সম্পাদকীয়

রেডক্রিসেন্ট দিবস

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-০৫-২০১৯ ইং ০০:১৪:০৫ | সংবাদটি ৫৫৯ বার পঠিত
Image

আজ বিশ্ব রেডক্রস ও রেডক্রিসেন্ট দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এই দিবসটি পালন করা হচ্ছে। ১৮৬৩ সালের আজকের এই দিনে যুদ্ধে আহতদের সেবার মহান ব্রত নিয়ে গড়ে ওঠে রেডক্রস। এর প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন জ্বীন হেনরি ডোনাল্ট। তিনি ছিলেন একজন সমাজসেবক মানবহিতৈষী। শান্তিতে প্রথম নোবেল বিজয়ী ডুনান্ট-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আজ কোটি কোটি মানব সন্তান বিপন্ন মানবতার সেবায় নিয়োজিত। তিনি জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে পৃথিবীর সকল মানুষকে এক পতাকাতলে একই কর্মসূচিতে একত্রিত করেছিলেন। সাম্য মৈত্রির বন্ধনে আবদ্ধ করেছিলেন মানব সন্তানদের একটি সংগঠনের মাধ্যমে। সেই সংগঠনের নাম রেডক্রস বা রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি। আর্তমানবতার সেবায় প্রতিষ্ঠিত রেডক্রস বা রেডক্রিসেন্ট এর প্রয়োজনীয়তা যতো দিন যাচ্ছে ততোই বাড়ছে। কারণ দেশে দেশে নানা কারণে বিপন্ন মানুষের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা মানবসৃষ্ট দুর্যোগে প্রতিনিয়ত মানুষ বিপর্যস্ত হচ্ছে।
রেডক্রস বা রেডক্রিসেন্টের জন্ম হয়েছিলো এক হৃদয় বিদারক ঘটনার মাধ্যমে। ১৮৫৯ সালের ২৪ এ জুন তৎকালীন ইউরোপের দুই বৃহৎ শক্তি ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়ার মধ্যে যুদ্ধ হয়। ইতালীর সলকেরিনো নামক স্থানে ১৫-১৬ ঘন্টার সেই যুদ্ধে অংশ নেয় তিন লাখ সৈন্য। এতে আহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪০ থেকে ৪২ হাজার। একদিকে বিজয়ী সৈন্যরা বিজয় উৎসবে মত্ত, আর অপরদিকে ৪০-৪২ হাজার আহত মানুষের আহাজারি। অথচ তাদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে না। এই হৃদয় বিদারক দৃশ্যটি মানবহিতৈষী ডুনান্টের হৃদয়ে দারুণভাবে রেখাপাত করে। তখন তিনি আহতদের সেবায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি এবং তার চার সহকর্মী বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমর্থন ও সহায়তার আশায় ১৮৬৩ সালের ২৬-এ অক্টোবর একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আহ্বান করেন। ১৬টি দেশের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে এই সম্মেলনে হেনরী ডুনান্টের প্রস্তাব অনুযায়ী রেডক্রস নামে একটি আন্তর্জাতিক সেবামূলক নিরপেক্ষ সংস্থা গঠিত হয়। যা বর্তমানে সারা বিশ্বে সর্বশ্রেষ্ঠ বৃহত্তম মানবসেবামূলক সংস্থা। বাংলাদেশে স্বাধীনতার পূর্ব থেকেই রেডক্রস সোসাইটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ১৯৮৮ সালের চৌঠা এপ্রিল থেকে এটি রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি নামে পরিচিত।
যুদ্ধক্ষেত্রে আহতদের সেবা এবং নিহতদের সৎকার করার উদ্দেশ্যে এই সোসাইটির জন্ম হলেও এর সেবা ও কর্মপরিধি বর্তমানে অনেক বেড়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যায় বন্যা, খরা, নদীভাঙ্গন, প্রাকৃতিক নানা দুর্যোগ, অগ্নিকা- কিংবা প্রচ- শীতে আক্রান্তদের জরুরি ভিত্তিতে সেবা প্রদানে এগিয়ে আসছে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি। তাদের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-দুর্গতদের উদ্ধার, পুনর্বাসন, চিকিৎসা, খাদ্যসামগ্রী প্রদান ইত্যাদি। বিভিন্ন দুর্যোগে বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সেবামূলক কর্মকান্ড বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। মানবতা, পক্ষপাতহীনতা, নিরপেক্ষতা, স্বাধীনতা, স্বেচ্ছামূলক সেবা, একতা ও সার্বজনীনতা- এই সাতটি মূলনীতি অবলম্বন করে রেডক্রিসেন্ট তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। রেডক্রিসেন্টের এই মানবসেবার শিক্ষা সকল মানুষের মধ্যে সঞ্চারিত হোক।

 

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT