পাঁচ মিশালী

সাহিত্য সাধনায় কানাইঘাট

মিলন কান্তি দাস প্রকাশিত হয়েছে: ১১-০৫-২০১৯ ইং ০০:২১:০৭ | সংবাদটি ২৫৭ বার পঠিত

সিলেট জেলার অন্যতম একটি উপজেলা কানাইঘাট। খাসিয়া জৈন্তিয়া পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত সুরমা নদীর তীরঘেষা উপজেলা কানাইঘাট। সমাজ, শিক্ষা, সাহিত্য, অর্থনীতি প্রতিটি ক্ষেত্রে কানাইঘাট এগিয়ে যাচ্ছে।
কানাইঘাটের তরুণদের একটি অংশ বর্তমানে সাহিত্যচর্চায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন। অংশটা সংখ্যাগত দিক থেকে হয়তো নগণ্য, তবে তাদের কর্মতৎপরতা ও লক্ষ্য অবশ্যই অগ্রগণ্য, ইতিবাচক ও ফলপ্রসু। কানাইঘাটের বর্তমান প্রজন্মের তরুণ কবি ও সাহিত্যিকরা কানাইঘাটের সাহিত্যাঙ্গনে ইতিমধ্যেই নবজাগরণের সৃষ্টি করেছেন। ভবিষ্যত প্রজন্ম ও আগামীর কানাইঘাট অবশ্যই আজকের সাহিত্যিকদের কর্মসাধনার সুফল ভোগ করবেন।
বিগত শতাব্দীতে কানাইঘাটের কৃতিসন্তানদের মধ্যে সাহিত্য সাধনায় যাদের নাম পাওয়া যায় তাদের মধ্যে গীতিকবি মরহুম শাহ ইব্রাহীম তশনা, মরহুম আব্দুল মতিন জালালাবাদী, মরহুম ফয়জুর রহমান, গীতিকবি মরহুম ক্বারী সোলায়মান, মরহুম ডাঃ মোঃ শামসউদ্দিন প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।
বর্তমান সময়ের যারা সাহিত্যজগতে পদচিহ্ন রেখে চলেছেন, তাদের মধ্যে কবি খলিলুর রহমান, ড্রাগ সুপার (অব) আব্দুল জলিল চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোঃ মহি উদ্দিন, পুলিশ কর্মকর্তা শরিফ উদ্দিন, কবি আব্দুল মতিন, কলামিস্ট অধ্যক্ষ মুজম্মিল আলী, কবি সরওয়ার ফারুকী, গবেষক মোশতাক চৌধুরী, কবি আব্দুল কাহির, কবি ও কলামিস্ট মিলন কান্তি দাস, রম্য লেখক মাহবুবুর রশীদ, সাংবাদিক লুৎফুর রহমান তোফায়েল, গবেষক আসিফ আযহার, কলামিস্ট জাকারিয়া আল হেলাল, লেখক হারুনুর রশীদ, কবি শামসীর হারুনুর রশীদ, গবেষক আব্দুর রহিম, প্রকাশক নাসির উদ্দিন, প্রকাশক আলমগীর চৌধুরী, কবি শিপুল আমিন চৌধুরী, কবি মিনহাজ বিন এবাদ, কবি আল আমিন সিদ্দিকী, ছড়াকার ও শিশু সাহিত্যিক রোমান হাফিজ, প্রকাশক জুনায়দুর রহমান, কবি রিয়াজ উদ্দিন, লেখক এহসানুল হক জসিম, প্রবাসী কবি হেলাল ইসহাক, লন্ডন প্রবাসী ইকবাল আহমদ, সাংবাদিক তাওহীদুল ইসলাম, প্রবাসী উপন্যাসিক এম এ পলাশ, সাংবাদিক ও কবি শাহীন আহমদ, কবি আতিকুর রহমান মনজু, কদর উদ্দিন শিশির, আমিন উল্লাহ আখতার, কবি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, গীতিকার শাহজাহান শাহেদ, গীতিকার সোলায়মান আল মাহমুদ, কবি আব্দুল বাসিত, ছড়াকার ইমরান চৌধুরী, কবি ও সাংবাদিক সুজন চন্দ অনুপ, কবি এম ইউ শাকিল, আব্দুল্লাহ আল হাসান, আরিফ উর রহমান, জাহেদ হোসেন জয় এর নাম উল্লেখযোগ্য।
কানাইঘাট সরকারী উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান। তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি লেখালেখির জগতে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছেন। তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ‘দৃষ্টিপাত’, ‘¯্রষ্টা যেথায় সৃষ্টি মাঝে’ অন্যতম। বর্তমানে তিনি অবসর জীবন যাপনের পাশাপাশি লেখালেখি অব্যাহত রেখেছেন। তাঁর জন্মস্থান কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের বীরদল (সোনাপুর) গ্রামে।
ড্রাগ সুপার (অব) আব্দুল মতিন কানাইঘাটের একজন সাহিত্যিক। তাঁর লেখা উপন্যাসের নাম- ‘কোয়ালালামপুরে যখন বৃষ্টি নামল’। তাঁর জন্মস্থান ঝিঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের ঝিঙ্গাবাড়ী কোনাগ্রামে।
উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা শরিফ উদ্দিন চাকুরী জীবনের পাশাপাশি সাহিত্য সাধনায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তিনি স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শমূলক একটি বই লিখে ইতিমধ্যে প্রশংসিত হয়েছেন। তাঁর জন্মস্থান কানাইঘাট পৌরসভার ধর্মপুর গ্রামে।
নিয়মিত লিখালিখি করে যাচ্ছেন চরিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মুজম্মিল আলী। অনলাইন শিক্ষা বিষয়ক পত্রিকা ‘দৈনিক শিক্ষা’তে তিনি নিয়মিত শিক্ষামূলক কলাম লিখে যাচ্ছেন।
শিক্ষাবিদ আব্দুল মতিন কানাইঘাট সড়কের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন সাহিত্য সাধনায়। ২০১৯ সালের একুশে বইমেলায় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ব্যাতিক্রমী অভিনিবেশ’ প্রকাশিত হয়।
গবেষক মোশতাক চৌধুরী চাকুরী জীবনের পাশাপাশি নিজেকে নিয়মিত নিয়োজিত রেখেছেন সাহিত্য সাধনায়। ইতিমধ্যেই এই গবেষকের গবেষণাধর্মী তিনটি বই প্রকাশিত হয়েছে। বইগুলো হলো ‘জৈন্তা রাজ্যের ইতিবৃত্ত’, ‘কাছাড়ের ইতিহাস ঐতিহ্য ও নান্দনিকতা’, ‘মরমী কবি শাহ ইব্রাহীম তশনা’। মোশতাক চৌধুরীর জন্ম কানাইঘাট দীঘিরপাড় পূর্ব ইউনিয়নের ধনমাইর মাটি গ্রামে।
সাহিত্য চর্চায় আরেক নিবেদিত নাম আব্দুর রহিম। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাহিত্যচর্চায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ- ‘কানাইঘাটের উলামায়ে কেরাম’। তাঁর জন্ম কানাইঘাট দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের গড়াইগ্রামে।
কানাইঘাটের সাহিত্য বোদ্ধাদের একজন কবি সরওয়ার ফারুকী। সরওয়ার ফারুকী’র মৌলিক কবিতাগুলি ইতিমধ্যে বৃহত্তর সিলেটের সাহিত্যাঙ্গনে পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছে। তার তিনটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এগুলো হলো ‘রুদ্ধ রুহের স্বর’, ‘মাটিতে মাটির চিন’ সরওয়ার ফারুকীর প্রোপিতামহ মরমী সাধক, ইসলামী চিন্তাবিদ ও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা শাহ ইব্রাহীম তশনা। ইতিমধ্যে তিনি ‘শাহ ইব্রাহীম তশনা’র বাউল গানের সংকলন’ গ্রন্থ সংকলন করেছেন। গ্রন্থটি দেশীয় লোকগীতি ও বাউলগীতি গবেষণা ও চর্চায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে। সরওয়ার ফারুকীর জন্ম কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের বাটইশাইল গ্রামে।
নিরবে নিভৃতে সাহিত্য সাধনা চালিয়ে যাচ্ছেন বুলবুল চৌধুরী। বর্তমানে তিনি একুশে টেলিভিশনে কর্মরত। তার পাশাপাশি তিনি পেন্সিল নামের একটি জনপ্রিয় প্রকাশনার অন্যতম কর্ণধার। তার বাড়ি কানাইঘাট পৌরসভার বায়মপুর গ্রামে।
কাব্যচর্চায় আরেক অগ্রজ ব্যক্তিত্ব আব্দুল কাহির। সুদীর্ঘ প্রবাস জীবনে বিভিন্ন ম্যাগাজিনে নিয়মিত কবিতা লিখতেন। ইতিমধ্যে কবি আব্দুল কাহির এর ৬টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এগুলো হলো স্বাধীনতার প্রাণ, শতাঞ্জলি, ব্যথাঞ্জলি, প্রেমাঞ্জলি, প্রণয়োল্লাস, বিজয় পথ। আব্দুল কাহিরের জন্ম কানাইঘাট সাতবাক ইউনিয়নের ভাড়ারীমাটি গ্রামে।
ছড়াকার ও কলামিস্ট মিলন কান্তি দাস ২০১৯ সালের একুশে বইমেলায় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্ন’ প্রকাশিত হয়। তিনি কানাইঘাট পৌরসভার ডালাইচর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শিক্ষকতা জীবনের পাশাপাশি সাহিত্য চর্চায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।
মাহবুবুর রশীদের দুইটি বই প্রকাশিত হয়েছে। বইগুলো হলো ‘দাঁত খুলে হাসি’ ও ‘খালি পেটে হাসি’। তিনি কানাইঘাট নিউজ এর সম্পাদক। তার জন্ম কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের গোসাইনপুর গ্রামে।
মাওলানা শামসীর হারুনুর রশীদ মাদ্রাসা শিক্ষকতার পাশাপাশি দীর্ঘদিন থেকে তিনি সাহিত্য সাধনায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। বিগত ২০১৯ সালের একুশে বই মেলায় তাঁর প্রকাশিত ‘কাব্যে মহানবী ও নিবেদিত কবিতা’ ব্যাপক প্রশংসিত হয়।
লন্ডন প্রবাসী উপন্যাসিক এম.এ পলাশ লেখালেখির জগতে বেশ প্রশংসিত। তিনি ইতিমধ্যে কয়েকটি উপন্যাস লিখে পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তাঁর উপন্যাসগুলো হলো- দ্যা চার্মিং কিলার, অদৃশ্য মানবী, ময়নাপাখি, রহস্যময় রমণী। তাঁর জন্মস্থান কানাইঘাট পৌরসভার বায়মপুর গ্রামে।
জাহিদ হোসেন রাহীন- কানাইঘাটের আরেকজন সম্ভাবনাময় তরুণ। যিনি একধারে একজন সফল সাহিত্য সংগঠক, প্রচ্ছদ ডিজাইনার, ক্যালিওগ্রাফার। শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত এই সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব কর্মক্ষেত্রে ব্যাপক সৃজনশীলতার পরিচয় রেখে চলেছেন।
সাহিত্য সংগঠক নাসির উদ্দিন। তার সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘ত্রৈমাসিক অনুপ্রাণন’ পত্রিকাটি কানাইঘাটের ইতিহাস ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্মারকগ্রন্থ। তিনি অনুপ্রাণন সম্পাদক ও কানাইঘাট সাহিত্য সংসদের সাহিত্য সম্পাদক। তার পৈতৃক নিবাস কানাইঘাট লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের মমতাজগঞ্জ গ্রামে।
ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক কৃতি ছাত্র সাংবাদিক এহসানুল হক জসীম সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাহিত্য ও গবেষণায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তার প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ- ‘বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতির ব্যাবচ্ছেদ’।
তাওহীদুল ইসলাম পেশায় একজন সাংবাদিক। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি নিজেকে লিখালিখির কাজেও নিয়োজিত রেখেছেন। তার লেখা দুইটি বই ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে ‘কানাইঘাট ইনডেক্স’ ও ‘আলোকিত কানাইঘাট’, ‘মায়ের ভালোবাসার যত অবহেলা’।
আলমগীর চৌধুরী অনুপ্রাণন পত্রিকার উপসম্পাদক। তার বাড়ি মমতাজগঞ্জ গ্রামে।
ছড়াকার লুৎফুর রহমান তোফায়েল পেশায় সাংবাদিক। দৈনিক বিজয়ের কন্ঠ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক। সাংবাদিকতার পাশাপাশি প্রচ্ছদ শিল্পী হিসাবেও তার ব্যাপক পরিচিতি। তার প্রথম প্রকাশিত ছড়াগ্রন্থ হচ্ছে- ‘ছন্দ ছড়ায় মনের কথা’। তার বাড়ি কানাইঘাট লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের কাড়াবাল্লায়।
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের কৃতি শিক্ষার্থী আসিফ আযহার। যিনি ইতিমধ্যে ইতিহাস বিষয়ে গবেষণা বই প্রকাশ করেছেন। তার লেখা প্রকাশিত গ্রন্থগুলো হলো- ‘ইতিহাসের পাঠশালায়’ (প্রাচীন যুগ), ‘ইতিহাসের পাঠশালায়’ (মধ্যযুগ), ‘সমাজ ও সভ্যতার ক্রমবিকাশ’ (প্রাচীন যুগ), ‘খেলাফতের ইতিবৃত্ত’, খ্রীস্টধর্মের গোড়ার কথা, ‘রোমান সভ্যতার ইতিকথা’। দ্যা ওয়ান মিনিট ম্যানেজার (অনুবাদ গ্রন্থ)।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT