সম্পাদকীয়

পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুরোধে

প্রকাশিত হয়েছে: ৩০-০৪-২০১৯ ইং ০০:২৬:৫৫ | সংবাদটি ৮০ বার পঠিত


পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু আমাদের জন্য একটি আতংকের বিষয়। এমন দুর্ঘটনা প্রায় সময়ই ঘটছে। দেশে পানিতে ডুবে বছরে দশ হাজারের বেশি শিশুর মৃত্যু হয়। যাদের বেশির ভাগের বয়স পাঁচ বছরের কম। এক পরিসংখ্যানে বলা হয়, প্রতিদিন গড়ে ৩০টি শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। দেখা গেছে গ্রামাঞ্চলে সকাল ৯টা থেকে বেলা একটার মধ্যেই অধিকাংশ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এই সময়ে মা বাবা নিজেদের কাজে এবং বড় ভাই বোন স্কুলে থাকে বলে তাদের ওপর সেভাবে নজর দেওয়া যায় না; আর এজন্যই ঘটছে দুর্ঘটনা। জানা গেছে, সারা বিশ্বে প্রতি বছর কমপক্ষে তিন লাখ ২২ হাজার মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়। যার ৯০ শতাংশের বেশি নি¤œ ও মধ্যআয়ের দেশগুলোর বাসিন্দা। পানিতে ডুবে মৃত্যুর ৪০ শতাংশের বয়স ১৫ বছরের কম। যার মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু সবচেয়ে ঝুঁকিতে।
পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকে সারা বছরই। তবে বর্ষায় এই হার বেড়ে যায়। বর্ষায় চারিদিক থাকে পানিতে টইটম্বুর। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে প্রায় প্রতিটি বাড়ির আশেপাশে পুকুর, ডোবা, খাল, বিল রয়েছে। বর্ষায় এগুলো থাকে পানিতে পরিপূর্ণ। এই অবস্থায় বাড়ির ছোট্ট শিশুটি খেলতে খেলতে এক সময় পরে যায় পুকুর, ডোবা বা বিলের পানিতে। আর যখন প্রবল বন্যা হয়, তখন তো বাড়ির উঠোন, আঙ্গিনা পানিতে একাকার। এমন পরিস্থিতিতে সাঁতার না জানা কোন শিশুর পানিতে ডুবে যাওয়ার আশংকা থাকে প্রবলভাবে। বন্যার সময় শহর অঞ্চলের নীচু এলাকা বা বস্তি এলাকায় পানি ওঠে। এই সব এলাকায়ও পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। তাছাড়া বছরের অন্যান্য সময়ও অভিভাবকের অসাবধানতাবসত পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। আরেকটি বিষয় অত্যন্ত জরুরি। সাঁতার না জানার জন্য অনেক শিশুর মৃত্যু হচ্ছে পানিতে ডুবে। সাধারণত শহুরে জীবন যাপনে অভ্যস্ত পরিবারে সন্তানদের সাঁতার শেখানোর খুব একটা গরজ থাকে না মা-বাবার। আবার অনেক ক্ষেত্রে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সাঁতার শেখার সুযোগ হয় না শহরে। কারণ শহরগুলোতে পুকুর-দিঘীগুলো নিশ্চিহ্ন হতে যাচ্ছে ক্রমান্বয়ে।
পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুরোধে সবচেয়ে জরুরী হচ্ছে সচেতনতা। সেই সঙ্গে সাঁতার শেখার ওপর জোর দিতে হবে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের সাঁতার শেখা বাধ্যতামূলক করা উচিত। এই ব্যাপারটিকে অভিভাবকদের যেমন গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত, তেমনি প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এর ওপর বিশেষ জোর দিতে হবে। সাঁতার শেখা ও সাঁতার প্রতিযোগিতা দৈনন্দিন ক্লাস রুটিনের অন্তর্ভুক্ত করা যায় কি-না, ভেবে দেখা দরকার। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে, নদীমাতৃক এই দেশে, হাওর বাওর অধ্যুষিত এই দেশের বাসিন্দা অনেকেই সাঁতার কাটতে জানে না। এদের জন্য এই সাঁতার না জানা একটি অপবাদ। এই অপবাদ ঘোচাতে হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT