উপ সম্পাদকীয়

নিরাপদ পানির বিকল্প নেই

জাহিদুল ইসলাম খন্দকার প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০৫-২০১৯ ইং ০১:৫৪:১৫ | সংবাদটি ৬৫ বার পঠিত

১৬০ মিলিয়ন মানুষের বসবাস এ দেশে। আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যা অত্যধিক হওয়ায় সমস্যার কোনো সীমা নেই এদেশে। কিন্তু সমস্যার জগদ্দল পাথর ছাপিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে নব উদ্যমে। তথাপিও সমস্যা থেকে বের হবার পথ নেই। কেননা জীবন মানেই সমস্যা আর সমস্যাই জীবন।
জীবের জীবনীশক্তির একটা প্রধান নিয়ামক হচ্ছে পানি। প্রচলিত একটি বাক্যই তার যথার্থতা নিরূপণ করে। বাক্যটি হলো- ‘পানির অপর নাম জীবন।’ কিন্তু সেই পানিই প্রাণ সংহারের কারণ হয় যদি তা বিশুদ্ধ না হয়। জয়েন্ট মনিটরিং রিপোর্ট ২০১৭ অনুযায়ী এদেশের ৫৬ ভাগ মানুষ নিরাপদ পানি পাচ্ছে। বাকি ৪৪ শতাংশ অর্থাৎ অর্ধেক জনগোষ্ঠীই বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছে।
বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকা, চর এলাকা, বিল ও হাওর এলাকা, শহুরে বস্তি এবং ফুটপাতের পার্শ্ববর্তী পানির উৎসগুলোতে নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা রীতিমত চ্যালেঞ্জস্বরূপ। দূষিত পানির সর্বব্যাপিতা উদ্বেগের একটি ভয়ানক কারণ। কেননা এ থেকে নানান পানিবাহিত জটিল রোগের উত্থান ঘটে। যেমন কলেরা, ডায়রিয়া, হেপাটাইটিস, পোলিও, চর্মরোগ প্রভৃতি।
২০ মিলিয়ন মানুষ আর্সেনিক ঝুঁকিতে রয়েছে। শহর অঞ্চলের পানি দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে পানির পরিবহন অব্যস্থাপনা এবং কলকারখানার বর্জ্য। এ সমস্ত বর্জ্য বিভিন্ন নদীতে অবমুক্ত করা হয়। ফলে পানি দূষিত হয় এবং এদেশের মৎস্য সম্পদও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর পানি কালসিটে বর্ণের হয়ে গেছে। পানি থেকে এমন কুৎসিত গন্ধ নির্গত হয় যেন এটি ময়লার ভাগাড়।
১৯৯০ সালে এদেশের ৩৪ শতাংশ মানুষ বাইরে মলত্যাগ করত। সরকারের শক্তিশালী ভূমিকা, বিভিন্ন উন্নয়নকামী সংস্থাগুলোর ব্যাপক প্রচারণা এবং স্থানীয় সরকারের সক্রিয় ভূমিকায় এটি ২০১৭ সালে শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। এখনো বিশ্বের ১২ শতাংশ মানুষ বাইরে মলত্যাগ করে। বিশেষ করে আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী দেশ ভারতে এর ভয়াবহতা প্রকট। বিবিসির রিপোর্ট অনুসারে ২০১৪ সালে ভারতের ৬০ কোটি মানুষ বাইরে মলত্যাগ করত।
ক্রমশ পানির স্তরও নিম্নমুখী হচ্ছে। ঢাকায় প্রতিবছর পানির স্তর ৩ মিটার এবং সমগ্র বাংলাদেশে গড়ে ৫০-১০০ সেন্টিমিটার নিচে নেমে যাচ্ছে। ঢাকা ওয়াসার ১৩ শতাংশ পানির উৎস হলো- ঢাকার নদীগুলো। পানি উত্তোলন প্রক্রিয়াও ত্রুটিপূর্ণ। বিভিন্ন জায়গায় ওয়াসার পানি সম্পর্কে নানান অভিযোগ উঠে আসছে। কেউ ওয়াসার পানিকে শরবত সদৃশ বলে ব্যঙ্গ করেছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ ঝারছেন অনেকেই। কেননা বর্তমানে ওয়াসার পানির যে দশা প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে তা উৎকণ্ঠার এক বিশেষ কারণ।
বর্তমানের ধাবমান অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে হলে নিরাপদ পানির বিকল্প নেই। কারণ বিশুদ্ধ পানিই হচ্ছে সঞ্জিবনী শক্তির আধার। বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা সুসংহত করতে হবে। স্যানিটেশন ব্যবস্থা পূর্বের তুলনায় আরো ভালো করতে হবে। পানি সংরক্ষণ এবং ব্যবহারে জনগণকে সচেতন হতে হবে।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ভারতের জাতীয় উন্নয়ন ও ভারত মহাসাগর
  • জীবনে শৃঙ্খলাবোধের প্রয়োজনীয়তা
  • চলুক গাড়ি বিআরটিসি
  • জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি মোকাবেলায় আমাদের করণীয়
  • নির্ধারিত রিক্সাভাড়া কার্যকর হোক
  • নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা
  • খাদ্যে ভেজাল রোধে জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে
  • মুর্তাজা তুমি জেগে রও!
  • সন্তানের জীবনে বাবার অবদান
  • এবার কুম্ভকর্ণের নিদ্রা ভংগ হোক
  • বন উন্নয়নে মনোযোগ বাড়ুক
  • একজন অধ্যক্ষের কিছু অবিস্মরণীয় প্রসঙ্গ
  • গ্রামাঞ্চলে বৃক্ষ রোপণ
  • শান্তির জন্য চাই মনুষ্যত্বের জাগরণ
  • উন্নয়ন ও জনপ্রত্যাশা পূরণের বাজেট চাই
  • মোদীর বিজয় : আমাদের ভাবনা
  • অধিক ফসলের স্বার্থে
  • টেকসই উন্নয়ন ও অভিবাসন সমস্যা ও সমাধানে করণীয়
  • সড়ক দুর্ঘটনা
  • চীনের বিশ্বশক্তির প্রত্যাশা ও ভারত মহাসাগর
  • Developed by: Sparkle IT