পাঁচ মিশালী

লজিং জীবন

সৈয়দ আহমদ প্রকাশিত হয়েছে: ১১-০৫-২০১৯ ইং ০০:২২:২৯ | সংবাদটি ১২০ বার পঠিত

খাল-বিল আর সবুজ বৃক্ষ লতায় ঘেরা ফুলে ফলে সু-সুভিত বৃহৎ, শান্ত ও মনমুগ্ধকর সুন্দর একটি গ্রাম ছিল সোনাছুড়া। বর্তমান সুনামগঞ্জ জেলাধীন দোয়ারাবাজার উপজেলার বোগলা বাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তের গ্রামটির নাম সোনাছুড়া। গ্রামটির মাঝামাঝি দিয়ে প্রবাহিত সুনাছুড়া খালটি গ্রামটিকে সবুজায়নে ও শুভাবর্ধনে ছিল বিশেষ ভূমিকা, কেননা তখনকার সময় উক্ত খাল দিয়ে বারমাস ঝরণার ন্যায় স্বচ্ছ পানির ধারা প্রবাহিত হতো। এবং উভয় পার ঘেষে ছিল বন্য লতাপাতা ঘেরা ঝোপঝাড় আর বৃক্ষরাজির সমাহার। বর্ষায় খাল-বিলের পানি বৃদ্ধি পেলে খালটি খর¯্রােতা হয়ে উঠতো। ফলে খালটিতে পারাপারের অসুবিধা সৃষ্টি হতো, তখন গ্রামবাসীরা বাঁশের সাঁকো তৈরী করে পারাপারের সুবিধা করে দিত। পানির তীব্র ¯্রােতের সাথে প্রচুর মাছের আগমন ঘটতো। তখন গ্রামবাসীরা বিভিন্ন প্রকার জাল দিয়ে মাছ ধরতো। আমরা স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীরা বই-খাতা হাতে নিয়েই মাছ ধরা উপভোগ করতাম। রুই, কাতলা, বোয়াল, পুঁটি, টেংরা, মলাসহ নানা প্রজাতির মাছ দেখে আমরা আনন্দ পেতাম। সে সময়কার ছবির মত গ্রামগুলোর সৌন্দর্য ও সরলমনা গ্রামবাসীর আনন্দ দেখে কবি দ্বিজেন্দ্র লাল রায় লিখেছিলেন, ‘ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা,/আমাদের এই বসুন্ধরা/তাহার মাঝে আছে দেশ এক,/সকল দেশের সেরা... আসলেই প্রকৃতির মনোমুগ্ধকর নানা সাজ-সজ্জার সাথে অফুরন্ত রূপ, রস গন্ধের মিলনেই যেন মনকে ভরে তোলে তাইতো নদ-নদী, খাল-বিল আর হাওর বেষ্টিত বাংলার সৌন্দর্য আমাদেরকে করেছে গর্বিত। সুরমা, কুশিয়ারা, কালনী নদীসহ অসংখ্য নদ-নদী ও পাহাড়ি ঝরণার ¯্রােতধারা অত্র অঞ্চলকে করেছিল উর্বর ও সমৃদ্ধ।
সোনাছূড়া গ্রামটির সম্মুখ দিয়ে অর্থাৎ পূর্ব দিকের আমন ক্ষেত ও ফসলী জমির পরই ছিল বিশাল এলাকা জুড়ে সোনাছুড়া বিল। প্রকৃতি সৃষ্ট এই বিলটি দ্বারা আশপাশের গ্রামতো বটেই অত্রাঞ্চলের গ্রামগুলোর মাছের চাহিদা পূরণ হতো। তাছাড়া শীতকালীন শুকনো মৌসুমে বোরো ধান বা বিভিন্ন রবি শস্য উৎপাদনে উক্ত বিলের পানি দিয়ে প্রয়োজন মিটানো হতো। বিভিন্ন সময় দূর-দূরান্ত থেকেও উক্ত বিলে মানুষ মাছ ধরতে আসতো। আমি নিজেও উক্ত বিলে মাছ ধরেছিলাম। একদিন সন্ধ্যা রাত্রিতে টিপটিপ বৃষ্টি ঝরছে। ঠেলা নদীর পাহাড়ি পানির ঢল ধীরে ধীরে বাড়ছে। নদী থেকে খাল, বিল, হাওরে পানি প্রবেশ করছে। এমন সময় অভিভাবকের ভাতিজী জামাতা আমাকে নিয়ে বিলে মাছ ধরতে আসলেন। আমরা খালের মধ্যে মাঝারী সাইজের একটি ঠেলাজাল ধরতেই বড় বড় মাছ ধরা পড়ছিল। এক ঘন্টার মধ্যে আমরা ২০টি বোয়াল, ১৫টি বড় স্বরপুটি, ২০টি ঘনিয়াসহ অনেকগুলো মাছ ধরলাম। পরবর্তীতে উক্ত মাছগুলো উভয়ে কাঁধে করে বাড়িতে নিয়েছিলাম। রাতের বেলায় এত মাছ ধরবে ঘটনাটি ছিল আমার জীবনের একটি উপভোগ্য ঘটনা, তাই আজও মনে পড়ে। এখন আর সে অবস্থা ও পরিস্থিতি নেই। সোনাছুড়ার উক্ত খাল ও বিলটি মরা খাল মরা বিলে রূপান্তরিত হয়ে পড়ছে। ভরাট ও দখল হয়ে সেই সৌন্দর্য ও জৌলুস হারিয়ে ফেলেছে এবং বিলটির আশেপাশে বাড়িঘর তৈরী করে অত্র এলাকায় এখন নতুন গ্রামের সৃষ্টি করছে। ফলে এলাকার পরিবেশ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি মাছ ও পানির অভাবে মানুষের ক্ষতি হচ্ছে। তাছাড়া পানির অভাবে অত্র অঞ্চলে ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই খাদ্যাভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধু কি তাই জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে জমির মালিকানা বৃদ্ধি পেয়ে বড় বড় কৃষকের সংখ্যা কমে ক্ষুদ্র কৃষকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে অভাবি ও গরীবের সংখ্যা বাড়ছে।
আমার ক্লাশমিট তাজউদ্দিন সোনাছুড়ায় তার বন্ধুর বাড়িতেই লজিং থাকতো। তাই সেদিন বেডিং পত্র নিয়ে আমি তার লজিং বাড়িতে গেলাম। সে এবং তার বন্ধু আমাকে নিয়ে বিকালের দিকে আমার লজিং বাড়িতে গেলো। আমার ২য় লজিং অভিভাবকের নাম ছিল মুন্সি কেরামত আলী। মরহুম কেরামত আলী ছিলেন আমার পিতার বয়সী তাই উনার সাথে পরিচয় হওয়ার পূর্বেই উনাকে সালাম দিলাম। তিনি আমাদেরকে উনার বাংলা ঘরে বসতে বললেন। আমরা বসতে বসতেই তাজ উদ্দিনের বন্ধু আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললেন, ‘চাচা, এই ছেলেটি পূর্ব বাংলাবাজারের কুশিউরা গ্রামের জনাব হাফিজ হাসান উদ্দিনের ছেলে। আপনি হয়তো তার পিতার নাম শুনে থাকবেন। ছেলেটি খুব ভালো, লেখাপড়াতেও ভালো। আশা করি আপনার ছেলে-মেয়েকে ভালোভাবে পড়াতে পারবে। আপনার কথামত তাকে আজ হতেই আপনার বাড়িতে লজিং মাস্টার হিসাবে থাকার অনুমতি দিলে আমরা খুশি হব।’ লজিং (Lodging) অভিভাবক জনাব কেরামত আলী মুন্সী খুব রাশভারী লোক ছিলেন। তিনি আমাকে ¯েœহের সুরে বল্লেন, ‘বাবা, তুমি বাচ্চা মানুষ, আমার ৪/৫টি ছেলে-মেয়ে, ওরা সবাই ১ম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ছে, তুমি তাদেরকে নিয়ে শুধু পড়তে বসবে। তাদেরকে জোর করে পড়ানোর প্রয়োজন নেই। শুধু দুই বেলা অর্থাৎ সকাল-সন্ধ্যা পড়তে বসবে। তাদেরকে লেখাপড়ার একটা সময় জ্ঞান ও অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করবে। তোমাকে দেখে, তোমার পড়াশুনা দেখে, লেখাপড়ার প্রতি তাদের আগ্রহ সৃষ্টি হবে এবং পড়ালেখার একটা সময় জ্ঞান সৃষ্টি হলেই হয়তো তারা লেখাপড়া করতে পারে। ছেলে-মেয়েগুলো বাড়িতে মোটেই বই নিয়ে বসতে চায় না তাই তোমাকে গৃহশিক্ষক হিসাবে লজিং দিলাম। আর হ্যাঁ আমার বাড়িতে থাকাকালীন কোনো অসুবিধা হলে কোন প্রকার দ্বিধা না করে সরাসরি আমাকে বলবে আমি তার সমাধান করে দেব। আর তোমার সাথে এই ঘরেই আমার কৃষি কাজের ছেলেটি আলাদা চৌকিতে থাকবে। আজ হতে তুমি আমার ছেলে হিসাবে আমার বাড়িতে থাকবে।’ তাজউদ্দিন ও তার বন্ধু আমাকে রেখে বিদায় নিয়ে চলে যাওয়ার পর কাজের লোকটিকে দিয়ে তাজউদ্দিনের বাড়ি থেকে আমার বেডিং পত্র এনে সেই দিন থেকেই আমার ২য় লজিং শুরু করলাম।
দ্বিতীয় লজিং বাড়ির কয়েকজন ছাত্রের মধ্যে বড় ছেলেটির বয়স হবে তখন ৮/১০ বছর। নাম ছিল মোঃ ইছাক আলী। সে ২য় শ্রেণিতে পড়তো। লজিং অভিভাবকের দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে দুইটি ছোট ছোট মেয়ে ছিল, ওরাও আমার কাছে পড়তো। ওরা তার মায়ের মতো যথেষ্ট সুন্দরী ছিল। আমি যে কয়েক মাস তাদের বাড়িতে ছিলাম আমি তাদেরকে বেশ ¯েœহ করতাম। তাদের মা আমাকে নিজের ছেলের মতো ¯েœহ করতেন। বিত্তশালী ব্যক্তির স্ত্রী হিসাবে তিনি যথেষ্ট স্মার্ট ও পরিপার্টি থাকতেন, আমি উনাকে চাচি বলেই ডাকতাম। আমার জ্যেষ্ঠ ছাত্র ইসহাক আলী বোগলা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের কর্মচারী হিসাবে চাকুরী করত। জানিনা সে এখন কি করছে। তাকে নিয়ে আমি আমার শিক্ষা জীবনের দ্বিতীয় লজিং শুরু করেছিলাম এবং দিন রাত তাকে নিয়েই পড়তে বসা, স্কুলে যাওয়া আসা ও খেলাধুলা ইত্যাদি কাজগুলো করতাম। ইতিমধ্যে কয়েক মাস চলে যাওয়ায় বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়ে গেল এবং দুই সপ্তাহের মধ্যেই বার্ষিক পরীক্ষা দিয়ে ডিসেম্বরের শেষের দিকে বাড়িতে চলে আসলাম। যেহেতু বাড়ি থেকে স্কুলটির দূরত্ব ৪/৫ কিলোমিটার। তাই পরীক্ষার পর মাঝে মধ্যে স্কুলে গেলেও ক্লাশ না থাকায় দিনে দিনেই বাড়িতে চলে আসতাম। ফলে আার কোনো দিন ২য় লজিং বাড়িতে যাওয়া ও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
১৯৬৮ সাল। দ্বিতীয় লজিং (Lodging) বাড়িতে থেকে মাত্র ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ালেখা করছি। বয়স ১০/১২ বছরের বেশি হবে না। শরীর, স্বাস্থ্য, বুদ্ধি বিবেচনা বলতে তেমন ছিলই না। আমি অবশ্য ছোটবেলা থেকেই শান্তশিষ্ট ও মিশুক স্বভাবের স্বল্পভাষি ছিলাম। প্রয়োজন ছাড়া অবাস্তব ও অতিরিক্ত কথা বলতাম না। ফলে সে কেউ আমার সাথে মিশতে ও খেলাধুলা করতে পছন্দ করতো। লজিং বাড়ির কৃষি শ্রমিক যুবক লোকটির নাম ছিল ছাদ উদ্দিন। লজিং বাড়ির একই ঘরে দু’জন পাশাপাশি চৌকিতে ঘুমানোর সুবাদে কয়েক দিনের মধ্যেই তার সাথে আমার ঘনিষ্টতা গড়ে উঠেছিল। লজিং অভিভাবকের প্রথমা স্ত্রীর বড় মেয়ে নাজমা বেগম বেশ পরিশ্রমী মেয়ে ছিল। এক মেয়ে সন্তানসহ স্বামী পরিত্যক্তা হিসাবে দীর্ঘদিন যাবৎ পিত্রালয়ে বসবাস করেছিলেন। কালো মেয়ে হলেও শরীর স্বাস্থ্য বেশ ভালো ও পূর্ণ যৌবনা। ছাদ ভাই যুবক মানুষ। তাদের বাড়ির গৃহস্থালী ও সাংসারিক সকল কাজই তাকে করতে হয়। অনেক সময় উভয়কে একসাথেই গৃহস্থালী কাজ করতে হতো। ফলে তাদের মধ্যে ক্রমেই আন্তরিকতা ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠেছিল। আমার অবশ্য তাদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক কথাটার মর্ম বুঝার মত বয়স ছিল না। তারপরও আমি মাঝে মধ্যে লক্ষ্য করতাম তারা উভয়েই পিতামাতার অগোচরে ফিসফিস করে কথা বলতো। আমি কাছে গেলেও তাদের কথাবার্তা বুঝতে পরতাম না বা পরিষ্কার শুনা যেত না, অনেক সময় তারা কথা বন্ধ করে দিত। প্রায়ই দেখতাম ছাদ ভাই খেতে বসলে নাজমা আপা এসে তাকে খাবার পরিবেশন করতো। ভালো তরকারী রান্না করলে নাজমা আপা সাদ ভাই এর প্লেটে বেশি বেশি তুলে দিত। বেশি বেশি গাভীর দুধ খেতে দিত। আমি সাদ ভাইয়ের সাথে খেতে বসলে আমাকেও ভালোভাবে পরিবেশন করতো। তাই আমি সুযোগ বুঝে সাদ ভাই এর সাথে খেতে বাসতাম। আমি খাওয়া দাওয়ায় তেমন পটু ছিলাম না এখনও নই, তবে সু-স্বাদু খাবার হলে খেতে পছন্দ করে থাকি। দীর্ঘ ৭/৮ মাস তাদের বাড়িতে লজিং থাকার সময় সাদ উদ্দিন ভাই ও নাজমা আপার লুকোচুরি ও তাদের ভালোবাসার অভিনয় দেখে বেশ আনন্দ পেতাম। তখনকার সময় সেটেল্ড ম্যানেজ ছাড়া, লাভ ম্যারেজ বা সকল ধরনের অবৈধ বিবাহ বা সম্পর্ক ছিল ধর্ম মতো তো বটেই, সামাজিকভাবেও অসম্ভব এবং অবৈধ। সামাজিকভাবে এ ধরনের কাজকর্মের জন্য কঠোর শাস্তি পেতে হতো। তখন সমাজে ন্যায় বিচার ছিল। তাই সমাজে বা গ্রামে গঞ্জে অশান্তি ছিল না। সাধারণ মানুষ গ্রামে শান্তিতে বসবাস করতো।
সাদ উদ্দিন কাজের লোক হলেও মানুষ হিসাবে সে খুব ভালো ও শান্ত, ন¤্র, ভদ্র স্বভাবের লোক ছিল। তাই আমি তাকে সাদ ভাই বলেই ডাকতাম। নাজমা আপাও হয়তো তার শান্ত স্বভাবের জন্যই তাকে ভালোবাসতো। রাত্রিতে আমি পড়তে বসলে সে প্রায়ই আমাকে লেখাপড়ায় উৎসাহ যোগাতো এবং বলতো ভালোভাবে লেখাপড়া কর ভাই, লেখাপড়া না করলে জীবন গড়তে ও প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে না। সে প্রায় রাত্রেই আমাকে পড়তে থাকো ভাই বলে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতো। আমাকে বলে যেতো, সে না আসা পর্যন্ত যেন আমি পড়া থেকে না উঠি। ফলে তার ফিরে আসার অপেক্ষায় আমার ইচ্ছা না থাকলেও অধিক সময় পড়তে হতো। কারণ আমি ঘুমিয়ে গেলে পুনরায় ঘুম থেকে জেগে তাকে দরজা খুলে দিতে হবে। তাই সে না আসা পর্যন্ত লেখাপড়া করাই তখন উত্তম ছিল। আসলে রাত্রিতে হয়তো সে নাজমার সাথে দেখা করার জন্যই বাহিরে যেতো, কেননা মাঝে মধ্যে প্রয়োজনে তাকে ধারে কাছে ডাকলে পাওয়া যেতো। লজিং থেকে চলে আসার দীর্ঘদিন পর জানতে পারলাম নাজমা আপাকে নিয়ে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছিল এবং এখন তারা চিলাই নদীর তীরে বাড়ি বানিয়ে সুখ শান্তিতে সংসার করছে। তবে সাদ উদ্দিনের সাথে আমার আর সাক্ষাৎ হয়নি, হলে হয়তো আরও জানতে ও লিখতে পারতাম।
ভালোবাসাকে দৃঢ়, শান্ত ও পুষ্ট করে বাঁচিয়ে রাখতে হলে অর্থাৎ দীর্ঘস্থায়ী করতে চাইলে, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধার মনোভাব থাকতে হবে, কেননা যে ভালোবাসায় শ্রদ্ধা নেই, সে ভালোবাসার পাত্র-পাত্রি পরস্পরকে সম্মানের চোখে দেখে না, সে ভালোবাসা ক্ষণস্থায়ী। এটা ভালোবাসা নয় তার নাম মোহ। বর্তমান যুগের ভালোবাসায় শ্রদ্ধাবোধ ও বিশ্বাস না থাকার কারণেই স্ত্রীকে, ভালোবাসার পাত্রিকে কুপিয়ে মারছে, ছুরিকাঘাতে মারছে, পুড়িয়ে মারছে অথবা বিষপানে মারছে যা প্রায়ই গণমাধ্যমগুলিতে ভাইরাল হচ্ছে। আসলে এগুলো ভালোবাসা নয়, মোহ, স্বার্থপরতা ও হিং¯্রতা। ভালোবাসার ব্যাপারে পুরুষরা চিরকালই বঞ্চনার শিকার আর মেয়েরা শিকারি। একজন শিকারি যেমন শিকারের জন্য তার হাতিয়ার তথা বন্ধুটিকে ভালোবাসে তেমনি একজন মেয়ে মানুষ সৃষ্টির প্রয়োজনেই একজন পুরুষকে ভালোবাসে। ভালোবাসার নিজস্ব রূপ আছে, আছে মূল্য, সুখ, দুঃখ ও সৌরভ তাই ভালোবাসা যে পেল না, আর ভালোবাসা যে কাউকে দিতে পারল না জগৎ সংসারে তার মতো দুর্ভাগা আর কেউ নেই।
যেহেতু পরীক্ষা শেষে আমি আমার বাড়িতেই অবস্থান করছিলাম তাই পরীক্ষার ফলাফল ও স্কুলের প্রয়োজনীয় সকল কাজ বাড়ি থেকেই স্কুলে গিয়ে শেষে আবার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি চলে আসতাম। কিন্তু বিপত্তি ঘটলো তখন, যখন জানতে পারলাম উল্লেখিত কান্দাগাঁও জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয়টি কর্তৃপক্ষ এই বছরেই বন্ধ করে দিলো। আমাদের প্রধান শিক্ষক ছিলেন একটু ক্ষেপাটে স্বভাবের মানুষ। তিন সর্বদা একটি ছড়ি হাতে চলাফেরা করতেন। তাই ছাত্র-ছাত্রীরা উনাকে ভীষণ ভয় পেতো। কেননা তিনি ছাত্রদের সাথে সর্বদা কর্কশ ব্যবহার করতেন। আমাদের সমস্যা হল আমরা যে ৭ম শ্রেণি উত্তীর্ণ তার সার্টিফিকেট আমাদেরকে কে দিবে? শেষ পর্যন্ত ২/৩ দিন যোগাযোগ ও ঘুরাঘুরির পর জানতে পালাম প্রধান শিক্ষক তার শ্বশুর বাড়িতে আছেন। আমি একদিন সকালে উনার শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে উনার সাথে সাক্ষাৎ করে তখনকার সময়ে বিশ টাকা দিয়ে আমি আমার সার্টিফিকেট সংগ্রহ করলাম। অর্থাৎ কান্দাগাঁও স্কুল এবং সোনাছুড়া গ্রামের লজিং সেদিন থেকেই শেষ হল।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT