ধর্ম ও জীবন

তাফসিরুল কুরআন

প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০৫-২০১৯ ইং ০১:৫৭:৪৮ | সংবাদটি ৮০ বার পঠিত

সূরা : বাক্বারাহ
[পূর্ব প্রকাশের পর]
এখানে তিন রকমের পাথরের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে অত্যন্ত সুক্ষ্ম ও সাবলীল ভঙ্গিতে এদের শ্রেণিবিন্যাস ও উদ্দেশ্য ব্যক্ত করা হয়েছে। কতক পাথরের প্রভাবান্বিত হওয়ার ক্ষমতা এতো প্রবল যে, তা থেকে নদী-নালা প্রবাহিত হয়ে যায় এবং তদ্বারা সৃষ্ট জীবের উপকার সাধিত হয়। কিন্তু ইহুদীদের অন্তর এমন নয় যে, সৃষ্ট জীবের দুঃখ-দুর্দশায় অশ্রুসজল হবে। কতক পাথরের মধ্যে প্রভাবান্বিত হওয়ার ক্ষমতা কম। ফলে সেগুলোর দ্বারা উপকারও কম হয়। এ ধরণের পাথর প্রথম ধরণের পাথরের তুলনায় কম নরম হয়। কিন্তু ইহুদীদের অন্তর এ দ্বিতীয় ধরণের পাথর অপেক্ষাও বেশি শক্ত।
কতক পাথরের মধ্যে উপরোক্তরূপ প্রভাব না থাকলেও এতোটুকু প্রভাব অবশ্যই আছে যে, খোদার ভয়ে নিচে গড়িয়ে পড়ে। এ পাথর উপরোক্ত দুই প্রকার পাথরের তুলনায় অধিক দুর্বল। কিন্তু ইহুদীদের অন্তর এ দুর্বলতম প্রভাব থেকেও মুক্ত।
জ্ঞাতব্য : উদ্দেশ্য এই যে, যারা এমন ধৃষ্টতাপূর্ণ ও স্বার্থান্বেষী, তারা অন্যের সদুপদেশে কখনও মন্দ কাজ থেকে বিরত হবে না।
এখানে ‘আল্লাহর বাণী’ অর্থ তাওরাত। ‘শ্রবণ করা’ অর্থ পয়গাম্বরদের মাধ্যমে শ্রবণ করা। ‘পরিবর্তন করা’ অর্থাৎ, কোন কোন বাক্য অথবা ব্যাখ্যা অথবা উভয়টিকে বিকৃত করে ফেলা।
অথবা ‘আল্লাহর বাণী’ অর্থাৎ, ঐ বাণী, যা মুসা (আ.) এর সত্যায়নের উদ্দেশে তাঁর সাথে গমনকারী সত্তর জন ইহুদী তুর পর্বতে শুনেছিল। ‘শ্রবণ’ অর্থ মাধ্যমহীনভাবে সরাসরি শ্রবণ। ‘পরিবর্তন’ অর্থ স্বগোত্রের কাছে প্রসঙ্গক্রমে এরূপ বর্ণনা করা যে, আল্লাহ তা’আলা উপসংহারে বলে দিয়েছেন : তোমরা যেসব নির্দেশ পালন করতে না পার, তা মাফ।
হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর আমলে যেসব ইহুদী ছিলো, তাদের দ্বারা উল্লেখিত কোন কুকর্ম সংঘটিত হয়নি সত্য, কিন্তু পূর্ববর্তীদের এসব দুষ্কর্মকে তারা অপছন্দ ও ঘৃণা করত না। এ কারণে তারাও কার্যত পূর্ববর্তীদেরই মতো।
(৭৭) তারা কি এতোটুকুও জানে না যে, আল্লাহ সেসব বিষয়ও পরিজ্ঞাত যা তারা গোপন করে এবং যা প্রকাশ করে? (৭৮) তোমাদের কিছু লোক নিরক্ষর। তারা মিথ্যা আকাঙ্খা ছাড়া আল্লাহর গ্রন্থের কিছুই জানে না। তাদের কাছে কল্পনা ছাড়া কিছুই নেই। (৭৯) অতএব তাদের জন্যে আফসোস। যারা নিজ হাতে গ্রন্থ লেখে এবং বলে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণÑ যাতে এর বিনিময় সামান্য অর্থ গ্রহণ করতে পারে। অতএব তাদের প্রতি আক্ষেপ, তাদের হাতের লেখার জন্যে এবং তাদের প্রতি আক্ষেপ, তাদের উপার্জনের জন্যে। (৮০) তারা বলে : আগুন আমাদিগকে কখনও স্পর্শ করবে না; কিন্তু গণাগনতি কয়েক দিন। বলে দিন : তোমরা কি আল্লাহর কাছ থেকে কোন অঙ্গীকার পেয়েছ যে, আল্লাহ কখনও তার খেলাফ করবেন নাÑ না তোমরা যা জান না, তা আল্লাহ সাথে জুড়ে দিচ্ছ। (৮১) হ্যাঁ, যে ব্যক্তি পাপ অর্জন করেছে এবং সে পাপ তাকে পরিবেষ্টিত করে নিয়েছে, তারাই দোযখের অধিবাসী। তারা সেখানেই চিরকাল থাকবে। (৮২) পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে এবং সংকাজ করেছে, তারাই জান্নাতের অধিবাসী। তারা সেখানেই চিরকাল থাকবে। (৮৩) যখন আমি বনী-ইসরাঈলের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারও উপাসনা করবে না, পিতা-মাতা, আত্মীয় স্বজন, এতিম ও দীন দরিদ্রদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে, মানুষকে সৎ কথাবার্থা বলবে, নামায প্রতিষ্ঠা করবে এবং যাকাত দেবে, তখন সামান্য কয়েকজন ছাড়া তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে, তোমরাই অগ্রাহ্যকার।
আনুষাঙ্গিক জ্ঞাতব্য বিষয় :
জনগণের সন্তুষ্টির প্রতি লক্ষ্য রেখে ভুল বিষয় পরিবেশন করলে তারা কিছু নগদ অর্থ-কড়িও পেয়ে যেত এবং মান-সম্পন্ন বজায় থাকত। এ কারণে তারা তওরাতের শাব্দিক ও মর্মগত উভয় প্রকার পরিবর্তন করারই চেষ্টা করত। উল্লেখিত আয়াতে এ বিষয়ের উপরই কঠোর হুসিয়ারী উচ্চারিত হয়েছে।
জ্ঞাতব্য : তাফসিরবিদগণ ইহুদীদের এ বক্তব্যের বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তন্মধ্যে একটি হল এই যে, ঈমানদার ব্যক্তি গোনাহগার হলে গোনাহ পরিমাণ দোযখ ভোগ করবে। কিন্তু ঈমানের ফলস্বরূপ চিরকাল দোযখে থাকবে না। কিছুকাল পরই তা থেকে মুক্তি পাবে।
[চলবে]

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT