ধর্ম ও জীবন

সিয়াম কেমন হওয়া চাই

ফাতেহা বেগম প্রকাশিত হয়েছে: ০৩-০৫-২০১৯ ইং ০০:৫৪:১৭ | সংবাদটি ১১৬ বার পঠিত

মুসলিমদের জন্য সিয়াম সাধনা ও আনন্দের মাস রমযানুল মোবারক। এ মাসেই নিরবচ্ছিন্নভাবে ইবাদাতের স্বাদ গ্রহণ করা যায়। মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এ এক বড় নেয়ামত। লক্ষ রাখতে হবে, খামখেয়ালিবশত সিয়াম যেনো উপবাসে পরিণত না হয়। এ মাসে শুধু খাবার আইটেমের ভাবনা নয়, আমলের মাধ্যমে আত্মিক প্রশান্তি অর্জনের দিকে মনযোগী হওয়া উচিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনাচার কেমন ছিলো এ মাসে তা জানার চেষ্টা করে সেভাবেই নিজের জীবনকে সাজাতে হবে।
রমযান মাসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেশি বেশি তেলাওয়াত করতেন। হাদিসে একে ‘দাওর’ তথা পুনরাবৃত্তি শব্দে উল্লেখ করা হয়েছে। এ মাসে যেহেতু খাওয়ার ঝামেলা থাকে না, তাই অবসর সময়ে তেলাওয়াত করা উচিত। যতটুকু সম্ভব কাজের চাপ কমিয়ে নেওয়া কর্মচারি বা অধীনস্থদের উপর থেকে। যেহেতু রোজার কারণে সবাই একটু ক্লান্ত থাকে। এ ব্যাপারেও হাদীসসমূহে উৎসাহিত করা হয়েছে।
যেহেতু এটি আমলের মাস। তাই বাড়তি কাজের ঝামেলা কমিয়ে আনা উচিত। রান্নাবান্না পরিমিত পরিমাণে করা হলে অপচয় কম হবে। অন্য আমলের জন্য সময়ও বাঁচানো যাবে। পরিবারের সবার চাহিদামতো সাহরী ইফতারের আয়োজন করলে ভারসাম্য বজায় থাকে।
প্রতিবেশিদের ইফতার করানো এবং সাধ্যমতো ক্ষুধার্ত মানুষদের আহার করানোর চেষ্টা করা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক টুকরো খেজুর দিয়ে হলেও অন্যকে ইফতার করানোর ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করেছেন। অন্য রোজাদারকে এক ঢোক পানি পান করালেও তার রোজার সমতুল্য সাওয়াব পাওয়া যায়।
এ মাসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দান-সাদাক্বার পরিমাণ বাড়িয়ে দিতেন। আমাদের চেষ্টা থাকা উচিত দুঃস্থ-দরিদ্রদের সামর্থ্য পরিমাণ দান করা। এতে সম্পদে বারাকাহ আসে।
রমযান মাসটা আমরা দ্বীন সম্পর্কে জানা বা কোরআনে কারীমের উপর গভীর জ্ঞান অর্জনে ব্যয় করতে পারি। এজন্য ধর্মীয় বই পড়া বা ইসলামিক স্কলারদের আলোচনা শোনা যায়। এতে সময়টাও কাটবে ভালো। জানার আনন্দে মনও থাকবে প্রফুল্ল। কোনভাবেই যেনো সময়ের অপব্যয় না হয় সে বিষয়ে সচেষ্ট থাকা। অনেকেই টিভি বিনোদন কিংবা নাজায়েজ কাজে সময় ব্যয় করেন এটা একদমই অনুচিত।
রমযান মাসের সময়গুলোকে আমলের মাধ্যমে সংরক্ষণ করতে হবে। মৃত্যু পরবর্তী জীবনে শুধু সে সময়টুকুই কাজে আসবে, যাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা হয়েছে। এটা হতে পারে তাসবীহ-তাহলীলের মাধ্যমে। সুন্নাহ অনুযায়ী প্রত্যেকটা কাজ করার মাধ্যমে।
হাদীসে আছে, “মুসলিম ভাইয়ের প্রতি তোমার মুচকি হাসি হচ্ছে একটি সাদাকাহ।” বিশেষত রামাদ্বানে অনেকের মেজাজ খিটখিটে থাকে। অকারণে বকাঝকা করেন। এতে রোজার পবিত্রতা নষ্ট হয়। এটা ধৈর্যের মাস। সংযমী হওয়ার মাস। উপবাসের কারণে সবাই কøান্ত থাকে এবং কষ্ট অনুভূত হয়। একারণেই রোজার এতো প্রতিদান। হাদিসে বর্ণিত আছে, “রোজার দিনে কেউ যেনো শোরগোল না করে। অশ্লীল কথা না বলে। কেউ ঝগড়া করতে এলে বলবে আমি রোজাদার।” অনর্থক বিষয় থেকে বেঁচে থাকতে এর চাইতে সুন্দর বাণী আর কী হতে পারে। আমাদের রোজাটা যেনো নিছক উপবাসে পরিণত না হয় সেদিকে যতœবান হই। আসুন রোজার পবিত্রতা রক্ষা করি। উদার হই। সবার সাথে সুন্দর ব্যবহার করি।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT