উপ সম্পাদকীয়

আমার পরানও যাহা চায়

ইনাম চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ১৯-০৫-২০১৯ ইং ০০:৩০:১৯ | সংবাদটি ৮২ বার পঠিত

আমাদের দেশে ক্রমাগত উষ্ণতা বাড়ছে, সাথে রয়েছে দাবদাহ। সময়ের সাথে সেটি বাড়বে বৈ কমবেনা। নানা প্রচার মাধ্যম জানাচ্ছে (সংবাদচিত্রের মাধ্যমে) প্রকৃতিতে যে দাবদাহ এর ছোঁয়া লেগেছে। তাবৎ প্রাণিকূল ঠান্ডা জলপ্রবাহের উৎসস্থল বা জলাভূমিতে গা ভিজিয়ে নিচ্ছে। প্রাণের আকুতি একটু ঠান্ডার পরশ পাওয়া। আমাদের মতো সাধারণ মানুষ তো আর প্রাণীকূলের সঙ্গী হতে পারে না আপন দেহে ঠান্ডার পরশ লাগাতে, তাই বাধ্য হয়ে গরমে হাসফাস করা এবং ফলশ্রুতিতে এই নিবন্ধটির মাধ্যমে আপন অনুভূতির প্রকাশ ঘটানো। যতোই আমরা দারিদ্র্য দূরীকরণে আন্তরিক হই না কেন বা নানা অর্থনৈতিক নীতিমালা ঘোষণা করি না কেন বাস্তবে যে শ্রেণীটি দাবদাহের কবলে পড়ে প্রতিটি বছর হাসফাস করে থাকে তারা এইবারও একই অবস্থায় রয়েছে। যারা সরকারি বা প্রভাবশালীদের নেক নজরে রয়েছে তারা আছে মৌজমাস্তিতে। এদের অনেকের রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাহন আর তদনুরূপ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আরামগাহ।
আমরা সবাই বুঝি তীব্র দাবদাহ নিয়ন্ত্রণে সরকারি কোন প্রতিকার ব্যবস্থা নাই বা থাকাটা অবান্তর। জলাশয়, জলাধার, পুকুর প্রভৃতি যে অবস্থায় আছে সেগুলি রক্ষা করে প্রকৃতিতে শীতলতার ছোঁয়া দিতে পারে সরকারি ব্যবস্থাপনা। এ ব্যাপারে সরকার প্রণীত একটি কঠোর আইনও রয়েছে অর্থাৎ যে কোন মূল্যে এ সকল জলাধার বা এ জাতীয় জলাশয় রক্ষা করতে হবে এবং কোনভাবেই বুজিয়ে ফেলা যাবে না কিন্তু সেই আইনটি মানা হচ্ছে বলে মনে হয় না। সরকারি নথিপত্রে সকল জলাধারই রয়েছে যথাস্থানে কিন্তু বাস্তবে সেগুলিতে জলের বদলে রয়েছে বহুতল ভবনের অগুনতি অবস্থান। এই ভবনগুলি সারাদিন রৌদ্রতাপ টেনে নেয় আপন ইট কাঠ আর লৌহবর্ম আবৃত অবয়বে। যখন ঠান্ডা প্রবাহিত হওয়ার সময় তখনই সেটা বিচ্ছুরিত করে আপন শরীরে জমিয়ে রাখা উত্তাপ। দিবাবসানে যখন একটু স্বস্থির ছোঁয়া সবাই আশা করে তখন আকস্মিক আর অনাকাক্সিক্ষত উষ্ণতা সাধারণ মানুষকে করে দেয় অসহনীয় যাতনায় পাগলপারা। এ জাতীয় অবস্থা থেকে সকলেই পরিত্রাণ পেতে চায় যে কোন মূল্যে! কিন্তু কিভাবে!
আমাদের সিলেট মহানগরীতে যে তেরটি খাল, নালা, ছড়া, ঝোরা রয়েছে সেগুলিকে অবৈধ দখলমুক্ত করতে হবে ত্বরিত গতিতে। এগুলির দু’পাশ কংক্রীটের দেয়াল দ্বারা সুরক্ষিত করে দিতে হবে। যাতে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত না হয়। সে উদ্দেশ্যে এগুলিতে অর্বাচিন আর বিবেকহীন ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক ছুঁড়ে ফেলা বর্জ্য যাতে না পড়ে তার ব্যবস্থা করতে হবে স্থানীয়দের দ্বারা গঠিত নাগরিক কমিটি মারফত। এ সকল নাগরিক কমিটি নিজ এলাকার বৃহত্তর স্বার্থে, অবশ্যই আপন এলাকার পরিবেশ দুর্গন্ধমুক্ত, জলাবদ্ধতামুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে সকলেই সেটি করবেন। সবকিছুই সিসিক করবে বা কথায় কথায় স্থানীয় কাউন্সিলারকে দোষারোপ করতে হবে সেটি যেমন ঠিক নয় তেমনি নিজেকে সুনাগরিক ও দায়িত্ববান নগরবাসী হিসাবে প্রত্যেককেই আপন সত্ত্বার বিকাশ ঘটাতে হবে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশন নাগরিক সুবিধাদি নিশ্চিত করণে চেষ্টার ত্রুটি করছেন এমনটা বলতে পারিনা তারপরও স্থানীয় কাউন্সিলারদের অধীন নির্দিষ্ট সংখ্যক পরিচ্ছন্নতাকর্মী সার্বক্ষনিক নিয়োজিত থাকেন এবং নির্দিষ্ট হারে এদের জন্য প্রাত্যহিক বরাদ্দ থাকে। বাস্তবে এ সকল পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দেখা পাওয়া বেশ মুশকিল হয়ে পড়ে। নিশ্চয়ই এদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ নিয়মিত উত্তোলিত হয় কিন্তু কোথায় কিভাবে ব্যয়িত হয় সেটা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন অবশ্যই। সারা নগরব্যাপী ব্যাপক উন্নয়ন কর্ম সাধিত হচ্ছে। অস্বীকার করার উপায় নাই তেমনি দৃশ্যমানভাবে এই প্রতিষ্ঠানটির সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকেরই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দুষ্ট লোকেরা নানা কথা বলাবলি করে সত্য-মিথ্যা যাচাই না করেই। তারপরও এ ব্যাপারে দুদক জাতীয় সংস্থা বা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগকে এ ব্যাপারে সক্রিয় তৎপরতা দেখাতে হবে। কথাটি উল্লেখ করছি একটি বিশেষ কারণে। কয়েক বছর আগে সুবিদবাজার এলাকায় ব্লু-বার্ড স্কুল ও কলেজ সম্মুখের একটি নবনির্মিত রাস্তায় খোড়াখুড়ি করেছিলো দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে সন্দেহ করে। নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার, কাজের নি¤œমান আর বিলপ্রতি বাটোয়ারার হিসাব প্রভৃতি অভিযোগ তদন্তে নাকি নেমেছিল একটি সংস্থা। পরবর্তীতে কি হয়েছে বা কি সমাচার কোন কিছুই আর আলোর মুখ দেখে নাই। নগরবাসীর কষ্টার্জিত আয়ের অংশবিশেষ পৌর উন্নয়ন কর হিসাবে পরিশোধ করা হয়। সেই টাকা নয়ছয় হবে আর কোন ব্যবস্থা গৃহিত হবে না সেটাও মানা যায় না। সিসিক এর নির্বাচিত দায়িত্বশীলরা সহ কর্মকর্তা কর্মচারীদের অবশ্যই একটি পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি অর্জন করা আবশ্যক। সে হিসাবে পুরো সিসিক এর কর্মীবাহিনী, কর্মকর্তাবৃন্দ সহ জনপ্রতিনিধিবৃন্দ সকলকেই একটি পূর্বাপর তদন্তের (সার্বিক) আওতায় আনা উচিত। আমরা বিশ্বাস করি তারা সকলেই আন্তরিক, সৎ এবং পরিচ্ছন্ন চরিত্রের অধিকারী। নিশ্চয়ই তারা তাদের অর্জিত সহায়সম্পত্তির বিবরণ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সমর্পন করবেন না হক অপবাদ এর মুখোমুখি না হবার মানসে। আমাদের সিটি কর্পোরেশন এ এখন চলছে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ। একটি বিষয়ে আমি সিসিক কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করতে চাই। চলমান দাবদাহ বা আসন্ন শুল্ক মৌসুমে এই নগরীটি অবশ্যই অগ্নিকান্ডের ঝুঁকির মুখে পড়বে। নানা জায়গায় সেটি হতে পারে। চলমান উন্নয়ন কর্মে যাতে সরু গলিপথ সমূহে অগ্নি নির্বাপন কর্মে নিয়োজিত বাহনসমূহ প্রবেশ করতে পারে তদনুরূপ ব্যবস্থা রাখতে অনুরোধ জানাতে চাই। আপতকালীন সময়ে অগ্নি নির্বাপক বাহনগুলি যাতে জরুরি ভিত্তিতে জলসরবরাহ লাভ করতে পারে সে জন্য জল নির্গমন মুখ স্থাপন করা প্রয়োজন স্থানে স্থানে। পাশ্চাত্যে যেটাকে WATER HYDRANT বলা হয় সেটা অতি অবশ্যই যথাযথ স্থান সমূহে স্থাপন নিশ্চিত করতে হবে। একবার পানি শেষ হয়ে গেলে অগ্নি নির্বাপনকারীরা অসহায় বোধ করেন আবার পড়েন জনরোষের মুখে। সেই অতি জরুরি এবং পুরোপুরি মানবিক প্রয়োজনটি বিবেচনায় রেখে WATER HYDRANT সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে নগরীর সকল স্থানেই।
নগরীর কাজলশাহ এলাকায় বেলা দুই ঘটিকা থেকে জনচলাচল দূর্বিসহ হয়ে উঠে। এখানে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বেসরকারি চিকিৎসালয়। অসংখ্য চিকিৎসাপ্রার্থী আর অগুনতি যানবাহন পুরো রাস্তা জুড়ে ঠেক ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। নিশ্চয়ই ঠেকায় পড়ে এখানে তারা এসে থাকে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা বাহনগুলিকে নির্দিষ্ট দালানগুলির ভূ-নি¤œস্থ স্থানে রাখার ব্যবস্থা করা কাদের দায়িত্ব নিশ্চয়ই প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিরা সে সম্পর্কে সম্যক অবগত। তারপরেও সেটি হচ্ছেনা আবার জনস্বার্থ বিবেচনায় এগুলি সরানোর জন্য কোন পদক্ষেপও নেয়া হচ্ছে না। সিসিক এর এতো উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ এর মাঝে এই এলাকা অর্থাৎ সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ গেট থেকে একেবারে কুমারপাড়া মোড় পর্যন্ত একটি উড়াল সড়ক নির্মাণ এখন সময়ের দাবী। কোন কর্তৃপক্ষ সেই দাবীটি মেটাবে জানা নাই কিন্তু জনদুর্ভোগ লাঘবে সিসিক কর্তৃপক্ষ যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সেটা আমরা বিশ্বাস করি। মাননীয় মেয়র সাহেবকে এ ব্যাপারে (উড়াল সড়ক) আশু ব্যবস্থা গ্রহণ ও ত্বরীত কার্যসমাপনে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানাতে চাই।
অহরহ আমরা একদল অতিশয় রুগ্ন লোকসকলকে দেখি ঔষধপত্র কেনার জন্য সাহায্যপ্রার্থী হতে। আমার জানামতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এ সকল দুঃস্থ রোগীদের সাহায্যার্থে প্রতিবৎসর বিরাট অংকের বরাদ্দ রেখে থাকে। সিওমেক হাসপাতালে তাদের একজন কর্মকর্তা সার্বক্ষণিক দায়িত্বপালনে রত থাকেন বলে জানি। নিছক প্রচার এর অভাবে আর্ত মানুষরা সে সম্পর্কে অবগত না থাকায় বিনা চিকিৎসায় বা ঔষধপত্রের অভাবে ভোগান্তিতে পড়ে। এ ব্যাপারে ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহবান জানাতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ জাতীয় মানবিক ব্যাপারে আপোষহীন। আশা করি বিহিত ব্যবস্থা গৃহিত হবে অচিরেই। মৎপরোনাস্তি।
লেখক : অধ্যক্ষ, কলামিস্ট।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি
  • বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশের বাস্তবতা
  • ভারতের জাতীয় উন্নয়ন ও ভারত মহাসাগর
  • জীবনে শৃঙ্খলাবোধের প্রয়োজনীয়তা
  • চলুক গাড়ি বিআরটিসি
  • জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি মোকাবেলায় আমাদের করণীয়
  • নির্ধারিত রিক্সাভাড়া কার্যকর হোক
  • নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা
  • খাদ্যে ভেজাল রোধে জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে
  • মুর্তাজা তুমি জেগে রও!
  • সন্তানের জীবনে বাবার অবদান
  • এবার কুম্ভকর্ণের নিদ্রা ভংগ হোক
  • বন উন্নয়নে মনোযোগ বাড়ুক
  • একজন অধ্যক্ষের কিছু অবিস্মরণীয় প্রসঙ্গ
  • গ্রামাঞ্চলে বৃক্ষ রোপণ
  • শান্তির জন্য চাই মনুষ্যত্বের জাগরণ
  • উন্নয়ন ও জনপ্রত্যাশা পূরণের বাজেট চাই
  • মোদীর বিজয় : আমাদের ভাবনা
  • অধিক ফসলের স্বার্থে
  • টেকসই উন্নয়ন ও অভিবাসন সমস্যা ও সমাধানে করণীয়
  • Developed by: Sparkle IT