সম্পাদকীয় তোমার আবেদন আল্লাহ তায়ালা মঞ্জুর করবেন, অন্তরে এরূপ দৃঢ় বিশ্বাস রেখে তার কাছে প্রার্থনা করো। -আল হাদিস

কীটনাশকে ধ্বংস ফসল

প্রকাশিত হয়েছে: ২০-০৫-২০১৯ ইং ০০:৪১:৪৬ | সংবাদটি ১৭৭ বার পঠিত

কীটনাশকে ধংস হচ্ছে ফসল। যদিও কৃষক জমিতে ভালো ফলনের জন্য কীটনাশক ব্যবহার করে; কিন্তু অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহারে ফসলের উল্টো ক্ষতি হচ্ছে, ক্ষতি হচ্ছে জনস্বাস্থ্যের। দেশে ব্যবহৃত কীটনাশকের মধ্যে কয়েকটি অতি উচ্চমাত্রায় বিষাক্ত যেগুলো মানুষ ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এই ধরনের কীটনাশকের সংখ্য নয় থেকে ১৮টি। শিল্পোন্নত বিভিন্ন দেশে এই ধরনের বালাইনাশক নিষিদ্ধ হলেও বাংলাদেশে এর অনেকগুলো বিদ্যমান রয়েছে। ইউরোপসহ উন্নত বিশ্বে লাল তালিকাভুক্ত চরম বিষাক্ত কীটনাশক নিষিদ্ধ। কিন্তু আমাদের দেশে বহুজাতিক কোম্পানীগুলো অধিক মুনাফার আশায় এসব অতি ক্ষতিকর কীটনাশক আমদানী ও বাজারজাত করছে। এসব কীটনাশক ব্যবহার করায় উপকারী ও অপকারী দু’ধরনের কীটপতঙ্গ মরছে। ধ্বংস হচ্ছে মৎস্য সম্পদ, সাপ, ব্যাঙ ইত্যাদি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে এসব প্রাণীকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। জীবজগতের খাদ্যশৃঙ্খলে এরা একে অপরের ওপর নির্ভরশীল।
কীটপতঙ্গ প্রাকৃতিক সম্পদ। এগুলো প্রতিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে। কীটপতঙ্গের মধ্যে উপকারী ও অপকারী দুই ধরনের কীটপতঙ্গ রয়েছে। উপকারী কীটপতঙ্গ পরাগায়নে সাহায্য করে। এগুলো মানুষের জন্য খাদ্য, বস্ত্র ও বসতি তৈরীর কাজে সাহায্য করে। অনেকগুলো কীটপতঙ্গ রয়েছে, যা মানুষের জন্য ক্ষতিকর। ফসলের জমি, শকসবজি বা অন্যান্য বৃক্ষ সম্পদের জন্য ক্ষতিকর অনেক কীটপতঙ্গ রয়েছে। এগুলো প্রতি বছরই বিপুল পরিমাণ ফসল নষ্ট করছে। জানা গেছে, বিগত ১৮ শতকের মাঝামাঝি থেকে মানুষ ক্ষতিকর কীটনাশক সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে। ফলে তারা কীটপতঙ্গ দমনের নানা উপায় খুঁজতে থাকে। প্রাথমিকভাবে দেশীয় বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় কীটপতঙ্গ দমনে। পরবর্তীতে আবিস্কৃত হয় রাসায়নিক কীটনাশক। বিশেষ করে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কীটনাশক তৈরী ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটে। ফলে জমিতে ব্যাপকহারে ব্যবহৃত হতে থাকে নানা ধরনের কীটনাশক। এক পর্যায়ে এই কীটনাশকের ক্ষতিকর দিকগুলো উন্মোচিত হয়। কিন্তু কৃষক সাধারণত এখন প্রায় নির্ভরশীল হয়ে ওঠেছে কীটনাশকের ওপর।
আমাদের দেশে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ কীটনাশক আমদানী হচ্ছে। বছরে ৩৫ থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন কীটনাশক আমদানী হচ্ছে। এর বাইরে চোরাই পথেও আসছে ক্ষতিকর কীটনাশক। গত শতাব্দীর মাঝামাঝিতে কীটনাশক আমদানী শুরু হওয়ার পর থেকে প্রথম পর্যায়ে এখানে ভর্তুকি দিতো সরকার। পরবর্তীতে ভর্তুকি তুলে নেয়া হয় এবং বেসরকারী পর্যায়ে আমদানী শুরু হয়। ফলে ক্ষতিকর রাসায়নিক কীটনাশকের ওপর নির্ভরশীলতা আশংকাজনক পর্যায়ে চলে আসে। এখন উপলব্ধির সময় এসেছে যে, ফসল ধংসকারী কীটপতঙ্গ দমনে যে রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে তা জনস্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভয়ানক ক্ষতি করছে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT