সম্পাদকীয়

ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪-০৫-২০১৯ ইং ০০:০৯:৪১ | সংবাদটি ১৬০ বার পঠিত


সারাদেশে ১৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিতে। নি¤œমানের কাজ, মানহীন নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার এবং দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় এইসব বিদ্যালয় ভবনের ছাদ, দেয়াল কিংবা পলেস্তরা প্রায় ধসে পড়ছে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে এই ধরনের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। এতে এক শিশুর মৃত্যুসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয় সারাদেশে প্রায় ১৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় অবকাঠামো সংকটে রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দশ হাজার বিদ্যালয়ের অবস্থা খুবই নাজুক। এছাড়া গত দুই বছরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় তিন হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন। যার মধ্যে প্রায় তিনশটি বিদ্যালয় নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বিগত সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা ভবন নির্মাণে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ ব্যয় করা হলেও নির্মাণ কাজে যথাযথ মনিটরিং ছিলো না। অবকাঠামো নির্মাণে নি¤œমানের উপকরণ সামগ্রী ব্যবহার করায় ভবন ধসের মতো নানা দুর্ঘটনা ঘটছে বারবার।
দেশের প্রায় ৬৫ হাজার ছয়শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছে কমপক্ষে দুই কোটি শিশু। সাম্প্রতিককালে এইসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিশু এবং তার অভিভাবকরা রয়েছেন আতংকের মধ্যে। সেটা হলো ভবন ধস। অসংখ্য বিদ্যালয় ভবন রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে। সরকারি সূত্রেই দেশে ১৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে স্বীকার করা হয়েছে। নির্মাণ কাজে অনিয়ম-কারচুপির কারণে বিদ্যালয় ভবনগুলোর এই পরিণতি হয়েছে। জানা গেছে, ১৫/২০ বছর আগে যেসব বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, সেগুলোর স্থায়ীত্ব ধরা হয় ৫০ বছর। কিন্তু এখনই অনেক ভবনের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে নির্মিত এইসব বিদ্যালয়ের মধ্যে পাঁচ হাজার ভবন সংস্কারের জন্য দেড়শ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। যখন খোদ সরকারের লোকজনই বলছেন, বিদ্যালয় ভবনগুলো নির্মাণে অনিয়ম হয়েছে, কারচুপি হয়েছে, তখন আর কারও কিছু বলার থাকেনা। এর মানে হলো, সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের দুর্নীতিবাজ লোকদের সঙ্গে প্রকল্পের ঠিকাদার সমন্বয়ে গঠিত চক্র দুর্নীতি লুটপাটের মাধ্যমে যাচ্ছেতাইভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। আর বরাদ্দ অর্থের মোটা অংশ চলে যায় লুটেরাদের পকেটে। বাকি অর্থে যে কাজ হয় ৫০ বছরের মেয়াদ দশ বছরে এসে ঠেকে। এভাবেই চলে আসছে যুগের পর যুগ।
দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তাসহ বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিবর্গের লুটপাটের খেসারত দিতে হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের। এবার জরাজীর্ণ বিদ্যালয়গুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আর যথারীতি একইভাবে এই সংস্কার প্রকল্পে সরকারি অর্থ লুটপাট হবে বলেই বিশেষজ্ঞগণ আশংকা করছেন। কারণ সরকারি নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতি এখন আগের চেয়ে কমেনি; বরং বেড়েছে। সুতরাং দুর্নীতিবাজ-লূটেরাদের যেভাবেই হোক দমন করতে হবে আগে। ইতোপূর্বে নির্মিত ৫০ বছরের মেয়াদের ভবন দশ বছরে কেন জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে, কারা এর জন্য দায়ী, এদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT