সম্পাদকীয়

ক্যান্সারে শিশু-মৃত্যু

প্রকাশিত হয়েছে: ২৫-০৫-২০১৯ ইং ০০:৩০:৫৭ | সংবাদটি ১৬৪ বার পঠিত


শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ ক্যান্সার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সারা বিশ্বে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু মারা যাচ্ছে ক্যান্সারে। শিশুরা কেন এতো বেশি সংখ্যায় ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে, এর কারণ উদঘাটিত না হলেও প্রতি বছর তিন লাখ শিশু নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। যাদের বেশির ভাগেরই বসবাস নি¤œ ও মধ্য আয়ের দেশে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বড়দের মতো শিশুদের মৃত্যুর ক্ষেত্রে ক্যান্সার অন্যতম কারণ। শূন্য থেকে ১৯ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে প্রতি বছর নতুন করে তিন লাখ শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। উচ্চ আয়ের দেশগুলোর তুলনায় মধ্য ও নি¤œ আয়ের দেশে ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর হার চারগুণ বেশি। এর কারণ মধ্য ও নি¤œ আয়ের দেশে রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব করা হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরিবারের পক্ষে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। পাশাপাশি অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব তো রয়েছেই।
ক্যান্সার ঘাতক ব্যাধি। এই রোগে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে সারা বিশ্বে। যদিও অনেক ধরনের ক্যান্সার চিকিৎসায় নির্মূল হচ্ছে; কিন্তু অনেকগুলো ক্যান্সার রয়েছে এখনও চিকিৎসার বাইরে। জানা গেছে, গত বছর (২০২৮) সারা বিশ্বে ৯৬ লাখ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে। সাধারণত পুরুষদের ক্ষেত্রে ফুসফুস, প্রোস্টেট, কোলোরেকটাল, পেট ও লিভার ক্যান্সার এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে জরায়ু মুখ, স্তন, কোলোরেকটাল, ফুসফুস, থাইরয়েড ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। তবে শিশুদের মধ্যে লিউকোমিয়া, মস্তিষ্কের ক্যান্সার, লিস্কোমা, নিউ টিউব্লাস্টোমা ও উইলম্স টিউমারের মতো কঠিন টিউমারজনিত ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যাই বেশি। উচ্চ আয়ের দেশে ক্যান্সারে আক্রান্ত ৮০ শতাংশের বেশি শিশুর ক্যান্সার নিরাময় করা হয়। আর মধ্য ও স্বল্প আয়ের দেশের চিত্র ঠিক উল্টো। অর্থাৎ এই সব দেশে ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশুদের ২০ শতাংশ চিকিৎসা পায়। বাকি ৮০ শতাংশের বলা যায় বিনা চিকিৎসায় জীবন প্রদীপ নিভে যায় শুরু না হতেই। অথচ, যথাযথ চিকিৎসায় বেশিরভাগ শিশুকেই বাঁচানো সম্ভব।
তবে একটি আশার বাণী শুনিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশুদের বাঁচাতে তারা বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে এবং এতে প্রতি বছর দশ লাখ শিশুর জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে বলে তাদের প্রত্যাশা। তাদের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-বৈশ্বিক ও জাতীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শৈশব ক্যান্সার সম্পর্কে ধারণা প্রদান; পাশাপাশি নি¤œ ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে ওষুধ ও প্রযুক্তির প্রাপ্যতা নিশ্চিতসহ ক্যান্সার নির্ণয়ের এবং চিকিৎসার বর্তমান ক্ষমতাগুলো মূল্যায়ন করে সরকারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা। শিশু ক্যান্সারের ঝুঁকিতে বাংলাদেশও। সামর্থের অভাবে অনেক শিশুর চিকিৎসা করাতে পারছেন না অভিভাবকেরা। তাছাড়া রয়েছে অসচেতনতা। তাই শিশু ক্যান্সার প্রতিহত ও চিকিৎসায় বিশ্ব ব্যাংকের পরিকল্পনার আওতায় আমাদের দেশেও যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT