উপ সম্পাদকীয় খোলা জানালা

শিশু কিশোরদের শিক্ষা

রঞ্জিত কুমার দে প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০৫-২০১৯ ইং ০২:৩৪:১০ | সংবাদটি ২৭ বার পঠিত




শাব্দিক অর্থে যে ঘরে পাঠদান ও পাঠগ্রহণ করা হয় তাই পাঠশালা। ব্যবহারিক অর্থে কেবলমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয় পাঠশালা। আর গ্রাম্য পাঠশালা হল গ্রামবাসীদের শাশ্বত জীবনধারার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বিশেষ এক ধরনের শিক্ষা কেন্দ্র। শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে শিক্ষার গুরুত্ব সর্বাধিক। প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নের লক্ষ্যে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম বিশেষ উল্লেখযোগ্য। দেশকে স্বাক্ষরতার আলোকে আলোকিত করার ব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব অত্যাধিক। আমাদের দেশে পাঁচ বছর মেয়াদী প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলিত আছে। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে এই শিক্ষার ব্যাপক সম্প্রসারণ না ঘটায় শিক্ষার হার সমানতালে বৃদ্ধি পাচ্ছে না।
দেশ স্বাধীন হওয়ার সাড়ে তিন বছরের মাথায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের সকল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহকে জাতীয়করণ করেছেন। তাঁর উত্তরসূরী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা গত বছর ২৬ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেছেন। তাছাড়া শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক উন্নয়নের জন্য প্রতি বৎসর জানুয়ারি মাসের প্রথম তারিখে প্রাথমিক শিক্ষা হতে আরম্ভ করে উচ্চ বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় বিনামূল্যে বই প্রদান করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তাছাড়া কলেজে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদিগকেও বিনামূল্যে বই প্রদান করা হচ্ছে। প্রতি বৎসর স্কুল থেকে আরম্ভ করে কলেজ পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীকে ‘উপবৃত্তি’ প্রদান করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের প্রতিশ্রুতি প্রতিটি গ্রামে ১টি করে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে।
সকল মানুষের পরিবারের অর্থের উৎস সমান নয়। যারা দরিদ্র্য তারা সন্তানদের আলাদা শিক্ষক রেখে পড়াতে পারেনা। এ ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের ফ্রি কোচিংয়ের ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক। সুশিক্ষিত জাতি গঠনের জন্য শিক্ষকদের সহায়তা প্রয়োজন। যারা দিনে আনে দিনে খায়, তাদের শিশুরাও মেধাবী হবে। প্রয়োজনে নিজ থেকেই শিশুদের অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ করুন। কোন অবস্থায়ই তাদের সাথে খারাপ আচরণ করা যাবেনা। এমন আচরণ থেকে বিরত থাকা জরুরী যে আচরণে শিশু ভয় পায়।
শিক্ষকেরা অধিকাংশই এখন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। সকল পাঠশালায় এখন শিক্ষার্থীদের বসার জন্য বেঞ্চ-টুলের ব্যবস্থা হয়েছে। শিক্ষকদের জন্য আছে চেয়ার টেবিল। নানা রকম শিক্ষা উপকরণও সরবরাহ করা হয়েছে। এক কথায় গ্রাম্য পাঠশালায় এখন আর গ্রাম্যতার ছাপ নেই। আধুনিকতার সব লক্ষণই সেখানে দেখা দিয়েছে এবং সেগুলো এখন পাঠশালা নামে পরিচিত না হয়ে প্রাইমারী স্কুল নামে পরিচিত হচ্ছে।
অতি সাম্প্রতিককালে প্রাইমারী স্কুলগুলোকে সরকারি পরিচালনায় আসার পূর্ব পর্যন্ত অসংখ্য সমস্যায় জর্জরিত ছিল। কথায় আছে শিক্ষা প্রসারের জন্য সর্বাগ্রে দরকার শিক্ষকের। শিক্ষক উপযুক্ত হলে শিক্ষা সেখানে হবেই। মানুষকে প্রকৃত মানুষ করার কৃতিত্বও তেমনি মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকের। শিক্ষক যেমন ভাবেন, যেমন স্বপ্ন দেখেন, নিজের মনের সবটুকু মাধুরী মিশিয়ে তাঁর ছাত্রকে গড়ে তুলেন। নিজের ব্যক্তি জীবনের ব্যর্থতা, অপূর্ণতা ছাত্রের মাধ্যমে স্বার্থকতা ও পূর্ণতা দানের চেষ্টা করেন। ভাস্কর যেমন অপূর্ব মূর্তি তৈরি করেন, শিক্ষকও তেমনি নিজের মনের সবটুকু সৌন্দর্য জীবনাদর্শ ঢেলে দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের গড়ে তুলতে চেষ্টা করেন। ছাত্র শিক্ষকের কাক্সিক্ষত আদর্শ মানুষের বাস্তবরূপ, শিক্ষকের মানস সন্তান।
আগামীর সমৃদ্ধ ও দক্ষ জনশক্তিতে দেশকে রুপান্তরিত করতে হলে শিশুদের প্রতি আমাদের বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। এখন থেকে যদি শিশুরা মেধাবী হয়ে ওঠতে পারে তাহলে আগামীর বাংলাদেশ হবে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির বাংলাদেশ।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ
  • বাজারে ভেজাল : ভোক্তারা অসহায়
  • শিশু নির্যাতনের ভয়াবহতা
  • আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ কি আসন্ন?
  • বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বাজেট
  • পাকা ধানে আগুন নিভিয়ে দিতেই হবে
  • রমজানের সাধনা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ
  • আমাদের নজরুল
  • বালিশাচার
  • পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষ রোপণ
  • নিরাপদ পানির বিকল্প নেই
  • মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ফারুক আহমদ চেয়ারম্যান
  • আমাদের জীববৈচিত্র্য, খাদ্য ও স্বাস্থ্য
  • এবার বোরো ধানে চাল নেই
  • পারমাণবিক বর্জ্যের ক্ষতিকর প্রভাব
  • মায়েদের ভালো থাকা
  • দুধেও ক্ষতিকর রাসায়নিক!
  • ইরান-আমেরিকা সম্পর্ক : যুদ্ধ কি অনিবার্য
  • নগরীর দৃশ্যমান সমস্যা ও প্রতিকার প্রসঙ্গে
  • যুদ্ধে যেতে হবে ভেজালের বিরুদ্ধে
  • Developed by: Sparkle IT