সম্পাদকীয় সম্পদ সঠিকভাবে নিয়োগ করলে তা এক রহমত এবং সদুপায়ে এর বৃদ্ধির উদ্যম মানুষের জন্য বৈধ। -আল হাদিস।

দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারদের তালিকা

প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০৫-২০১৯ ইং ০১:৫২:২৩ | সংবাদটি ১৩৬ বার পঠিত

দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারদের তালিকা হচ্ছে। মানসম্মতভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য স্বচ্ছ ও দক্ষ ঠিকাদার নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আর গত পাঁচ বছরে মানহীনভাবে বাস্তবাতিয় প্রকল্পের ঠিকাদারদের কালো তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। মূলত যেসব ঠিকাদার দুর্নীতিবাজ ও অদক্ষ, তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। এর অংশ হিসেবে বিগত সরকারের (২০১৪-২০১৮) মেয়াদে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, সেগুলোর ঠিকাদারদের বিস্তারিত তথ্য নিচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। সম্প্রতি সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থায় চিঠি দিয়ে গত পাঁচ বছর বাস্তবায়ন হয়েছে, এমন সব প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। যেসব তথ্য চাওয়া হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে প্রকল্পের ব্যয়, অগ্রগতি, প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত ঠিকাদার ইত্যাদি। সেই সঙ্গে প্রকল্পের গুণগত মান বিষয়ে বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা সংস্থার প্রধানদের মতামত দিতে বলা হয়েছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে মানহীনভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে সরকারী বিভিন্ন প্রকল্প। এই ধরণের অভিযোগ সর্বমহলের। এর প্রেক্ষিতেই সরকার দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করতে এই উদ্যোগ নিয়েছে।
সরকারী উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি হবে না, লুটপাট হবে না। এমনটি যেন স্বপ্নেই কল্পনা করা যায় না। যুগ যুগ ধরে চলে আসছে এই দুর্নীতি। প্রকল্প গ্রহণ থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত সকল ধাপেই দুর্নীতি হচ্ছে।
এই দুর্নীতির কারণে বেশির ভাগ প্রকল্পই বাস্তবায়িত হয় মানহীনভাবে। যে কারণে নির্মিত ভবন কিংবা রাস্তাঘাটের স্থায়ীত্ব হয় অল্প। দেখা যায় নির্মাণের কিছুদিনের মধ্যেই ভেঙ্গে যাচ্ছে অবকাঠামো বা রাস্তাঘাট। অপরদিকে প্রকল্পের নামে বরাদ্দ অর্থের মোটা অংশ ঢুকছে দুর্নীতিবাজ সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারদের পকেটে। এরা হয়ে উঠছে রাতারাতি বড় লোক। সত্যি বলতে কি, দুর্নীতিবাজ সরকারী কর্মকর্তা আর ঠিকাদার মিলে গড়ে ওঠেছে একটি চক্র। যারা মিলেমিশে সরকারী সম্পদ লুটপাট করছে। সরকার এই চক্রকে চিহ্নিত করতেই সাম্প্রতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কিন্তু একটি বিষয় খুবই জরুরী। ভুক্তভোগীরা বলেন, সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে উপর থেকে নীচ পর্যন্ত চাকরিজীবিদের বেশিরভাগই দুর্নীতিগ্রস্ত। সেই হিসেবে বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত যেসব কর্মকর্তার কাছে বাস্তবায়িত প্রকল্পের তথ্য, ঠিকাদারের তথ্য চাওয়া হয়েছে তারা নিজেরাই দুর্নীতিবাজ, প্রকল্পের অর্থ লুটপাটে তারাও জড়িত। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, প্রকল্পের অর্থ লুটপাটে জড়িত একজন কর্মকর্তা কি দুর্নীতির সঠিক তথ্য জানাবে উর্ধতন দপ্তরে? তারা যেনতেনভাবে ভুল তথ্য সংবলিত একটি প্রতিবেদন দাখিল করে নিজে এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে বাঁচাতেই চাইবে।
তারপরেও আমরা আশায় থাকতে চাই। দুর্নীতির মাধ্যমে বাস্তবায়িত মানহীন প্রকল্পগুলো চিহ্নিত হোক, চিহ্নিত হোক সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার। আমরা চাই শুধু ঠিকাদার নয়, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীও চিহ্নিত হোক। কারণ সরকারী অর্থ লুটে জড়িত শুধু ঠিকাদার নয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও। সাজা হলে উভয়েরই হওয়া উচিত। আর সরকার তো দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিও ছিলো দুর্নীতি নির্মূল করার। সরকার প্রধান থেকে শুরু করে সরকারের প্রভাবশালী অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ দুর্নীতি দমনের ঘোষণা পুনব্যক্ত করছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের এই অবস্থান আরও দৃঢ় হোক।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT