ইতিহাস ও ঐতিহ্য

শাহ আরেফীনের (রহ.)-এর আস্তানা

সাকির আমিন প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-০৫-২০১৯ ইং ০০:৪৬:৪২ | সংবাদটি ২০৫ বার পঠিত

হজরত শাহ জালাল ইয়ামনী (রহ.) এর ৩৬০ দরবেশের অন্যতম সূফি সাধক হজরত শাহ আরেফীন (রহ.) তিনি একাকিত্ব আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের জন্য যে সব নিরিবিলি নির্জন স্থানে বসে উপাসনায় মগ্ন থাকতেন এসব স্থানকে আস্তানা বলা হয়। বাংলাদেশ হতে ভারতে যাতায়াত কালে তার কয়েকটি আস্তানা রয়েছে। তত কলিন সূফী সাধক ভক্তগণ এসব আস্তানা চি‎ি‎হ্নত করে রেখেছেন। ঠিক তেমনি শাহ আরেফীন (রহ.) এর একটি আস্তানা হচ্ছে ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের হাদা চাঁনপুর গ্রামে স্থাপিত শাহ আরেফীনের (রহ.) এর মাজারের খাদেম ফকির মোঃ আলাল শাহ জানান তিনি দীর্ঘ দিন ধরে এ মাজারের খেদমত করে আসছেন। মৃত্যুর আগে মাজারের খেদমতের দায়িত্বে ছিলেন আমার বাবা ইয়াছিন আলী। বংশানুক্রমে আমার উত্তরাধিকারীগণ খাদিমের দায়িত্ব পালন করে যাবে। মাজারের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণ না থাকায় অনেক সময় নানা জটিলতায় পড়তে হয়। সকল শ্রেণী পেশার লোকজনের সহযোগীতা ও সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মাজার সংরক্ষণের দায়িত্ব নিলে আধ্যাত্মিক এ সূফি সাধকের মাজার উন্নয়নে আরো জুড়ালো ভূমিকা পালন করা সম্ভব। আমাদের সকলের জানা হজরত শাহ জালাল (রহ.) জন্ম সৌদী আরবের ইয়েমেনে। তিনি ভারত বর্ষে ধর্ম প্রচারের জন্য এসেছিলেন। পথিমধ্যে নানা স্থানে নানা দরবেশ তার সাথে যুক্ত হন। এতে তার আউলিয়া দরবেশের সংখ্যা ৩৬০ জন হয়ে পড়েন। যারা ছিলেন প্রকৃত পক্ষে আউলিয়া দরবেশ তথা আধ্যাত্মিক মহা পুরুষ এবং তাদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন হযরত শাহ আরেফিন (রহ.) নামে পরিচিত। যার প্রকৃত পক্ষে কাজ ছিল স্থানে স্থানে ধর্ম প্রচার করা। স্থানীয় মুরব্বী আব্দুস সামাদের সাথে আলাপ করলে জানা যায় সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার গড়গড়ি গ্রামের সূফি তকবির শাহ তার মুরিদান সহ আসতেন এবং হাদা চানপুর গ্রামের এ স্থানে শাহ আরেফীন (রহ.) এর আস্তানা রয়েছে। তৎকালিন সময়ে এখানের কয়েক মাইলের আশপাশে শুধু নলখাগড়া আর বনাঞ্চল ছাড়া কিছুই ছিলনা। এখানে ইয়াছিন আলী কে মাজারের খেদমতের দায়িত্ব দিয়েছেন। তখন থেকেই এখানে আরো জুরালোভাবে স্থানীয় ভক্তবৃন্দগণ প্রতিদিন যিকির আছগার সপ্তাহে কানকা, মাসিক খতমে খাজেগান, প্রতি বছর মাঘ মাসের ১৭ তারিখে মহা পবিত্র ওরশ মোবারক পালন করছেন। ওরশ মোবারকে স্থানীয় আশপাশের গ্রাম গুলির মধ্য কুমার দানী, গুচ্চ গ্রাম, বাবনগাঁও সৈদাবাদ ও কাউয়া গড় সহ নানা গ্রামের ভক্ত অনুরক্ত ও মুরিদানগণ অংশগ্রহন করে থাকেন। শাহ আরেফীন (রহ.) মুসলমানদের অস্তিত্বের সাথে জড়িত বাঙালি মুসলমানদের চিন্তা চেতনায় মননে একাগ্রতায় সমগ্র স্বত্বা জুড়ে তার সদর্প অবস্থান। শুধু বাংলাদেশ নয় পশ্চিম বঙ্গেও যেখানে মুসলমান সেখানেই উদযাপিত হয় প্রতি বছর তার মহাপত্রিত ওরস মোবারক। আর এভাবেই এ আউলিয়া মুসলমানদের প্রাণের আরো গভীরে স্থান পেয়েছেন। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে শাহ আরেফীন (রহ.) মুসলিম সাহিত্যের বিশালতা ও গভীরতায় রয়েছে তার বিস্তার। তার আত্ম পরিচয়ে স্বান্বিত হয়েছে। সে কারনেই মুসলমানদের মধ্যে প্রেরণার উৎস হয়ে আছেন শাহ আরেফীন (রহ.) । মাজার এলাকার গ্রামীণ লোকজন তার মাজারে উন্নয়নের জন্য জোর দাবী জানিয়ে আসছেন।

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • সিলেট প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাকাল নিয়ে ভাবনা
  • খাপড়া ওয়ার্ড ট্রাজেডি
  • জাদুঘরে হরফের ফোয়ারা
  • ইতিহাস গড়া সাত শক্তিমান
  • ভেজাল খাবার প্রতিরোধের ইতিহাস
  • বর্ষাযাপন : শহর বনাম গ্রামগঞ্জ
  • বর্ষা এলো বর্ষা
  • পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন
  • নবীদের স্মৃতিচিহ্নে ধন্য যে জাদুঘর
  • দর্শনীয় স্থান ও পর্যটন কেন্দ্র
  • ঐতিহ্যে অম্লান গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়
  • বিলুপ্তির পথে গরীবের ‘শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত’ মাটির ঘর
  • হারিয়ে যাচ্ছে হিজল গাছ
  • তালের পাখা প্রাণের সখা
  • জামাই ষষ্ঠী
  • বাঙালির অলংকার
  • জল-পাহাড়ের ’কাঁঠালবাড়ি’
  • সাগরের বুকে ইসলামি স্থাপত্য জাদুঘর
  • বাঙালির আম-কাঁঠাল
  • ঐতিহ্যের সিলেট
  • Developed by: Sparkle IT