সম্পাদকীয়

গ্রামীণ উন্নয়নে এগিয়ে

প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-০৫-২০১৯ ইং ০০:১৫:৫২ | সংবাদটি ৯০ বার পঠিত

গ্রামীণ উন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। একটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে এই তথ্য। এটি হচ্ছে ‘গ্লোবাল ফুড পলিসি রিপোর্ট’। এতে বলা হয়, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ উন্নয়নে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে ওঠে এসেছে। তবে নানামুখী সংকট গ্রামীণ দারিদ্র্য ও ক্ষুধা নিবারণের ক্ষেত্রে হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকাতেও পরিবেশগত বিপর্যয়, কৃষির সমস্যা ও উদীয়মান তরুণদের কর্মসংস্থানের সংকট বিরাজমান। গ্রামীণ এই হুমকিসমূহ বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের গতিকে মন্থর করে দিয়েছে। এই সংকট মোকাবেলায় গ্রামকে পুনরুজ্জীবনের তাগিদ দেয়া হয়েছে এই প্রতিবেদনে। বিশেষ করে গ্রাম ও শহরের মধ্যকার উন্নয়ন বৈষম্য কমানোর জন্য নিবিড় উজ্জীবনীমূলক কর্মসূচি গ্রহণের ওপর জোর দেয়া হয়েছে।
গ্রামীণ উন্নয়নে এগিয়েছে বাংলাদেশ। সম্প্রতিক সময়ে এই বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। সরকার বলছে, বিদেশীরাও বলছে; বাংলাদেশের গ্রাম এগিয়ে যাচ্ছে। মানে গ্রামীণ উন্নতি হচ্ছে, গ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নততর হচ্ছে। আর বর্তমান সরকার তো গ্রামকে শহরে পরিবর্তিত করার ঘোষণাই দিয়েছে। সুতরাং আমরা আশাবাদী যে, গ্রামের দৃশ্য পাল্টে যাবে একদিন। কিন্তু বর্তমানে গ্রামের অবস্থা যে আহামরি পরিবর্তিত হয়ে গেছে, সেটা বলা যাবে না। উল্লিখিত রিপোর্টেই বলা হয়েছে, বাংলাদেশের গ্রামে নানান সমস্যা বিরাজ করছে। বেকারত্ব, পরিবেশ বিপর্যয় ও কৃষিতে নানা সমস্যা বিরাজ করছে। গ্রামে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে আগের তুলনায়। তবে এখনও অনেক পশ্চাৎপদ এলাকা রয়েছে যেখানে বাসিন্দারা রীতিমতো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বসবাস করছে। বিদুতের বিপ্লব ঘটেছে গ্রামীণ জনপদে; তবে ৫৯ ভাগ এলাকার বেশি বিদ্যুৎ পৌঁছেনি। আছে পরিবেশ এ স্যানিটেশন সংক্রান্ত সমস্যা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হার বাড়লেও নানা কারণে শিক্ষার হার বাড়ছে না আশানুরূপভাবে। কৃষিতে বিপ্লব ঘটেছে, এটা ঠিক তবে কৃষকেরা অনেক সময়ই পণ্যের উপযুক্ত মূল্য পায় না।
বাংলাদেশ স্বল্প আয়ের দেশ থেকে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। এই সাফল্য ধরে রাখতে হলে গ্রামীণ অগ্রগতির দিকেই জোর দিতে হবে বেশি। কারণ জনগোষ্ঠীর কমপক্ষে ৬০ শতাংশের বসবাস গ্রামে। গ্রামকে শহরে পরিণত করার প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে জরুরি ধাপগুলো হলো-টেকসই যোগাযোগ অবকাঠামো, বিদ্যুতায়ন, টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা, কৃষির যান্ত্রিকীকরণ, গুণগত ও কর্মমুখী শিক্ষার অগ্রগতি, কর্মসংস্থান, চিকিৎসা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ইত্যাদি। সব মিলিয়ে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে নাগরিক জীবনের সব অনুসঙ্গ তুলে দিতে পারলে তাদের শহরমুখী জন¯্রােত বন্ধ হবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT