সম্পাদকীয়

ভরাট হচ্ছে জলাশয়

প্রকাশিত হয়েছে: ১৯-০৫-২০১৯ ইং ০০:৩২:০৯ | সংবাদটি ৯৫ বার পঠিত

দেশে জলাশয় ভরাট হচ্ছে বছরে ৪২ হাজার একর। এই তথ্য ওঠে এসেছে একটি বেসরকারী সংস্থা পরিচালিত গবেষণায়। ১৯৯৯ থেকে ২০১০ পর্যন্ত সময়ের ওপর এই গবেষণা পরিচালনা করা হয়। আমাদের জলাশয় বা জলাভূমি হারিয়ে যাচ্ছে। একদিকে কৃষি জমি কমছে, অপরদিকে ভরাট হচ্ছে জলাশয়গুলো। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশে জলাভূমি কমেছে কমপক্ষে ৭০ ভাগ। ১৯৭১ সালে দেশে জলাভূমি ছিলো ৯৩ লাখ হেক্টর। বর্তমানে এর পরিমাণ ২৮ লাখ হেক্টরের কম।
সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, আমাদের সংবিধানে দেশে কৃষিজমি, বনভূমি, বসতবাড়ি ছাড়া কোন জলাভূমির উল্লেখ নেই। ফলে বিদ্যমান জলাভূমি নিয়ে কোন জটিলতা দেখা দিলেও কোন আইনী সহায়তা পাওয়া যায় না। তাছাড়া সংবিধানে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ না থাকায় এই জলাভূমি বেদখল করাও সহজ হয়ে পড়েছে। আর প্রভাবশালীরা একে একে দখল করে নিচ্ছে জলাভূমি।
দেশে জমি রয়েছে তিন কোটি ৭৪ লাখ একর। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ কৃষিজমি। আর কৃষিজমির মধ্যে এক কোটি ৩০ লাখ একর ব্যক্তি মালিকানায়। এক কোটি একর জমি ব্যবহৃত হচ্ছে সরকারী কাজে। চিহ্নিত খাস জমির পরিমাণ ৫০ লাখ একর। অর্পিত সম্পত্তি ২১ লাখ একর এবং পরিত্যক্ত সম্পত্তি দশ লাখ একর। এই খাস জলা ও জমির বেশীর ভাগই রয়েছে প্রভাবশালীদের দখলে। বারবার সরকারী নীতির পরিবর্তন জলাভূমি সংকুচিত হওয়াকে ত্বরান্বিত করছে বলে অনেকের অভিমত। উল্লেখ করা যেতে পারে বাংলাদেশ ১৯৫১ সালের ইন্টারন্যাশনাল প্লান্ট প্রোটেকশন কনভেনশন থেকে ১৯৯২ সালের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত কনভেনশন এবং সর্বশেষ ধরিত্রী সম্মেলন পর্যন্ত অনেক আন্তর্জাতিক চুক্তি ও বিধিতে স্বাক্ষর করেছে। কিন্তু দেশের জলাভূমি রক্ষা করে পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি এপর্যন্ত। যে কারণে প্রতিনিয়ত হ্রাস পাচ্ছে জলাভূমি। পরিবেশ বিপর্যয় ঘটেছে, মৎস্য উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তাছাড়া, জলাশয়, ডোবা গ্রামীণ জনপদের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য সৃষ্টিকর্তার অপরূপ সৃষ্টি। শহরাঞ্চলেও একসময় জলাশয় বা জলাভূমি ছিলো প্রচুর। যা বর্তমানে ধ্বংস হয়ে গেছে।
জলাভূমি ভরাট হচ্ছে ময়লা আবর্জনা আর পলি জমে। অপরদিকে জবরদখল হচ্ছে এগুলো। জলাভূমি ভরাট করে নির্মিত হচ্ছে আবাসন, দোকানপাট, বিপণী ভবন। অবাধে কৃষি জমি অকৃষি খাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে অচিরেই আমাদের কৃষি উৎপাদনে বিপর্যয় নেমে আসবে। কিন্তু এব্যাপারে সরকারের নেই কোন মাথা ব্যথা। ইতোপূর্বে বিভিন্ন সময় ভূমি ব্যবহার নীতিমালা কিংবা কৃষিজমি অকৃষি খাতে ব্যবহার বন্ধে আইন করার কথা শোনা যায়। কিন্তু তার কোন বাস্তব প্রয়োগ নেই এখন পর্যন্ত।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT