উপ সম্পাদকীয়

নিরাপদ পানির বিকল্প নেই

জাহিদুল ইসলাম খন্দকার প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০৫-২০১৯ ইং ০১:৫৪:১৫ | সংবাদটি ১৩৩ বার পঠিত

১৬০ মিলিয়ন মানুষের বসবাস এ দেশে। আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যা অত্যধিক হওয়ায় সমস্যার কোনো সীমা নেই এদেশে। কিন্তু সমস্যার জগদ্দল পাথর ছাপিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে নব উদ্যমে। তথাপিও সমস্যা থেকে বের হবার পথ নেই। কেননা জীবন মানেই সমস্যা আর সমস্যাই জীবন।
জীবের জীবনীশক্তির একটা প্রধান নিয়ামক হচ্ছে পানি। প্রচলিত একটি বাক্যই তার যথার্থতা নিরূপণ করে। বাক্যটি হলো- ‘পানির অপর নাম জীবন।’ কিন্তু সেই পানিই প্রাণ সংহারের কারণ হয় যদি তা বিশুদ্ধ না হয়। জয়েন্ট মনিটরিং রিপোর্ট ২০১৭ অনুযায়ী এদেশের ৫৬ ভাগ মানুষ নিরাপদ পানি পাচ্ছে। বাকি ৪৪ শতাংশ অর্থাৎ অর্ধেক জনগোষ্ঠীই বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছে।
বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকা, চর এলাকা, বিল ও হাওর এলাকা, শহুরে বস্তি এবং ফুটপাতের পার্শ্ববর্তী পানির উৎসগুলোতে নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা রীতিমত চ্যালেঞ্জস্বরূপ। দূষিত পানির সর্বব্যাপিতা উদ্বেগের একটি ভয়ানক কারণ। কেননা এ থেকে নানান পানিবাহিত জটিল রোগের উত্থান ঘটে। যেমন কলেরা, ডায়রিয়া, হেপাটাইটিস, পোলিও, চর্মরোগ প্রভৃতি।
২০ মিলিয়ন মানুষ আর্সেনিক ঝুঁকিতে রয়েছে। শহর অঞ্চলের পানি দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে পানির পরিবহন অব্যস্থাপনা এবং কলকারখানার বর্জ্য। এ সমস্ত বর্জ্য বিভিন্ন নদীতে অবমুক্ত করা হয়। ফলে পানি দূষিত হয় এবং এদেশের মৎস্য সম্পদও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর পানি কালসিটে বর্ণের হয়ে গেছে। পানি থেকে এমন কুৎসিত গন্ধ নির্গত হয় যেন এটি ময়লার ভাগাড়।
১৯৯০ সালে এদেশের ৩৪ শতাংশ মানুষ বাইরে মলত্যাগ করত। সরকারের শক্তিশালী ভূমিকা, বিভিন্ন উন্নয়নকামী সংস্থাগুলোর ব্যাপক প্রচারণা এবং স্থানীয় সরকারের সক্রিয় ভূমিকায় এটি ২০১৭ সালে শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। এখনো বিশ্বের ১২ শতাংশ মানুষ বাইরে মলত্যাগ করে। বিশেষ করে আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী দেশ ভারতে এর ভয়াবহতা প্রকট। বিবিসির রিপোর্ট অনুসারে ২০১৪ সালে ভারতের ৬০ কোটি মানুষ বাইরে মলত্যাগ করত।
ক্রমশ পানির স্তরও নিম্নমুখী হচ্ছে। ঢাকায় প্রতিবছর পানির স্তর ৩ মিটার এবং সমগ্র বাংলাদেশে গড়ে ৫০-১০০ সেন্টিমিটার নিচে নেমে যাচ্ছে। ঢাকা ওয়াসার ১৩ শতাংশ পানির উৎস হলো- ঢাকার নদীগুলো। পানি উত্তোলন প্রক্রিয়াও ত্রুটিপূর্ণ। বিভিন্ন জায়গায় ওয়াসার পানি সম্পর্কে নানান অভিযোগ উঠে আসছে। কেউ ওয়াসার পানিকে শরবত সদৃশ বলে ব্যঙ্গ করেছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ ঝারছেন অনেকেই। কেননা বর্তমানে ওয়াসার পানির যে দশা প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে তা উৎকণ্ঠার এক বিশেষ কারণ।
বর্তমানের ধাবমান অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে হলে নিরাপদ পানির বিকল্প নেই। কারণ বিশুদ্ধ পানিই হচ্ছে সঞ্জিবনী শক্তির আধার। বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা সুসংহত করতে হবে। স্যানিটেশন ব্যবস্থা পূর্বের তুলনায় আরো ভালো করতে হবে। পানি সংরক্ষণ এবং ব্যবহারে জনগণকে সচেতন হতে হবে।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • মিতব্যয়িতা
  • হংকং : কেন গণআন্দোলন
  • যানজট মুক্ত মহানগরী : কিছু প্রস্তাব
  • পানি নিয়ে ভাবনা
  • ভেজাল-দূষণ দূর করা কি খুবই কঠিন?
  • সৈয়দ মহসীন আলী : ক্ষণজন্মা রাজনীতিক
  • শিশুদের বিজ্ঞান মনস্ক করে গড়ে তোলার গুরুত্ব
  • রোহিঙ্গাঁ সমস্যা : প্রয়োজন আশু সমাধান
  • মজলিশী মুজতবা আলী
  • জলবায়ু ও পৃথিবীর বিপর্যয়
  • আমরা বই পড়া কি ভুলেই গেলাম
  • সফল হওয়ার সহজ উপায়
  • ঝুঁকিপূর্ণ রেল যোগাযোগ : প্রয়োজন সঠিক ব্যবস্থাপনা
  • আজকের দিন আজকের দিকে তাকাও
  • বিয়ে ব্যবস্থায় পরিবর্তন
  • কারবালার ঘটনা ও কয়েকজন সাহাবীর স্বপ্ন
  • আশুরায় সিলেটে হাদা মিয়া-মাদা মিয়ার বিদ্রোহ
  • গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার শিক্ষা শহীদে কারবালা
  • যাকে দেখতে নারী তার চলন বাঁকা
  • ‘শতভাগ সাক্ষরতা’ কতদূর
  • Developed by: Sparkle IT