শেষের পাতা ভূমধ্যসাগরে ট্র্যাজেডি

গোলাপগঞ্জ, বিশ্বনাথ ও মৌলভীবাজারের আরো তিন যুবক নিখোঁজ

স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-০৫-২০১৯ ইং ০২:৩৮:৫৭ | সংবাদটি ৮৯ বার পঠিত

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে সিলেট অঞ্চলের আরো তিন যুবক নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে। তারা গোলাপগঞ্জ, বিশ্বনাথ ও মৌলভীবাজারের বাসিন্দা। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্ট:
গোলাপগঞ্জ (সিলেট) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিসিয়ার উপকূলবর্তী ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীবাহী নৌকাডুবির ঘটনায় গোলাপগঞ্জের আবুল কাসেম (২২) নামের এক যুবক নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সে উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের উত্তর গোলাপ নগরের মৃত মসব আলীর কনিষ্ট পুত্র।
আবুল কাসেমের বড় ভাই আনা মিয়া নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমার ভাই আবুল কাসেমও সম্ভবত ডুবে যাওয়া নৌকার মধ্যে ছিল। তার সঠিক কোন খবর এখনো পাচ্ছিনা। তাকে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা শঙ্কায় রয়েছেন বলে তিনি জানান।
এদিকে, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নৌকাডুবিতে নিহত ২৭ বাংলাদেশির যে তালিকা প্রকাশ করেছে তার মধ্যে আবুল কাসেমেরও নাম রয়েছে। জীবিত ৪ বাংলাদেশি নাগরিকের সঙ্গে ফোনালাপের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যে তারা নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে বলে জানা যায়। ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত গোলাপগঞ্জের দুই তরুণের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন, উপজেলার শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের কদুপুর গ্রামের ইয়াকুব আলীর কনিষ্ট পুত্র কামরান আহমদ মারুফ (২২) ও একই উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের মৃত রফিক মিয়ার পুত্র আফজল মাহমুদ (২৫)।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সকালে ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়া সমুদ্র উপকূলে শতাধিক অভিবাসী বহন করা নৌকাটি ডুবে গেলে প্রায় ৬০ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্বনাথ থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা ॥ লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে আব্দুল মোমিন নামের বিশ্বনাথের আরো এক যুবক নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গোয়াহরি গ্রামের মৃত আব্দুল হান্নানের পুত্র।
জানা গেছে, স্বপ্নের দেশ ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে আব্দুল মোমিন প্রায় ৪ মাস পূর্বে লিবিয়া গিয়েছিলেন। সেখান থেকে গত ১১ মে নৌকা যোগে ইতালি যাওয়ার কথা ছিল। নৌকায় উঠার পূর্বে তিনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন তিনি গেম ঘরে আছেন, কিছুক্ষণের মধ্যে ইতালির উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। কিন্তু, এর পর থেকে তার সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন না পরিবারের লোকজন। ফলে পরিবার সহ আত্মীয়-স্বজনরা রয়েছেন দুশ্চিন্তায়।
প্রসঙ্গত, গত ১১ মে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিসিয়ার উপকূলবর্তী ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবিতে নিহত হন ২৭ বাংলাদেশী। ধারণা করা হচ্ছে, ওই নৌকায় যাত্রী ছিলেন আব্দুল মোমিনও। মোমিনের সাথে নিখোঁজ রয়েছেন বিশ্বনাথে আরো দুই যুবক দিলাল মিয়া ও রেদওয়ানুল ইসলাম খোকন।
মৌলভীবাজার থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকাডুবির ঘটনায় আজিজুর রহমান রুকুল নামের মৌলভীবাজারের এক যুবক নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ আজিজ সদর উপজেলার গিয়াসনগর ইউনিয়নের কালিয়ারগাঁও গ্রামের মৃত সাদিকুর রহমানের ছেলে। আজিজ এর বড় ভাই মোঃ মুহিবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মোঃ মুহিবুর রহমান জানান, আমরা ৫ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে রুকুল সবার ছোট। রুকুল নিখোঁজ রয়েছেন তবে মৃত্যুর বিষয়টি তিনি এখনও নিশ্চিত হতে পারেননি।
তিনি আরো জানান, ২০১৭ সালে জুন মাসে আজিজ ইতালি যাওয়ার জন্য সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার কাইয়ুম নামের এক দালালের সাথে চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী দালালকে ২ লাখ টাকা দেয়া হয়। কিন্তু লিবিয়াতে নিয়ে ৩ মাস রাখার পরও ইতালিতে পাঠানো হয়নি। পরবর্তীতে দালাল কাইয়ুম লিবিয়ার আরেক দালালের কাছে আমার ভাইকে বিক্রি করার পরিকল্পনার বিষয়টি বুঝে আজিজ পালিয়ে যায়।
কয়েক দিন পর এ বিষয়টি নিয়ে বালাগঞ্জের দালাল কাইয়ুমের সাথে কথা হলে সে বলে আমিও ইতালিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছি। আজিজকে আমার সাথে দেন। নিরাপদে ভালো রাস্তায় নিয়ে যাব। তার কথার উপর বিশ্বাস করে তাকে আরো ২ লাখ টাকা দেই। কিন্তু সে টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে আমার ভাই আজিজ মাঝে মধ্যে কাজ করে কোনো রকম লিবিয়ায় থাকে। চলতি বছরের জানুয়ারীর দিকে সে আবার মাদারীপুরের একজন দালালের মাধ্যমে ইতালিতে যাওয়ার কথা বলে। একথা বলার পর আমরা তাকে যেতে বাধা দেই। কিন্তু সে আমাদের কথা না শুনে ক্যাম্পে চলে যায়। সেখানে যাওয়ার পর মাদারীপুরের ওই দালালকে ২ লাখ টাকা দেয়া হয়। কিন্তু আজ-কাল বলে ৩ মাসেও তাকে ইতালি নিতে পারেনি। ওই সময়ে বাড়ি থেকে প্রতি সপ্তাহে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে হয়েছে। সর্বশেষ গত ৮ মে রাত ৮টা ১০ মিনিটে মোবাইল ফোনে সে আমাকে জানায় এখন রওয়ানা দিচ্ছি ইতালি যাওয়ার পথে। এরপর থেকে আমার ভাইয়ের সাথে আর কোন যোগাযোগ নেই। তিনি কথা বলার এক পর্যায়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
নিখোঁজ রুকুলের ভাতিজা মোঃ আলমগীর মিয়া সকালে মোবাইল ফোনে জানান, আমার চাচা লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে নিখোঁজ রয়েছেন। বাড়িতে সবাই কান্নাকাটি করছেন।
এদিকে, স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য রুমান আহমদ জানান, আমার গ্রামের সবাই নিখোঁজ রুকুলের বাড়ি যাচ্ছেন খোঁজ খবর নেয়ার জন্য। গ্রামের মানুষ শোকে স্তব্ধ।

 

শেয়ার করুন
শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • ছাতকে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়েরী মামলা থেকে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের নাম প্রত্যাহারের দাবি
  • ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে রক্ষায় সকলকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান
  • শাহপরাণ থানার ওসি আখতারের অপসারণ দাবি
  • পরীক্ষার ৫ দিন আগে মিলবে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের প্রবেশপত্র
  • দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর সমূহের জন্য ২ নম্বর সংকেত
  • ১০০০ টাকা মূল্যমানের নতুন নোট চালু হচ্ছে কাল
  • মানব সেবায় চিকিৎসকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান
  • কৃষকদের ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি
  • বিএসটিআইয়ের ভূমিকা নিয়েই হাই কোর্টের প্রশ্ন
  • নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনার পরামর্শ
  • পবিত্র রমজান সহমর্মিতার মাস
  • হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে উপনির্বাচন ২৪ জুন
  • দুইপাশে গেড়ে দেয়া হয়েছে ‘লাল নিশানা’
  • এবার ধোপাদিঘীরপাড়ের অবৈধ মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড গুঁড়িয়ে দিয়েছে সিসিক
  • ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন
  • বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা খাতে দেশ অনেক দূর এগিয়েছে
  • পাকিস্তানিদের জন্য বাংলাদেশের ভিসা দেয়া বন্ধ
  • সরকারের নির্ধারিত সুযোগ সুবিধা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে --------- মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি
  • নিহত জিল্লুরের বাড়িতে থামছে না কান্নার রোল
  • জগন্নাথপুরে সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি নিয়ে সংশয়
  • Developed by: Sparkle IT