ধর্ম ও জীবন

তাফসিরুল কুরআন

প্রকাশিত হয়েছে: ১৭-০৫-২০১৯ ইং ০৪:৫১:৩৭ | সংবাদটি ১০০ বার পঠিত

সূরা : বাক্বারাহ
[পূর্ব প্রকাশের পর]
(৭০) তারা বলল, আপনি প্রভুর কাছে প্রার্থনা করুনÑতিনি বলে দিন যে, সেটা কিরূপ? কেননা, গরু আমাদের কাছে সাদৃশ্যশীল মনে হয়। ইনশাআল্লাহ এবার আমরা অবশ্যই পথপ্রাপ্ত হবো। মুসা (আ.) বললেন, তিনি বলেন যে, এ গাভী ভূকর্ষণ ও জল সেচনের শ্রমে অভ্যস্ত নয়Ñহবে নিষ্কলঙ্ক, নিখুঁত। (৭১) তারা বলল, এবার সঠিক তথ্য এনেছে। অতঃপর তারা সেটা জবাই করল, অথচ জবাই করবে বলে মনে হচ্ছিল না। (৭২) যখন তোমরা একজনকে হত্যা করে পরে সে সম্পর্কে একে অপরকে অভিযুক্ত করেছিলো। যা তোমরা গোপন করেছিলে, তা প্রকাশ করে দেয়া ছিলো আল্লাহর অভিপ্রায়। (৭৩) অতঃপর আমি বললাম গরুর একটি খ- দ্বারা মৃতকে আঘাত কর। এভাবে আল্লাহ মৃতকে জীবিত করেন এবং তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনসমূহ প্রদর্শন করেনÑযাতে তোমরা চিন্তা কর। (৭৪) অতঃপর এ ঘটনার পরে তোমাদের অন্তর কঠিন হয়ে গেছে। তা পাথরের মতো অথবা তদপেক্ষাও কঠিন। পাথরের মধ্যে এমনও আছে যা থেকে ঝরণা প্রবাহিত হয়, এমনও আছে, যা বিদীর্ণ হয়, অতঃপর তা থেকে পানি নির্গত হয় এবং এমনও আছে, যা আল্লাহর ভয়ে খসে পড়তে থাকে। আল্লাহ তোমাদের কাজকর্ম সম্পর্কে বে-খবর নন। (৭৫) হে মুসলমানগণ, তোমরা কি আশা কর যে, তারা তোমাদের কথায় ঈমান আনবে? তাদের মধ্যে একদল ছিলো, যারা আল্লাহর বাণী শ্রবণ করত; অতঃপর বুঝে-শুনে পরিবর্তন করে দিত এবং তারা তা অবগত ছিলো। (৭৬) যখন তারা মুসলমানদের সাথে মিলিত হয়, তখন বলেÑআমরা মুসলমান হয়েছি। আর যখন পরস্পরের সাথে নিভৃতে অবস্থান করে, তখন বলেÑপালনকর্তা তোমাদের জন্যে যা প্রকাশ করেছেন, তা কি তাদের কাছে বলে দিচ্ছ? তাহলে যে তারা এ নিয়ে পালনকর্তার সামনে তোমাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে। তোমরা কি তা উপলব্ধি কর না?
আনুসাঙ্গিক জ্ঞাতব্য বিষয় :
হাদিসে বর্ণিত আছে, বনী ইসরাঈল কোনো বাদানুবাদে প্রবৃত্ত না হলে এতোসব শর্তও আরোপিত হতো না, বরং যে কোনো গরু জবাই করলেই তাদের উদ্দেশ্য সিদ্ধ হতে পারত। বস্তুত মৃতদেহে গরুর গোশতের টুকরো স্পর্শ করাতেই সে জীবিত হয়ে যায় এবং হত্যাকারীর নাম বলে তৎক্ষনাত মৃত্যু বরণ করে।
এক্ষেত্রে নিহত ব্যক্তির বর্ণনাকেই যথেষ্ট মনে করা হয়েছে। কারণ, মুসা (আ.) ওহীর মাধ্যমে জানতে পেরেছিলেন যে, নিহত ব্যক্তি সত্য বলবে। নতুবা শরীয়তসম্মত সাক্ষী ছাড়া নিহত ব্যক্তির জবানবন্দীই হত্যা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট হতে পারে না।
৭৪নং আয়াতে পাথরের তিনটি ক্রিয়া বর্ণিত হয়েছে : এক. পাথর থেকে বেশি পানি প্রসরণ। ২. কম পানির নিঃসরণ। এ দু’টি প্রভাব সবারই জানা। ৩. আল্লাহর ভয়ে নিচে গড়িয়ে পড়া। এ তৃতীয় ক্রিয়াটি কারও কারও অজানা থাকতে পারে। কারণ, পাথরের কোনোরূপ জ্ঞানও অনুভূতি নেই। কিন্তু জানা উচিত যে, ভয় করার জন্যে জ্ঞানের প্রয়োজন নেই। জন্তু-জানোয়ারদের জ্ঞান নেই, কিন্তু আমরা তাদের মধ্যে ভয়-ভীতি প্রত্যক্ষ করি। তবে চেতনার প্রয়োজন অবশ্য আছে। জড় পদার্থের মধ্যে এতোটুকু চেতনাও নেই বলে কেউ প্রমাণ দিতে পারবে না। কারণ, চেতনা প্রাণের উপর নির্ভরশীল। খুব সম্ভব জড় পদার্থের মধ্যে এমন সূক্ষ্ম প্রাণ আছে যা আমরা অনুভব করতে পারি না। উদাহরণত বহু প-িত মস্তিষ্কের চেতনাশক্তি অনুভব করতে পারেন না। তারা একমাত্র যুক্তির ভিত্তিতেই এর প্রবক্তা। সুতরাং ধারণাপ্রসূত প্রমাণাদির চাইতে কুরআনী আয়াতের যৌক্তিকতা কোনো অংশেই কম নয়।
এছাড়া আমরা এরূপ দাবিও করি না যে, পাথর সব সময় ভয়ের দরুণই নিচে গড়িয়ে পড়ে। কারণ, আল্লাহ তা’আলা ‘কতক পাথর’ বলেছেন। সুতরাং নিচে গড়িয়ে পড়ার অন্য আরও বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তন্মধ্যে একটি হলো আল্লাহর ভয়।
[চলবে]

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT