ব্যবহার করা যায়। এ জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে দুই থেকে তিন লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা উচিত।
খেলা শুরুর আগে যেমন প্রস্তুতির দরকার, তেমনি দীর্ঘ বক্তৃতার আগেও কণ্ঠনালির হালকা ব্যায়াম করা উচিত। অনুশীলন করলে কণ্ঠের মান ও উপস্থাপনা সুন্দর হয়। কথা বলা ও গান গাওয়ার মাঝখানে দীর্ঘ শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ে কথা বলা ও গান গাওয়াকে সুন্দর করে এবং কণ্ঠনালির অবসাদ হয় না। বক্তব্য বা উপস্থাপনা বা বড় সমাবেশে বক্তৃতা দেওয়ার সময় মাইক্রোফোন ব্যবহার করা ভালো।
দিনের একটা নির্দিষ্ট সময়ে কণ্ঠনালিকে বিশ্রাম দেওয়া উচিত, যা কণ্ঠনালির অবসাদ দূর করে এবং শক্তি ফিরিয়ে দেয়। নিজের কণ্ঠকে শুনুন এবং যদি কোনো রকমের উপসর্গ থাকে বা পরিবর্তন লক্ষ করেন, তাহলে যথাযথ যতœ নিন।
যদি দুই সপ্তাহের বেশি স্বর পরিবর্তন লক্ষণীয় হয়, তাহলে নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। এমন কিছু করবেন না, যাতে কণ্ঠনালির ক্ষতি হয়।
ধূমপান, অ্যালকোহল, অতিরিক্ত ঠা-া বা অতিরিক্ত গরম পানীয় কণ্ঠের জন্য ক্ষতিকর। ধূমপান কণ্ঠনালির প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা ক্যান্সারেরও কারণ। তাই এগুলো বর্জন করা ভালো।
জোরে জোরে বা পরিবর্তিত স্বরে কথা বলা উচিত নয়। উচ্চস্বরে কথা বললে বা কণ্ঠনালির অপব্যবহার করলে কণ্ঠনালি সূক্ষ্ম আঘাত পেতে পারে ও রক্ত ক্ষরণ হতে পারে।
এমন কিছু খাবেন না, যাতে পেটে গ্যাস হতে পারে। মাথা উঁচু করে ঘুমাবেন, হালকা ঢিলেঢালা পোশাক পরে ঘুমাবেন। খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুমানো বা ক্যাফেইনযুক্ত খাবার গ্রহণ করা যাবে না। কণ্ঠনালিতে চাপ পড়ে, এমন কাজ করা থেকে বিরত থাকবেন।

শেয়ার করুন
স্বাস্থ্য কুশল এর আরো সংবাদ
  • এডিস মশা ডেঙ্গু ছড়ায়
  • রোগ প্রতিরোধে আনারস
  • স্থূলতা : এখনই ব্যবস্থা জরুরি
  • মেহেদীর কতো গুণ
  • যে সব খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর
  • শিশুকে ওষুধ দিন বয়স ও ওজন অনুযায়ী
  • জ্বর কমার পরের সময়টা ঝুঁকিপূর্ণ
  • কম্পিউটারজনিত চক্ষু সমস্যা
  • ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া জ্বরের লক্ষণ
  • ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপায়
  • সুস্থ থাকতে ওজন নিয়ন্ত্রণ
  • স্মার্টফোনের প্রতি শিশুদের আসক্তিতে ভয়ানক ঝুঁকি!
  • বন্যায় স্বাস্থ্য সমস্যা : করণীয়
  • কম বয়সেও স্ট্রোক হতে পারে
  • থানকুনির রোগ নিরাময় গুণ
  • সাপের কামড় : জরুরী স্বাস্থ্য সমস্যা
  • প্রাকৃতিক মহৌষধ মধু
  • চোখ দিয়ে পানি পড়া
  •   তরুণদের মনোরোগ ও পরিবার
  • ঘাড় ব্যথায় করণীয়
  • Developed by: Sparkle IT