স্বাস্থ্য কুশল

ফুড সাপ্লিমেন্টের অবিশ্বাস্য কাহিনী

সীতাব আলী প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০৫-২০১৯ ইং ০২:০৭:২২ | সংবাদটি ৩৫ বার পঠিত

যেকোন স্বাস্থ্য সমস্যা যখন ধরা পড়ে, তা হউক ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ অথবা উচ্চমাত্রার কলোষ্টেরল এমন কি স্থূলতা, ডাক্তার ঔষধ দেওয়ার পাশাপাশি তাতে পুষ্টিকর সাপ্লিমেন্ট এবং মাল্টিভিটামিন পিল দিয়ে থাকেন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াও অনেকে নিজে নিজেই সুস্বাস্থ্যের জন্যে ভিটামিন ক্যাপসুল বা গুড়ো দুধ বা প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। গিনিস বুকে ‘মাইন্ড এন্ড বডি’ বিষয়ে দুইটি বিশ্বরেকর্ড অর্জনের অধিকারী ড. বিশ্বরূপ রায় চৌধুরী (পুষ্টি বিশেষজ্ঞ) বলেন, এগুলো শুধু অপচয়ই নয়, এগুলো দেহকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
ধরুন ক্যালসিয়ামের কথা। মানবদেহে ক্যালসিয়াম অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। হাড়ের গঠন, হাড় শক্ত হওয়া, নরম হওয়া বা ভঙ্গুর হওয়া অনেকটা এর উপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে, যৌবনের শেষ দিক থেকে মহিলাদের হাড়ে ক্যালসিয়ামের ঘনত্ব কমতে থাকে, হাড় কিছুটা নরম হয়ে যায়। তখন যাদের ওজন বেশী, তাদের হাড় ভঙ্গুর হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়, হাঁটুতে ব্যথা হয়, ব্যথা বাড়তে থাকে, এ জন্যে অনেকে ইনজেকশন নেন; এমন কি অপারেশন করান, রোগীর তেমন লাভ হয় না; লাভ হয় ঔষধ কোম্পানী ও চিকিৎসা-ব্যবসার সাথে যারা জড়িত, তাদের।
ক্যালসিয়ামের খুবই সাধারণ একটি সমাধান বেরিয়ে এসেছে “চায়না স্টাডিজ” এর দীর্ঘ গবেষণায়। কিন্তু ব্যবসায়ীরা কিভাবে যে এটাকে কত ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে জনসমক্ষে তুলে ধরেছে এবং ধরছে, তা দেখে বিস্মিত হতে হয়।
তো এই ক্যালসিয়াম পাবেন কোত্থেকে বলুন তো?
জানি, আপনি প্রথমেই বলবেন, সাপ্লিমেন্টের কথা। বাজারে সকল ঔষধ কোম্পানী বিভিন্ন নামে ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট তৈরী করে আপনার পাশের ঔষধের দোকানের তাক পূর্ণ করে রেখেছে আর এর উপকারীতার কথা ডাক্তারদের বলছে, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া আপনার মাথা ধোলাই করে রেখেছে। তাই আপনি সাপ্লিমেন্ট কিনবেন। আর আপনি যদি একটু সচেতন হন তবে বলবেন ডিমের সাদা অংশ, দুধ ও মলা-ঢেলা মাছের কথা!
কিন্তু ইউরোপ, আমেরিকা ও চায়নার মানবপ্রেমিক গবেষকরা বলছেন, এগুলোর একেবারেই দরকার নাই। সত্যি বলতে কি, আপনি বিশ্বাসই করতে চাইবেন না, কেননা, জীবনের শুরু থেকে আপনার মগজ ধোলাই করা হয়েছে, এমন কি ডাক্তারদেরও। আর এই ধোলাইয়ের কাজটি সুনিপুণভাবে সম্পন্ন করেছে কিছু বহুজাতিক ঔষধ কোম্পানী। একজন ছাত্র যখন মেডিক্যালে ভর্তি হয়, তখন থেকে ! একজন শিশু যখন বুঝতে শেখে তখন থেকে।
গবেষকরা বলছেন, আপনার দেহকে কর্মক্ষম রাখুন। হাঁটুন, দৌড়ান, সিড়ি বেয়ে উপরে উঠুন, সাঁতার কাটুন, অন্তত: দু’দিনে একদিন ইয়োগা করুন, খেলাধুলা করুন, অথবা কোন ব্যায়াম দলের সাথে যুক্ত হোন আর গায়ে একটু রোদ লাগান। অসংখ্য পথ খোলা।
অবশ্যই বিরত থাকুন পশু ও চর্বিজাত খাবার এবং ফার্ষ্টফুড, পরিশোধিত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে। কফি থেকে একটু দূরে থাকুন। খান উদ্ভিদজাত দানাদার খাবার। যেমন লাল চাল, লাল আটা, ছোলা, বাদাম, কিসমিস, ডাল, বিচি, মটরশুটি ইত্যাদি। প্রচুর ক্যালসিয়াম আছে এগুলোতে বিশেষ করে নানা রঙের শাক ও নানা জাতের সবজির মধ্যে; তিল, আমলকি ও খেজুরের মধ্যে। রিফাইন্ড কার্বহাইড্রেড (যেমন ময়দা) থেকে দূরে থাকুন। আর লবণ ও প্যাকেটজাত খাবার থেকে যত দূরে থাকবেন ক্যালসিয়ামের অভাব থেকে তত দূরে থাকতে পারবেন। প্যাকেটজাত খাবারের মধ্যে উচ্চ প্রক্রিয়াজাত ও লবণজাত খাবার হচ্ছে পটেটো চিপস, এতে তেলের সাথে আবার টেস্টিং সল্টও (গঝএ ড়ৎ গড়হড় ঝড়ফরঁস এষঁঃধসধঃব) মেশানো হয়। আর অনেক দেশেই টেস্টিং সল্ট নিষিদ্ধ করা হয়েছে তাতে ক্যান্সার উৎপাদনকারী উপাদান থাকার প্রমাণ পাওয়ার পর।
গবেষণালব্ধ উপরোক্ত তথ্যগুলোর সত্যতার প্রমাণ আমি নিজে (লেখক)। তথ্যগুলো জানার পর বিগত কয়েক বছর যাবৎ আমি সাপ্লিমেন্ট খাবার বন্ধ রেখেছি আর গবেষকদের নির্দেশিত পথ অনুসরণ করেছি। আমি আগের চেয়ে অনেক অনেক ভাল আছি, আর অনেক টাকারও সাশ্রয় হয়েছে।
একটি বিশেষ মাল্টিভিটামিনের ব্রান্ড এ্যম্বাসেডর হিন্দি ছায়াছবির নায়ক সালমান খান। তিনি তাতে বলেন, ১৫ বছর ধরে এই মাল্টিভিটামিন খেয়েই তিনি তার চমৎকার গড়ন যে ধরে রেখেছেন, শুধু তাই নয়, তার বাবাও অনেক দিন ধরে তা সেবন করে আসছেন। এর আগে এই কোম্পানীর ব্রান্ড এ্যম্বেসেডর ছিলেন যুবরাজ সিং। হঠাৎ করে তাকে প্রত্যাহার করা হয়, কারণ ছিল খুবই যৌক্তিক। তার ক্যান্সার ধরা পড়ে। কত টাকার বিনিময়ে তারা এ কথাগুলো বলছেন, এই ব্রান্ডের মাল্টিভিটামিন তারা ছুঁয়েও দেখেছেন কি না, তা কেউ জানেনা। যদিও আমরা অনেকেই টিভি বিজ্ঞাপনকে শুধু বিজ্ঞাপনই মনে করি, আসলে এই বিজ্ঞাপনের কারণেই মুখে মুখে পণ্যগুলোর নাম ও ব্যবসায়িক প্রসার দ্রুত বিস্তার লাভ করে। আর এভাবেই কোম্পানীগুলো মানুষের দেহ ও মন মানুষেরই অজান্তে দখল করে।
আবার ধরুন, আপনার ডায়াবেটিস ধরা পড়লো। ডাক্তার বল্লেন, আপনাকে এখন থেকে চিনি খাওয়া বাদ দিতে হবে। আপনি তখন চিনির বিকল্প হিসাবে কি খাওয়া যায় সেটা চিন্তা করবেন? আমি নিশ্চিত, আপনি চিন্তা করবেন “সুগার ফ্রি” এর কথা! এবার একটু স্মরণ করুন তো আপনার কিভাবে মনে হলো “সুগার ফ্রি” এর কথা? কোন মেডিক্যাল বইয়ে কি আপনি পড়েছেন নাকি কোন ডাক্তার বলেছেন? নিশ্চয়ই না। চট করে আপনার মনে পড়বে বিপাশা বসুর চমৎকার ভঙিমার আকর্ষণীয় বাক্য,“আমার ফিগারের গোপন রহস্য- সুগার ফ্রি”! বিপাশা বসুর এই কথাগুলো কতটুকু নির্ভরশীল? তিনি কি একজন ডাক্তার, তিনি কি একজন বিজ্ঞানী বা গবেষক? অথবা মনে পড়বে, আপনার এক আত্মীয় প্রবাস থেকে এসে গল্প করতে করতে চিনির পরিবর্তে খুব ছোট্ট একটি ট্যাবলেট চায়ের পেয়ালায় ঢেলে দিচ্ছেন, আর তার গুণাগুন বর্ণনা করতে করতে চা পান করছেন!
এবার “সুগার ফ্রি” এর গোড়ার দিকে একটু যাওয়া যাক। ১৯৬৪ সালে এ.উ. ঝবধৎষব ্ ঈড়সঢ়ধহু (জিডি সিরলে এন্ড কোম্পানী)’র চীপ ক্যামিষ্ট একটি রাসায়নিক পদার্থ “এসপার্টেম”(অংঢ়ধৎঃবসব) পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখেন যে ইহা চিনির চেয়ে দশগুণ বেশী মিষ্টি কিন্তু এর বাজারজাত খরচ চিনির চেয়ে বিশগুণ কম। আর যায় কোথা! ব্যবসায়ী-বুদ্ধি খুলে গেল। বিজ্ঞাপন আগ্রাসনের মাধ্যমে মানুষের মনমগজে তারা “সুগার ফ্রি” ঢুকিয়ে দিতে সক্ষম হল।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, এর নিয়মিত ব্যবহার উচ্চ রক্তচাপ, হার্টডিজিজ, কোলেষ্টেরল, ডায়াবেটিস ও স্থুলতাসহ অনেক রোগের কারণ হতে পারে। অনেক উদ্দ্যোগ নেওয়ার পরও এটাকে বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। ডায়াবেটিক রোগীর কথা বাদ দেন, কোন সুস্থ মানুষও যদি মাস কয়েক ইহা খেতে থাকেন, তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারেন। গবেষকরা বলছেন, চিনির চেয়ে ইহা বেশী ক্ষতিকর!
সবজিতে কপার পাওয়া যায়। মানব দেহের জন্যে কপার একটি দরকারী উপাদান। কপার পাওয়ার জন্যে সবজি খান, কপার পাবেন, কিন্তু কপার যখন সাপ্লিমেন্ট আকারে খেতে দেওয়া হয় তখন মৃত্যুর হার বাড়ে ৫.৯% (বিবিসি- ২০০৩)। ঐবধৎঃ গধভরধ নু উৎ. ইরংধিৎড়ড়ঢ় জড়ু ঈযড়ফিযঁৎু.
সর্বপ্রকার বেবি ফুড ও মিল্ক পাউডার ‘সাপ্লিমেন্ট ক্যাটাগরি’তে পড়ে। যাদের জীবন শুরু হয় এগুলো খেয়ে, পরিণত বয়সে বা তার আগেই তাদের ডায়াবেটিস টাইপ ওয়ান এবং অটোইম্মিউন ডিজিজ বা অন্যান্য রোগ হতে পারে। স্বনামধন্য মানব সেবক, শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আহমদ মরতুজা চৌধুরী বলেন, “টিনজাত ও প্যাকেটজাত দুধ, ফলোঅন ইত্যাদি বহুজাতিক কোম্পানীগুলোর টাকা বানাবার ফাঁদ। এগুলো শিশু-দেহে ডায়াবেটিস ও হার্টডিজিজের বীজ বপন করে। টিনের দুধ খাওয়ানোর পর এই দুধের অতিরিক্ত চর্বি শিশু হজম করতে পারে না। দুধের অতিরিক্ত চর্বি ফেনা হয়ে পায়খানা দিয়ে আমাশয়ের মত বের হয়ে যায়। পুঁজিপতিরা তরুণ কিশোরদের কাছে পানীয় বিক্রি করে ও পরিণত বয়সে স্বাস্থ্যসেবা বিক্রি করে বা হার্টের অসুখের জন্যে স্টেন্ট বা বাইপাস করে বা ডায়াবেটিসের চিকিৎসা করে এবং বুড়ো বয়সে কিডনির চিকিৎসা করে ও কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করে মানুষের পকেট থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে যায়। ডাক্তাররা পুঁজিপতিদের চিকিৎসা বাণিজ্যের এজেন্ট হিসাবে ব্যবহৃত হয়। শিশুর সঠিক পুষ্টিকর খাদ্য থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে অখাদ্য-কুখাদ্য দিয়ে ¯্রষ্টা প্রদত্ত শিশুর সুন্দর শরীর নষ্ট করে টাকা কামিয়ে নেয় প্রতারক গোষ্ঠী।” - শিশুর খাবার ও খেলাধুলা।
ব্যবসায়ীরা খুব বুদ্ধি করে সকল প্রোটিনের (অষষ চৎড়ঃবরহ ঝঁঢ়ষবসবহঃ) সাপ্লিমেন্ট বের করে নাম দিয়েছেন নিউট্রিলিট। আর বলছে, ইহা নিয়মিত খেলেই হল, আপনার প্রোটিনের প্রয়োজন মিটে যাবে। আপনি একবার এর প্যাকিং দেখলে এর প্রতি আকৃষ্ট হতে পারেন।
কিন্তু “ফুড এন্ড ড্রাগ এডমিনিষ্ট্রেশন” এর বিশেষ বিজ্ঞপ্তি সতর্ক করে দেয়, “নিউট্রিলিট সম্পর্কে কোন অযৌক্তিক দাবী করা ঠিক হবে না।”
মিনারেল বা খনিজের বা ভিটামিনের অভাবে শরীরে নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটতে পারে। রোগ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হতে পারে, এবং এটা হলে আপনি যে কোন সময় রোগজীবাণু বা ভাইরাসের সামান্য আক্রমণেই রোগাক্রান্ত হতে পারেন, হঠাৎ করে ওজন কমতে পারে, ক্রমাগত ঠান্ডা বা কাশি হতে পারে এবং বাধ্য হয়েই আপনি ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হতে পারেন, ডাক্তার তখন আপনাকে মাল্টিভিটামিন পিল লিখে দিতে পারেন। কিন্তু এর কার্যপদ্ধতিও বিশুদ্ধ নয়।
ধরুন, আপনার ভিটামিন সি এর অভাব। ডাক্তার আপনাকে ভিটামিন সি ট্যাবলেট (পিল) লিখে দেবেন, আপনি খেতে থাকবেন। আপনার অন্য সকল ভিটামিনে অসামঞ্জস্যতা দেখা দেবে যেমন আপনার বি১, বি২, বি৬, ভিটামিন ই ও কপারের পরিমাণ কমতে থাকবে; অসামঞ্জস্যতা অন্য রোগের কারণ হতে পারে।
অথচ প্রকৃতিতে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারের অভাব নাই। লেবু, মাল্টা, পেঁপে, আম, জাম, জাম্বুরা, আনারস, কমলা, বরই, ষ্ট্রবেরি, তরমুজ, আমড়া, কিউই ইত্যাদি। ডাক্তার এগুলো খেতে নির্দেশ দিতে পারতেন, কিন্তু তা না করে তিনি লিখবেন ট্যাবলেটের নাম! কারণ, ফলওয়ালা তাকে কমিশন দেবে না, ঔষধ কোম্পানী প্রায় সব কিছু দেবে।
একটা ফলে মাত্র একটা ভিটামিন বা একটা খনিজ (মিনারেল) থাকে না, অনেকগুলো থাকে। যেমন, একা এক আপেলে থাকে ফ্ল্যাভোনয়েডস, ভিটামিন এ, বি১, বি২, বি৬, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, বি-ক্রিপ্টোঞ্জান্টিন, লুটেইন, পটাশিয়াম, কার্বোহাইড্রেট, জিংক, বায়োটিন, আয়োডিন, বিটা ক্যারোটিন, পেকটিন, সুকরুজ, ফ্রুকটোজ, গ্লুকোজ, মনো ও পলি আনসেচুরেটেড ফ্যাট (অসম্পৃক্ত চর্বি, যা দেহের জন্যে উপকারী) আয়রণ, কোপার, ক্রোমিয়াম ইত্যাদি। কিন্তু কোন কোলেষ্টেরল ও ট্রান্সফ্যাট নাই।
আপনি যখন একসাথে কয়েক জাতের ফল খাচ্ছেন, আপনার খাবারের সুসামঞ্জস্যতার (ব্যালেন্সড) জন্যে দেহ সুসামঞ্জস্য থাকছে। সৃষ্টির সকল প্রাণির দেহই প্রাকৃতিক সকল খাবার চিনতে পারে কারণ তার সফটওয়ারে সেটাই ¯্রষ্টা দিয়ে রেখেছেন। প্রক্রিয়াজাত খাবার পেতে ও তা পরিপাক করতে সে অভ্যস্থ নয়, তাই খাবারের নির্যাস যখন আপনি সাপ্লিমেন্ট আকারে দিচ্ছেন, তখন দেহের সফটওয়ার তা চিনতে পারে না। অনেকগুলো পরীক্ষায় প্রমাণিত যে, ফল ও সবজি যেভাবে আছে, যদি সেভাবে খাওয়া যায়, তাহলে তা থেকে প্রাপ্ত বিটাকেরোটিন ফুসফুসের ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে। কিন্তু এই বিটাকেরোটিনকে যদি পিল আকারে খেতে দেওয়া হয়, তাহলে তা ক্যান্সার সেলকে পরিণতির (চৎড়সড়ঃব) দিকে নিয়ে যেতে সাহায্য করে।
তাই সুস্থ থাকার জন্যে পরিশোধিত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার যত পারুন বাদ দিন। আর প্রচুর পরিমাণ আস্তশস্য, বীজ, ফল, বিভিন্ন রঙের শাক ও বিভিন্ন জাতের সবজি খান। আপনার যা প্রয়োজন, তা অনায়াসে পূরণ হবে। শুধুমাত্র ভিটামিন বি-১২ এর জন্যে পশুর কলজে বা কিডনি খান, যা মোট খাদ্যের ৫%। কারণ উদ্ভিদজাত খাবারে তা পাওয়া যায় না। ভিটামিন ডি এর জন্যে কিছুক্ষণ রোদ পোহান, বাজার থেকে ভিটামিন ডি এর সাপ্লিমেন্ট কিনে খাবেন না। আর টেনশন মুক্তির জন্যে নিয়মিত মেডিটেশন করুন, দেহকে পরিপূর্ণ সচল রাখার জন্যে ইয়োগা করুন ও হাটুন, থাকবেন সুস্থ ও কর্মক্ষম। ভাল থাকুন।
তথ্য সূত্র:- দ্য চায়না ষ্টাডি, হাউ নট টু ডাই, হার্ট মাফিয়া, প্রোগ্রাম ফর রিভার্সিং হার্ট ডিজিজ, হাউ ইউ কেন রিটার্ন ফ্রম হসপিটাল এলিভ এবং বায়োমিমিক্রাই।

শেয়ার করুন
স্বাস্থ্য কুশল এর আরো সংবাদ
  •   গরম মশলার গুণাগুণ
  • ফুড সাপ্লিমেন্টের অবিশ্বাস্য কাহিনী
  • রমযানে সুস্থ থাকুন
  • রোগ নিরাময়ে লিচু
  • আগরের যত গুণ
  • উচ্চ রক্তচাপ মুক্তির উচ্চতর গবেষণা
  • নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবনে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে
  • ব্যথানাশক ওষুধ নাকি ফিজিওথেরাপি
  • রোগ প্রতিরোধে তরমুজ
  • কণ্ঠনালির সমস্যা ও প্রতিকার
  • পিত্তথলীর ভেষজ চিকিৎসা
  • ফুটপাতের শরবত আর চাটনি : সংকটে জনস্বাস্থ্য
  • স্মৃতিশক্তি সমস্যা : করণীয়
  • যক্ষ্মা নির্মূলের এই তো সময়
  • মলদ্বারের রোগে পেটের সমস্যা
  • ব্যথার ওষুধ খাবেন সাবধানে
  • অতিরিক্ত ওজন ও স্থুলদেহী প্রসঙ্গ
  • স্বাস্থ্য রক্ষায় খতনা
  • আপনিই সুস্থ রাখতে পারেন আপনার কিডনি
  • এ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সতর্কতা
  • Developed by: Sparkle IT