শিশু মেলা

ঐশী এবং ৭ই মার্চের ভাষণ

আহমাদ সেলিম প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-০৫-২০১৯ ইং ০০:৪১:০২ | সংবাদটি ২০০ বার পঠিত

ঐশী পড়ে নবম শ্রেণীতে। হঠাৎ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বাবলী পুরকায়স্থ বললেন, জাতীয় পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হবে। শুরু হলো প্রস্তুতি। প্রথমে উপজেলা পর্যায়ে। সেখানে বহু প্রতিযোগির অংশগ্রহণ। সেদিন বিচারক মন্ডলী ঐন্দ্রিলা নাথ ঐশীর সাতই মার্চের ভাষণ মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনলেন। তারপর বিজয়ের মাল্যটা শোভা পেলো তার গলাতেই। শুরুটা স্কুল দিয়ে হলেও শিশু একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমিতে অংশ নেয়ায় বহু মানুষ তার কচি কন্ঠে শুনেছেন সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ। যেখানেই অংশ নিয়েছে, সেখানেই মেধার স্বাক্ষর রেখেছে ঐশী। বর্তমানে সে সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে দশম শ্রেণীতে পড়ছে। স্কুল পড়–য়া একটি মেয়ের কন্ঠে একটানা উনিশ মিনিটের মুখস্ত ভাষণ- সত্যি বিস্ময়।
ঐন্দ্রিলা নাথ ঐশী ভালো একজন আবৃত্তি শিল্পী, একজন ভালো অভিনয় শিল্পী। ভালো সঞ্চালক হিসেবেও খ্যাতি রয়েছে শিশুটির। সবকিছু ছাপিয়ে ঐশীর কন্ঠে যখন ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ উচ্চারিত হয় তখন শিহরিত হয়, পুলকিত হয় মন। হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠে এটি এমন এক ভাষণ, এমন এক অমর কাব্য যা স্বাধীনতার পর থেকে এদেশের বহু স্কুল কলেজ শিক্ষার্থীরা মুখস্ত করতে পেরেছে। বুকে সাহস নিয়ে মঞ্চে দাঁড়িয়ে অকপটে বলেছে।
স্বাধীনতার এতগুলো বছর পর এখনো মানুষ সেই ভাষণ মুখস্ত করছে। কিন্তু একেক জনের বলার ভঙ্গি একেক রকম। প্রত্যেক শিশুর বলার মধ্যে রয়েছে স্বাতন্ত্র বৈশিষ্ট। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম সিলেটের ঐশী। তার বলার ঢং ভিন্ন। বঙ্গবন্ধুর মতো মাঝে মাঝে তার তর্জনী উঠানোর ধরণে আছে বৈচিত্র। তার উচ্চারণ, কাব্যগুণ, শব্দপ্রবাহ. নাটকীয়তা অন্য শিশুদের শুধু আকৃষ্ট নয়, উজ্জ্বীবিতও করে। এজন্য সবাই ঐশীর ভাষণ গ্রহণ করেছে খুব সহজে।
একটি ভাষণের মধ্য দিয়ে শিশু বয়সে সবার মধ্যে তার নাম ছড়িয়ে পড়েছে। যতদিন যাচ্ছে এই কোমল কন্ঠে সেই অমর কবিতার গ্রহণযোগ্যতা যেন ব্যাপ্তি লাভ করছে। আর যে সর্বজনীন ভাষণের মধ্য দিয়ে একটি জাতিকে একজন বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার জন্য প্রস্তত করেছেন সেই ভাষণ সবার ভালোলাগার জায়গায় ঝাপিয়ে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। এই ভাষণের গুণাবলি যুগ থেকে যুগান্তর সব শিশুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়–ক স্বপ্নে, মানবিকায়।
আমরা জানি, বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ অনেক ভাষায় অনুবাদ হয়েছে। গবেষণা হয়েছে। পাঠ্যপুস্তকেও ঠাঁই পেয়েছে। ঐতিহাসিক এ ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতিও দিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। সেই ভাষণ ঐশীর মতো একদিন সকল শিশু মঞ্চ থেকে মঞ্চে নিয়ে যাবে, সবার মধ্যে ছড়াবে সেই ভাষণের সার্বজনীন মানবিকতা। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ঐশী সিলেটের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একটি পরিচিত মুখ। নগরীর কুয়ারপাড় এলাকার বাসিন্দা ঐশীর বাবা কবি সাংবাদিক সঞ্জয় নাথ সঞ্জু এবং মা শিক্ষক শিপ্রা রাণী নাথ। তারা ঐশীর উন্নত জীবনের জন্য সবার আশির্বাদ প্রত্যাশী।


শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT