সম্পাদকীয়

অগ্নি দুর্ঘটনা রোধে

প্রকাশিত হয়েছে: ২৩-০৫-২০১৯ ইং ০০:৩৫:০৮ | সংবাদটি ৮১ বার পঠিত


অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে প্রায় ২০ হাজার এক বছরে। গত বছর (২০১৮) সারাদেশে অগ্নিকান্ড ঘটেছে ১৯ হাজার ছয়শ’ ৪২টি। এর মধ্যে সাত হাজার আটশ ২৫টিই ঘটেছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কারণে। এর পরিসংখ্যান খোদ ফায়ার সার্ভিস বিভাগেরই। এর বাইরেও অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার খবর ফায়ার সার্ভিস-এর কাছে আসে না। ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের বরাত দিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে এই সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হয় সম্প্রতি। এতে বলা হয়, চলতি বছর এ পর্যন্ত সারাদেশে দুই হাজারের বেশি অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ দুর্ঘটনার জনই দায়ী বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট। আর এই বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণ হচ্ছে ভবন নির্মাণে নকল বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার করা। আর বাজারে এখন আগের চেয়ে নকল বৈদ্যুতিক তারের ছড়াছড়ি।
সাম্প্রতিককালে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হয়েছে বেশ কয়েকটি ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা। এতে জানমালের বিস্তর ক্ষতি হয়েছে। অগ্নিকান্ডের এই ঘটনাগুলো যে নতুন, তা নয়। আগেও ঘটেছে অগ্নিকান্ড। তবে সাম্প্রতিক সময়ের মতো এতো বেশি মাত্রার ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে অতীতে কমই। অগ্নিকান্ডের ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করে তোলার নানা ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তারপরও ঠেকানো যাচ্ছে না এই দুর্ঘটনা। সত্যি বলতে কি, দিনে দিনে মানুষের জীবনযাত্রা যতোই সহজতর হচ্ছে, ততোই যেন জীবনধারনের চ্যালেঞ্জ বাড়ছে, মানুষের জীবনযাত্রা সহজতর করার জন্যই বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদির ব্যবহার বাড়ছে, জ্বালানী গ্যাস এর ব্যবহার বাড়ছে, বাড়ছে গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহার। আর ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, ত্রুটিপূর্ণ গ্যাস লাইন ও গ্যাস সিলিন্ডারের কারণে ভয়াবহ অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটছে। ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের উল্লিখিত প্রতিবেদনে অগ্নি দুর্ঘটনার আরও কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-চুলার আগুন থেকে সাড়ে তিন হাজার, সিগারেটের টুকরা থেকে তিন হাজারের বেশি দুর্ঘটনা।
গত এক দশকে সারাদেশে অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটেছে এক লাখ ৬৮ হাজার। এতে নিহত হয়েছেন দেড় হাজার মানুষ; আহত হয়েছেন সাত হাজার। সরকারি-বেসরকারি অনেক ভবন, শিল্পকারখানা এখন অগ্নিকান্ডের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দেশের ৯৮ শতাংশ হাসপাতালই রয়েছে ঝুঁকিতে। তাই অগ্নি দুর্ঘটনা রোধে সবচেয়ে বেশি সতর্ক হতে হবে সরকারকেই। সচেতন হতে হবে জনসাধারণকেও। ভবন নির্মাণে ব্যবহার করতে হবে উন্নতমানের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। তাছাড়া, মাঝে মধ্যে বৈদ্যুতিক লাইন ও অন্যান্য সরঞ্জাম পরীক্ষা নিরীক্ষার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে জরুরি হচ্ছে সিগারেট-বিড়ির জ্বলন্ত অংশ ছুড়ে ফেলা, মশার কয়েল জ্বালানো কিংবা গ্যাস লাইন, গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার এইসব ব্যাপারে সর্বাত্মক সতর্কতা।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT