শেষের পাতা ভূমধ্যসাগরে ট্র্যাজেডি

গোলাপগঞ্জ, বিশ্বনাথ ও মৌলভীবাজারের আরো তিন যুবক নিখোঁজ

স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-০৫-২০১৯ ইং ০২:৩৮:৫৭ | সংবাদটি ২২১ বার পঠিত

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে সিলেট অঞ্চলের আরো তিন যুবক নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে। তারা গোলাপগঞ্জ, বিশ্বনাথ ও মৌলভীবাজারের বাসিন্দা। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্ট:
গোলাপগঞ্জ (সিলেট) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিসিয়ার উপকূলবর্তী ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীবাহী নৌকাডুবির ঘটনায় গোলাপগঞ্জের আবুল কাসেম (২২) নামের এক যুবক নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সে উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের উত্তর গোলাপ নগরের মৃত মসব আলীর কনিষ্ট পুত্র।
আবুল কাসেমের বড় ভাই আনা মিয়া নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমার ভাই আবুল কাসেমও সম্ভবত ডুবে যাওয়া নৌকার মধ্যে ছিল। তার সঠিক কোন খবর এখনো পাচ্ছিনা। তাকে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা শঙ্কায় রয়েছেন বলে তিনি জানান।
এদিকে, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নৌকাডুবিতে নিহত ২৭ বাংলাদেশির যে তালিকা প্রকাশ করেছে তার মধ্যে আবুল কাসেমেরও নাম রয়েছে। জীবিত ৪ বাংলাদেশি নাগরিকের সঙ্গে ফোনালাপের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যে তারা নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে বলে জানা যায়। ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত গোলাপগঞ্জের দুই তরুণের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন, উপজেলার শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের কদুপুর গ্রামের ইয়াকুব আলীর কনিষ্ট পুত্র কামরান আহমদ মারুফ (২২) ও একই উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের মৃত রফিক মিয়ার পুত্র আফজল মাহমুদ (২৫)।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সকালে ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়া সমুদ্র উপকূলে শতাধিক অভিবাসী বহন করা নৌকাটি ডুবে গেলে প্রায় ৬০ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্বনাথ থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা ॥ লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে আব্দুল মোমিন নামের বিশ্বনাথের আরো এক যুবক নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গোয়াহরি গ্রামের মৃত আব্দুল হান্নানের পুত্র।
জানা গেছে, স্বপ্নের দেশ ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে আব্দুল মোমিন প্রায় ৪ মাস পূর্বে লিবিয়া গিয়েছিলেন। সেখান থেকে গত ১১ মে নৌকা যোগে ইতালি যাওয়ার কথা ছিল। নৌকায় উঠার পূর্বে তিনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন তিনি গেম ঘরে আছেন, কিছুক্ষণের মধ্যে ইতালির উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। কিন্তু, এর পর থেকে তার সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন না পরিবারের লোকজন। ফলে পরিবার সহ আত্মীয়-স্বজনরা রয়েছেন দুশ্চিন্তায়।
প্রসঙ্গত, গত ১১ মে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিসিয়ার উপকূলবর্তী ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবিতে নিহত হন ২৭ বাংলাদেশী। ধারণা করা হচ্ছে, ওই নৌকায় যাত্রী ছিলেন আব্দুল মোমিনও। মোমিনের সাথে নিখোঁজ রয়েছেন বিশ্বনাথে আরো দুই যুবক দিলাল মিয়া ও রেদওয়ানুল ইসলাম খোকন।
মৌলভীবাজার থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকাডুবির ঘটনায় আজিজুর রহমান রুকুল নামের মৌলভীবাজারের এক যুবক নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ আজিজ সদর উপজেলার গিয়াসনগর ইউনিয়নের কালিয়ারগাঁও গ্রামের মৃত সাদিকুর রহমানের ছেলে। আজিজ এর বড় ভাই মোঃ মুহিবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মোঃ মুহিবুর রহমান জানান, আমরা ৫ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে রুকুল সবার ছোট। রুকুল নিখোঁজ রয়েছেন তবে মৃত্যুর বিষয়টি তিনি এখনও নিশ্চিত হতে পারেননি।
তিনি আরো জানান, ২০১৭ সালে জুন মাসে আজিজ ইতালি যাওয়ার জন্য সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার কাইয়ুম নামের এক দালালের সাথে চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী দালালকে ২ লাখ টাকা দেয়া হয়। কিন্তু লিবিয়াতে নিয়ে ৩ মাস রাখার পরও ইতালিতে পাঠানো হয়নি। পরবর্তীতে দালাল কাইয়ুম লিবিয়ার আরেক দালালের কাছে আমার ভাইকে বিক্রি করার পরিকল্পনার বিষয়টি বুঝে আজিজ পালিয়ে যায়।
কয়েক দিন পর এ বিষয়টি নিয়ে বালাগঞ্জের দালাল কাইয়ুমের সাথে কথা হলে সে বলে আমিও ইতালিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছি। আজিজকে আমার সাথে দেন। নিরাপদে ভালো রাস্তায় নিয়ে যাব। তার কথার উপর বিশ্বাস করে তাকে আরো ২ লাখ টাকা দেই। কিন্তু সে টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে আমার ভাই আজিজ মাঝে মধ্যে কাজ করে কোনো রকম লিবিয়ায় থাকে। চলতি বছরের জানুয়ারীর দিকে সে আবার মাদারীপুরের একজন দালালের মাধ্যমে ইতালিতে যাওয়ার কথা বলে। একথা বলার পর আমরা তাকে যেতে বাধা দেই। কিন্তু সে আমাদের কথা না শুনে ক্যাম্পে চলে যায়। সেখানে যাওয়ার পর মাদারীপুরের ওই দালালকে ২ লাখ টাকা দেয়া হয়। কিন্তু আজ-কাল বলে ৩ মাসেও তাকে ইতালি নিতে পারেনি। ওই সময়ে বাড়ি থেকে প্রতি সপ্তাহে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে হয়েছে। সর্বশেষ গত ৮ মে রাত ৮টা ১০ মিনিটে মোবাইল ফোনে সে আমাকে জানায় এখন রওয়ানা দিচ্ছি ইতালি যাওয়ার পথে। এরপর থেকে আমার ভাইয়ের সাথে আর কোন যোগাযোগ নেই। তিনি কথা বলার এক পর্যায়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
নিখোঁজ রুকুলের ভাতিজা মোঃ আলমগীর মিয়া সকালে মোবাইল ফোনে জানান, আমার চাচা লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে নিখোঁজ রয়েছেন। বাড়িতে সবাই কান্নাকাটি করছেন।
এদিকে, স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য রুমান আহমদ জানান, আমার গ্রামের সবাই নিখোঁজ রুকুলের বাড়ি যাচ্ছেন খোঁজ খবর নেয়ার জন্য। গ্রামের মানুষ শোকে স্তব্ধ।

 

শেয়ার করুন
শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত অধ্যাপক মোজাফফর
  • ভিডিও ভাইরাল : জামালপুরের ডিসি ওএসডি, তদন্ত কমিটি
  • বিশ্বাসঘাতকতা করে জিয়া নিজেও বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছেন : ওবায়দুল কাদের
  • কোম্পানীগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ
  • সিলেটসহ সাত জেলায় চুরি-ডাকাতিতে জড়িত আন্তবিভাগীয় চক্রের ১১ সদস্য গ্রেফতার
  • বড়লেখায় বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশীর লাশ হস্তান্তর
  • বিয়ানীবাজারে মাইক্রোবাস চুরিকালে একজন আটক সিএনজি চুরি ॥ থানায় জিডি
  • র‌্যাবের পৃথক অভিযান অস্ত্র ব্যবসায়ী ও জুয়াড়িসহ ১৬জন গ্রেফতার
  • কমলগঞ্জ-মৌলভীবাজার সড়ক গর্ত ভরা পানি আর খানাখন্দে মরণফাঁদ
  • নগরীতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণসহ সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম
  • গোলাপগঞ্জে ভূমি জালিয়াতির মামলায় সাবেক সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৫ জন জেল হাজতে
  • লন্ডনে সন্ত্রাসী হামলায় সিলেটের প্রবাসী আহত
  • ১৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫২ কলেজে নির্মিত হচ্ছে একাডেমিক ভবন
  • বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন আধুনিক বাংলার স্বপ্নদ্রষ্টা
  • বাদাঘাটের চেঙ্গেরখাল নদীতে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত
  • ছবি
  • হুমকির মুখে সিলেট তামাবিল মহাসড়ক
  • পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছের গুরুত্ব অপরিসীম ---নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি
  • অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষি সেক্টরের ভূমিকা অপরিসীম ----- সচিব সনৎ কুমার সাহা
  • জাসদ’র গণজাগরণ দিবস পালন
  • Developed by: Sparkle IT