মহিলা সমাজ

বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান প্রসঙ্গ

শেখ রিমঝিম দোলা প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-০৫-২০১৯ ইং ০১:০৭:৪৭ | সংবাদটি ৬৯ বার পঠিত

আমাদের বিদ্যালয়গুলোতে কোন পদ্ধতিতে এবং কি কি শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে তা ক’জন জানি আর খোঁজ খবর রাখি। কয়েকটি স্বনামধন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে প্রশ্ন করে তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে অবগত হয়েছি। ছোট ছোট বাচ্চাদের উত্তর শুনে অবাক না হয়ে পারিনি।
এক. ক্লাসে কেমন পড়ানো হয়? তুমি পারছো না কেন? কি সমস্যা? শিশুদের জিজ্ঞাসা করলে বলে, কিলা পারতাম, বুঝাইয়া দেইন না স্যার/ম্যাডামে! কইন তোমরা পড়! মাতামাতি করলে কইবা খবিস অখল! ছিল্লাও কেনে! ম্যাডামরা পাকনা চুল বাছাইন! বইয়া থাকইন!
এসব যদি হয় উনাদের ব্যবহার, ভাষা আর শিক্ষা দেওয়ার নীতি তবে কোন শিক্ষার্থী জ্ঞানের আলোয় আলোকিত মানুষ হবে? পড়ালেখা শেখানোর জন্য যে ধৈর্য শক্তির প্রয়োজন, সেটার বড় অভাব আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে।
দুই. কিভাবে পড়ানো হয়? সব বোঝ তো? কি আর পড়াবেন স্যার/ম্যাডামরা। উনারাতো টেবিলে মাথা রেখে শুধু ঘুমান আর নাক ডাকান! আগেই বলে দেন, রিভাইস করো তোমরা! পড়াইননা, সব পড়া বাসার স্যার/ম্যাডামদের কাছে পড়তে হয়।
সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকাগণ আপনাদের কি বলব, ভাষা খুঁজে পাই না। নিশ্চয়ই আপনারা সময় নষ্ট করতে আসেন না। মাসের শেষে মোটা অংকের বেতন ভাতা নেন। ভবিষ্যতে পেনশন পাবেন। টাকাগুলো হালালভাবে রোজগার করুন। কর্মে অতিরিক্ত ফাঁকি দিয়ে যা নিচ্ছেন সবতো হারাম। আফসোস নাকি লজ্জা কি বলব বুঝি না। আবার মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহারে আপনারা সিদ্ধহস্ত, ক্লাসে বসেই সব সেরে নেন। দয়া করে বাচ্চাগুলোকে একটু পড়ান এবং আগামীর দক্ষ জাতি গঠনে অবদান রাখুন।
তিন. টিচাররা সব পড়া বুঝিয়ে দেন? সব বোঝান না আবার সব বুঝিনা। গণিত কম বুঝি। প্রায় সময় গাইড দেখে করান, আর বলে দেন এভাবে বাসা থেকে করে নিয়ে আসবে। অন্য রকম করলে কেটে দেন! বুঝবো কিভাবে?
গাইড দেখে করানো ব্যাপার না। কিন্তু বোঝাতে হবে। না পারার মধ্যে লজ্জা নেই। প্রয়োজনে আপনার চেয়ে দক্ষ শিক্ষকের সাহায্য নিন। যেটা আপনি পারেন না সেটা অন্য একজন শিক্ষক হয়তো ভালো পারেন। আর আপনাদের মধ্যে যারা বাচ্চাদের বোঝাতে অক্ষম এবং বিরক্তিবোধ করেন তারা এই মহৎ পেশাটাকে কলক্সিক্ষত করবেন না।
আমাদের বাচ্চারা যদি তাদের উপযোগী বইটি সম্পর্কে কোন ধারণা না পায় তবে কিভাবে চলবে? আগামী প্রজন্ম তো শিক্ষার সনদপত্রধারী অদক্ষ হিসেবে পরিগণিত হবে। যাদের ভেতর জ্ঞান থাকবে শূণ্যের কোঠায়। অনেক শিক্ষক আছেন যারা বলে দেন, আমার বাসায় অথবা কোচিংয়ে ভর্তি হবে, বুঝিয়ে দেবে। প্রশ্ন হলোÑস্যার/ ম্যাডামরা বাসা বা কোচিংয়ে যে শিক্ষাটা দেন, সেই পাঠদান বিদ্যালয়ে দিতে পারেন না কেন? শিশুদের প্রতি আপনাদের স্বদিচ্ছা ও আন্তরিকতা থাকলে একাধিক শিক্ষক কিংবা কোচিংয়ে পাঠাতে হতো না। পরিবারে বাড়তি খরচের বোঝা থেকেই অভিভাবকরা রেহাই পেতেন। সেই সাথে অভিভাবকদের দৌরাত্ম ও প্রতিযোগিতার মনোভাবটাও কমে যেতো। শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে ভেঙে পড়া থেকেও উত্তরণ ঘটতো।
বহির্বিশ্বে বিদ্যালয়গুলোতে দেখা যায় শিশুদের প্রতি শিক্ষক শিক্ষিকার কি পরিমাণ আন্তরিকতার মনোভাব নিয়ে পাঠদান করেন। আমাদের দেশেও এরকম অনেক শিক্ষক শিক্ষিকা, তরুণ প্রজন্ম আছে যারা শিশুদের স্বভাবসুলভ সুন্দর আচরণ দিয়ে শিশুদেরকে মেধাবী করে তুলতে চান।
সকল মানুষের পরিবারের অর্থের উৎস সমান নয়। যারা হতদরিদ্র্য তারা কিভাবে সন্তানদের আলাদা শিক্ষক রেখে পড়াবেন। এক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের ফ্রি কোচিংয়ের ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক। সুশিক্ষিত জাতি গঠনের জন্য শিক্ষকদের সহায়তা প্রয়োজন। যারা দিনে আনে দিনে খায়, তাদের শিশুরাও মেধাবী হবে। শিশুদের সাথে সুন্দর আচরণ করুন। তাদের সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ করলে তাদের সমস্যা সমাধানে সুবিধা হবে। প্রয়োজনে নিজ থেকেই শিশুদের অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ করুন। তাদের সাথে শালিন ভাষায় কথা বলুন। শিশুর সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা করুন। কোনো অবস্থায়ই তাদের সাথে খারাপ আচরণ করা যাবে না। এমন আচরণ থেকে বিরত থাকা জরুরি যে আচরণে শিশু ভয় পায়।
আগামীর সমৃদ্ধ ও দক্ষ জনশক্তিতে দেশকে রূপান্তরিত করতে হলে শিশুদের প্রতি আমাদের বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। এখন থেকে যদি শিশুরা মেধাবী হয়ে ওঠতে পারে তাহলে আগামীর বাংলাদেশ হবে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির বাংলাদেশ।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT