সম্পাদকীয় মানুষের সুখ্যাতির যোগ্য মর্যাদা দেবে। - আল হাদিস

পরিযায়ী পাখী দিবস

প্রকাশিত হয়েছে: ১০-০৫-২০১৯ ইং ০১:১৫:৫২ | সংবাদটি ৩৮ বার পঠিত

‘শীতের অতিথি’ চলে গেছে শীতের বিদায় নেয়ার সাথে সাথে। আগামী শীতে আবার আসবে এই ‘অতিথিরা’। এদের নিমন্ত্রণ করে আনতে হয় না। কারণ এদের নির্দিষ্ট কোন দেশ নেই, মানচিত্র নেই। পুরো পৃথিবীটাই তাদের বাসভূমি। এরা হচ্ছে পাখী। শীত মওসুমে শীত প্রধান দেশগুলোতে শীতের তীব্রতা সহ্য করতে না পেরে পাখীরা অপেক্ষাকৃত কম শীতের দেশগুলোতে চলে আসে। শীত চলে গেলে তারাও চলে যায়। এই ধরনের পাখীকে বলা হয় পরিযায়ী পাখী। আর এইসব পাখীর জন্য আজ পালিত হচ্ছে ‘ বিশ্ব পরিযায়ী পাখী দিবস’। পরিযায়ী পাখীদের সব প্রতিকূলতা দূর করতে সারা বিশ্বে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০০৬ সাল থেকে এই দিবস পালন করা হচ্ছে।
প্রতিবছর মে মাসের ৯ ও ১০ তারিখ উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে বিশ্ব পরিযায়ী পাখীদিবস পালন করা হয়। ওই সময় দক্ষিণ আমেরিকা থেকে উত্তর আমেরিকায় এবং আফ্রিকা থেকে ইউরোপ ও সাইবেরিয়ায় পরিযায়ী পাখিরা এসে বাসা বাঁধে ও বাচ্চা তোলে। সেপ্টেম্বর নাগাদ বাচ্চারা বড় হয়ে গেলে শীতের আগে তারা বাচ্চাসহ আবার দক্ষিণে পাড়ি দেয়। উত্তর গোলার্ধে যখন শীত আসে দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল। এভাবেই বিশ্বব্যাপী ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে পরিযাযী পাখীদের পরিগমণ চলে। বাংলাদেশ বা দক্ষিণ এশিয়া উত্তর গোলার্ধে পড়লেও এর বেশিরভাগ অঞ্চলে শীতকালে তুষারপাত হয় না। তাই ইউরোপ, মধ্য এশিয়া, সাইবেরিয়া ও চীন থেকে পরিযায়ী পাখীদের একটা অংশ এখানে আসে। পশ্চিমের আরব, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের দ্বীপপূঞ্জ থেকেও ঋতু পরিবর্তনের নানা সময়ে পাখিরা এখানে আসে। সুদূর অতীত থেকে বাংলার সমতল ও সুন্দরবনকে লক্ষ করে প্রায় আটটি পথে আসে এই পাখিরা। অবশ্য বাংলাদেশে পরিযায়ী পাখীদের ‘অতিথি পাখী’ বলে সম্বোধন করা হয়। বিশেষজ্ঞগণ বলেন, পাখীদের বাসভূমি সারা পৃথিবী, তারা কোন দেশেরই অতিথি নয়।
এই সুন্দর পৃথিবীতে পাখী হচ্ছে আল্লাহর অপূর্ব একটি সৃষ্টি। পাখী হচ্ছে সুন্দরের প্রতীক। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখীর ভূমিকা অনন্য। আর পাখীর গানে ঘুম ভাঙা এবং পাখীর গানে ঘুমিয়ে পড়া তো বাঙালির চিরায়ত অভ্যাস। আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতির অনেকটা জুড়েই রয়েছে নানা বর্ণ নানা জাতের পাখীর উপস্থিতি। বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীতে প্রায় দশ হাজার প্রজাতির পাখী রয়েছে। এর মধ্যে বিশাল অংশ পরিযায়ী পাখী। এই পাখীরা নিজের দেশে বছরের মাত্র কিছু সময় অবস্থান করে থাকে। বাকি সময়টা তারা অন্য দেশে কাটায়। এর কারণ হচ্ছে-নিজ দেশের ভৌগোলিক অবস্থা, আবহাওয়া তথা পরিবেশের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে না পারা। এইসব কারণে তারা বংশবৃদ্ধি ও খাবার সংগ্রহে ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হয়। পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে তারা পছন্দ মতো অন্য দেশে পরিযায়ী সেজে চলে যায়।
পরিযায়ী পাখীদের একটি সুন্দর আবাসস্থল হচ্ছে অপরূপ সৌন্দর্যমন্ডিত বাংলাদেশ। এখানে সবুজ শ্যামল মাঠ, হাওর-বাওর, পাহাড়, গ্রাম, জনপদ পাখীদের আশ্রয়স্থল। তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পাখীরা ঝাঁকে ঝাঁকে আসে এদেশে। তারা সাইবেরিয়াসহ হিমালয়ের পাদদেশ, ইউরোপ, দূরপ্রাচ্যের শীত প্রধান দেশগুলো থেকে আসে বাংলাদেশে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড়শ প্রজাতির পরিযায়ী পাখী আসে বাংলাদেশে। কিন্তু এই পাখীরা এখানে মোটেই নিরাপদ থাকছে না। পেশাদার বা সৌখিন শিকারীদের খপ্পরে পড়ে এরা ধ্বংস হচ্ছে। তাছাড়া, দিন দিন পাখীদের আবাসস্থলও সংকোচিত হচ্ছে। ফলে প্রতি বছরই এদেশে পরিযায়ী পাখীদের সংখ্যা কমছে।
সব মিলিয়ে আমাদের দেশে বিশ্ব পরিযায়ী পাখী দিবস পালনের গুরুত্ব অপরিসীম। শুধু পরিযায়ী নয়, যেকোন পাখী শিকারই আইনত নিষিদ্ধ। কিন্তু সেই আইন কেউ মানছে না। যাদের ওপর এই আইন প্রয়োগ করার দায়িত্ব, সেই প্রশাসনের লোকজন এ ব্যাপারে নীরব। বরং তাদের চোখের সামনেই দেশী বিদেশী পাখী ধরে বাজারে বিক্রী করা হচ্ছে। অনেক সময় সরকারের প্রভাবশালী লোকজনের রসনা মেটাতে প্রথম পছন্দ হিসেবে পাখীকেই রাখা হয়। দেশী বিদেশী সব ধরণের পাখীর কলকাকলীতে মুখরিত থাকবে গ্রাম বাংলার হাওর বিল, বনবনানী। এই দৃশ্য যাতে হারিয়ে না যায়। পরিযায়ী পাখী দিবস উপলক্ষে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT