স্বাস্থ্য কুশল

উচ্চ রক্তচাপ মুক্তির উচ্চতর গবেষণা

সীতাব আলী প্রকাশিত হয়েছে: ২৯-০৪-২০১৯ ইং ০০:৫৬:২২ | সংবাদটি ২৬৪ বার পঠিত

আমরা সব কিছু উঁচু উঁচু চাই, কিন্তু রক্তচাপটা উঁচু চাই না, এটা উঁচু হয়ে গেলে চিকিৎসকের কাছে যাই। জীবনের বিভিন্ন ধরণের বিপদমুক্তির পথ খুঁজে বের করেছেন বিশ্বের গবেষকরা। আর এই প্রচেষ্টা চলছে শত বছর ধরে। তারা বলছেন, মানুষের নিজের মাঝেই রয়েছে সুস্থ থাকার শক্তি, প্রকৃতিতেই রয়েছে সুস্থ থাকার ও রোগ থেকে নিরাময় লাভের সকল উপকরণ ও প্রক্রিয়া। সাইন্স অব লিভিং অর্থাৎ জীবন যাপনে বিজ্ঞান বা সঠিক জীবনাভ্যাস পুরোপুরি অনুসরণ করলে মানুষ সুস্থ থাকতে পারে।
আপনি যে-ই হোন, কিভাবে সুস্থ থাকা যায়, সে রহস্য আপনি নিজেই উন্মোচন করতে পারেন। কারণ, গবেষণালব্ধ প্রক্রিয়াগুলো এখন সহজে জানার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আপনি হতে পারেন কৃষক, গৃহিনী, যানবাহন চালক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, আইনজীবি, সংবাদ কর্মী; জ্ঞান আহরণ এখন সহজ। কেননা এখন স্বাস্থ্য-রহস্যের জট খুলে দিয়েছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের মহান গবেষকরা, সুদক্ষ বিজ্ঞানীরা, ধীমান পুষ্টিবিজ্ঞানীরা, শক্তিমান ব্যায়াম বিশেষজ্ঞরা, নিবিষ্ট মনোবিজ্ঞানীরা, প্রশান্তমনা ধ্যানীরা, এমন কি অনুসন্ধিৎসু সাধারণ মানুষেরা। আর কোরআনে তো স্পষ্ট করে বলা আছেই। তাই জানাটা এখন আগের চেয়ে ঢের সহজ।
এই গ্রহে মানুষই একমাত্র প্রাণি, যে উচ্চ রক্তচাপ ও তা থেকে উদ্ভুত নানা রোগে মৃত্যুবরণ করে। বিশ্বাস হয় নি? আপনি কি শোনেছেন, কারো বিড়াল, গরু, ছাগল, ভেড়া, ঘোড়া, বানর, হাতি বা বণ্যপ্রাণি বাঘ, হরিণ বা শেয়াল উচ্চ রক্তচাপ থেকে উদ্ভুত রোগ যেমন ষ্ট্রোক বা হার্টডিজিজে মৃত্যুবরণ করেছে?
শোনেন নি।
কেন শোনেন নি? কারণ, তারা প্রকৃতির নিয়ম লঙ্ঘন করে নি।
আপনি নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন, যখনই কারো উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়লো, ডাক্তার তাকে একটা বড়ি লিখে দিলেন। আর এর পাশেই লিখে দিলেন, ‘চলবে’। কত দিন চলবে? এটা লেখা নেই! আমরা জানি, এটা মৃত্যু পর্যন্ত চলবে!
উচ্চ রক্তচাপও হার্ট ডিজিজের একটা অনুঘটক। উচ্চ রক্তচাপের একটা বড় কারণ হচ্ছে অতিরিক্ত লবণ (সোডিয়াম) গ্রহণ। কিছু মানুষ খাবার টেবিলের লবণ প্রায় একাই শেষ করে ফেলেন। আসলে তারা যে তাদের সুস্থ জীবন শেষ করে চলেছেন, তা বুঝার আগেই তাদের উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টি হয়ে যায়। আর অবিদ্যা হল, ডায়াবেটিসের রোগীরা মিষ্টি জাতিয় খাবার এড়িয়ে যান, কিন্তু লবণাক্ত খাবার খেয়ে ফেলেন। যেমন, মিষ্টি জাতিয় বিস্কুট খাবেন না, কিন্তু যে বিস্কুট সল্টি, অর্থাৎ লবণ মেশানো, তা খেয়ে তারা বিস্কুটের অভাবকে পূরণ করেন। এভাবে অনেক খাবারেই লবণ থাকে। বিশেষ করে, নিমকি, পনির, পটেটো চিপস, চানাচুর (পটেটো চিপসে ও চানাচুরে আবার টেষ্টিং সল্ট সহজ কথায় এমএসজি বা ‘মনো সোডিয়াম গ্লুটামেট’ থাকে, যা ক্যান্সার ও হার্ট ডিজিজ সৃষ্টির সহায়ক হয়ে থাকে) এবং শরবতেও। এমন কি বাড়িতে বানানো শরবতেও লবণ ব্যবহার করা হয়, আর তা খাচ্ছেন উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা! আচারে প্রচুর পরিমাণ লবণ ব্যবহার করা হয়। বাড়িতে মেহমানদারীতে বা এমনি এমনিই কিছু আচার হলে রুচিটা বাড়ে। ষ্ট্রিটফুডেও এখন টেষ্টিং সল্ট বা এমএসজি ব্যবহার করে বিক্রেতারা। ফুটপাতে যে সকল ফল ‘কেটে বিক্রি’ করা হয়, তাতেও লবণ-মরিচের ব্যবহার থাকে, এবং চিনি মেশানো রঙিন পানিও থাকে।
গবেষকরা প্রমাণ করেছেন, উচ্চ রক্তচাপের জন্যে প্রাণিজাত খাবার যেমন গরু, খাসী, পাঠা, ভেড়া, মুরগী, হাঁস, তেল, ঘি ও এগুলো দ্বারা তৈরী খাবার যেমন বিরিয়ানী, কাবাব, হটডগ, বার্গার এবং তেল মিশ্রিত খাবার যেমন কেক, পেষ্ট্রি, মোগলাই ইত্যাদিও দায়ী।
২০১৪ সালে জাপান ও আমেরিকায় দুইটি গবেষণা পরিচালিত হয় এবং তার ফলাফল জার্নাল অব আমেরিকান মেডিকেল এসোসিয়েশন (২০১৪) এ প্রকাশিত হয়। এর শিরোনামগুলো হচ্ছে, ‘(১) ঠবমরঃধৎরধহ উরবঃ ধহফ ইষড়ড়ফ চৎবংংঁৎব: ধ গবঃধ-ধহষুংরং. (২) ইবুড়হফ গবধঃষবংং, ঞযব ঐবধষঃয ঊভভবপঃং ড়ভ ঠবমধহ উরবঃং: ঋরহফরহমং ভৎড়স ঃযব অফাবহঃরংঃ ঈড়যড়ৎঃং.’ তাতে বলা হচ্ছে, এটা সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত যে, উদ্ভিদজাত খাবার উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের কাজ করে। সাধারণভাবে বলা যায়, মাংসমুক্ত (সবধঃষবংং) খাবার হার্ট ডিজিজ থেকে সুরক্ষা দিতে পারে এমন কি ক্যান্সার থেকেও। ইহা ছাড়া মেদস্থুলতা, ডায়াবেটিস টাইপ টু ও রক্ত সংবহনতন্ত্রের সমস্যাও আটকে দিতে সক্ষম। ঐড়ি ঘড়ঃ ঃড় উরব (ঈযধঢ়ঃবৎ ৭)
বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানব দেহের অনেকগুলো অঙ্গ শক্ত (ষ্টিপ) হতে শুরু করে, যেমন রক্তনালী ও মাংসপেশী ইত্যাদি। পরিশ্রমবিহীন জীবন আর প্রাণিজাত, চর্বিজাত খাবার ও তেল (যে কোন জাতের হউক) এর জন্যে দায়ী। আপনার বয়স যাই হোক, হাঁটতে হবে ঘন্টায় অন্তত: চার মাইল গতিতে কমপক্ষে আধা ঘন্টা বা তার বেশী আর একটু আধটু দৌড়াতে পারলে খুবই ভাল, আপনি যে কোন বয়সেই দৌড়াতে পারেন। দৌড়ানোতে আপনার ইচ্ছেটাই মূল ভুমিকা পালন করে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ পেশায় চিকিৎসক। তিরান্নব্বই বছর বয়সে তিনি আবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি বলেন, এয়ার কন্ডিশান রোম থেকে বেরিয়ে হাঁটুন, ব্যায়াম করুন, কিন্তু ব্যায়ামের পর কফি পান করবেন না বা খোশগল্পে মেতে উঠবেন না। এটি করলে ব্যায়ামের সুফল পাবেন না। ধূমপান, এ্যালকোহল ও ফাষ্টফুড একেবারে বাদ দিন।
উচ্চ রক্তচাপের জন্যে এ পর্যন্ত যত গবেষণা হয়েছে, তা থেকে বাঁচবার সহজ পথ যা এ পর্যন্ত আবিষ্কার হয়েছে, তার সারকথাকে আমরা এভাবে সাজাতে পারি। যেমনÑ
নিয়মিত দুই বেলা রিলাক্সেশন, মেডিটেশন বা শিথিলায়ন ধ্যান। কালোজিরার সাথে মধু মিশিয়ে কুসুম গরম পানিতে আস্ত একটি লেবুর রস মেশান। দিনের শুরুটা হউক এই শরবত দিয়ে। সকালে এক ইঞ্চি আদা খান। টেবিল চামচে কমপক্ষে এক চামচ তিশি (ঋষধীংববফ) খান। লবণ ও লবণজাত খাবার যেমন পটেটো চিপস, সল্টি বিস্কুট, নিমকি, পনির, সফট ড্রিংক্স, আচার ইত্যাদি বাদ দিন। পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খান যেমন কলা, ডাব, তিশি, জাম্বুরা ইত্যাদি। পানি পানের পরিমাণ বাড়ান, সম্ভব হলে ৮/১০ গ্লাস। প্রচুর পরিমাণ শাক ও সবজি যেমন, ব্রকলি, টমাটো, ফুল কপি, বাঁধা কপি, সাধারণ আলু, মিষ্টি আলু ও শশা খান। বাদ দিন প্রাণিজাত ও ডায়েরিজাত খাবার যেমন সর্বপ্রকার মাংস, পনির, মিষ্টি এবং ডিম।
আর এর পাশাপাশি হাঁটতে হবে আর ইয়োগা করতে হবে।
হাইপার টেনশন বা উচ্চ রক্তচাপের জন্যে আপনাকে কোন দিন আর ঔষধ সেবন করতে হবে না, ষ্ট্রোকের ভয় থেকে ম্ক্তু থাকবেন আর চিকিৎসা ব্যবসার সাথে জড়িত সকল স্থরের খপ্পর থেকে আপনি মুক্ত থাকবেন।

শেয়ার করুন
স্বাস্থ্য কুশল এর আরো সংবাদ
  • এডিস মশা ডেঙ্গু ছড়ায়
  • রোগ প্রতিরোধে আনারস
  • স্থূলতা : এখনই ব্যবস্থা জরুরি
  • মেহেদীর কতো গুণ
  • যে সব খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর
  • শিশুকে ওষুধ দিন বয়স ও ওজন অনুযায়ী
  • জ্বর কমার পরের সময়টা ঝুঁকিপূর্ণ
  • কম্পিউটারজনিত চক্ষু সমস্যা
  • ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া জ্বরের লক্ষণ
  • ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপায়
  • সুস্থ থাকতে ওজন নিয়ন্ত্রণ
  • স্মার্টফোনের প্রতি শিশুদের আসক্তিতে ভয়ানক ঝুঁকি!
  • বন্যায় স্বাস্থ্য সমস্যা : করণীয়
  • কম বয়সেও স্ট্রোক হতে পারে
  • থানকুনির রোগ নিরাময় গুণ
  • সাপের কামড় : জরুরী স্বাস্থ্য সমস্যা
  • প্রাকৃতিক মহৌষধ মধু
  • চোখ দিয়ে পানি পড়া
  •   তরুণদের মনোরোগ ও পরিবার
  • ঘাড় ব্যথায় করণীয়
  • Developed by: Sparkle IT