প্রথম পাতা

খোশ আমদেদ মাহে রমজান

শাহ নজরুল ইসলাম প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-০৫-২০১৯ ইং ০২:১৮:২২ | সংবাদটি ১১৭ বার পঠিত


আজ বুধবার, ৯ রমযান ১৪৪০ হিজরী। রহমতের দশকের আর মাত্র এক দিন বাকি। মহান আল্লাহর মেহেরবাণীতে মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা বেশ উৎসাহ উদ্দীপনা আর ইবাদত বন্দেগির মাধ্যমে এগিয়ে চলছে। ঘরে ঘরে ঈদুল ফিতরের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।
এর মাঝেও খাদ্যে ভেজাল নিয়ে জনমনে অস্বস্তি আর পেরেশানীর চিত্র ফুটে উঠেছে হাইকোর্টের রায়ে। নি¤œমানের ভেজালযুক্ত খাবারে ছেয়ে গেছে দেশ। মহান আল্লাহর নিয়ামত খেতে মানুষ এখন সংশয় পরায়ণ। এ অবস্থা থেকে মানুষ মুক্তি চায়। আসুন না এই রমজানে আমরা শপথ নিই জন মানুষের আর ক্ষতি করবো না। আমাদের নবীজী সা. ইরশাদ করেছেন, ‘যে মানুষের উপকার করে সেই শ্রেষ্ঠ মানুষ। আর যে মানুষের ক্ষতি করে সে নিকৃষ্টতর। আল্লাহ আমাদের সুমতি দান করুন।
অনেকে একটি মাসআলা জিজ্ঞেস করেন। বাস্তবেও বিষয়টি জীবন ঘনিষ্ঠ। অনেক পরিবারেই অক্ষম বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ আছেন তাদের রোযার হুকুম কি? ফিদয়া কি? আবার রোযার কাফফারা সম্পর্কেও মানুষ জানতে চান। আজকে তাহলে এ নিয়েই কিছু লিখি।
মানুষের জীবনে এমন কিছু অবস্থা ও পরিস্থিতি আসে যে অবস্থায় তার রোযা না রাখা জায়েয আছে। যেমন অসুস্থ্য ব্যক্তি যদি রোযা রাখার কারণে কোন শারীরিক ক্ষতির আশংকা করে বা মৃত্যুর ভয় করে তবে এ অবস্থায় রোযা রাখবে না। সুস্থ হওয়ার পর কাযা করবে। তবে কেবল মনের ধারনাগত কারণে রোযা ত্যাগ করা বৈধ নয়। এর জন্য শরীয়ত সম্মত কারণ থাকতে হবে। যখন কোন মুসলিম চিকিৎসক বলবেন যে রোযা রাখলে ক্ষতি হবে অথবা নিজের পূর্ব অভিজ্ঞতা কিংবা কোন লক্ষণ দ্বারা প্রবল ধারণা জন্মে যে, রোযা রাখলে ক্ষতি হবে তখন রোযা ত্যাগ করা যাবে। কোন কারণে রোযা ছুটে গেলে বা ভেঙ্গে গেলে অনতিবিলম্বে তা কাযা করে নেয়া উচিত। কারণ জীবনের কোন নিশ্চয়তা নেই।
কাযা রোযা ধারাবাহিকভাবে রাখা আবশ্যক নয়। কয়েক রমযানের কাযা রোযা একত্রিত হয়ে গেলে সেগুলো রাখার সময় কোন রমযানের রোযা রাখছেন, নিয়তের সময় তা নির্ধারণ করতে হবে।
কাফফারার বিবরণ : একটি রোযার কাফফারা হলো, একটি দাস মুক্ত করা। দাস প্রথা না থাকার কারণে কিংবা অর্থ না থাকার কারণে তা এখন প্রায় অসম্ভব, তাই, তাকে একাধারে ৬০ টি রোযা রাখতে হবে। মাঝে কোন বিরতি দেয়া যাবে না । যে কোন কারণে মাঝে একটি ছুটে গেলে পুনরায় শুরু থেকে ৬০ টি রাখতে হবে। অবশ্য মহিলাদের মাসিক ঋতুস্রাবের কারণে ধারাবাহিকতায় সমস্যা হবে না। শর্ত হলো, রক্ত বন্ধ হওয়ার পর থেকে কালবিলম্ব না করে আবার রোযা রাখা আরম্ভ করে দিতে হবে।
কাফফারার রোযা আরম্ভ করার আগে দেখে নিতে হবে যাতে মাঝে রোযা নিষিদ্ধ এমন কোন দিন যেমন ঈদের দিন না আসে। যাতে ধারাবাহিকতা ছুটে না যায়।
কোন কারণে ধারাবাহিকভাবে ৬০ টি রোযা রাখতে অক্ষম হলে, যাকাত পাওয়ার উপযুক্ত ৬০ জন দরিদ্র লোককে পেট ভরে দু বেলা খাবার খাওয়াবে। এ ৬০ জন দরিদ্র প্রাপ্ত বয়স্ক বা প্রাপ্ত বয়সে উপনীত হওয়ার কাছাকাছি হতে হবে। একবেলা যাদেরকে খাওয়ানো হবে অপর বেলায় তাদেরকেই খাওয়াতে হবে। একেবারে ছোট বাচ্চাকে খাওয়ালে তা যথেষ্ট হবে না। অনুরূপভাবে যাকাত পাওয়ার উপযুক্ত ৬০ জন দরিদ্র লোকের প্রত্যেককে এক সাদাকায়ে ফিতর পরিমাণ সম্পদ দান করলেও কাফফারা আদায় হয়ে যাবে।
কাফফারার ক্ষেত্রে একজনকে একদিনে একাধিক সাদাকায়ে ফিতর সমপরিমাণ সম্পদ দিলে তা এক সাদাকায়ে ফিতর ধরা হবে। তাই, আরো ৫৯ টি সাদাকায়ে ফিতর আদায় করতে হবে। গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া একই রমযানে একাধিক রোযা ভাঙ্গলে কাফফারা একটাই আদায় করতে হবে। অবশ্য একাধিক রমযানের রোযা হলে, কাফফারা একাধিক আদায় করতে হবে।
অতি বৃদ্ধ/বৃদ্ধা রোযা রাখতে পরিপূর্ণ অক্ষম বা রোযা রাখতে অসম্ভব হলে অথবা রোযার কারণে রোগ বেড়ে যাওয়ার আশংকা হলে পাশাপাশি ভবিষ্যতে রোযা রাখার শক্তি পাবে না বলে মনে হলে, প্রতিটি রোযার পরিবর্তে এক সাদাকায়ে ফিতর পরিমাণ সম্পদ গরীবদের দান করতে হবে বা কোন গরীবকে পেট ভরে দু’বেলা খাবার খাওয়াতে হবে। আর এটাকেই ফিদিয়া বলা হয়।
মুসাফির সফর থেকে ফিরে কিংবা অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ হয়ে ছুটে যাওয়া রোযা কাযা করার মত সময় পাওয়ার পরও যদি তা কাযা না করে আর এ অবস্থায় ইন্তিকাল করে এবং ইন্তিকালের পূর্বে ফিদিয়া দেয়ার অসিয়ত করে যায়, তবে তার পরিত্যক্ত সম্পদের এক তৃতীয়াংশ দ্বারা ফিদিয়া আদায় করা উত্তরাধিকারীর উপর আবশ্যক। অসিয়ত না করে থাকলে প্রাপ্ত বয়স্ক উত্তরাধিকারীগণ নিজ অংশ থেকে ইচ্ছে করলে ফিদিয়া দিতে পারবে। তবে রোযা রাখার সুযোগ না পেয়ে মারা গেল ফিদিয়া দিতে হবে না। কারো পক্ষ থেকে ফিদিয়া দেয়ার পর যদি সে রোযা রাখতে সক্ষম হয়ে যায়, তবে তাকে ফিদিয়া দেয়া রোযার কাযা করতে হবে।
কারো যদি ফিদিয়া আদায়ের সামর্থ না থাকে, তবে সে আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার করবে এবং অন্তর দিয়ে আশা রাখবে, যদি সামর্থবান হয় তাহলে ফিদিয়া আদায় করে দিবে।
(হিদায়া, আদদুররুল মুখতার, ফাতাওয়ায়ে শামী, আলফিক্বহ আলাল মাযাহিবিল আরবাআ, বাদায়িউস সানায়ে, বাহরুর রায়িক, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া, ফাতাওয়ায়ে তাতারখানিয়া, হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাক্বী, আহকামুল আতফাল, মাসাইলে রোযা, জাওয়াহিরুল ফিক্বহ, আহকামে যিন্দেগী ও তুহফতুল খাইর ইত্যাদি কিতাব থেকে সংগৃহিত)

রমযান মাসে ইচ্ছাকৃতভাবে কোন কারণ ছাড়া রোযা পরিত্যাগ করলে বা ভঙ্গ করলে বা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ে স্ত্রীচর্চা করলে রোযা নষ্ট হয়ে যায় এবং তার উপর কাযা ও কাফফারা উভয়টি ওয়াজিব হয়। রোযার কাফফারা হলো একজন কৃতদাস আজাদ করা অথবা দুই মাস লাগাতার রোযা রাখা অথবা ষাটজন অভাবী মিসকীনকে খানা খাওয়নো। কাফফারা আদায়ের বিসয়টি কঠিন, সুতরাং করোই কাযা ও কাফফারা ওয়াজিব হয় এমনভাবে রোযা ভাঙ্গার ঝুঁিক নেয়া উচিৎ নয়। মহান আল্লাহ আমাদের বুঝার ও আমল করার তাওফীক দিন আমীন। ছুম্মা আমীন।

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • হবিগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীবন
  • সব অনিয়মে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে: টিআইবি
  • টমটম গাড়ির জন্য জগন্নাথপুরের কিশোর চালককে রশিদপুরে নিয়ে খুন
  • পররাষ্ট্র মন্ত্রী একে মোমেন সিলেট আসছেন আজ
  • দক্ষিণ সুনামগঞ্জের কালনী নদী থেকে ভাসমান লাশ উদ্ধার
  • মাধবপুরে ট্রাকের ধাক্কায় ২ মোটর সাইকেল আরোহী নিহত
  • ফিরতে রাজি হয়নি কেউ, শুরু হয়নি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন
  •     রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহ দুঃখজনক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
  •   সড়ক দুর্ঘটনা রোধে শিগগিরই টাস্কফোর্স গঠন করা হবে
  • বিমান বহরে তৃতীয় ড্রিমলাইনার গাংচিল উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
  • গ্রন্থটি সমাজ বিনির্মাণের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে
  • কদমতলীতে এডিস মশার লার্ভা ও পূর্ণাঙ্গ মশার অস্তিত্ব সন্ধান দুটি প্রতিষ্ঠানকে অর্থদন্ড
  • দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলে নিরলসভাবে কাজ করছে কমিশন : দুদক চেয়ারম্যান
  • ২৮ আগস্টের মধ্যে শাপলা ফিলিং স্টেশনে ডাকাতির টাকা উদ্ধার না হলে কঠোর কর্মসূচি
  • সংসদ অধিবেশন বসবে ৮ সেপ্টেম্বর
  • ২১ আগস্টের হামলায় আ. লীগ জড়িত কি না : প্রশ্ন রিজভীর
  • বাহুবলে দিনে দুপুরে চা শ্রমিকদের ভাতার ১২ লাখ টাকা ছিনতাই
  • কুলাউড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ইউরো ফার্মা’র এরিয়া ম্যানেজার নিহত
  • প্রধানমন্ত্রী বিমানের ‘গাংচিল’ উদ্বোধন করবেন আজ
  • সিলেটে আরো কমেছে ডেঙ্গু রোগী
  • Developed by: Sparkle IT