প্রথম পাতা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের বিভাগীয় কর্মশালায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সোনার বাংলা গড়ার জন্য সোনার মানুষ তৈরী করতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত হয়েছে: ২৬-০৫-২০১৯ ইং ০২:৫৮:৩৪ | সংবাদটি ১৬৬ বার পঠিত

 পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, আমরা ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়নের সকল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে চাই। ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে চাই। এজন্য সোনার মানুষ তৈরী করতে হবে। কাজেই, গুণগত মানের জনবল সৃষ্টিতে আমাদের সকলকে প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
গতকাল শনিবার নগরীর রিকাবীবাজারস্থ কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে মা-শিশু, কিশোর-কিশোরী, প্রজনন স্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা সেবা কার্যক্রম পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন বিষয়ক বিভাগীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এমসিএইচ-সার্ভিসেস ইউনিটের আয়োজনে এ কর্মশালা বাস্তবায়ন করে বিভাগীয় পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সিলেট।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার ৪৯ ভাগ এখনো ২৫ বছরের নিচে । তাদেরকে উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে না পারলে আগামীতে আমাদের জন্য বিরাট অসুবিধা হবে। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হলে তারা সিলেটে বসে আমেরিকার চাকুরী করতে পারবে।
দেশের উন্নয়ন মানে সবার উন্নয়ন এই মন্তব্য করে মন্ত্রী আরো বলেন, এজন্য সরকার পরিবার পরিকল্পনা খাতে বেশী জোর দিয়েছে। এ খাতে বরাদ্দও আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে। পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম আরো জোরদার করতে গণসচেতনতা কার্যক্রম আরো বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে সুস্থ-সবল সন্তান জন্ম দানে মহিলাদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। মহিলাদের হাসপাতালে সন্তান জন্মদানের বিষয়ে আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। এ ব্যাপারে ভাতা চালু করা যেতে পারে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের বিদ্যমান সমস্যাবলী উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে উত্থাপনের আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে ড.মোমেন সিলেটের শিক্ষার হার নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেন । তিনি বলেন, সারাদেশের মধ্যে সিলেটের শিক্ষিতের হার কম। সিলেটের শিক্ষার হার বাড়ানোর ওপরও জোর দেন তিনি।
পরিবার পরিকল্পনা সিলেট বিভাগের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. কুতুব উদ্দিনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, স্থানীয় সরকার সিলেট বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মতিউর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা জেবুন্নেসা হক, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. এনামুল হক এনা ও সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো: আসলাম উদ্দিন।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, প্রায় সকল সরকারি দপ্তরেই জনবল সংকট রয়েছে। সীমিত জনবল সত্বেও আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আত্মতুষ্টির কোন অবকাশ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্থানীয় সরকার সিলেট বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মতিউর রহমান বলেন, সিলেট অঞ্চলে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকেও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা এ ব্যাপারে তদারকি করছেন বলেও জানান তিনি।
কর্মশালায় স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. এনামুল হক এনা বলেন, এক সময় পরিবার পরিকল্পনা খাতের উন্নয়নের অন্তরায় হিসেবে সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলকে পিছিয়ে পড়া হিসেবে উল্লেখ করলেও এখন সে অবস্থা নেই। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মীদের সুযোগ সুবিধার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারলে আরো সুফল আসবে।
সিলেট সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবুল মনসুর আসজাদ ও নবীগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রিয়াংকা পালের যৌথ পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর সুনামগঞ্জের উপ-পরিচালক মোজাম্মেল হক, হবিগঞ্জের উপ-পরিচালক ডা. নাসিমা খানম ইভা, সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি ইকরামুল কবির।
বিভাগীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর সিলেটের উপ-পরিচালক ডা. লুৎফুন্নাহার জেসমিন এবং বিশেষ অতিথিদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান মৌলভীবাজার সদরের মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচএফপি) ডা. শারমিন সুলতানা নিতু।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন সিলেট কালেক্টরেট জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মো. শাহ আলম, গীতা পাঠ করেন সিলেট সদরের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা চায়না তালুকদার। বিভাগীয় কর্মশালায় সিলেট বিভাগের চার জেলায় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা, পরিদর্শক, মাঠকর্মীরা অংশ নেন।
কর্মশালার সভাপতি (যুগ্ম সচিব) মো. কুতুব উদ্দিন পরিবার পরিকল্পনা খাতে সিলেট বিভাগের কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি জানান, সিলেট অঞ্চলে ১৭ লক্ষ ১৯ হাজার ৩শ সক্ষম দম্পতিকে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সেবার আওতায় আনা হয়েছে। যা শতকরা হারে ৭৭ দশমিক ৪২। ২০২২ সালের মধ্যে তা শতকরা ৮৫ ভাগে উন্নীত করার টার্গেট রয়েছে। তিনি এ বিভাগের কর্মীদের পেনশন ৮০ ভাগের পরিবর্তে শতভাগ করা, তিন বছরের ডিপ্লোমা কোর্স ও পদোন্নতি ব্যবস্থা চালু, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জনবল সংকট দূর করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • ছাত্রলীগের নেতৃত্বে জয়-লেখক
  • সিলেট বিভাগে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ম্যুরাল নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে
  • জনগণের আস্থা সমুন্নত রাখুন
  • আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন ডিসেম্বরে
  • নবম ওয়েজ বোর্ডের গেজেট প্রকাশ
  • বরমচাল রেল দুর্ঘটনায় হাইকোর্টের রুল জারি
  • সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হবে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান -----------উপাচার্য ডা. মোর্শেদ আহমেদ
  • মৌলভীবাজারে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সৈয়দ মহসিন আলীকে স্মরণ
  • সিলেটে মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করলেন সাদ এরশাদ
  • ষড়যন্ত্রকারীদের রুখতে স্বেচ্ছাসেবক লীগকে সোচ্চার হতে হবে: নির্মল চন্দ্র গুহ
  • কোম্পানীগঞ্জের উৎমা সীমান্তে খাসিয়ার গুলিতে বাংলাদেশির মৃত্যু
  • তালতলায় নির্মাণাধীন ভবনের ইট পড়ে শ্রমিকের মৃত্যুর অভিযোগ
  • আফিফের ব্যাটে হারের বৃত্ত ভাঙল বাংলাদেশ
  • ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসহ বিভিন্ন উন্নয়নে সহায়তা দেবে এডিবি
  • ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’ আজ আসছে
  • একমাস ধরে সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম চড়া
  • সৈয়দ মহসিন আলীর ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ
  • আগামী তিনদিন থাকতে পারে বৃষ্টিপাত
  • স্লোভাকিয়ার জঙ্গল থেকে উদ্ধার বিশ্বনাথের ফরিদের লাশ
  • বিএনপি নয়, ছাত্রদলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারেক: ফখরুল
  • Developed by: Sparkle IT