উপ সম্পাদকীয়

বিশ্বব্যবস্থায় গণতন্ত্রের সংকট

অ্যাডভোকেট আনসার খান প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-০৫-২০১৯ ইং ০০:৩৩:০০ | সংবাদটি ১২৩ বার পঠিত

সমগ্র বিশ্বব্যবস্থায় গণতন্ত্র বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে। ১৯৪৫ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী প্রায় তিন দশক ছিলো গণতান্ত্রিক শাসনের জয়যাত্রা। গোটা কয়েক একনায়ক শাসিত রাষ্ট্র ব্যতীত ১৬৭ রাষ্ট্রেই গণতন্ত্রকে শাসন ব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিলো। আর ২০১৮ সালের ইকোনমিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের ডেমোক্রেসি ইনডেক্সে প্রদত্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী সমগ্র বিশ্বব্যবস্থায় মাত্র ২০টি রাষ্ট্রে প্রকৃত গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে বলে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সুইডেনের গুতেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞানী ড. আন্না লুহারমান-এর নেতৃত্বে প্রায় ২ শতাধিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বিশ্বের ১৭৮টি রাষ্ট্রের ওপর গবেষণা জরিপ পরিচালনা করে দেখেছেন গোটা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ বা ২.৬ বিলিয়ন মানুষ এমন দেশগুলোতে বসবাস করছেন যেখানে গণতন্ত্র হুমকির মধ্যে আছে। অর্থাৎ এসব দেশগুলোতে ক্রমান্বয়ে একনায়কতান্ত্রিক বা স্বৈরতান্ত্রিক শাসন জেঁকে বসেছে এবং গণতন্ত্র ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে।
ঐ জরিপে আরো বলা হয়েছে, চল্লিশ বছরের রাজনীতির ইতিহাসে উদারনৈতিক গণতন্ত্রের যে জয়জয়কার ছিলো পশ্চিম ইউরোপ ও নর্থ আমেরিকায়, গত ছয় বছরে সেসব অঞ্চলে গণতন্ত্রের ধস নামতে শুরু করেছে এবং এমনকি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও গণতন্ত্র হুমকির মধ্যে পড়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শাসনে।
এই জরিপে আরো তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, মাত্র ১৫% মানুষ এমন সব দেশগুলোতে বাস করছে যেখানে মহিলা, নি¤œ আয়ের মানুষ ও নৃতাত্বিক গোষ্ঠীর মানুষেরা ক্ষমতা কাঠামোতে অংশ গ্রহণের সুযোগ পেয়ে থাকে। অর্থাৎ জেন্ডার বৈষম্যের কারণে মহিলা, নৃতাত্বিক সামাজিক গ্রুপ ও দরিদ্র মানুষেরা অন্যান্য বিত্তবানদের ন্যায় সমানভাবে রাষ্ট্র ক্ষমতার অংশীদারিত্ব ভোগ করার সুযোগ পায় না। মূলতঃ ধনীক সম্প্রদায়ের লোকেরাই গোটা বিশ্বের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ভোগ ও নিয়ন্ত্রণ করে, যার সংখ্যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১.৯ বিলিয়ন বা কোয়ার্টার ভাগ।
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি চারজনের একজন বা দুই বিলিয়ন মানুষ এমন সব রাষ্ট্রে বাস করে যেগুলো অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ এবং গত দশ বছর ধরে ঐসব রাষ্ট্রগুলোই মূলত: রাজনৈতিক ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।
ড. লুহারমান বলেন, ঐসব দেশগুলোতে গত দশক ধরে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মানুষের বাক স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন ক্রমবর্ধমানভাবে হুমকির মধ্যে পড়েছে। ফ্রি এবং ফেয়ার ইলেকশন শাসকদের নিয়ন্ত্রণাধীন হয়ে পড়ছে বিধায় নির্বাচন ব্যবস্থা তাৎপর্যহীন হয়ে পড়েছে। পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থাই অস্বচ্ছ এবং জনগণের নিকট অগ্রহণযোগ্য প্রতিপন্ন হচ্ছে।
নির্বাচনী ব্যবস্থার দুরাবস্থা ও জীর্ণদশা পর্যবেক্ষণ করে হার্ভার্ডের দু’জন প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্টিভেন লেভিটস্কি ও ডানিয়েল জিবলাট তাঁদের বিখ্যাত বই ‘হাউ ডেমোক্রেসি ডাই’-এ বলেছেন,‘ভোটের বাক্সের মাধ্যমেই গণতন্ত্রের অবনমন শুরু হয়েছে-(ডেমোক্রেটিক ব্যাক স্লাইডিং টুডে বিগেইনস এট দ্য ব্যালট বক্স)।’
লেখকদ্বয় মনে করেন, চারটা কারণে দেশে দেশে গণতন্ত্রের মৃত্যু ঘটছে এবং এর স্থলে স্বৈরতান্ত্রিক শাসকের অভ্যুদয় ঘটে চলেছে। চারটা কারণ হলো :
(১) গণতান্ত্রিক শাসন সম্পর্কে নেতৃত্বের দুর্বল কমিটমেন্ট। (২) বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি বা প্রতিদ্বন্দ্বির বৈধতার স্বীকৃতি না দেওয়া। (৩) প্রয়োজনে সহিংসতাকে উসকে দেয় এবং (৪) সিভিল লিবার্টিজ, মিডিয়ার স্বাধীনতা সহ অন্যান্য অধিকারগুলোর সংকোচন করা হয়ে থাকে। লেখকদ্বয় আরো উল্লেখ করেছেন, উপরোক্ত চারটার মধ্যে যেকোনো একটাও যদি কোনো শাসক প্রয়োগ করে তাহলেই গণতন্ত্রের অপমৃত্যু ঘটে, উদ্ভব হবে স্বৈরতন্ত্রের।
‘হাউ ডেমোক্রেসি ডাই’ বইয়ে লেখকদ্বয় আরো বলেন, এতোকাল গণতন্ত্রের জন্য হুমকি ও বিপদ ছিলো সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে স্বৈরতন্ত্র কায়েম করা অথবা সহিংসতামূলক কর্মকান্ডে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করা। কিন্তু বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় গণতন্ত্রের জন্য প্রধান হুমকি হলো, শাসকদের দ্বারা ক্ষমতা কেন্দ্রীভূতকরণ। এসব শাসকের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে নিজেদের হাতে সকল রাষ্ট্র ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে গণতন্ত্রের সকল উপাদানগুলোকে ক্রমান্বয়ে ধ্বংস করে ফেলে। উদাহরণ হিসেবে, রাশিয়ার পুতিন, ফিলিপাইনসের দুতার্তে, তুরস্কের এরদোগান, ভেনেজুয়েলা,্ ইকুয়েডর, হাঙ্গেরী, নিকারাগুয়া ইত্যাদি রাষ্ট্রের শাসকদের কথা বলা হয়েছে-যারা নির্বাচনে জিতে এসে স্বৈরশাসন কায়েম করেছেন, এসব দেশে গণতন্ত্র এখন মৃত। অর্থাৎ এরা ভোটের বাক্স ব্যবহার করে গণতন্ত্রের মৃত্যু ঘটাচ্ছে।
নির্বাচিত স্বৈরশাসকরা যেকোনো ভাবে ক্ষমতা চিরস্থায়ীকরণের জন্য রাষ্ট্রীয় সকল ক্ষমতা নিজ হাতে কেন্দ্রীভূতকরণ, বিচার ও আইন বিভাগের ওপর শাসন বিভাগের কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সকল প্রকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অস্বীকার করে। নানাভাবে মিডিয়ার ওপর হস্তক্ষেপ করে। রাষ্ট্রীয় সকল অফিসগুলোকে অন্যায্যভাবে ব্যবহার করে নিজেদের স্বৈরক্ষমতাকে স্থায়ী এবং নিরঙ্কুশ করার জন্য। নির্বাচনের মাধ্যমে পুনরায় যাতে সহজেই ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারে সেজন্য নির্বাচন ব্যবস্থাটাকেই অস্বচ্ছ, অকেজো এবং গুরুত্বহীন করে ফেলে। ফলে ভোটার জনগণ একটা পর্যায়ে ভোটাধিকার প্রয়োগে অনীহা প্রকাশ করে। জনগণকে ভোট বিমুখ করাটা স্বৈর শাসকদের জন্য জরুরি এ কারণে যে, ফলে নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কমে যাওয়ায় ভোট কারচুপি করা সহজসাধ্য হয়ে যায়, যা স্বৈরশাসকের বিজয় নিশ্চিত করে। ভোটার জনগণ ভোট কেন্দ্রে আসবে না, আবার একটা নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছে সেটাও প্রচার করতে পারবে, এমন কৌশল গ্রহণ করে চলেছে বর্তমান যুগের নির্বাচিত স্বৈরশাসকরা।
গণতন্ত্রের এই ক্রমঅবনমন এবং দেশে দেশে নব্য স্বৈরতান্ত্রিক শাসকদের উত্থানের জন্য তিনটি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হয়। যেমন, উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর অর্থনৈতিক দুরাবস্থা, অভিবাসন সংকট, বেকারত্বের হার বৃদ্ধি ইত্যাদি নানা অভ্যন্তরীণ সংকট এবং এসব জনজরুরি সংকটগুলো সমাধানে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতা, দুর্বলতা যা জনগণের মধ্যে গণতন্ত্র সম্পর্কে বিরক্তিবোধের সৃষ্টি করেছে।
২। অন্যদিকে, কতিপয় স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রের শাসকদের মধ্যে প্রবল আত্মবিশ্বাস এবং এর প্রতি জনতুষ্টি সৃষ্টি করে জাতীয় অগ্রগতির মোহ তৈরী করা, যথাসম্ভব জনজীবনের সংকট মোচনে সাময়িকভাবে সফল হওয়া বা অর্থনৈতিক উন্নতি হচ্ছে, এই প্রচারণার দ্বারা জনগণকে তৃপ্তি দেবার সক্ষমতার মধ্যেই স্বৈরশাসকরা গণতন্ত্রকে পরাস্ত করে প্রায় সফলতার সাথে দেশ শাসন করে চলেছে এবং এসব শাসকদের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে অন্যান্য দেশের নেতৃত্ব। ফলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চেয়ে অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। আর তৃতীয় হলো, ভূরাজনীতির পরিবর্তন, উন্নত গণতন্ত্র এবং তাদের বৈরী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ভারসাম্যমূলক অবস্থান সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়ে থাকে।
গণতন্ত্রের এই অধোযাত্রা এবং স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর ব্যাপক হারে উত্থানের সূচনা হয়েছিলো ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দা থেকে। বিশেষ করে পশ্চিম ইউরোপের অর্থনৈতিক মন্দা তাদের দেশের জনগণকে অসন্তুষ্ট করে তোলেছিলো গণতান্ত্রিক শাসনের প্রতি। কেননা, এসব উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও শাসকরা জনগণের অর্থনৈতিক সংকট, জীবনযাত্রায় সংকট, বেকারত্ব দূরীকরণ ইত্যাদি বিষয়ে দক্ষতার সাথে সমাধান দিতে না পারায় জনজীবনে দুর্দশা নেমে এসেছিলো। অথচ, একই সময়ে, কতিপয় বৃহৎ স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও শাসক দক্ষতার সাথে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিলো। এসব কিন্তু গণতন্ত্রে বিশ্বাসী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর জনগণের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছিলো। ফলে জনগণের মধ্যে এই ধারণা সৃষ্টি হয় যে, তাদের দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো এবং গৃহীত পলিসি সমূহ অন্যদের চেয়ে দুর্বল ও ব্যর্থ। এতে করে গণতন্ত্রের প্রতি এক ধরনের অনীহা দেখা দেয়।
রাষ্ট্র বিজ্ঞানী থমাস কারোথিয়ার্সের মতে, পশ্চিম ইউরোপ ও আমেরিকান গণতন্ত্রের বিপর্যয়কর দুরাবস্থার কারণে বিশ্বের অনেক মানুষের মধ্যেই গণতন্ত্র সম্পর্কে বিরূপ ধারণা জন্ম নেয়। আর এ সুযোগে গোটা বিশ্বের অনেক দেশেই গণতন্ত্রের উপর স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত ও বিকশিত হতে থাকে। এসব রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের উপাদান ও উদারনৈতিক ধারণা অর্থাৎ মুক্ত সমাজ, সিভিল সোসাইটি, বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা, মিডিয়ার স্বাধীনতা, স্বচ্ছ নির্বাচনী ব্যবস্থা ইত্যাদি অবদমিত হতে থাকে। একটা পর্যায়ে মানুষের সকল প্রকার মৌলিক অধিকারই অস্বীকার করে স্বৈর শাসকরা।
গণতন্ত্রের বিশ্বব্যাপী অধোগমনের জন্য ইউরোপের কতিপয় দেশগুলোতে পপুলিস্ট বা লোকরঞ্জনবাদী আন্দোলনের উদ্ভব, অভিবাসন বিরোধী আন্দোলন, লোকরঞ্জনবাদী নেতৃত্বের উদ্ভব, উগ্র শেতাঙ্গবাদী জাতীয়তার উদ্ভব ও বিকাশকে দায়ী করেছেন অনেক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী।
অন্যদিকে, আমেরিকায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের উত্থান, জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও বৈষম্যমূলক আবহ সৃষ্টি করা, রেসিয়াল বৈষম্য বৃদ্ধি, গণতন্ত্রের মৌলিক নীতিগুলোর প্রতি ট্রাম্পের অনীহা প্রকাশ, বিশেষ করে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি অস্বীকৃতি ইত্যাদি স্বৈরতান্ত্রিক নীতির প্রতি ট্রাম্পের আগ্রহী হয়ে ওঠা, অর্থাৎ রাশিয়ার পুতিন বা ফিলিপাইনসের দুতার্তের ন্যায় সকল ক্ষমতা নিজের একক হাতে কেন্দ্রীভূত করণের ইচ্ছা থেকে আমেরিকান গণতন্ত্রের সৌন্দর্য, সকল প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবজ্ঞা ও উপেক্ষা করার মানসিকতা, রাজনৈতিক বিদ্যমান সিস্টেম অবজ্ঞা করা, বিচার বিভাগ ও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা অস্বীকার করা এবং গণমাধ্যমকে জনগণের শত্রু হিসেবে অভিহিত করা ইত্যাদি বিষয়গুলো ট্রাম্পের গণতন্ত্রের প্রতি অনীহার প্রকাশ এবং এসব অবশ্যই আমেরিকার শত শত বছরের চলা অবাধ-মুক্ত সমাজের ধারণার পরিপন্থী। তাঁর এসব পদক্ষেপ আমেরিকায় বিদ্যমান গণতন্ত্রের অপমৃত্যু ডেকে আনার আশংকা তৈরি হয়েছে। আর আমেরিকান নীতি-কৌশলগুলো বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোকে প্রভাবিত করে থাকে।
এই সব দিক পর্যবেক্ষণ, পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করে চিন্তাশীল সংগঠন ফ্রিডম হাউস মনে করে সারা বিশ্বেই গণতন্ত্রের পতন বা মৃত্যু ঘটছে এবং অনেক রাষ্ট্রের স্বৈরতান্ত্রিক বা সর্বাত্মকবাদী শাসন ব্যবস্থার উদ্ভব ঘটেছে।
এ সংস্থার বার্ষিক-‘ফ্রিডম ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রতিবেদন-২০১৮-তে বলা হয়েছে বিগত তেরো বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে সারা বিশ্বে মুক্ত সমাজের অধঃপতন ঘটে চলেছে। আর গত ১২ মাসে মোট ৬৮ রাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও সিভিল লিবারটিজের অধোগতির ঘটনা ঘটেছে।
অনেক স্বৈর শাসক, বিরোধী মত নির্মমভাবে দমন করে চলেছে, বিরোধী নেতৃবৃন্দকে কারাগারে আবদ্ধ করে রেখেছে, স্বাধীনতা চরমভাবে খর্ব করেছে গণমাধ্যমগুলোর।
এভাবেই দেশে দেশে গণতন্ত্রের বুকের ওপর স্বৈরতান্ত্রিক শাসক ও রাষ্ট্রের উদ্ভব হচ্ছে এবং এটা ক্রমবর্ধমান। তাই প্রশ্ন ওঠেছে, নবম শতকে প্রাচীন গ্রীসে যে গণতন্ত্রের সূচনা ঘটেছিলো এবং দেশে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে হিড়িক শুরু হয়েছিলো, সেই বিকশিত গণতন্ত্রের মৃত্যুও পতন কী অনিবার্য?
লেখক : আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ছাত্রজীবনে ব্যর্থতা নিয়ে কথা
  • ফেসবুকের অপব্যবহার : আইন ও নৈতিকতা
  • এ বিবাদ মেটাতেই হবে
  • গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও গরিবের সরল গণিত
  • বন্যার্তদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে
  • দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও চীন-আমেরিকার রাজনীতি
  • সম্ভাবনার ক্ষেত্র এবং নতুন প্রযুক্তি
  • গণমানুষের মুখপত্র
  • জাহালম কি আরো আছে!
  • নারী নির্যাতন ও আমাদের বাস্তবতা
  • সিলেটের ডাক : কিছু স্মৃতি কিছু কথা
  • বর্ষাঋতুতে শিশুদের যত্ম
  • কোটি মানুষের মুখপত্র
  • ৩৬ বছরে সিলেটের ডাক
  • প্রত্যয়ে দীপ্ত ‘সিলেটের ডাক’
  • পাঠকের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি
  • এরশাদ : এক আলোচিত পুরুষের প্রস্থান
  • প্রাসঙ্গিক ভাবনায় ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেট
  • মেঘালয়ের মেঘমালা
  • পরিবেশ সংরক্ষণে সামষ্টিক উদ্যোগ
  • Developed by: Sparkle IT