বিশেষ সংখ্যা

প্রসঙ্গ : মে দিবস

ইসলাম জাভেদ প্রকাশিত হয়েছে: ০১-০৫-২০১৯ ইং ০০:৫৪:১১ | সংবাদটি ৩৪৭ বার পঠিত

১লা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসকেই মে দিবস নামে অভিহিত করা হয়। ১লা মে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী এ দিবসটি উদযাপন করা হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের শ্রমজীবী মানুষ এবং শ্রমিক সংগঠন গুলো রাজপথে নেমে আসে। ১৮৮৬ সালে ৮ ঘণ্টা শ্রমের দাবীতে শিকাগোতে রক্ত ঝরেছে অসংখ্য মেহনতী মানুষের। বিশ্বের কোটি কোটি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও দাবি আদায়ের মহান মে দিবস আজ। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হলো শ্রমিকদের কাজের সময় হ্রাস ও মজুরী বৃদ্ধির আন্দোলন। মে দিবস হলো গোটা পৃথিবীর শ্রমিকদের সংহতি দিবস। পুঁজিবাদী শোষণ মুক্তির সংগ্রামী শপথ।
এই মে দিবসটি এক দিনে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি। এর পিছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। রয়েছে অনেক রক্ত ঝরার কাহিনী। এক সময় শ্রমিকদের কাজের সময়সীমা ছিল ১০-১৮ ঘণ্টা। প্রতিদিন এত ঘণ্টা কাজ করা শ্রমিকদের জন্য ছিল অসহনীয়। ১৮৬৪ সাল থেকেই ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে শ্রমিকরা ছিল আন্দোলন মুখর। মূলত মে দিবসের জন্ম কাহিনীই ছিল শ্রমিকদের কাজের ঘণ্টা কমাবার আন্দোলন। ১৮৮৫ সালে এ আন্দোলন ব্যাপকতর হয়ে উঠে। শুরু হয় চুড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি। ধর্মঘটের পর ধর্মঘট। মিছিলের পর মিছিল। ১৮৮৬ সালে ১লা মে শ্রমিকদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ধর্মঘট আহ্বান করা হয়। লক্ষ লক্ষ শ্রমিক এ ধর্মঘটে অংশ নেয়। ৩রা মে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারালেন ১১জন নিরস্ত্র শ্রমিক, এর পরের দিন ৪ মে হে মার্কেট স্কোয়ারে সুবিশাল প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় পুলিশ আবারো গুলি চালায় এবং গ্রেফতার করা হয় শ্রমিক আন্দোলনের চার নেতাকে। প্রহসনমূলক বিচারে তাদের ফাঁসির আদেশ হয়। শ্রমিকদের রক্তে রঞ্জিত হয় আমেরিকার শিকাগোর রাজপথ। চর্তুদিকে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। দেশ-কালের গন্ডি পেরিয়ে এই নৃশংস বর্বরতার খবর ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বের মেহনতী শ্রমজীবী মানুষের কাছে। রচিত হয় শ্রমজীবী মানুষের এক করুণ ইতিহাস।
শ্রমিক নেতা আগষ্ট স্পাইজ ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেছিলেনÑ
“এমন সময় আসবে যখন কবরের অভ্যন্তরে শায়িত আমাদের নিশ্চুপতা জ্বালাময়ী বক্তৃতার চেয়ে বাঙময় হবে। এবং তার শ্রমিক শ্রেণির বিজয় লাভের শেষ সংগ্রাম লড়াইয়ের প্রেরণা যোগাবে এবং শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
১৮৮৯ সালে প্যারিসের একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সর্ব সম্মতিক্রমে ১লা মে কে আন্তর্জাতিক সংহতি ও সংগ্রামের দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর পরবর্তীতে ১৮৯০ সাল থেকে ১লা মে প্রতিবছর শ্রমিক শ্রেণির আন্তর্জাতিক সংহতি ও সংগ্রামের দিন বলে ঘোষণা করা হয়। এ ভাবেই ১৮৮৬ সালের ঐতিহাসিক মে দিবস রূপান্তরিত হয় ১৮৯০ সালের আন্তর্জাতিক মে দিবসে। আমেরিকায় ১৮৯০ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক মে দিবস পালিত হয়। এই মে দিবস হচ্ছে পৃথিবীর মেহনতী মানুষের সংকল্প গ্রহণের দিন। পূঁজিবাদী দাসত্ব শৃঙ্খল থেকে মুক্তির দৃঢ় অঙ্গীকার। মে দিবস শ্রমিক শ্রেণির চিন্তায়-চেতনায় এনেছে এক বৈপ্লবিক সাফল্য। সারা পৃথিবী জুড়ে এ দিবসটি শ্রমিক আন্দোলন ও মুক্তি সংগ্রামের এক ঐতিহ্য সমৃদ্ধ দিন। শ্রমিক ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এক উজ্জীবন মন্ত্র। এ দিবসের চেতনাই শ্রমিকদের সংহতি সুদৃঢ় করেছে। মে দিবসের সংগ্রামী চেতনায়ই শ্রমজীবী মানুষের ভূষণ হয়ে উঠুক। এই দিবসটি হচ্ছে গোটা পৃথিবীর শ্রমজীবী সমাজের বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচনা করার দিন। পূঁজিবাদ ও শ্রেণীবৈষম্যের বিরুদ্ধে এক বৈপ্লবিক কণ্ঠস্বর। এ দিবসটির চেতনাই সামনে এগিয়ে যাওয়ার মূল মন্ত্র। মে দিবসে সকল শ্রমজীবী মানুষের ভ্রাতৃত্ব বন্ধন আরো সুদৃঢ় হোক এটাই আমাদের প্রত্যাশা। জয় হোক সাম্যের। জয় হোক মেহনতী মানুষের।
লেখক : শিক্ষক।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT