সম্পাদকীয়

বিশ্ব ধাত্রী দিবস

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-০৫-২০১৯ ইং ০০:৪৮:৪৪ | সংবাদটি ৬৬ বার পঠিত


আজ দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ধাত্রী দিবস। বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মতো বাংলাদেশেও প্রতি বছর আজকের এই দিনে পালিত হয় দিবসটি। সন্তান প্রসবে যুগ যুগ ধরে ঘরে ঘরে যারা সেবা দিয়ে আসছে, সেই ধাত্রী বা মিডওয়াইফদের অবদানের স্বীকৃতি দেয়ার জন্যই দিবসটি পালন করা হয়। ধাত্রীদের উপযুক্ত মর্যাদা দেয়ার জন্য ১৯৮০ এর দশক থেকে আন্দোলন শুরু হয় আন্তর্জাতিকভাবে। এর প্রেক্ষিতে ১৯৯২ সালে ৫ই মে তারিখটিকে আন্তর্জাতিক ধাত্রী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। প্রতি বছরই এই দিবসটি পালনের প্রাক্কালে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ মিডওয়াইফ তৈরীর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। বুদ্ধিজীবী মহলের বক্তব্য হচ্ছে মাতৃ ও শিশুমৃত্যু হার বহুলাংশে হ্রাস করতে দক্ষ মিডওয়াইফ গড়ে তোলা দরকার। এই গুরুত্ব বিবেচনা করেই সরকারী প্রতিষ্ঠানে মিডওয়াইফ পদ সৃষ্টির পাশাপাশি মিডওয়াইফ শিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া হচ্ছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে মিডওয়াইফ।
বাংলার গ্রামীণ জনপদে মিডওয়াইফ বা ধাত্রী পেশা অতি প্রাচীন। অতীতে যখন চিকিৎসা ব্যবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি, তখন কোন প্রসূতির সন্তান প্রসবে ধাত্রীই ছিলো একমাত্র ভরসা। এরা প্রাতিষ্ঠানিক কোন শিক্ষা ছাড়াই বেশ দক্ষতার সাথেই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে আসছে। দু’য়েকটা ব্যতিক্রম ছাড়া সন্তান প্রসবে সহযোগিতার কাজটি তারা সফলতার সঙ্গেই করছে। মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু রোধে তাদের ভূমিকা উল্লেখ করার মতো। তাই সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে মিডওয়াইফদের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে ২০০১ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে মাতৃমৃত্যুর হার ৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তাছাড়া সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে প্রতি লাখ জীবিত জন্মে মাতৃমৃত্যু যা ২০০১ সালে ছিলো তিন শ’২২, ২০১৪ সালে তা একশ’ ৭০-এ নেমে এসেছে। এসব সাফল্যে দক্ষ মিডওয়াইফদের ভূমিকা রয়েছে অনেকটাই। তবে সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে দক্ষ মিডওয়াইফদের মাধ্যমে প্রসবের হার এখনও অনেক কম (৪২ দশমিক এক শতাংশ)।
আসল কথা হলো, মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু রোধে দক্ষ মিডওয়াইফদের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। দক্ষ ও পেশাদার মিডওয়াইফরা মা ও নবজাতকের মৃত্যু রোধের পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্য সেবায়ও ভূমিকা রাখতে পারে। এক্ষেত্রে তাদের দায়িত্ব পালনে জবাবদিহিতার জন্যও প্রস্তুত থাকা উচিত। সবচেয়ে বড় কথা একজন দক্ষ মিডওয়াইফ বা ধাত্রীর সেই জ্ঞান থাকাটা জরুরী যে, কখন একজন মাকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। যুগ যুগ ধরে যে ধাত্রীরা মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে আসছে, সেই ধাত্রী পেশাই এখন স্বীকৃতি পেয়েছে। এদেরকে দেয়া হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। এই মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখার দায়িত্ব সরকারের যতোটুকু, তার চেয়ে বেশী এই পেশায় নিয়োজিতদের।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT