ধর্ম ও জীবন

বিশ্বসেরা কারীদের কথা

মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০৫-২০১৯ ইং ০১:৫৯:৪৮ | সংবাদটি ৩৮৩ বার পঠিত

দুনিয়াজুড়ে অগণিত কারী রয়েছেন, যাদের সুরে মুসলিম মিল্লাতের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। তাদের তিলাওয়াতই শুনতেই মন চায়। যতই তিলাওয়াত শোনা হয়, ততই যেন ঈমানের শক্তি বেড়ে যায়। তাদের কারণে কুরআন পিপাসুরা পেয়েছেন কুরআনের আলোকিত পথ। এ রকম বিশ্ব বিখ্যাত কয়েকজন কারীদের পরিচয় তুলে ধরা হলোÑ
শায়খ আহমদ হিজাযী :
শায়খ আহমদ হেজাযী (রাহ.) ছিলেন একজন বিশ্ববরেণ্য কারী। তিনি ছিলেন সুমধুর আওয়াজের অধিকারী। তাঁর তিলাওয়াতের জন্য হারাম শরীফের চারদিকে জমায়েত হয়ে যেতেন কুরআন পিপাসুরা। তার নাম হচ্ছে শায়খ আহমদ হেজাযী বিন আবদুল্লাহ বিন মাহমুদ বিন তালীহ আবদুল ‘আল আত- তাহতাওয়ী। তিনি ১৩০৩ হিজরী (১৮৮৫ ইং) সালে মিশরের সোহাগ প্রদেশের তাহতা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পূর্বপুরুষগণ আরবের জুহাইনাহ গোত্রীয় ছিলেন। যারা হিজায থেকে মিশরে পাড়ি দেন। এ কারণে তিনি হিজাযী নামে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি শৈশবকালে তার সম্মানীত পিতা-মাতাকে হারান।
প্রথমে তিনি সাত কিরাতে কুরআন শরীফ মুখস্ত করেন। পরে দশ কিরাতের পারদর্শীতা অর্জন করতে সক্ষম হন। তিনি ইমাম হাফস (রাহ.)’র কিরাত অনুযায়ী তাজবীদ শাস্ত্রে পান্ডিত্য অর্জন করেন। তিনি মিশরের আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আল ফিকহ ওয়াল উলুম আদ দ্বনিয়্যাহ’ অধ্যয়ন করেন। তাঁর উস্তাদ শায়খ আল্লামা আযহারী আহমদ আদ-দারদী (রাহ.)’র তত্ত্বাবধানে একজন কুরআনের হাফিজ, কারী এবং ফিকহের ডিগ্রী অর্জন করেন।
বাল্যকালে প্রবল রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন তিনি। তখন তিনি মানত করেছিলেন সুস্থ হলে কাবার আঙ্গিনায় বসবাস করবেন। সুস্থ হলে সে অনুযায়ী তিনি মক্কা শরীফে ফিরে আসেন । তখন তাঁর বয়স ছিল ১৮। তিনি সারহান গোত্রে বিবাহ করেন। তাঁর এ স্ত্রী বন্ধ্যা থাকায় পরবর্তীতে আল আব্বাস সায়্যিদ নাজমুদ্দীন কারী এর মেয়েকে বিবাহ করেন। তাঁর এ স্ত্রীর ঘরে দুই ছেলে মুহাম্মদ আমীন ও আবদুল্লাহ এবং মেয়ে আমীনাহ, নাঈমাহ ও খায়রিয়াহ নামে তিন কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি তায়েফের অধিবাসী উমর সাব্বাগের মেয়েকে বিবাহ করেন। এ স্ত্রীর ঘরে সাত কন্যা জন্ম গ্রহণ করেন।
হযরত আহমদ হেজাযী (রাহ.) প্রতিদিন আসরের নামাজের পর এবং মাগরিবের নামাজের পর মসজিদে হারামে বাবে আজইয়াদের নিকট কুরআন তিলাওয়াত করতেন। তাঁর সুমধুর তিলাওয়াতে মুগ্ধ হয়ে চারদিকে মানুষের ভীড় হয়ে যেত। উমরাহ আদায়কারীগণ বসে তিলাওয়াত শুনতেন। মসজিদে হারামের বাবে বনী শায়বার সম্মুখে প্রতিদিন বিভিন্ন কিরাতে হাফিযে কুরআনদের সবক গ্রহণ করতেন। ১৯৬২ সালের রজব মাসের ৫ তারিখ ভোরবেলায় ইন্তেকাল করেন। তিনি ইন্তেকালের রাতেও রাতব্যাপী কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করেন। মৃত্যু সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তাকে মক্কা শরীফের কবরস্থান ‘জান্নাতুল মুআল্লায়’ দাফন করা হয়।
শেখ আব্দুল বাসিত মিশরী :
মুসলিম বিশ্বের সেরা কারী, আব্দুল বাসিত আব্দুস সামাদ মিশরী (রহ.) ১৯২৭ ঈসায়ী মোতাবেক ১৩৪৬ হিজরীতে মিশরের ‘কেনা’ অঞ্চলের ‘আল মানত' শহরের মরয়েজা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আলহাজ্ব আব্দুস ছামাদ।
তাঁর কণ্ঠস্বরে পবিত্র কুরআনের আকর্ষণীয় তেলাওয়াত ও সম্মোহনী শক্তিতে ঈমানদারদের হৃদয়ে অনুরাগ ও আকর্ষণ শক্তি বেড়ে যেতো। কারী আব্দুল বাসিত সুললিত কণ্ঠে পবিত্র কুরআনের সুমিষ্ট তেলাওয়াতে বিশ্বকে মুগ্ধ করেছেন। তাঁর যাদুময়ী সুরে মুগ্ধ হয়ে ইসলাম ধর্মে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন শতাধিক আমেরিকান। তার সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রাক্তন শায়খুল আজহার ড. আব্দুল হালিম মাহমুদ বলেছেন, ‘শেখ আব্দুল বাসিতকে আলে দাউদ (আ.)’র কোন বাঁশী দান করা হয়েছে।’ পবিত্র কুরআনের কারণে বিশ্বনন্দিত কারী আব্দুল বাসিত ৬১ বছরের জীবনে অসংখ্য সম্মাননা পদক, মর্যাদা ও অভ্যর্থনা পেয়েছেন। তিনি ১৯৬২ ও ১৯৮১ সালে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। সেখানে বিভিন্ন প্রদেশে মুসলিম প্রবাসীদের আমন্ত্রণে কুরআন তেলাওয়াত করে শুনান। মরক্কোর বাদশা মুহাম্মদ আল খাশিস তাকে কায়রো ছেড়ে মরক্কোয় স্থায়ীভাবে চলে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ১৯৫৬ সালে সিরিয়া ‘বেসামুল এছতেহকাক’ পদকে ভূষিত করা হয়। লেবাননের প্রেসিডেন্ট তাঁকে ‘বেসামুল আরয’ পদক দিয়ে সম্মানিত করেন। মালয়েশিয়া সরকার ১৯৫৬ সালে রাজধানী কুয়ালালামপুরে এক বড় মসজিদ উদ্বোধনের সময় তাকে ‘বেসামে যাহবী’ পদকে ভূষিত করেন। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াউল হক বিমান হতে নামামাত্রই কারী আব্দুল বাসিতকে আলিঙ্গন করে মোবারকবাদ জানান। এছাড়া সেনেগালসহ বিভিন্ন দেশ তাকে পুরস্কৃত করেছে। ১৯৯০ সালে তাঁর ইন্তেকালে পর লায়লাতুল কদরের সময় মিশরীয় প্রেসিডেন্ট সুরের রাজা আব্দুল বাসিতকে ‘ইসমুশ শেখ’ পদকে ভূষিত করেন।
আবদুর রহমান আস সুদাইসি :
বর্তমান সময়ের সুমিষ্ট তেলাওয়াতের অধিকারী শায়খ আবদুর রহমান আস সুদাইসি। যার নাম বললেই আর বেশ পরিচয় দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না। তিনি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ১৯৬০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি জন্ম গ্রহণ করেন। তার নাম আবদুর রহমান ইবনে আবদুল আজিজ আস সুদাইসি। তিনি ‘আনাজ কালন’ আরব উপজাতি সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। তার পিতার নাম আবদুল আজিজ ও মাতার নাম ফাহদা রউফ। ১২ বছর বয়সেই তিনি পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন। ১৯৭৯ সালে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৩ সালে রিয়াদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্মান ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৭ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি ‘ইসলামি শরিয়াহ’ বিষয়ে (পিএইচডি) ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন।
তিনি পড়াশোনা শেষে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। তারপর উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। ১৯৮৪ সালে তিনি কাবা শরীফের ইমাম হিসেবে নিযুক্ত হন। একই বছর জুলাই মাসে তিনি প্রথম পবিত্র কাবা শরীফে জুমআর খুতবা দেন। তখন তার বয়স হয়েছিল মাত্র ২৪ বছর। ২০১২ সালে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় মক্কা ও মদিনার দুই পবিত্র মসজিদের প্রেসিডেন্সি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন। কারী আবদুর রহমান আস সুদাইসির তেলাওয়াতের সময় মনে হয় যেন এইমাত্র কুরআন নাযিল হচ্ছে। তাঁর তিলাওয়াতে নামাজরত মুসল্লিদের চোখের পানি ঝড়ে পড়ে। মক্কায় অবস্থিত সৌদি আরবের প্রধান মসজিদ মসজিদ আল-হারামের ইমাম এবং ২০০৫ সালে নির্বাচিত বছরের সেরা ইসলামিক ব্যক্তিত্ব।
বিশ্বসেরা এ কারী দীর্ঘদিন ধরে পবিত্র মসজিদুল হারাম তথা মক্কা শরীফের ইমামের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি হিসেবে নিয়োগ পান এবং আরাফাতের ময়দানের ভাষণের জন্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০০৫ সালে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল হলি কুরআন সম্মাননাসহ ‘ইসলামিক পারসোনালিটি অফ দা ইয়ার’ নির্বাচিত হন। এছাড়াও তিনি একজন সুবক্তা এবং লেখকও বটে।
সাউদ আশ শুরাইম :
বিশ্ব বরেণ্য আরেক কারী হলেন পবিত্র মক্কা শরীফের ইমাম শায়খ আশ শুরাইম ইবনে ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মাদ। তিনি ১৯ জানুয়ারি ১৯৬৪ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। অসাধারণ মেধার অধিকারী শায়খ সাউদ আশ শুরাইম উম্মুল কুরার শারীআহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক। শায়খ শুরাইম কিছুদিন আগে উম্মুল কুরার ফিকহ বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। তিনি ডক্টরেট (পিএইচ.ডি) ডিগ্রী প্রাপ্ত। মক্কার প্রধান মসজিদ, (মসজিদ আল-হারামের) একজন অন্যতম ইমাম ও খতীব। সৌদ আল-শুরাইম ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৬ পর্যন্ত তারাবীহ নামাজে শায়খ আবদুর রহমান আস সুদাইসির সঙ্গী ছিলেন।
পেশাগত ব্যস্থতার মাঝেও তার কুরআন তিলাওয়াতে কোনো বিরতি পড়েনি। অবিরাম গতিতে চলছে তাঁর কুরআন তিলাওয়াত। কুরআন তিলাওয়াত সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, শত ব্যস্থতার মাঝে সবার আগে কুরআনকেই স্থান দিই। সুমিষ্ট কণ্ঠের অধিকারী শায়খ সাউদ আশ-শুরাইম একজন বড় মানের লেখক। আকিদা, ফিকহ ও আরবি সাহিত্যের উপর তার অসংখ্য বই রয়েছে। মক্কার প্রধান মসজিদ, (মসজিদ আল-হারামের) একজন অন্যতম ইমাম ও খতীব। তিনি ডক্টরেট (পিএইচ.ডি) ডিগ্রী প্রাপ্ত এবং মক্কার উম্ম আল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপকও।
আব্দুল লতীফ চৌধুরী ফুলতলী :
আল্লামা আব্দুল লতীফ চৌধুরী ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (রাহ.) ১৯১৩ ঈসায়ী, ১৩২৯ বাংলা সনের ফাল্গুন মাসের বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলাধীন ফুলতলী গ্রামের প্রখ্যাত আলেম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর বাবা হযরত মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ (রাহ.) ও মাতা ছিলেন বাহাদুর খা তালুকের সনামধন্য ব্যক্তি মরহুম আহছান রাজা চৌধুরীর মেয়ে মাছুরা বিবি চৌধুরী।
আব্দুল লতীফ চৌধুরী ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (রাহ.) একজন প্রখ্যাত কুরআনের কারী ও কুরআনের খেদমতগার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি একজন প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও মুফাসসির হওয়া সত্ত্বেও ইলমে কিরাতের জন্য জীবনের বিশাল সময় ব্যয় করেন। নিজের সম্পত্তির বিশাল একটি অংশ (৩৩ একর) ইলমে কিরাতের পিছনে দান করে যান। তাঁর ইলমে কিরাতের উস্তাদ হচ্ছেন, তাঁর পীর ও মুর্শিদ হযতর মাওলানা শাহ ইয়াকুর বদরপুরী (রাহ.), হাফিজ মাওলানা আব্দুর রউফ করমপুরী (রাহ.) এবং বিশ্বকারী আহমদ হেজাযী (রাহ.)। ১৯৪০ সালে তিনি গঠন করেন ‘দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাষ্ট’ নামে ইলমে কিরাতের শিক্ষা বোর্ড। যার মাধ্যমে হাজার হাজার কারী হয়েছেন। অগণিত কুরআন শিক্ষার শাখা রয়েছে। দেশের সীমানা পেরিয়ে এখন তা যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আজ এ শিক্ষা বিস্তার লাভ করেছে।
ভারত উপমহাদেশের একজন বিখ্যাত কুরআনের কারীর পাশাপাশি তিনি একজন খ্যাতিমান হক্কানী পীর ও মোহাদ্দিস ছিলেন। তিনি হাদীসের চূড়ান্ত পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন। তাঁর রয়েছেন লক্ষ লক্ষ মুরিদান ও ছাত্র। সমাজ সেবক, সাহিত্যিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও ছিলেন তিনি। দেশ বিদেশে বহু মাদরাসা মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। দেশ ও জাতির খেদমতে বিরল ভূমিকা রাখার কারণে তাকে ‘শামছুল উলামা’ (আলেমদের সূর্য) উপাধী দেয়া হয়। ১৯৯৯ সালে বৃটেনস্থ বিএনএসএ শতাব্দির শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব উপাধী দেয় এবং তাঁকে হীরা খচিত একটি ক্রেস্ট প্রদান করে।
মিশারি রশিদ আল আফাসি :
সুন্দর ও আবেগঘন তিলাওয়াতের অধিকারী সর্বাধিক আলোচিত কারী মিশারি রশিদ আল আফাসি। তিনি ৫ মে ১৯৭৬ সালে কুয়েতের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবা রাশীদ এবং দাদা মুহাম্মাদ কুরআনের প্রতি অত্যন্ত দুর্বল ছিলেন।
আন্তর্জাতিক ক্বারী শায়েখ মিশারী বংশগতভাবেই একজন কারী। এছাড়াও তিনি ইমাম, কুরআন গবেষক, সঙ্গীতশিল্পী ও আর্টিস্টও বটে। বাল্য বয়স থেকে শায়খ মিশারি কুরআন তিলাওয়াতের প্রতি অধিক আগ্রহী ছিলেন।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT