সম্পাদকীয়

আয়োডিন স্বল্পতার ঝুঁকি

প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০৫-২০১৯ ইং ০২:৪৪:১৮ | সংবাদটি ২৬ বার পঠিত



আয়োডিন স্বল্পতার ঝুঁকিতে দেশের ছয় কোটি মানুষ। আর তিন কোটি মানুষ জানে না যে, তারা আয়োডিন ঘাটতির শিকার হয়ে স্বল্প বুদ্ধি ও শিখন ক্ষমতা কমে যাওয়াসহ নানা জটিল রোগে ভুগছে। সম্প্রতি এই সংক্রান্ত সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীতে। এতে বিশেষজ্ঞগণ বলেন, এদেশের মাটি আয়োডিন ঘাটতি অঞ্চল বলে চিহ্নিত। তাই মাছ, মাংস, দুধ, ডিম ও শাকসবজিতে আয়োডিন থাকার সম্ভাবনা নেই। ফলে মানবদেহে আয়োডিনের ঘাটতি পূরণের জন্য একমাত্র আয়োডিনযুক্ত লবণ গ্রহণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু লবণেও আয়োডিন মেশানো হচ্ছে না। এই সংক্রান্ত সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে তদারকি না করার ফলে জনস্বাস্থ্য হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। আয়োডিন মেশানোর কথা বলে লবণের অতিরিক্ত দাম নেয়া হলেও লবণ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো লবণে যথাযথভাবে আয়োডিন মেশাচ্ছে না।
আয়োডিন মানবদেহের সুস্থতার জন্য একটি অপরিহার্য্য উপাদান। প্রতিদিন সঠিকমাত্রায় আয়োডিন গ্রহণ না করলে নানা ধরনের রোগ দেখা দিতে পারে মানবদেহে। বিশেষ করে মানুষের মাথার চুল কমে যাওয়া, স্থুলদেহ, শিশুদের খাটো হয়ে যাওয়া, পড়াশোনায় অমনোযোগী হওয়া, স্মরণশক্তি ও ধৈর্য্যক্ষমতা কমে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে। আর ইদানিং এইসব সমস্যা নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন মানুষ। কারণ, অনেক শিশু ও বড়দের মধ্যে এইসব রোগের লক্ষণ ধরা পড়ছে। মানবদেহে এই আয়োডিন গ্রহণের একমাত্র মাধ্যম হলো লবণ। লবণে আয়োডিন মেশালে সেই লবণের মাধ্যমেই আয়োডিন চলে যাবে প্রতিটি মানুষের শরীরে। এর জন্য সরকার লবণ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে লবণে নির্দিষ্ট পরিমাণে আয়োডিন মেশানোর নির্দেশ দিয়েছে। এই সংক্রান্ত দুটি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে সর্বজনীন আয়োডিনযুক্ত লবণ আইন (২০১৭) এবং আয়োডিন অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধ আইন (১৯৮৯)। কিন্তু তারপরও মানুষ প্রয়োজনীয় আয়োডিন গ্রহণে ব্যর্থ হচ্ছে। এর কারণ হচ্ছে লবণ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অবহেলা-উদাসীনতা।
আয়োডিনের অভাবে মানুষ নীরবে নিভৃতে নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। কারণ এই বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা কম। তাছাড়া আয়োডিনের অভাবজনিত রোগ বিষয়ে ইদানিং প্রচারণাও চালানো হচ্ছে না। তাই আয়োডিনের সুষম মাত্রা নিয়ন্ত্রণ না করেই বাজারে ছাড়া হচ্ছে লবণ। সুতরাং লবণ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে লবণে আয়োডিনের সঠিক মাত্রা নিরূপণের ওপর জোর দিতে হবে। এ ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে সাধারণ মানুষকেও।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT