শিশু মেলা

আমান ও তার খেলার সাথী

মোঃ মনজুর আলম প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-০৫-২০১৯ ইং ০০:৪০:১৭ | সংবাদটি ৩৬ বার পঠিত

আমান স্কুলে ভর্তি হবার আগে থেকেই ক্রিকেট খেলায় অভ্যস্থ ছিল। বাড়ির অন্যরা উঠানে ক্রিকেট খেলে, তাই সে এই খেলার প্রতি ঝুঁকেছিল। আমান খেলা দেখতে দেখতে নিজের ঘরে হাত উঁচিয়ে গোলাকার যেকোন বস্তু দিয়ে বল মারার চেষ্টা করে। একা খেলতে খেলতে বাড়ির অন্য ছেলেদের নিয়ে টিম গঠন করে। ছোটরা যা দেখে তা-ই শেখে। তার চাচাতো ভাই মাহি, সিফাত, রায়হান, সাইয়িমকে নিয়ে তার ক্রিকেট খেলার টিম। সে জানে ক্রিকেটে দুই দলে দশ জন করে খেলোয়াড় থাকে। কিন্তু বাড়ির অন্য ভাইয়েরা বয়সে অনেক বড়, তাই আমান টিমে দুইজন করে খেলোয়াড় নিয়েছে। আমান সহ পাঁচ জন হওয়ায় প্রায় সময়ই একজনকে বসে থাকতে হয়, তবে বসাজন আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করে। আম্পায়ারের সাথে মাঝে মধ্যে খেলোয়াড়দের মনোমালিন্য হতে দেখা যায়। আমানের এমন টিম দেখে তার চাচা তাকে একটি ক্রিকেট বল এনে দিলেন। বাহ!। আমানসহ সবাই কি খুশি।
প্রতিদিন খেলা হয় সকাল-বিকাল। খেলতে খেলতে একসময় বলটি ফেটে যায়। চাচা আবার বল এনে দেন। এভাবে খেলতে খেলতে আমান স্কুলে ভর্তির বয়স হয়ে গেল। এখন আমান রোজ স্কুলে যায় এবং বিকাল বেলা খেলা করে। সবাই খুশি পড়ায় তার মন দেখে। তার চাচা তাকে বুঝিয়ে দিলেন লেখাপড়াকে প্রাধান্য দিতে হবে। আমান সে অনুযায়ী খেলে। তবে মাঝে মধ্যে পড়া কামাই করে খেলা শুরু করে। তাই চাচা আর তাকে বল কিনে দেন না।
আমান এখন বিকল্প চিন্তা করে কিভাবে বল পাওয়া যায়। কারণ সে বেশী খেলতে চায়। আমানের সাথী খেলোয়াড়রা খেলা অনিশ্চিত দেখে ভাবতে থাকে কী করা যায় বলের জন্য। মাহি বলে উঠে ও আমান চিন্তা কর না, আমাদের ব্যাট যখন আমাদেরই তৈরি-আমরাতো কাঠের টুকরো দিয়ে ব্যাট তৈরি করেছি, বলও আমরা তৈরি করব। আমান বলল, আচ্ছা বলটি আমরা সবাই মিলেই তৈরি করব। আমান সবাইকে বলল কিছু কাগজ ও একটি পলিথিন, এটি দড়ি নিয়ে আসতে। সবাই তা সংগ্রহে নেমে গেল। আমানের কাছে নিয়ে আসতেই আমান কাগজগুলি নিয়ে গোল আকৃতি করে পলিথিনের মধ্যে পুরে দিলো এবং দড়ি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে মোটামুটি একটি ক্রিকেট বলের আকৃতি হলো। এবার সবাই হৈহুল্লোড় করে খেলায় মেতে উঠল। কী মজা কী মজা সবাই শুধু লাফাচ্ছে এবার খেলা হবে।
যথারীতি খেলা শুরু হলো। ব্যাট দিয়ে কয়েকবার মারার পর বলটি থেতলে গেল। দড়ির বাঁধন খুলে গিয়ে ভিতরের কগজ বের হয়ে আসল। কিছুক্ষণের জন্য খেলা বন্ধ রেখে আবার বলটাকে শক্ত করে বেঁধে খেলা শুরু। এভাবে খেলা চলে। কিন্তু সবাই বিরক্ত। এই খেলা, এই বল তৈরি করা এসব ভালো লাগে না।
সবাই পরামর্শ করে আমানের চাচাকে বলল চাচা আমরা আর লুকিয়ে লুকিয়ে খেলব না, ঠিকমতো স্কুলে যাব, বাড়িতে হোমওয়ার্ক করব, আমাদের আরো বল কিনে দাও না। চাচা বাচ্চাদের কথা শুনে সায় দিয়ে এবার দুইটি বল এনে দিলেন। বাচ্চারা সবাই খুশি হলো এবং তারা আর সকালে খেলতে গেল না। সবাই স্কুলে যায় এবং নিয়মিত বাড়িতে পড়া শিখে।
আমান বলল বড়দের কথা মানলে বড়রা ¯েœহ করে এবং আমাদেরও ভালো হয়। মাহি, সাইয়িম, রায়হান, সিফাত বলল তোর বুদ্ধিতে যখন আমরা বল তৈরি করেছি তুই আমাদের দলনেতা। একতাই বল।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT