প্রথম পাতা তিউনেশিয়া ফেরত রুবেলের তথ্য

লিবিয়ার সাগর তীরের ‘গেম ঘর’-এ এখনো বন্দি ৫০ সিলেটী তরুণ !

নূর আহমদ প্রকাশিত হয়েছে: ২৫-০৫-২০১৯ ইং ০২:৩৪:৫৪ | সংবাদটি ১৩৩ বার পঠিত


তারা রয়েছে দালাল রফিকের ছেলে পারভেজের হেফাজতে


লিবিয়ায় ভূমধ্যসাগরের তীরে ‘গেম ঘর’। সেই গেম ঘরে এখনো আটকে আছেন অর্ধশতাধিক বাংলাদেশী তরুণ। যাদের বেশিরভাগই সিলেটি। ভূ-মধ্যসাগরের উত্তাল ঢেউয়ে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসা রুবেল ও ছাইদুল ইসলাম জাবেরের বক্তব্য কেউ যেন ভুলেও পা না বাড়ায় সাগর পথে। তাদের দেয়া তথ্য মতে, দালাল পারভেজের গেম ঘরে অভিবাসন প্রত্যাশীদের অমানবিক নির্যাতন করা হচ্ছে। আবারো ঘটতে পারে সাগরে প্রাণহানি। যে কোন সময় আটকে থাকা তরুণদের সাগরে ভাসিয়ে দিতে পারে এ চক্র। তাদের এই জিম্মি দশা থেকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।
সিলেটের ডাক-এর সাথে একান্ত আলাপচারিতায় সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের ঘোপাল গ্রামের মোঃ রুবেল আহমদ জানান, তিনদিন সাগরে ভেসে খুব কাছ থেকে দেখেছেন মৃত্যুকে। লিবিয়া থেকে ইতালির উদ্দেশ্যে দু’টি বুটে যাত্রা করলেও ভাগ্যক্রমে রুবেলদের নৌকা অচল হয়ে গেলে সবাই বেঁচে যায়। রুবেল জানান, এর আগে লিবিয়ায় অন্ধকার ঘরে তাদের এক বছর রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। সারা দিনে প্রত্যেককে একটি মাত্র পাউরুটি দেয়া হতো। খাবারের জন্য পানির সাথে মিশিয়ে তাদেরকে পেট্রোল দেয়া হতো। যাতে তাদের ওজন কমে এবং একটি নৌকায় বেশি যাত্রী সংকুলান হয়।
রুবেল আহমদ আরো জানান, ঐ দিন ( ৯ মে) এক ঘন্টার ব্যবধানে লিবিয়া থেকে দু’টি নৌকা ইতালির উদ্দেশ্যে সাগরে যাত্রা করে। কিছুদূর গিয়ে অপর নৌকাটি ডুবে গেলে সাগরে প্রাণ হারায় সব যাত্রী। তিউনিশিয়া সীমান্তে যাওয়ার পর রুবেলদের নৌকাটিও নষ্ট হয়ে যায়। তারপর টানা তিনদিন সাগরে ভেসে থাকেন নৌকার নারী শিশুসহ ৫৭ যাত্রী। এক পর্যায়ে একটি তেলবাহী জাহাজ তাদের রাবারের বুটের সন্ধান পায়। রুবেল আহমদ জানান, তেলবাহী জাহাজের যাত্রীরা তাদের সাহায্যে এগিয়ে এলেও কেউ তাদের জাহাজে তুলতে রাজি হয়নি। এক রাত রাবারের বুটে ভাসমান থাকতে হয় তাদের। অবশ্য তিউনিশিয়ার তেলবাহী জাহাজের যাত্রীরা লাইট জালিয়ে আলো দিয়ে তাদের সাহায্য করেছিল। পরে তারা মোবাইল দিয়ে ছবি তুলে তিউনিশিয়া কোস্ট গার্ডের কাছে পাঠায়। এরপরও সাড়া দেয়নি কোস্ট গার্ড সদস্যরা। পরে জেলেরা সাহায্যে এগিয়ে এসে উদ্ধার করে তিউনিশিয়ার কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করে।
রুবেলের বক্তব্য ভাগ্য বদলের আশায় দালালের মাধ্যমে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন। উদ্দেশ্য অসুস্থ বাবা-মা, স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া চার বোন আর ভাইয়ের সংসারের হাল ধরা। সে লক্ষ্যে গত রোজায় বিমানে করে বাংলাদেশ থেকে দুবাই-মিশর হয়ে লিবিয়া পৌঁছান রুবেল।
রুবেলের মতে, দালাল পারভেজ কথা রাখেনি। তাদের সাথে কথা ছিল লিবিয়া থেকে জাহাজে করে তাদেরকে পাঠিয়ে দেয়া হবে ইতালি। কিন্তু লিবিয়ায় নিয়ে অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা হয় তাকে। সেখানে চলে অমানবিক নির্যাতন। খেয়ে না খেয়ে এক বছর কাটানোর পর গত ৯ মে তুলে দেয়া হয় ভূ-মধ্যসাগরের রাবারের তৈরি বুটে। ২৫ জন ধারণ ক্ষমতার নৌকায় তোলা হয় ৫৭ জনকে।
রুবেল জানান, মাছ ধরার শিপের পরিবর্তে রাবারের(প্লাস্টিক) নৌকা দেখে উঠতে চাননি রুবেল। পারভেজের উপস্থিতিতে কয়েকজন লিবিয়ান( তার ভাষায় লিবি নাগরিক) তার মাথায় পিস্তল ধরে। এরপর বাধ্য হয়েই তিনি রাবারের নৌকায় উঠেন। রুবেল জানান, নৌকায় ৫৭ যাত্রী ছিলেন। এরমধ্যে সোমালিয়ার বাসিন্দা ৬ জন নারী ও ৬ জন শিশু ছিলেন।
রুবেল জানান, লিবিয়া বিমানবন্দরে নামার পর তাদেরকে গ্রহণ করে সে দেশের আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সশস্ত্র সদস্য। তারা নিজেদের গাড়িতে শুইয়ে বস্তা দিয়ে মুড়িয়ে পৌঁছে দেয় দালালের কাছে। সেই থেকে তারা দালাল পারভেজ এর নিয়ন্ত্রণে গেম ঘরে ছিলেন।
রুবেল বলেন, ইতালি পৌঁছে দেয়ার আশ্বাসে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বৈরাগীবাজার কাতলীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রফিক মিয়া ৯ লাখ টাকা নেন রুবলের বাবা-মার কাছ থেকে। সিলেট সুনামগঞ্জ সড়কের পাশে ৪ শতক জমি বিক্রি করে ঐ টাকাগুলো তুলে দিয়েছিলেন দালালের হাতে। এখন তার পরিবার পুরোপুরি নি:স্ব। নিজের পরিবারকে পুনর্বাসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতা চেয়েছে রুবেল।
রুবেল জানান, সাগরের তীরে গেম ঘরে এখনো ৫০ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। এদের সকলেই সিলেটের বাসিন্দা। এদের যে কোন মুহূর্তে ইতালী পৌঁছে দেয়ার কথা বলে সাগরে ভাসিয়ে দিতে পারে। রুবেলের দাবি, অবৈধ মানব পাচারের সঙ্গে লিবিয়ার সেনা সদস্যরাও জড়িত রয়েছে।
অন্যদিকে, তিউনিশিয়া থেকে দেশে ফেরত দক্ষিণ সুরমার লালাগাঁওয়ের ছাইদুল ইসলাম জাবেরও নির্যাতনের নানা তথ্য তুলে ধরেন। বিশ্বনাথ উপজেলার বৈরাগীবাজার কাতলীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রফিক মিয়ার ছেলে পারভেজের মাধ্যমেই তারা মূলত ইটালী যেতে চেয়েছিলেন । এর আগে গেইম ঘরে নির্যাতনের শিকার হন ছাইদুল। ছাইদুল ইসলাম জাবের ভবিষ্যতে আর কোন তরুণকে দালালদের খপ্পরে পড়ে এই পথে পাড়ি না দেয়ার আহবান জানান।
প্রসঙ্গত, রুবেল ও ছাইদুল গত মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৫০মিনিটে তিউনিশিয়া থেকে ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এরপর বিভিন্ন বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদের পর বুধবার রাত ২টায় বাড়ি ফেরে তারা।

 

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • জামালগঞ্জে ইউসুফ ও শায়েস্তাগঞ্জে ইকবাল উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত
  • আফগানিস্তানকে বিধ্বস্ত করে শীর্ষে ইংল্যান্ড
  • নাসায় আমন্ত্রণ পেয়েছে শাবি’র অলিক টিম
  • দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নেই: ফখরুল
  • দিনাজপুরে প্রথম লোহার খনি আবিষ্কার
  • জগন্নাথপুরে গাছের সঙ্গে পাওয়ার টিলারের ধাক্কায় প্রাণ গেল চালকের
  • বিয়ানীবাজারে ইভটিজিংয়ের দায়ে তরুণের ৬ মাসের কারাদ-
  • সিলেট চেম্বারের আপীল বোর্ডও গঠিত
  • সিলেট-সুনামগঞ্জ রুটে বিআরটিসি’র বাস চালু রাখা’সহ ৪ দফা দাবি
  • বিমানবন্দরগুলোতে ‘ডগ স্কোয়াড’ ইউনিট রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • খালেদা জিয়ার জামিন প্রমাণ করে বিচারবিভাগ স্বাধীন: কাদের
  • মহাপরিচালকের পদত্যাগ চান ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালকরা
  • দুই মামলায় খালেদাকে ৬ মাসের জামিন
  • ডিআইজি মিজানের শাস্তির ব্যবস্থা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  • সব কিছুতে প্রধানমন্ত্রীকে লাগলে সচিবদের দরকার কী: হাইকোর্ট
  • ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর সেতু দিয়ে যান চলাচল বন্ধ
  • ‘সাকিবময়’ ম্যাচে টাইগারদের রেকর্ড গড়া জয়
  • পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ধর্মঘট আহ্বানের প্রতিবাদে আন্দোলনে সাধারণ যাত্রীরা
  • পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহারের দাবিতে পৃথক মানববন্ধন
  • সিলেটে ছাতক সমিতির গণ-অনাস্থা প্রাচীর
  • Developed by: Sparkle IT