উপ সম্পাদকীয়

আসুন, প্রমাণ করি ইব্রাহিম একা নয়

মোফাজ্জল করিম প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০৫-২০১৯ ইং ০১:৫৯:২৯ | সংবাদটি ১৪৭ বার পঠিত

প্রিয় ইব্রাহিম
শুরুতে তুমি কেমন আছ এটা জিজ্ঞেস করারও সাহস পাচ্ছি না, পাছে তুমি বলে বসো, আপনে কীরহম মানুষ। দেখতে পান না, সিডর আর ফণী আমার কী অবস্থা করছে? আমার দুই ছাওয়াল রবি-জাহিদুল, আর আমার বুড়া মায়েরে খাইছে এই কালসাপ দুইডা, আমার বৌ মরছে সংসারের জ্বালায়। তারপরও জানতি চান আমি কীরহম আছি। না বাবা, তুমি কেমন আছ জানতে চেয়ে তোমার দুঃখের আগুনে ঘি ঢালতে চাই না। আমার কানে শুধু বাজে খবরের কাগজের লোককে জানানো তোমার সেই আকুল আর্তি : যারে ধইরা রাখতে চাই, সেই চইলা যায়।
ইব্রাহিম, তোমাকে আমি তুমি বললাম বলে কিছু মনে করো না, বাপ। তোমার কাহিনী শুনে মনে হয়েছে তুমি আমার ছেলের বয়সী। এমনিতেই তুমি আমার ও আমাদের এই সমাজ থেকে অনেক অনেক দূরে। আপনি বলে তোমাকে আরো দূরে সরিয়ে দিতে চাই না।
দুই.
ভালো কথা। পাঠক, আপনি এতক্ষণ ধরে নিশ্চয়ই উসখুস করছেন, জানতে চাইছেন, এই রোজা-রমজানের দিনে আমি কার সঙ্গে এত সুখ-দুঃখের আলাপ শুরু করে দিয়েছি। আসুন তা হলে পরিচয় করিয়ে দিই বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার দক্ষিণ চরদুয়ারী গ্রামের দিনমজুর ইব্রাহিম মিয়ার সঙ্গে। ইব্রাহিম মিয়া কাজ করে সাগরে ইলিশ ধরার ট্রলারে। আমি তাকে চিনি কী করে? না, আমার সঙ্গে তার কস্মিনকালেও দেখা হয়নি, আমি তার নামও শুনিনি। তার পরিচয় পেলাম-এবং আপনারাও নিশ্চয়ই পেয়ে থাকবেন-কালের কণ্ঠের (৬ মে ২০১৯) একটি ছোট্ট প্রতিবেদনে। পাথরঘাটা থেকে প্রতিবেদক মির্জা খালেদ জানাচ্ছেন, ৩ মে শুক্রবার ঘূর্ণিঝড়ের রাতে ইব্রাহিমের আট বছরের ছেলে জাহিদুল ঘরের ভেতর দাদী নূরজাহানের (৬০) সঙ্গে ঘুমাচ্ছিল। সে রাতে ঘরচাপা পড়ে মারা যায় জাহিদুল ও তার দাদী। এর আগে ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডর কেড়ে নেয় ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী জেসমিনের প্রথম সন্তান পাঁচ বছরের রবিকে। এরপর জন্ম নেয় মেয়ে জান্নাতি ও ছেলে জাহিদুল, যে জাহিদুলও এখন চলে গেল ফণীর ছোবলে।
২০১৬ সালে সংসারের জ্বালা-যন্ত্রণায় অস্থির স্ত্রী জেসমিন আত্মহত্যা করে। ইব্রাহিম তখন জাহিদুলকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করার আশায় মঠবাড়িয়া উপজেলার বান্ধবপাড়া গ্রামে ছেলেটির ফুফুর বাড়িতে রেখে আসে। আর মৃত্যু জাহিদুলকে টেনে আনে ঝড়ের আগের দিন ইব্রাহিমের বাড়িতে। দুই শিশুপুত্র রবি (সিডর ২০০৭), জাহিদুল (ফণী ২০১৯), স্ত্রী জেসমিন (আত্মহত্যা ২০১৬) ও মাকে (ফণী ২০১৯) হারিয়ে ইব্রাহিম আজ এই পৃথিবীতে একা। এখন এই অকূল সংসার-পাথারে জান্নাতের ফুল জান্নাতিকে নিয়ে সে ভেলা ভাসিয়েছে একা। পৃথিবীর মানুষ কি দেখতে পাচ্ছে একটি ছোট্ট ভেলায় উত্তাল সাগরের ঢেউয়ে ভাসতে ভাসতে, ডুবতে ডুবতে, চলেছে দু’টি প্রাণী-ইব্রাহিম ও তার শিশুকন্যা জান্নাতি। একা। ঊর্ধ্বে আদিগন্ত বিস্তৃত নীলাকাশ ও চারপাশে ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সীমাহীন সাগর। সাত শ কোটি মানুষের পৃথিবীতে, ষোলো কোটি মানুষের বাংলাদেশে, ইব্রাহিম আজ সবাইকে হারিয়ে একা। এই গানের দেশে, এই প্রাণের দেশে সে আজ একা। পৃথিবীর সুন্দরতম বাণী শুনতে শুনতে এদেশের মানুষ পালন করছে মাহে রমজান। প্রতিবেশীকে অভুক্ত রেখে খেতে নিষেধ করে যে ধর্ম, সেই ধর্মের মানুষের দেশে ইব্রাহিম আজ একা। কান পাতলে হৃদয়ের গহনে শোনা যায় যে অমর সঙ্গীতধ্বনি-‘মানুষ মানুষের জন্যে’-তাতে অবগাহন করে পুলকিত হয়, শিহরিত হয় যে দেশের মানুষ, সেই দেশে মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে আবহমানকাল থেকে যুগ যুগ ধরে।... তারপরও ইব্রাহিম এই বিশ্বসংসারে একা!
তিন.
যদি বলি, না, ইব্রাহিম, না, তুমি একা নও। সিডর-ফণী তোমার পাঁজরের টুকরোগুলো খুলে নিয়ে গেছে, তুমি আজ সর্বস্বান্ত। বিধির বিধান হিসেবে সবই মানতে হয়, মানলাম। যিনি তোমাকে আমাকে সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন এই বিশ্বচরাচরের সব কিছু, প্রতিপালন করছেন সবাইকে, যিনি বিশ্বনিয়ন্তা, তাঁর লীলাখেলা তো আমরা বুঝব না। তিনি তাঁর এই সীমাহীন উদ্যানে তোমার আমার মত কত বিচিত্র বর্ণের, অচেনা অজানা সৌরভের ফুল ফুটিয়ে চলেছেন প্রতিনিয়ত। তিনি সেই সব ফুল কখনো না ফুটতেই চয়ন করে ফেলেন (যেমন তোমার রবি বা জাহিদুল না ফুটতেই ঝরে গেছে), আবার কোনো কোনো ফুল দীর্ঘ সময়ব্যাপী দল মেলে চারদিক আমোদিত করে সৌরভ বিলায়। আমরা তাঁর সৃষ্টি, তিনি সৃষ্টিকর্তা, তিনি শিল্পী। শিল্পীর খেয়ালখুশির ব্যাপারে কি শিল্পকর্মের কিছু বলার থাকে? শিল্পকর্ম বা সৃষ্টিকে সব মেনে নিতে হয়, শুধু মনে করতে হয় সৃষ্টিকর্তাই শুধু জানেন কেন তিনি ভাঙছেন, আবার গড়ছেন, বিশ্বাস করতে হয়, সৃষ্টিকর্তা যা করেন ভালোর জন্যই করেন। এতে করে মনে এক অপার্থিব শান্তি পাওয়া যায়, বুকের ভেতরের অনল নির্বাপিত হয় ধীরে ধীরে।
আমি বলছি, ইব্রাহিম, তুমি একা নও। তুমি আমার এ কথা শুনে নিশ্চয়ই রাগ করছ। তুমি বলবে, কই, এত দিন হয়ে গেল, কেউ তো আমার পাশে এসে দাঁড়াল না। তুমি রাগ করবে জেনেও বলি, তোমার পাশে কোনো মানুষ নেই ঠিকই; কিন্তু একজন অবশ্যই আছেন : তিনি তোমার সৃষ্টিকর্তা প্রতিপালক, যিনি তোমাকে এই কঠিন পরীক্ষায় ফেলে, এই অগ্নিকু-ে নিক্ষেপ করে, তোমার অলক্ষ্যে তোমাকে এই কষ্ট সহ্য করার শক্তি জুগিয়ে যাচ্ছেন। তা না হলে তো তুমি কবে তোমার স্ত্রী জেসমিনের মত আত্মহননের পথ বেছে নিতে। তোমাদের মাছ ধরার ট্রলার যখন দেখো সাগরের বুকে ঝড়ে পড়ে ডুবে যাচ্ছে, তখন তোমরা কী কর? ওটাকে ডুবিয়ে দাও? নাকি নিজেরা সাগরে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যুবরণ কর? কোনোটাই না। তোমরা তোমাদের প্রাণপণ শক্তি দিয়ে ট্রলারটাকে ভাসিয়ে রাখার চেষ্টা করো। তারপর একসময় ঝড় থেমে যায়, সাগর শান্ত হয়, আর তোমরা সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দিতে দিতে বদর বদর বলে যাত্রা শুরু করো তীরের নিশ্চিন্ত আশ্রয়ের দিকে। তোমার জীবনে একের পর এক ঝড় এসে জীবনটাকে ল-ভ- করে দিয়েছে, তারপরও তুমি সংগ্রাম করে যাচ্ছ। এটাই তোমার সার্থকতা। তুমি বিশ্বাস রাখো সেই সৃষ্টিকর্তার ওপর, যিনি তোমাকে বারবার সিডর আর ফণীর ছোবল দিয়ে পরীক্ষা করছেন। তিনিই তোমাকে বিজয়ী করে বিশ্ববাসীকে এই বার্তা দেবেন : ইব্রাহিম আমার ওপর বিশ্বাস রেখে লড়াই করেছে, তাই আমিই তাকে এই সম্পূর্ণ অসম যুদ্ধে জয়ী করেছি। আমি তাকে যথাসময়ে যথাযোগ্য পুরস্কার দেব।... আর আপাতত তোমাকে আমার সালাম ইব্রাহিম এই জন্য যে এখনো তুমি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছ।
চার.
পাঠক, এবার আবার আসুন আমরা নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতা চালাই। আচ্ছা, সারা বাংলাদেশে ইব্রাহিমের মতো বিপন্ন অসহায় দুর্ভাগা মানুষের সংখ্যা কত হবে? ধরে নিলাম কয়েক লাখ। তা হলে বাকি ষোলো কোটি বা তার চেয়ে কিছু কম মানুষ তো এত অসহায় দুর্ভাগা নয়। আমি বলছি না আমাদের সবার সামর্থ্য আছে ইব্রাহিমদের পাশে দাঁড়াবার। সেটা অলীক কল্পনা। কারণ দেশের বিরাটসংখ্যক মানুষই তো ইব্রাহিমদের কাতারের, তারা ‘হাত থেকে মুখে’ (হ্যান্ড টু মাউথ-এর বাংলা) অবস্থায় দিন গুজরান করছে। কিন্তু এটা নিশ্চয়ই আমার মতো আপনারাও বিশ্বাস করেন, ‘উন্নয়নের জোয়ারে ভাসমান’ বর্তমান বাংলাদেশে লাখ লাখ না হলেও হাজার হাজার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান, যারা ইচ্ছা করলে তাদের অঙ্গুলি হেলনে ইব্রাহিমের মতো অসংখ্য নিরন্ন, নিবস্ত্র মানুষের অন্নসংস্থান-কর্মসংস্থান করতে পারে। দেশবৃক্ষের মগডালে অবস্থানকারী এরূপ বিত্তশালীদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। পাকিস্তানি আমলে বৈষম্যের পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে বলা হতো, গোটা দেশটা পকেটে পুরে রেখেছে বাইশটি পশ্চিমা পরিবার। আর এখন? এখন কেউ কেউ বলে, মাশাল্লাহ, সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে বাইশ হাজারে। বাড়ুক। আমরা তাতে অখুশি নই। আমরা তো চাই দেশের ষোলো কোটি মানুষই বিত্তে-বৈভবে তাদের মতো হয়ে যাক। তা তো হওয়া সম্ভব নয়। তবে যেটা সম্ভব তা হচ্ছে, বিত্তশালীরা সবাই তাঁদের সামাজিক দায়িত্বটা ঠিকমতো পালন করুন। ‘মানুষ মানুষের জন্য’, ‘সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে’-এসব সুললিত বাণী শুধু গায়কের গানে ও কবির কবিতায় বেঁধে না রেখে সমাজে এর প্রতিফলন দেখান, দেখবেন, বিধাতার বাগানের কত শত সহস্র মুমূর্ষু ফুল হাসিতে রাঙিয়ে তুলছে চারদিক।
মানুষ যে মানুষের জন্য সে বিধান তো আল্লাহপাক পবিত্র কুরআন মজিদেই দিয়ে দিয়েছেন। বৈচিত্র্যময় সৃষ্টির অধিকারী মহান আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন কত বিশিষ্টতা দিয়ে। পৃথিবীতে দু’টি মানুষ যেমন দৈহিক গঠনে, রঙে-রূপে, কথায়-বার্তায়, চলনে-বলনে হুবহু এক রকম নয়, তেমনি তাদের পার্থিব অবস্থাও এক নয়। আল্লাহপাক সেখানেও বৈচিত্র্যের প্রকাশ রেখেছেন। কাউকে করেছেন প্রভূত সম্পদশালী, কাউকে মধ্যবিত্ত, আবার কাউকে রাস্তার ফকির। কিন্তু আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মধ্যেই রেখেছেন সুষম বণ্টনের মাধ্যমে সৃষ্টিকে বাঁচিয়ে রাখার বিধান। যাদের তিনি সামর্থ্য দিয়েছেন, সেসব মুসলমানের জন্য সদকা-খয়রাত-জাকাতের অবশ্যপালনীয় হুকুম দিয়েছেন। যাকে আল্লাহপাক সরাসরি অর্থ-বিত্ত দেননি, তার কাছে অর্থ-বিত্ত পৌঁছে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন সম্পদশালীদের। তাঁর সৃষ্টিকে তিনি এভাবেই বাঁচিয়ে রাখতে চান। ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি হচ্ছে জাকাত। জাকাত প্রদান শুধুমাত্র তাদের জন্যই ফরজ বা অবশ্যপালনীয় কর্তব্য, যাদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি সম্পদ সঞ্চয় হিসেবে জীবনযাপনের সকল ব্যয় নির্বাহের পর হাতে থেকে যায়। সেই অতিরিক্ত সম্পদের কতটুকু, কী হারে জাকাত হিসেবে যোগ্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করতে হবে, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তা সুস্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন। বাংলাদেশে জাকাত প্রদানকারী এরূপ যোগ্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অগণিত। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ইসলামের এই বিধানটি-যা শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের এই দেশে দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক সমতা আনয়ন ও বৈষম্য দূরীকরণের একটি মোক্ষম অস্ত্র হতে পারে-দারুণভাবে উপেক্ষিত ও অবহেলিত। আমরা প্রায়ই গর্বের সঙ্গে বলে থাকি, বাংলাদেশের মানুষ ধর্মান্ধ নয়, তারা ধর্মপ্রাণ, ধর্মভীরু। তাই যদি হয়, তা হলে জাকাত প্রদানে এত অনীহা কেন? জাকাত প্রদান না করে যোগ্য ব্যক্তিরা সমাজের অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত ও অনগ্রসর শ্রেণির প্রতি যে অবিচার করছেন, তা কি অস্বীকার করার উপায় আছে? যারা অগাধ বিত্ত-সম্পদের মালিক, তারা রাষ্ট্রের কাছ থেকে কত বৈধ-অবৈধ উপায়ে সুবিধা নিচ্ছেন, তা কি মানুষ জানে না? সাধারণ মানুষ না জানুক, সরকার তো জানে। তা হলে সরকার এসব লোককে জাকাত প্রদানে বাধ্য করে না কেন? নাকি কর ফাঁকির মতো জাকাত ফাঁকির কালচারও কর্তৃপক্ষের ছত্রচ্ছায়ায়ই গড়ে উঠছে? জাকাত ফান্ড বলে সরকারের একটি তহবিল আছে। এতে জাকাতের অর্থ প্রদান বাধ্যতামূলক নয়, ঐচ্ছিক। এটা ঠিকই আছে। তবে এই তহবিলের টাকাটি সঠিকভাবে ব্যয় হয় কি না, সেটা যেমন দেখা দরকার, তেমনি শত শত হাজার হাজার কোটি টাকার মালিকদের ইসলামী বিধানমতো জাকাত প্রদানে উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগও ধর্ম মন্ত্রণালয় নিতে পারে। আর জাকাতের অর্থ সংগ্রহ, বিতরণ ইত্যাদি পুরো বিষয়টি প্রাতিষ্ঠানিকীকরণেরও দরকার আছে। সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, জাকাত থেকে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা তোলা সম্ভব। তাই যদি হয়, তা হলে এই টাকা সঠিকভাবে কাজে লাগিয়েই তো বাংলাদেশ থেকে দারিদ্র্য বহুলাংশে দূর করা সম্ভব। আর সেই সঙ্গে বিয়ে-শাদী ও ইফতার পার্টি ইত্যাদিতে যে বিশাল অপচয় হয়, তা-ও বন্ধ করে যে অর্থ সাশ্রয় হবে, তা গরিবদের গরিবানা দূর করার কাজে লাগানো যেতে পারে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে ইদানীং রাজনৈতিক ইফতার পার্টির ‘প্রাদুর্ভাব’ লক্ষণীয়। এটা সাম্প্রতিক। এতে সম্প্রীতি, সৌভ্রাতৃত্ব ও পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসার বন্ধন স্থাপনের চেষ্টার চেয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টাই বেশি হয় বলে আমি মনে করি। পবিত্র ইফতারের নামে এই অপচয় বন্ধ হওয়া উচিত।
পাঁচ.
আবার ফিরে যাই ইব্রাহিম প্রসঙ্গে। ইব্রাহিম আর তার শিশুকন্যাটির চাহিদা খুব বেশি হওয়ার কথা নয়। এই মানুষটির পাশে দাঁড়াবার মতো বরগুনা-পাথরঘাটাতেই নিশ্চয়ই অনেকে আছেন। তাকে কোথাও একটি ছোট চাকরি বা ক্ষুদ্র একটি ব্যবসার সন্ধান কি তাঁরা দিতে পারেন না, যাতে করে সাগরে ট্রলারে দিনমজুরের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ তাকে আর করতে না হয়? কিংবা সামান্য ক্ষেতি জমি? আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের গৌরবময় অতীত ঐতিহ্য, সংস্কৃতি-কৃষ্টি এখনো দেশ থেকে উঠে যায়নি। এখনো ‘মানুষ মানুষের জন্য’-এই চেতনা, এই প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে অনেকেই এগিয়ে আসে দুস্থ মানুষদের পাশে দাঁড়াতে। ত্যাগের মাস, সংযমের মাস রমজান তো সেই শিক্ষাই দেয় আমাদের।
অতএব, ইব্রাহিম তুমি একা নও, একা তুমি থাকতে পারো না, তোমার দেশবাসী আছে তোমার সঙ্গে, এই বিশ্বাস মনে রেখো। আর দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করো, যে আল্লাহ তোমাকে বারবার দুঃখ দিয়ে, যন্ত্রণা দিয়ে, বিপদ দিয়ে পরীক্ষা করছেন, সেই আল্লাহই তোমাকে শক্তি দেবেন, সাহস দেবেন তা থেকে উত্তরণের।
আমরা সবাই দু’আ করি, তোমার হারিয়ে যাওয়া আপনজনদের আল্লাহপাক জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আর তোমার অন্ধের যষ্টি জান্নাতি জান্নাতের ফুলের মতো প্রস্ফুটিত হয়ে উঠুক।
লেখক : সাবেক সচিব, কবি।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • খাদ্য নিরাপত্তায় বিকল্প চিন্তা
  • জন্মাষ্টমী ও ভগবান শ্রীকৃষ্ণ
  • বৃহত্তর সিলেটবাসীর একটি গৌরবগাঁথা
  • পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ
  • জলবায়ু পরিবর্তনই আসল সমস্যা
  • কিশোর অপরাধ
  • আ.ন.ম শফিকুল হক
  • হোটেল শ্রমিকদের জীবন
  • বিশেষ মর্যাদা বাতিল ও কাশ্মীরের ভবিষ্যত
  • বাংলাদেশে অটিস্টিক স্কুল ও ডে কেয়ার সেন্টার
  • বেদে সম্প্রদায়
  • গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে সুপারিশমালা
  • ত্যাগই ফুল ফুটায় মনের বৃন্দাবনে
  • প্রকৃতির সঙ্গে বিরূপ আচরণ
  • ঈদের ছুটিতেও যারা ছিলেন ব্যস্ত
  • সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের বর্ষপূর্তি : প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা
  • আইনজীবী মনির উদ্দিন আহমদ
  • শিশুদের জীবন গঠনে সময়ানুবর্তিতা
  • শাহী ঈদগাহর ছায়াবীথিতলে
  • কিশোর-কিশোরীদের হালচাল
  • Developed by: Sparkle IT