স্বাস্থ্য কুশল

আগরের যত গুণ

মুন্সি আব্দুল কাদির প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০৫-২০১৯ ইং ০২:০২:৪৯ | সংবাদটি ৪০২ বার পঠিত

আগরকে আমরা সুগন্ধি কাঠ হিসাবে জানি। আগর কাঠ থেকে উন্নতমানের আতর তৈরী হয়। আগর কাঠও সুগন্ধি হিসাবে ব্যবহার করা হয়। আগর কাঠ পুড়িয়ে তার ধুঁয়ার ঘ্রাণ নেওয়া হয়। ভাল আগর কাঠ কাল বর্ণের হয় ও তা শক্ত এবং ভারী। ভাল আগর কাঠ পানিতে ডুবে যায়। আর খারাপ আগর কাঠ সাদা হয়, ওজনও হাল্কা। আগর গাছ কেটে তার কাঠ থেকে আস্তে আস্তে সাদা অংশগুলো ফেলে দিয়ে শুধু এই কাল অংশগুলো আগর কাঠ হিসাবে অনেক দামে বিক্রয় করা হয়। আগর গাছের ছাল ভাল করে আলাদা করলে তা পার্চমেন্ট কাগজের মতো হয়। প্রাচীনকালে আসামের রাজাগণ আগরের ছালে লিখতেন। আমাদের দেশে সিলেট অঞ্চল এবং পার্বত্য অঞ্চলে আগরের চাষ হয়। প্রাকৃতিকভাবে সিলেটের পাহাড়ী অঞ্চল, ভারতের আসাম, মিজোরাম ও মণিপুর অঞ্চলে আগর গাছ হয়। মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখায় সবচেয়ে বেশী আগর গাছ জন্মে। বড়লেখার আজিমগঞ্জকে আগর আতরের রাজধানী বলা হয়। এই এলাকার বেশীর ভাগ ব্যবসায়ী আগর আতরের সাথে সম্পৃক্ত। মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলোতে তারা আগর কাঠ ও আগরের তেল বা আতর বিক্রয় করে থাকে। মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলোতে আগর কাঠ ও আতরের চাহিদা প্র্রচুর এবং দামও অনেক। আগরের আয়ুর্বেদিক নাম অগুরু আর ইউনানী নাম উদ আল হিন্দ। আগর শুধু সুগন্ধি নয় আগরের ঔষধী গুণাগুণও অনেক। বাংলাদেশ জাতীয় ইউনানী ফর্মলারী ১৯৯৩ এ মোট ২৫টি ঔষধ তৈরীতে আগরের ব্যবহার উল্লেখ করা হয়েছে।
হাদিসে রাসুল (সা.) ও আগরের ব্যবহার : রাসুল (সা.) বলেছেন তোমাদের উপর উদে হিন্দ বা আগরের কাঠ ব্যবহার অবশ্যই কর্তব্য নিশ্চয়ই তার মধ্যে ৭ টি রোগের আরোগ্য নিহিত রয়েছে। তম্মধ্যে একটি হল ফুসফুস আবরক ঝিল্লির প্রদাহ। সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস নং ৩৪৬৮।
উম্মুল কায়েস বিনতে মিহসান (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন আমি নবী (সা.) কে বলতে শুনেছি তোমরা ভারতীয় এই কাঠ (আগর কাঠ) ব্যবহার করবে। কেননা তাতে ৭ টি রোগের আরোগ্য রয়েছে। শ^াসনালীর ব্যথায় এর ধোঁয়া নাক দিয়ে টেনে নেওয়া যায়, পাঁজরের ব্যথা ও পক্ষাঘাত রোগ দূর করার জন্য তা ব্যবহার করা যায়। সহিহ বুখারী হাদিস নং ৫৬৯২।
আমরা এক পলকে তার গুণাগুণ জেনে নিতে পারি :
১। মেদ বৃদ্ধি : অলসতা ও অপরিমিত ভোজনের ফলে শরীরে মেদ জমে গেলে আগর কাঠ চন্দন কাঠের মত ঘষে আধ চামচ বা এক চামচ দুবেলা বা এক বেলা খেলে শরীরের মেদ কমে যাবে এবং মেদজনিত হৃদ দুর্বলতাও থাকবে না।
২। প্রমেহ : কারো প্রমেহ রোগ হলে আগর কাঠ চন্দনের মত ঘষে এক চামচ নিয়ে এক কাপ গরম পানিতে মিশিয়ে দিনে ২ বার খেতে হবে।
৩। হিক্কা বা হেচকি : হিক্কা বা হেচকি রোগীকে মধুর সাথে কালো আগর চূর্ণ সেবন করালে হিক্কা ভাল হয়ে যাবে।
৪। কাশি : মধু সহ আগর চূর্ণ সেবন করলে কাশি ভাল হয়ে যায়।
৫। শক্তি বৃদ্ধি : আগর কাঠ চূর্ণ ১-২ গ্রাম প্রতিদিন সেবন করলে শরীরের বল বৃদ্ধি পায়।
৬। হাঁপানি রোগে : আগর কাঠ ঘষা এক চামচ এক কাপ গরম পানিতে মিশিয়ে দিনে কয়েক বার খেলে হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে থাকে।
৭। চর্মরোগ : আগর কাঠের পেস্ট বা তেল বাহ্যিক ব্যবহারে চর্ম রোগ ভাল হয়।
৮। বমন নিবারক : আগর কাঠের নির্যাস বমন নিবারক হিসেবে কাজ করে।
৯। বেদনা নাশক : আগর কাঠের তেল বা আতর বেদনা নাশক হিসেবে বাহ্যিক ব্যবহারে খুবই কার্যকর। বেদনার স্থানে দিনে ২ বার ব্যবহার করতে হবে।
১০। জন্ডিস : যে জন্ডিস রোগে শরীরে জড়তা ও অলসতা থাকে, চামড়া কর্কশ, চোখের ভেতর ও মুখের রং একেবারে সাদা, ফ্যাকাশে, সামান্যতেই নাক মূখ দিয়ে সর্দি ঝরে। সর্বাঙ্গে ফুলোফুলো ভাব দেখা যায়। এই অবস্থায় আগরের কাঠকে চন্দনের মত ঘষে এক চা চামচ নিয়ে আধ কাপ গরম পানিতে মিশিয়ে পানিটা ঠান্ডা হলে প্রতি দিন এক বার বা দুই বার সেবন করতে হবে। দুই দিনের মধ্যে উপকার পাওয়া যাবে। হলদে হওয়া জন্ডিস রোগে এর ব্যবহার চলবে না।
১১। যৌন দুর্বলতা : আগর কাঠের গুঁড়ো যৌন ক্ষমতা বাড়ায়। যৌন দুর্বলতায় আগর কাঠের গুড়া ৩-৪ গ্রাম ৩-৪ চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে দিনে ২ বার কয়েক দিন খেলে উপকার পাওয়া যাবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT