সম্পাদকীয়

শিশুর কাঁধে বইয়ের বোঝা

প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-০৫-২০১৯ ইং ০০:৩৫:০০ | সংবাদটি ১৩০ বার পঠিত


বইয়ের ভারে ন্যুব্জপৃষ্ঠ কোমলমতি শিশুদের বিদ্যালয়ে ছুটে চলার দৃশ্য এখনও বন্ধ হয়নি। তাদের কাঁধে বইয়ের বোঝা দিন দিন বেড়ে চলেছে। এই বইয়ের বোঝা কমানোর জন্য নির্দেশনা রয়েছে সরকার প্রধান এবং আদালতেরও। কিন্তু কোন লাভ হচ্ছে না। বরং বইয়ের বোঝা ভারীই হচ্ছে। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, সরকার অনুমোদিত বই ছাড়া অনেক রকমের বই শিশু পাঠ্যপুস্তক করছে এক শ্রেণির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর ফলে শিশুরা বইয়ের ভারী ব্যাগ বহন করতে বাধ্য হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বক্তব্য হচ্ছে, সরকারি বইয়ের আকার ও ওজন খুবই কম। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সরকারি বইয়ের বাইরে অতিরিক্ত কোনো বই পড়ানো হয় না। তবে কিছু কি-ার গার্টেন স্কুল অযাচিত বই পাঠ্যপুস্তক করে ফেলে। ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা কি-ার গার্টেন স্কুলগুলো প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশ মানে না।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত ভারী ব্যাগ নিয়ে যাচ্ছে বিদ্যালয়ে। বেসরকারি পর্যায়ে গড়ে ওঠা কি-ার গার্টেন বিদ্যালয়গুলোতে এই প্রবণতা বেশি। সাধারণত প্রতিটি কি-ার গার্টেন বিদ্যালয়ে বছরের শুরুতে প্রতিটি শিশুর হাতে বইয়ের একটি লম্বা তালিকা ধরিয়ে দেয়া হয়। এতে এনসিটিবি প্রকাশিত বই ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন প্রকাশনীর বই। বাহারি নামের চটকদার এই সব বই শিশু পাঠ্যপুস্তক করা হয়েছে। প্রতিটি বইয়ের দামও আকাশ ছোঁয়া। দেখাগেছে ২০/২৫ পৃষ্ঠার একটি বইয়ের দাম চারশ/ পাঁচশ টাকা ধরা হয়েছে। প্রথম শ্রেণিতে সরকারি বই রয়েছে মাত্র তিনটি। কিন্তু এর বাইরে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে দশটি পর্যন্ত বইও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এই অবস্থা শিশু শ্রেণিসহ অন্যান্য শ্রেণিগুলোতেও। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো চড়া দামে কেনা এই সব অতিরিক্ত বই ক্লাসে খুব একটা পড়ানো হয় না। এই বইগুলোর ওপর নেয়া হয় না পরীক্ষাও। শুধুমাত্র প্রকাশনা সংস্থার ব্যবসা বাড়ানোর জন্য বইগুলো কিনতে বাধ্য করা হয় অভিভাবকদের। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কিছু কিছু শিক্ষকও অনৈতিক সুবিধা ভোগ করছে এইসব প্রকাশনা সংস্থা বা বইয়ের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে।
বেসরকারি কি-ার গার্টেন স্কুলগুলোতে অধ্যয়নরত কোমলমতি শিশুদের কাঁধের বইয়ের বোঝা হালকা করতে খোদ প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে হাইকোর্টও একটি রায় দিয়েছেন। রায়ে এই সংক্রান্ত একটি আইন প্রণয়নেরও নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু রায় প্রদানের আড়াই বছর পরও এ ব্যাপারে নেই তেমন অগ্রগতি। এটা ঠিক যে, শুধু এনসিটিবি প্রকাশিত সরকারি বই যদি পাঠ্য আকারে রাখা হয়, তবে এই বইয়ের বোঝা শিশুদের জন্য ভারী হওয়ার কথা নয়। তাই যেভাবেই হোক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত বইগুলো যাতে কোনো প্রতিষ্ঠানের অযথা পাঠ্য করা না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT