পাঁচ মিশালী

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে কৃষির ভূমিকা

বিজিত কুমার আচার্য্য প্রকাশিত হয়েছে: ২৫-০৫-২০১৯ ইং ০০:৩৩:১৮ | সংবাদটি ১৬৭ বার পঠিত

সুজলা সুফলা শস্যশ্যামলা আমাদেরই বাংলাদেশ। এ দেশকে এত সুন্দর মহিমায় মহিমান্বিত করে তুলেছে আমাদেরই কৃষি। যার অবদান জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে রয়েছে ৬-৭ শতাংশ। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে কৃষিতে যে প্রভূত উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হয়েছে তা অন্য কোন ক্ষেত্রে ঘটানো সম্ভব হয়নি।
আমাদের এদেশ বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তায় ক্ষুদ্র আয়তনের প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে এনেছে অভাবনীয় সাফল্য। এক্ষেত্রে যাদের অভাবনীয় প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে করেছেন সমৃদ্ধ তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন নিরলস পরিশ্রমের দাবীদার কৃষি বিজ্ঞানী, মাঠ পর্যায়ের উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা এবং কৃষক। আজকের কৃষি বিজ্ঞানী যদি যুগোপযোগী কৃষির ফসলের জাত উদ্ভাবন না করতেন তাহলে উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তাগণ মাঠ পর্যায়ে কৃষকের মাঝে এত আলোড়ন সৃষ্টি করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা আনা মোটেও কল্পনা করা যেত না। বিজ্ঞানীদের এহেন কর্মসূচী বাস্তবায়নে উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তাগণের নিরলস প্রচেষ্টায় কৃষক উদ্বুদ্ধ হয়ে সারা বিশ্বে এক বিশাল পরিচিতির দ্বার উন্মোচন করে দিয়েছে বাংলাদেশের কৃষি।
কৃষির বর্তমান পরিসংখ্যান লক্ষ করলে দেখা যায় যে, সারা বিশ্বে ধান উৎপাদনে চতুর্থ, পুষ্টির আধার সবজি উৎপাদনে তৃতীয়. আলু উৎপাদনে সপ্তম। এরকম আরো উৎপাদনগুলোর মধ্যে রয়েছে আম, কাঁঠাল, লেবু, গম, ভুট্টা ইত্যাদি।
প্রাকৃতিক প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে বাংলাদেশে উদ্ভাবিত হয়েছে খরা ,বন্যা, লবনাক্ততা সহিষ্ণু জাতের ধান, উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানের আবিষ্কার করে আমাদের দেশের ফলন বৃদ্ধি কোথাও হয়েছে দ্বিগুণ ,আবার কোখাও হয়েছে চার গুণ। যার ফলশ্রুতিতে আমরা আজকে খাদ্যে আমদানীকারক হতে রপ্তানীকারক দেশ হিসেবে স্বল্প সময়ে পরিচিতি আনা সম্ভব হয়েছে এ সরকারের সুপরিকল্পিত কৃষি নীতি প্রণয়নের কারণে।
যেখানে কৃষি জমির রয়েছে বিশাল জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপ। দিনদিন কৃষি জমি নতুন নতুন ঘরবাড়ি তৈরির ফলে কমে যাচ্ছ। অসম্ভবের কৃষিকে আমরা সনাতন পদ্ধতি বাদ দিয়ে আধুনিক কৃষির দিকে নিয়ে যাচ্ছি নানা প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে। এখন কৃষক যান্ত্রিক কৃষিতে এবং প্রযুক্তি নির্ভর কৃষিতে ধাবিত হচ্ছেন। কৃষক মোবাইলে ব্যবহার করছে নানাবিধ কৃষির এপস্। উদ্ভাবিত হচ্ছে নতুন নতুন কৃষির প্রযুক্তি। যেমন ছাদ কৃষি, খাঁচা পদ্ধতিতে মাছের চাষ, ভাসমান সবজি চাষ ইত্যাদি। ব্যবহৃত হচ্ছে কৃষিতে জমি চাষের জন্য পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর। এছাড়াও ব্যবহৃত হচ্ছে ফসল রোপণ, মাড়াইয়ের এবং কর্তনের যন্ত্র। সবই যেন কৃষিতে আধুনিকতার ছোঁয়া, যা একমাত্র সম্ভব হয়েছে কৃষিতে সরকারি ভর্তুকির কারণে।
নানা প্রতিকূলতাগুলোর মধ্যে দক্ষ কৃষি শ্রমিকের অভাব,অপরিকল্পিত জমির অপব্যবহার,পর্যাপ্ত পরিমাণে কৃষিতে ভর্তুকির অভার, যুগোপযোগী কৃষির প্রশিক্ষণের অভাব, মাঠ পর্যায়ে কৃষির আধুনিকতায়নে কৃষক এবং উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তার মৌলিক প্রশিক্ষণের অভার, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তির অভাব রয়েছে। এছাড়াও সর্বোপরি কৃষকের দোড় গোড়ায় কৃষির পরামর্শদানকারী উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তার নেই কোন প্রকার সরকারি যাতায়াত ভাতা বা যোগাযোগ ব্যবস্থা বা মাঠ পর্যায়ে কোন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
আজকের সকল প্রচেষ্ঠাকে কাজে লাগিয়ে আমরা কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়নের যে শুভ সূচনা করতে সক্ষমতা অর্জন করেছি তা আরো বৃদ্ধিতে আমরা বেশি ভর্তুকি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা বৃদ্ধি কল্পে দ্রুত সমস্যার সমাধান আনয়ন করা যেতে পারলে দেশ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণতায় বিশ্বে এক নম্বর স্থানে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT