সম্পাদকীয়

মহাসড়কে বিশ্রামাগার

প্রকাশিত হয়েছে: ২৬-০৫-২০১৯ ইং ০০:১৯:৩৫ | সংবাদটি ১৫২ বার পঠিত

বিশ্রামাগার হবে মহাসড়কের পাশে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে দুর্ঘটনা এড়ানো। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, দুর্ঘটনা এড়াতে মহাসড়কের পাশে বাস ও ট্রাক চালকদের জন্য বিশ্রামাগার তৈরীর নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। গত বছরের সেই নির্দেশনার আলোকে দেশের চারটি মহাসড়কের পাশে বিশ্রামাগার নির্মাণ করতে যাচ্ছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। এসব বিশ্রামাগারে গাড়ি পার্কিং ও ওয়ার্কশপের সুযোগ থাকবে। পরিকল্পনা কমিশন বলছে টেকসই ও নিরাপদ মহাসড়ক গড়ে তোলার লক্ষে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর ও খুলনা এই চার জাতীয় মহাসড়কের পাশে বিশ্রামাগার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ব্যয় হবে দু’শ ৩৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা। আগামী বছরের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। বিশ্রামাগারে খাবারসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান রাখার কথাও রয়েছে।
নির্দেশ দিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী। তাই সেই আদেশ তো শিরোধার্য্য। মহাসড়কের পাশে হবে বিশ্রামাগার, বাস ও ট্রাক চালকদের জন্য। ব্যাপারটা এরকম যে, যানবাহন চালাতে গিয়ে চালকেরা ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং তাদের বিশ্রামের কোন সুযোগ থাকে না। আর ক্লান্ত দেহে যানবাহন চালাতে গিয়েই তারা দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। দৃশ্যটা যদি এরকম হতো, তাহলে কোন কথা ছিলো না। কিন্তু ব্যাপারটা পুরোপুরি সেরকম নয়। প্রথমত ক্লান্ত দেহে ক্লান্ত মনে গাড়ি চালাতে হবে কেন? দ্বিতীয়ত বিশ্রাম নিতে চাইলে চালকেরা কি এখন বিশ্রাম নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে না? প্রতিটি সড়ক মহাসড়কেই কয়েক কিলোমিটার পর পর রয়েছে ছোট বড় হোটেল-রেস্তরাঁ, বাজার, মার্কেট ইত্যাদি। তাছাড়া দূর পাল্লার বাস চালক ও যাত্রীরা মাঝে মধ্যে বিশ্রাম নিচ্ছেনও। সরকারের দেয়া নিয়ম অনুযায়ী একজন চালক এক টানা পাঁচ ঘন্টার বেশী যানবাহন চালাতে পারবেনা। সেই আইন মেনে নিয়েই সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে পাঁচ থেকে সাত ঘন্টার ভ্রমণে কমপক্ষে একবার যাত্রী ও চালক বিশ্রাম নিচ্ছে। কিন্তু তারপরেও কি দুর্ঘটনা ঘটছে না? আসলে চালকের বিশ্রামের অভাবেই বেশীর ভাগ দুর্ঘটনা ঘটছে, সেটা নয়। বিশ্লেষকদের মতে বেশীর ভাগ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালক-হেলপার। পক্ষান্তরে বলা যায় চালক-হেল্পার ইচ্ছাকৃতই অনেক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। আর এইসব দুর্ঘটনায় কেউ নিহত হলে সেটা হবে ‘ঠান্ডা মাথায় খুন’। এজন্য দায়ী যানবাহনের চালক ও হেলপার।
এই প্রেক্ষাপটে সড়কের পাশে বিশ্রামাগার নির্মাণ করে সড়ক দুর্ঘটনা কতোটুকু নিয়ন্ত্রণ করা যাবে সেটাই বড় প্রশ্ন। বরং শতকোটি টাকার এই প্রকল্পের বদৌলতে সরকারী অর্থ লুটপাটের একটা মহোৎসব হবে আর নির্মিত বিশ্রামাগারগুলোকে কেন্দ্র করে সমাজবিরোধীদের নিয়ে গড়ে উঠবে একটি চক্র, যারা নানা অপকর্মের কেন্দ্রে পরিণত করবে এই বিশ্রামাগারগুলোকে। বিশেষজ্ঞগণ এই রকমই আশংকা করছেন। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি উল্লিখিত বিষয় নিয়েও ভাবতে হবে। সর্বোপরি সড়ক দুর্ঘটনার গতিপ্রকৃতি বর্তমানে যে রূপ ধারণ করেছে, সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে চালক-হেল্পারদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তাদের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করতে হবে। অন্তত সরকার যে সড়ক নিরাপত্তা আইন ঘোষণা করেছে তার বাস্তবায়নই হোক প্রথমে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT