উপ সম্পাদকীয় খোলা জানালা

বালিশাচার

হামীম রায়হান প্রকাশিত হয়েছে: ২৫-০৫-২০১৯ ইং ০০:২৯:২২ | সংবাদটি ১৩৮ বার পঠিত

মাথা মানুষের খুব মূল্যবান অংশ। মানুষের হাত বা পা কেটে নিলে বাঁচতে পারে। কিন্তু মাথা কেটে নিলে মানুষ বাঁচে, এমন নজির নেই। যদিও তেলাপোকা বাঁচতে পারে শুনেছি। আবার ১৯৪৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডে অঙ্গরাজ্যের লর্ড ওলসেন নামের এক কৃষক তার পোষা মুরগি জবাই করলে বেঁচে ছিল আঠারো মাস!
এবার আসি মানুষের মাথার কথায়। পৃথিবীতে যত উন্নয়ন, সব মানুষেরই দ্বারা হয়েছে। এতে সন্দেহ নেই। মানে এত সব উন্নয়ন মানুষের মাথা থেকেই বেরিয়েছে এবং বেরোচ্ছে। মানুষের মাথা হল পরশ পাথর, যেখানে লাগবে, সেখানেই সোনা ফলবে।
আপনার মাথা যদি আইনস্টাইনের মাথা হতো, তবে এর দাম হতো কোটি কোটি ডলার। তাই তো আইনস্টাইন তাঁর দামি মাথাটা লম্বা চুল অগোছালো করে ঢেকে রাখতো, যাতে সেদিকে কারো নজর না যায়।
মাথার সাথে বালিশের গভীর মিতালী। এই মাথাকে বালিশ কোন নালিশ ছাড়া পরম যতেœ ধারণ করে। এই ধারণের ফলে মাথার কিছু মেধা বালিশে টান্সফার হয়ে যায়। ফলে মাথার সাথে সাথে বালিশও মূল্যবান হয়ে উঠে। গাইতে গাইতে গায়েনের মতো। বড় বড় মনীষীরা যেসব বালিশে ঘুমাতেন সেগুলো তো আর যেনতেন বালিশ নয়! একথা নিশ্চয় আমাদের বুঝার সার্মথ্য হয়েছে। এ যেমন ধরুন, আইনস্টাইন সাহেবের ব্যবহৃত বালিশখানা আপনি কি চাইলেই পাবেন? রবীন্দ্রনাথের বালিশটা চাইলেই জোগাড় করা যাবে! পেলেও এগুলো দাম শুনে আপনি নিশ্চত মূর্ছা যাবেন। লাখ লাখ টাকা খরচ করেও পাবেন না এমন বালিশ। আর এমন বালিশ কিনে আনার খরচও নেহাত কম নয়। চার স্থরের নিরাপত্তা দিয়ে আনতে হবে। সামন্য ৫৯৭৫ টাকার বালিশ ও বহন খরচ ৭৬০ টাকা শুনে সারাদেশ যেভাবে বালিশাচারে ( নিজ উদ্ভাবিত শব্দ) লিপ্ত, তা বড়ই পীড়াদায়ক! এটা কোন কথা হতে পারে না।
বাংলাদেশের বড় বড় স্থাপনাগুলোতে দুর্নীতি ও মেধাহীনতার পরিচয় আমরা অনেক পেয়েছি। বহাদ্দারহাট ফ্লাইওভার ভেঙ্গে কত মানুষ মারা গিয়েছিলো, তা নিশ্চয় সবার মনে আছে। এমন আরো অনেক দুর্নীতির উদাহারণ দিতে পারি। রংপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের লোকেরা ভাবলো আমরা মেধাহীনতার পরিচয় দিবো না, আমরা দুর্নীতি করবো না। আমরা মহামনীষীদের বালিশ ব্যবহার করব আর চিরতরে দুর্নীতি নির্মূল করব। কত মহৎ তাদের ভাবনা! আর এদিকে আমরা কিছু না জেনেশুনে শুরু করলাম ব্যাঙের মতো গ্যাঙর গ্যাঙ! আরে আগে গিয়ে দেখুন এটা কোন মহামনীষির বালিশ? যদি তাই হয় তবে তা অনেক সস্তায় পেয়েছে বলে তাদেরকে বাহবা দিবেন। এমন বালিশ যে অমূল্য রতন। এমন বালিশে ঘুমাতে পারাটাও পরম সৌভাগ্যের হেতু। চোখে দেখাটাও সম্মানের। আমি সরকারের কাছে আহ্বান করবো এমন বালিশ দেশে আরো আমদানি করা হোক এবং জনসম্মুখে একদিন উন্মুক্ত রাখা হোক। খেলায় রাখতে হবে এ বালিশ, যেন আবার পাচার হয়ে না যায়। আর যদি বিক্রি করা হয় তবে আমি একটা এমন বালিশ কিনতে আগ্রহী। আমার জন্য রবীন্দ্রনাথের ব্যবহৃত বালিশখানা হলে ভালো হয়। এটার বহন খরচ আমি দিতে রাজি আছি। সর্বোপরি এ বালিশ নিয়ে রাজনীতি বন্ধ হোক এ কামনা।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • মিতব্যয়িতা
  • হংকং : কেন গণআন্দোলন
  • যানজট মুক্ত মহানগরী : কিছু প্রস্তাব
  • পানি নিয়ে ভাবনা
  • ভেজাল-দূষণ দূর করা কি খুবই কঠিন?
  • সৈয়দ মহসীন আলী : ক্ষণজন্মা রাজনীতিক
  • শিশুদের বিজ্ঞান মনস্ক করে গড়ে তোলার গুরুত্ব
  • রোহিঙ্গাঁ সমস্যা : প্রয়োজন আশু সমাধান
  • মজলিশী মুজতবা আলী
  • জলবায়ু ও পৃথিবীর বিপর্যয়
  • আমরা বই পড়া কি ভুলেই গেলাম
  • সফল হওয়ার সহজ উপায়
  • ঝুঁকিপূর্ণ রেল যোগাযোগ : প্রয়োজন সঠিক ব্যবস্থাপনা
  • আজকের দিন আজকের দিকে তাকাও
  • বিয়ে ব্যবস্থায় পরিবর্তন
  • কারবালার ঘটনা ও কয়েকজন সাহাবীর স্বপ্ন
  • আশুরায় সিলেটে হাদা মিয়া-মাদা মিয়ার বিদ্রোহ
  • গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার শিক্ষা শহীদে কারবালা
  • যাকে দেখতে নারী তার চলন বাঁকা
  • ‘শতভাগ সাক্ষরতা’ কতদূর
  • Developed by: Sparkle IT