সম্পাদকীয় মানুষের সুখ্যাতির যোগ্য মর্যাদা দেবে।-আল হাদিস

মুক্ত গণমাধ্যম দিবস

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩-০৫-২০১৯ ইং ০০:৪৯:৩৭ | সংবাদটি ৭৯ বার পঠিত

সামাজিক অস্থিরতার মাত্রা বেড়ে চলেছে দিন দিন। সেই সঙ্গে বাড়ছে নানা ঘটনা দুর্ঘটনা। খুন-খারাবি, মারামারি, সহিংসতা, সড়ক দুর্ঘটনাসহ নানা ধরণের দুর্ঘটনায় প্রতিদিনই প্রাণ ঝরছে, অপমৃত্যু হচ্ছে অসংখ্য মানুষের। এইসব দুর্ঘটনা, আর অপমৃত্যুর শিকার হচ্ছে জাতির বিবেক বলে পরিচিত সাংবাদিক সমাজও। নানাভাবে নির্যাতন, নিপীড়ন ও খুনের শিকার হচ্ছেন সাংবাদিকরা। রাষ্ট্রের প্রভাবশালী ব্যক্তি থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা ও সন্ত্রাসীদের হাতে নির্যাতিত হচ্ছেন অসংখ্য সাংবাদিক। শুধু তা-ই নয় খুনেরও শিকার হচ্ছেন অনেকে। প্রতিবছরই সাংবাদিক খুনের ঘটনা ঘটছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা বিশ্বেই এখন এই পেশা একটা বিরাট চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এই প্রেক্ষাপটে আজ দেশে পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস (ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে)। দিবসটি পালন করবে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে।
সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমাদের সভ্যতা, মানবিক মূলবোধের উত্থান, যতোটুকু হওয়ার কথা ছিলো ততোটুকু হচ্ছে না। দিন দিন মিডিয়ার ব্যাপ্তি বাড়ছে, সাংবাদিকদের সংখ্যা বেড়েছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই পেশার উৎকর্ষতাও বাড়ছে। কিন্তু তার চেয়ে বেশি বাড়ছে ঝুঁকি। প্রতিবছরই নানা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার শিকার হচ্ছে এদেশে সাংবাদিকরা। বিভিন্ন সংস্থার জরিপের তথ্য হচ্ছে, ২০১৪ সালে বাংলাদেশে দু’শ ১৩ জন সাংবাদিক আক্রমণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন চার জন। ২০১২ সালে দু’শ সাতটি ঘটনায় সাংবাদিক নিগৃহীত হয়েছেন চারশ’ জন। এর মধ্যে বেশিরভাগই পেশাগত দায়িত্ব পালন ও সংবাদ প্রকাশের জেরে নিগৃহের শিকার হন। সারা বিশ্বে ২০১৭ সালে ৬৫ জন গণমাধ্যম কর্মী পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে নিহত হয়েছেন। এর আগের বছর (২০১৬) এই সংখ্যা ছিলো ৭৪।
সাধারণত রাষ্ট্রযন্ত্র ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের দ্বারাই সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা বেশি ঘটছে বলে জানা যায়। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে, এই সব ঘটনার বিচার হচ্ছে না। এই সংক্রান্ত মামলাগুলোর কার্যক্রম চলছে খুবই ঢিমেতালে। ফলে এইসব মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে শংকার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর অযাচিত আক্রমণ, সহিংস ঘটনায় বিচারিক তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য চরম ‘বাস্তবতা হিসেবে দেখা দিয়েছে। তাছাড়া, আইনের ফাঁক ফোকড় মতামত প্রকাশের জন্য ভয়ভীতির সংস্কৃতি তৈরি করেছে। এর ফলে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক ছাড়াও অনলাইন সাংবাদিকদের মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। যা আমাদের মুক্ত গণমাধ্যমের পথে অন্তরায়।
সাংবাদিকতা একটা ঝুঁকিপূর্ণ পেশা অতীতেও ছিলা, আছে এখনও। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এই পেশার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। অথচ এ ব্যাপারে সরকারের ভূমিকা সন্তোষজনক নয়। বরং দিনে দিনে রাষ্ট্রযন্ত্র ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের দ্বারাই সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১২ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কর্মপরিকল্পনায় বলা হয়েছে, মত প্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। এক্ষেত্রে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য একটা কার্যকর সুরক্ষা কৌশল ও নীতিমালা প্রয়োজন। যা গণমাধ্যমকর্মীসহ সকলের মুক্তচিন্তা প্রকাশে সহায়ক হবে।
যেখানে একটি স্বাধীন সংস্থা এই নীতিমালা তদারকির কাজ করবে। কিন্তু সরকার সে পথে যাচ্ছে না বলেই মনে হচ্ছে। বরং তারা গণমাধ্যম নিবর্তন মূলক নতুন আইন প্রণয়নেরই পাঁয়তারা চালাচ্ছে। আমরা চাই, নিবর্তন নয়, বরং শতভাগ মুক্ত গণমাধ্যম নিশ্চিত করার দিকেই এগোবে সরকার।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT