উপ সম্পাদকীয়

নগরীর দৃশ্যমান সমস্যা ও প্রতিকার প্রসঙ্গে

বেলাল আহমদ চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ২২-০৫-২০১৯ ইং ০০:০৫:৫৯ | সংবাদটি ৮৯ বার পঠিত

প্রত্যেক যুগের প্রজন্মকে তাদের নিজস্ব কাজ করতে হয় নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী। প্রয়োজন আবিষ্কারের জননী স্বরূপ। প্রয়োজন যদি সত্যই হয়, তাহলে বিরূপ চাপ সহ্য করতে হবে। প্রয়োজনের খাতিরে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত মানুষকে নিতে হয়। ডায়েট্রেচ বলফোর বলেছেন-কর্মোদ্দ্যোগ চিন্তা থেকে যতটা উৎসারিত হয়, তার চেয়ে বেশি উৎসারিত হয় দায়িত্বশীলতা থেকে। সিলেট মহানগরকে নতুন আঙ্গিকে সাজানোর দুর্বার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) কর্তৃপক্ষ। একজন নাগরিক হিসেবে মহানগরের মানবসৃষ্ট দৃশ্যমান সমস্যা ও প্রতিকার প্রসঙ্গে কতিপয় জনগুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ উপস্থাপন করছি :
১. যানজট ও মানবজট মুক্ত মহানগরী গড়ার লক্ষে সড়ক উন্নীত করা হলেও পথচারির দুর্ভোগ ও ভোগান্তি কমেনি। সিলেট সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ মহানগরের সমস্যা হিসেবে সড়ক সংস্কার ইনক্লুসিভ হিসেবে হাতে নিয়েছেন, তারই ধারাবাহিকতায় মহানগরের সর্বত্র উন্নয়ন প্রকল্প জোরদারভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তিবিদ্যায় পথ বা ওয়ে (Way) বলতে এমন এক সুনির্দিষ্ট স্থানকে বুঝায় যার উপর দিয়ে বিধিসম্মত ও সুনিয়ন্ত্রিত ভাবে মানুষের পদযাত্রা আইনসম্মত ভাবে প্রতিষ্ঠিত। সিটি কর্পোরেশন দূরদর্শীতার সাথে নগরের পুঞ্জিভূত সমস্যা সনাক্ত করে সড়ক প্রশস্ত করার লক্ষে সম্প্রতি রাস্তার উভয় পাশের্^র ড্রেন নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ করে সø্যাব বসিয়ে দিচ্ছেন, উদ্দেশ্য সড়কপৃষ্ঠের পানির অপসারণ এবং মানুষের পদযাত্রা সহজকরণ। কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হয় মহানগরের সø্যাবের দখল চলে গেছে সব ধরনের দোকান মালিকদের দখলে। এমনকি মিনি হোটেল ও ট্রি-স্টল মালিকরা সø্যাবের উপর সিলিন্ডার চুলা বসিয়ে তেল, নুন ঝাল দিয়ে মুখরোচক খাবার তৈরি করে নিচ্ছেন। এভাবে ফুটপাতের উপর দিয়ে পথচলাকে বিপদজনক করে তুলেছেন। একজন পথচারী হিসেবে শুধু আক্ষেপ করে বলতে হয়Ñফুটপাত তুমি কার? জনগণের জন্য ফুটপাত মুক্ত রাখার লক্ষে সিসিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান চালাতে এবং মাইকিং-এর মাধ্যমে ফুটপাত মুক্ত রাখার অভিযান অব্যাহত রাখবেন। ফুটপাত মুক্ত না হলে সিসিকের দৃশ্যমান উন্নয়ন নজর কাড়বে না। কাজেই সিসিক অচিরেই এতদ্বিষয়ে শক্তভাবে ব্যবস্থা নিবেন বলে জনগণ প্রত্যাশা করেন।
স্থায়ীভাবে ফুটপাত মুক্ত রাখার জন্য প্রত্যেক ওয়ার্ড কাউন্সিলরের পক্ষ থেকে নিজ নিজ ওয়ার্ডের জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কে আউট সোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল নিয়োগ দিয়ে রাস্তা ও ফুটপাত অপদখল এবং উচ্ছেদে সর্বদা পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে চলমান প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা নিলে কর্তৃপক্ষকে অহেতুক বারবার ভোগান্তিতে পড়তে হবে না।
২. সিলেট মহানগরের হৃৎপি- বন্দরবাজার। বন্দরবাজারের দক্ষিণে ব্রহ্মময়ী কাঁচাবাজার, মধ্যে হাসান মার্কেট, তদ্উত্তরে রাস্তা সংলগ্ন লালবাজার মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতি মার্কেট। লক্ষ করলে দেখা যাবে বাটা সু-কোম্পানির শো-রুমের সম্মুখস্থ রাস্তা গার্মেন্টের পোশাক ব্যবসায়ী, জুতা, সেন্ডেল ও সিগারেট ব্যবসায়ী ঢালি নিয়ে পশরা সাজিয়ে রাস্তা দখল করে বসে আছেন। লালবাজার মৎস্য ব্যবসায়ী মার্কেটের সম্মুখস্থ রাস্তার ব্যবসায়ীরা কাঁচা বাজার বসিয়ে রাস্তার বৃহদাংশ স্থায়ীভাবে দখল করে নিয়েছেন। এতদ্ব্যতিত হাসান মার্কেটের ১, ২, ৩ ও ৪নং গেইটের দোকানের বহিরাংশে হেঁটে চলার পথগুলো দোকান মালিকদের মালামালে ঢাকা পড়েছে।
রাস্তা মুক্ত রাখার জন্য সিসিক কর্তৃপক্ষ বর্ণিত স্থানসমূহে এসএসপাইপ (S.S.Pipe) দ্বারা বেষ্টনী করে রাখেন তাহলে দৃশ্যমান সুফল পথচারীর নজরে পড়বে। ফলশ্রুতিতে যানজট ও মানবজট লাঘব হবে।
৩. জনবহুল রাস্তার পূর্ব পাড়ে হাফিজ কমিউনিটি সেন্টার এবং পশ্চিম দিকে বঙ্গবীর ওসমানী শিশু উদ্যান। উল্লেখিত স্থানটি মহানগরের পূর্ব-দক্ষিণ অংশের আগমন ও বর্হিগমন (Entrance and Exit) পয়েন্ট। বিধায় বর্ণিত স্থানে একটি ট্রাফিক পয়েন্টের আবশ্যকীয়তা রয়েছে। বর্ণিত স্থানে ট্রাফিক পয়েন্ট নির্ধারণ হলে সোবহানী ঘাট ও নাইওরপুল ট্রাফিক পয়েন্টে গাড়ি জ্যাম অনেকটা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণাধীনে থাকবে। এতদ্বিষয়ে সিসিক কর্তৃপক্ষকে জনস্বার্থে মহানগরে পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের সাথে পরামর্শক্রমে একটি ট্রাফিক পয়েন্ট স্থাপনের ব্যবস্থা নিলে যানজট ও মানবজট নিরসনে সহায়ক হবে বলে ভুক্তভোগীরা মনে করেন।
৪. যানজট সমস্যা ও প্রতিকার বিষয়ক একটি নিবন্ধ দৈনিক সিলেটের ডাকে ইতিপূর্বে প্রকাশিত হয়েছিল। ফলশ্রুতিতে লালদিঘীর পাড় রাস্তা দিয়ে যেসব গাড়ি ইউটার্ন নিয়ে করিম উল্লাহ মার্কেটের সম্মুখ দিয়ে পূর্বমুখী চলাচল করতো তা বন্ধ রাখা হয়েছিল। কিন্তু বিগত কয়েক মাস থেকে পুনরায় ইউটার্ন দিয়ে গাড়ি চলাচল শুরু হয়েছে। এতে করে জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। জনস্বার্থে ইউটার্ন বন্ধ করার ব্যবস্থা নিলে যানজট ও মানবজটের নিরসন হবে। এতদবিষয়ে সিসিক জনস্বার্থে বিষয়টি পুনঃবিবেচনা করলে বর্ণিত স্থানে যানজট ও মানবজট মুক্ত হবে।
৫. সিলেট ডেপুটি কমিশনার অফিসের সম্মুখস্থ জিরো পয়েন্ট থেকে চৌহাট্টা পুলিশ পয়েন্ট এবং বারুতখানা চৌরাস্তা থেকে পশ্চিমমুখী জল্লারপার রোড পর্যন্ত রাস্তা দুটি দুপুর ২টা থেকে রাত্রি ১০টা পর্যন্ত সব ধরনের যানবাহন চলাচল পরীক্ষামূলক বন্ধ রাখার ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এতে করে মহানগরের সর্বত্র ছড়িয়েÑছিটিয়ে থাকা ভ্রাম্যমাণ হকারগণ বর্ণিত রাস্তায় বসে তাদের পরিবাহিত মালামাল বিক্রয় করার সুযোগ পাবে। ফলশ্রুতিতে মহানগরের সর্বত্র ফুটপাত দখল মুক্ত থাকবে।
৬. সিলেট মহানগরের মিরাবাজারবাসী এবং পথচারীকে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে বর্জ্য দুষণে। মিরাবাজার সড়কে বর্জ্য ফেলা মানুষের সচেতনতার অভাবে না অনিচ্ছাকৃতভাবে কর্মটি হচ্ছে তা রীতিমত আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিলেট তামাবিল বিশ^ রোডের মিরাবাজার এলাকায় রাস্তার উপরে বর্জ্য ফেলার উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করতে সিসিক কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
৭. কথায় আছে বাড়ির শোভা উঠোন, দেশের শোভা নগর। সিটি কর্পোরেশনের নির্দিষ্ট জায়গায় পশু জবাই করার আদেশ থাকলেও ইদানীং মহানগরের বিভিন্ন স্থানে মাংসের দোকানের অভ্যন্তরে গরু, ছাগল, বেড়া জবেহ করা হয়ে থাকে। এতে করে পশুর রক্ত, ভূড়ি বাতাসে গন্ধ ছড়ায় এবং উন্মুক্তভাবে মাংসগুলো টাঙ্গিয়ে রাখা হয়। এতে করে মাংসগুলোতে ধূলাবালি ও মাছি দ্বারা বিভিন্ন রোগের ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া দ্বারা রোগ জীবাণু ছড়ায় এবং দৃশ্যমান রুচিবোধে বিঘœ ঘটায়।
সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই করে মাংসগুলো কাঁচের গ্লাসের আড়ালে রাখার ব্যবস্থা নেওয়ার আদেশ জারী করতে হবে। তাছাড়া লক্ষ করা গিয়েছে যে, বিভিন্ন সড়কের পাশের্^ হাঁস, মোরগ, গরু-ছাগলের দোকান মালিকরা দোকানের সম্মুখস্থ পুরো ফুটপাতই জীবন্ত ভাগাড়ে পরিণত করেছেন। সিটি কর্পোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানার ব্যবস্থা নিলে ফুটপাত মুক্ত হবে। এতে করে দৃশ্যমান পরিবেশ ব্যবস্থায় (Promoted) উন্নীত হবে এবং সিটি কর্পোরেশনের দৃশ্যমান প্রতিশ্রুতিশীল কর্মতৎপরতার সুফল নগরবাসীর নজর কাড়বে।
লেখক : কলামিস্ট।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ভারতের জাতীয় উন্নয়ন ও ভারত মহাসাগর
  • জীবনে শৃঙ্খলাবোধের প্রয়োজনীয়তা
  • চলুক গাড়ি বিআরটিসি
  • জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি মোকাবেলায় আমাদের করণীয়
  • নির্ধারিত রিক্সাভাড়া কার্যকর হোক
  • নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা
  • খাদ্যে ভেজাল রোধে জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে
  • মুর্তাজা তুমি জেগে রও!
  • সন্তানের জীবনে বাবার অবদান
  • এবার কুম্ভকর্ণের নিদ্রা ভংগ হোক
  • বন উন্নয়নে মনোযোগ বাড়ুক
  • একজন অধ্যক্ষের কিছু অবিস্মরণীয় প্রসঙ্গ
  • গ্রামাঞ্চলে বৃক্ষ রোপণ
  • শান্তির জন্য চাই মনুষ্যত্বের জাগরণ
  • উন্নয়ন ও জনপ্রত্যাশা পূরণের বাজেট চাই
  • মোদীর বিজয় : আমাদের ভাবনা
  • অধিক ফসলের স্বার্থে
  • টেকসই উন্নয়ন ও অভিবাসন সমস্যা ও সমাধানে করণীয়
  • সড়ক দুর্ঘটনা
  • চীনের বিশ্বশক্তির প্রত্যাশা ও ভারত মহাসাগর
  • Developed by: Sparkle IT