উপ সম্পাদকীয়

রমজানের সাধনা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ

স্থিতধী বড়ুয়া প্রকাশিত হয়েছে: ২৫-০৫-২০১৯ ইং ০০:৩৫:২১ | সংবাদটি ১২৫ বার পঠিত

হিজরি বছর পঞ্জীর নবম মাসটি খুবই মহিমান্বিত। এই মাসের মর্যাদা এবং গুরুত্ব ইসলামী বিশ্বে অন্যান্য মাসের তুলনায় অনেক বেশি। এবার হিজরি ১৪৪০ বর্ষপঞ্জী অনুযায়ী রমজান মাসের ১লা তারিখ ইংরেজি ২০১৯ সালের মে মাসের ৭ তারিখ হওয়ায় সমগ্র মুসলিম বিশ্বে ঐদিন থেকে এক মাসের সিয়াম-সাধনা আরম্ভ হয়। এই পবিত্র মাসে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দ.) শবে কদরের রাতে পবিত্র মক্কা নগরীর অদূরে হেরা পর্বতের গূহায় সাধনারত অবস্থায় মুসলমানদের পবিত্র কোরআন নাজেল হয়। ইসলামী বিধান মতে এই মহিমান্বিত মাসে মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন নাজেল হওয়াতে স্রষ্টার সন্তুুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম রোজা পালনের মাস হিসাবে নির্ধারিত করা হয়েছে।
আমার এই নিবন্ধে আমি রমজানের আধ্যাত্মিক কিংবা ধর্মীয় বিশ্লেষণে যাচ্ছি না। যুগ যুগ ধরে ভারতীয় উপমহাদেশের বাংলা ভূখ-ে পৃথিবীর চারটি বৃহৎ ধর্মীয় জনগোষ্ঠী হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান এবং অন্যান্য নৃ-গোষ্ঠী একত্রে পাশাপাশি বসবাস করার কারণে নিজেদের মধ্যে সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ এবং সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে আমার সীমিত জ্ঞানের আলোকে আমি এখানে রমজান সম্পর্কে শুধু পার্থিব আলোচনায় যাচ্ছি। শৈশব হতে শুরু করে অদ্যাবধি দেখেছি পবিত্র রজমান মাসে বাংলাদেশের সর্বত্র আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা প্রত্যেক সুস্থ নর-নারী ইসলাম ধর্মীয় বিধান মতে রোজা রাখে। শত প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সহজে কেহ রোজা কাজা করতে চায় না। রোগী কিংবা শারীরিকভাবে অক্ষম কেহ রোজা রাখতে অপারগ হলে পরম করুণাময় আল্লাহ তালার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং পরবর্তীতে সুস্থ হওয়ার পর কাজা হওয়া রোজা রাখার জন্য তিনি সচেষ্ট হন।
রমজান সহনশীলতা এবং ধৈর্যধারণের মাস। এই পবিত্র মাসে প্রত্যেক রোজাদার মুসলমান তাদের কথা-বার্তা, তাদের কাজে-কর্মে এবং চলাফেরায় অসীম ধৈর্যধারণের মাধ্যমে সিয়াম-সাধনা পরিপূর্ণ করে। এ মাসে প্রত্যেক রোজাদার মোমিন মুসলমান পরম করুণাময় আল্লাহতালার সšু‘ষ্টি লাভের জন্য সর্ব প্রকার পাপাচার, পানাহার এবং ইন্দ্রিয় ভোগবিলাস হতে বিরত থাকে। পরম করুণাময় আল্লাহতালা এ মাসে মোমিন বান্দাদের কঠোর সাধনা, উদারতা, সততা, ধৈর্য, ন্যায়নিষ্ঠা এবং সহনশীলতার পরীক্ষা নেন। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া প্রত্যেক মোমিন মুসলমানের ফরজ। এই মাস দুঃস্থ, অক্ষম এবং অভাবীদের মাঝে দান-খয়রাত বিতরণের মাস। এই পবিত্র মাসে বিত্তবানেরা ইসলাম ধর্মীয় বিধান মোতাবেক দুঃস্থ ও অভাবীদের মাঝে যাকাত প্রদানের মাধ্যমে অধিক সোয়াব আদায় করে থাকে।
এবার বাংলাদেশে গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহের মাঝে সারা দেশের তাপমাত্রা যখন ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করছে তখন রমজান মাস শুরু হয়। ভোর রাতে সেহেরী খাওয়ার পর হতে ইফতার পর্যন্ত এই দীর্ঘ সময় গ্রীষ্মের প্রচ- তাপদাহের মাঝেও এদেশের মোমিন মুসলমানরা আবহাওয়ার এই চরম বৈরীতার মাঝেও রোজা রাখা হতে বিরত থাকছে না। শুধু তাই নয়, রোজাদাররা রোজার সাথে সাথে ধর্মীয় অনুশাসনগুলোও অক্ষরে অক্ষরে পালন করে যাচ্ছে।
এবার রমজান মাসের ১২ রোজা এবং ইংরেজি মে মাসের ১৮ তারিখ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মীয় উৎসব বৈশাখী পূর্ণিমা (শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা হিসেবে পরিচিত) সারা বাংলাদেশ ব্যাপী ধর্মীয় ভাবগম্ভীর এবং আনন্দঘন পরিবেশে পালিত হয়। সরকার এই ধর্মীয় উৎসব পালনের জন্য সারা বাংলাদেশব্যাপী পর্যাপ্ত পুলিশী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। গ্রীষ্মের প্রচ- তাপদাহের মধ্যে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বস্তরের সদস্যরা রোজা রাখার পরও ঢাকা, চট্টগ্রাম সিলেট সহ বাংলাদেশের সর্বত্র বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বৌদ্ধ মন্দির সমূহে ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদিতে নিরাপত্তা প্রদান করতে কোন ত্রুটি রাখেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সার্বিক এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা চোখে পড়ার মত ছিল এবং নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। এদেশের ধর্মপ্রাণ রোজাদার মুসলমানরাও এ ব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা প্রদান করতে কার্পণ্যবোধ করেনি। চট্টগ্রামের মাননীয় পুলিশ কমিশনার জনাব মাহবুবুর রহমান বিপিএম, পিপিএম বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি এবং এর অঙ্গ সংগঠন কর্তৃক শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে আয়োজিত শান্তি শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে শোভাযাত্রাকে আরো অধিকতর মহিমান্বিত করেন এবং এদেশের মাটিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অটুট বন্ধনের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। ঐদিন বিকেলে চট্টগ্রামের মাননীয় মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন সকল সংস্থার বৌদ্ধ কর্মচারীবৃন্দদের সাথে কর্পোরেশন ভবন হতে শান্তি শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আরো একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। ঢাকা-সিলেট সহ অন্যত্রও বুদ্ধপূর্ণিমার দিন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ.কে.এম আবদুল মোমেন সিলেট বৌদ্ধ বিহারে প্রধান অতিথি হিসেবে বুদ্ধপূর্ণিমার দিন বিকেলে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করে উক্ত সভাকে আরো গৌরবান্বিত করেন। বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২০/০৫/২০১৮ইং তারিখ ঢাকার গণভবনে পূজনীয় ভিক্ষুসংঘ এবং বৌদ্ধ নেতৃবৃন্দের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধন আরো মজবুত করেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা দেন বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে এবং এদেশে জঙ্গিবাদের কোন ঠাঁই হবে না। তাঁহার দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এই বক্তব্য প্রনিধানযোগ্য।
এখানে উল্লেখ করতে হয়, পুলিশের চাকুরিতে শিক্ষানবীশ এস.আই হিসেবে সিলেট পুলিশ ক্লাবে থাকার সময় রমজানের মাঝে পুলিশ ক্লাবে অন্যান্য মুসলিম অফিসারদের সাথে রোজার দিনে মাঝে-মধ্যে ভোরে সেহেরী খেতাম এবং সারাদিন উপবাস থাকার পর সন্ধ্যায় সবার সাথে একত্রে ইফতার করতাম। উপবাস করলে শরীর ও মন উভয় ভালো থাকে এটা বুঝতে অসুবিধা হতো না। প্রত্যেক ধর্মে ধর্মীয় বিধান মতে উপবাস পালনের বিধান রয়েছে। উপবাস শরীর ও মনে প্রশান্তি নিয়ে আসে। এতে ধর্মীয় বিশ্বাস আরো গভীরতা লাভ করে। চাকুরি জীবনে যে ক’জন মুসলমান ছেলে-মেয়ে কাজের লোক হিসেবে আমার বাসায় ছিল তারা প্রত্যেকে রোজা রাখতো। তাদের সবার সেহেরী এবং ইফতারের আয়োজন আমার বাসাতেই করা হতো। এখানে আরো উল্লেখ করতে হয় প্রয়োজন বৃহত্তর সিলেট (বর্তমান সুনামগঞ্জ) জেলার জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থাকাকালীন সময়ে থানা মসজিদের ইমাম সাহেব আমার বাসায় খাওয়া-দাওয়া করতেন। রোজার দিনে তাহার সেহেরী ও ইফতারের আয়োজন আমার সহধর্মিনী নিজ হাতে করতো। একজন মোমিন রোজাদারের সেবা প্রদান আমরা উভয়ে পরম সোয়াবের (পুণ্যের) কাজ মনে করতাম।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশ। এদেশের হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সহ সবাই আবহমানকাল হতে একত্রে বসবাস করে আসছে। ধর্মভীরু জাতি হিসেবে বাঙালির যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। এদেশের জনগণ ধার্মিক। কস্মিনকালেও ধর্মান্ধ ছিল না। বিভিন্ন প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী তাদের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য এদেশের সহজ ও সরল ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের দেশী ও বিদেশী চক্রের ইন্ধনে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ধর্মান্ধ মৌলবাদী বানাতে চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তারা মাঝে মাঝে জঙ্গি তৎপরতার মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মপ্রকাশ করার চেষ্টা করে। কিন্তু সরকারের জঙ্গিবাদ বিরোধী কঠোর পদক্ষেপ এবং জনগণ সরকারের সাথে সহযোগিতা প্রদানের কারণে তাদের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। শান্তির ধর্ম ইসলামে মৌলবাদের কোন আশ্রয়-প্রশ্রয় নেই। সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত সর্বধর্মের মিলনভূমি এই বাংলা মুল্লুকে ধর্মান্ধ মৌলবাদী জঙ্গিগোষ্ঠী কোনদিন ঘাঁটি তৈরী করতে পারার কোন লক্ষণ আছে বলে এখনো পরীলক্ষিত হচ্ছে না।
এদেশের ধর্মপ্রাণ জনগণ একে অপরের ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ করে পরস্পর পরস্পরকে মহিমান্বিত করেছে। এর নজির আমরা দেখতে পাই পবিত্র রমজানের দীর্ঘ একমাস সিয়াম-সাধনার পর মুসলমানদের পবিত্র ঈদের দিন, হিন্দুদের পবিত্র দুর্গোৎসবে, বৌদ্ধদের পবিত্র বুদ্ধপূর্ণিমা ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র বড়দিন উৎসবে যখন ধর্মীয় বেড়াজাল ডিঙিয়ে সবাই এক জায়গায় মিলিত হয়ে পরস্পরের সাথে কোলাকুলি করে।
দীর্ঘ এক মাস সিয়াম-সাধনার পর খুশির দিন অর্থাৎ ঈদ-উল-ফিতর সবার জন্য রহমত নিয়ে আসে। এই সময় সবাই ঈদের জামায়েতে নামাজ আদায় করতে যায় এবং নামাজের পর পরস্পরের সাথে কোলাকুলি করে কুশল বিনিময় করেন। এই কুশল বিনিময়ের আনুষ্ঠানিকতা হতে অন্যান্য ধর্মের অনুসারীরাও বাদ পড়ে না। এই স্বর্গীয় দৃশ্য প্রতিবছর বাংলাদেশের সর্বত্র ঈদের সময় দেখা যায়। ঈদের এই মহামিলনের আনন্দ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সহ সবার সাথে এদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিম জনগোষ্ঠী ভাগাভাগি করে নেয়। পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর এদেশের এখন সর্বজনীন ধর্মীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ভারততীর্থ’- কবিতার কিছু অংশ প্রাসঙ্গিকতার কারণে উদ্বৃত করা গেল-

‘হেথা আর্য্য হেথা অনার্য্য/ হেথায় দ্রাবিড় চীন-/ শক-হুন-দল পাঠান মোগল/ এক দেহে হল লীন’।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন য়ে প্রতিবছর রমজান আসলে এক শ্রেণির অসাধু, মুনাফাখোর, ন্যায়-নীতি বিবর্জিত, অতিলোভী অসৎ ব্যবসায়ী বাজারে পর্যাপ্ত মালামাল থাকা সত্ত্বেও রমজান শুরুর সাথে সাথে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সহ অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে রোজাদারদের জিম্মি করে অধিক মূল্যে ভোগ্যপণ্য খরিদ করতে বাধ্য করে। এছাড়াও রমজানের সময় বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার করে কাঁচা ফল তাৎক্ষণিকভাবে পাকানো এবং ভেজাল ভোগ্যপণ্য উৎপাদনের মহোৎসবে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা সক্রিয় হয়ে উঠে। অথচ সমগ্র মুসলিম বিশ্বে রোজার সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য রোজাদারদের ক্রয়-ক্ষমতার মধ্যে রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অথচ আমাদের দেশে এই ধরণের কার্যকরী পদক্ষেপ কাগজে-কলমে নেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে নানাবিধ কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও রোজার সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী রোজাদারদের সুবিধার্থে ক্রয়-ক্ষমতার মধ্যে রাখা হয়। এদেশে অতি মুনাফাখোর আড়তদার এবং খুচরা ব্যবসায়ী কাহারো বিবেকের দংশন এমন কিছু আছে বলে মনে হয় না। পবিত্র রমজান মাসেও তাদের বিবেক লাভ ও লোভের কাছে পরাভূত। মহান মুক্তি সংগ্রামের সময় রোজার দিনে এদেশের জনগণ নিজে না খেয়ে রোজাদার মুসলমান মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়ে সেহেরী এবং ইফতার খাওয়ানোর যথেষ্ট নজির রয়েছে। স্বাধীনতার মাত্র ৪৮ বছরের ব্যবধানে বাঙালির মন-মানসিকতার এই পরিবর্তন মন থেকে মেনে নেওয়া যায় না। মনে হয় এই বাঙালি আর সেই বাঙালির মধ্যে বিস্তর ব্যবধান সৃষ্টি হয়েছে। ২০-২৫ বছর আগেও ব্যবসায়ীদের রোজার মাসে বেপরোয়াভাবে রোজাদারদের পকেট কাটার প্রণবতা ছিল না। এখন তারাও নব্য ধনীদের মত আদর্শিক ন্যায়-নীতি বিসর্জন দিয়ে যেন তেন প্রকারে ভাবে ধনী হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এই সব অতি মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতার মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে তাদের প্রতিবছর রমজান এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের সময় রোজাদার সহ অন্যান্য ভোক্তাদের পকেট কাটা হতে কখনো বিরত রাখা যাবে না, এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • মিতব্যয়িতা
  • হংকং : কেন গণআন্দোলন
  • যানজট মুক্ত মহানগরী : কিছু প্রস্তাব
  • পানি নিয়ে ভাবনা
  • ভেজাল-দূষণ দূর করা কি খুবই কঠিন?
  • সৈয়দ মহসীন আলী : ক্ষণজন্মা রাজনীতিক
  • শিশুদের বিজ্ঞান মনস্ক করে গড়ে তোলার গুরুত্ব
  • রোহিঙ্গাঁ সমস্যা : প্রয়োজন আশু সমাধান
  • মজলিশী মুজতবা আলী
  • জলবায়ু ও পৃথিবীর বিপর্যয়
  • আমরা বই পড়া কি ভুলেই গেলাম
  • সফল হওয়ার সহজ উপায়
  • ঝুঁকিপূর্ণ রেল যোগাযোগ : প্রয়োজন সঠিক ব্যবস্থাপনা
  • আজকের দিন আজকের দিকে তাকাও
  • বিয়ে ব্যবস্থায় পরিবর্তন
  • কারবালার ঘটনা ও কয়েকজন সাহাবীর স্বপ্ন
  • আশুরায় সিলেটে হাদা মিয়া-মাদা মিয়ার বিদ্রোহ
  • গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার শিক্ষা শহীদে কারবালা
  • যাকে দেখতে নারী তার চলন বাঁকা
  • ‘শতভাগ সাক্ষরতা’ কতদূর
  • Developed by: Sparkle IT