মহিলা সমাজ

মানুষের বিবেক

রূপালী চক্রবর্তী প্রকাশিত হয়েছে: ২৮-০৫-২০১৯ ইং ০০:০৯:৪২ | সংবাদটি ৬৮ বার পঠিত


মহান সৃষ্টিকর্তার সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হলো মানুষ। তাই মানুষকে বলা হয় যে, ‘Man is the best creature of god আর এই সর্বশ্রেষ্ঠ জীব মানুষ কী তার মহান সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত মান ও হুশ রাখতে পারছে। আর যদি পেরেই থাকে তবে কেন এতো মানুষে মানুষে সংঘাত, মারামারি, হানাহানি। আমরা প্রতিনিয়তই সংবাদপত্রগুলোতে চোখ রাখলেই দেখতে পাই খুন, ধর্ষণ, আত্মহত্যা! স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন, স্ত্রীর পরকীয়ার বলি স্বামী-সন্তান, ছেলের হাতে মা-বাবা খুন, প্রেমিকের হাতে প্রেমিকা বা প্রেমিকার একাধিক প্রেমের বলি প্রেমিক।
যদি মানুষ সর্বশ্রেষ্ঠ জীব হয়েই থাকে তবে কেন এতো খুন-খারাবি। তবে কী সৃষ্টিকর্তা মানুষকে তার সর্বশ্রেষ্ঠ জীব বলে আখ্যায়িত করাটাই তার অন্যায়। আর তা কেনই বা হতে যাবে। সমাজের কিছু স্বার্থপর সুবিধাবাদি মানুষের জন্য সমগ্র মনুষ্যজাতিকে তো আর আমরা বিবেকহীন বলতে পারি না। কারণ সব মানুষ কখনই সমান হতে পারে না। Man is born free but everywhere he is in chain পৃথিবীতে দুইটি শব্দ যেমন ভালো আর মন্দ। আর তাই সবাইকে আমরা এক আসনে স্থান না দিয়ে ভালোকে ভালো আর মন্দকে মন্দের আসনেই স্থান দিব। একটি কথা প্রচলিত আছে যে, মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্যে দিয়ে। পৃথিবীতে অনেক মুনি-ঋষি, জ্ঞানী-গুণী, কবি-সাহিত্যিক আছেন যে তারা তাদের কর্মের মধ্যে দিয়ে বেঁচে আছেন। আর কিছু মানুষ আছে যে, তাদের কর্ম এবং তাদের কথা মনে হলেই ভয়ে আঁতকে ওঠে। আর তাই আমি বলতে চাই যে, মানুষের বিবেক তার একান্তই নিজস্ব। সব মানুষের বিবেক বুদ্ধি সমান নয়। প্রতিটি মানুষ যেমন আলাদা তেমনি তার বিবেকও আলাদা হয়ে থাকে। আর মানুষের এই বিবেক হলো তার শ্রেষ্ঠ আদালত। যদি তার ভালো এবং মন্দ বিচার করার মতো ক্ষমতা থাকে তবে সে বিবেকবান আর যদি না থাকে তবে বিবেকহীন। আর আমরা জানি যে বিবেকহীন মানুষ পশুর সমান। যে মানুষের পশুর মতো আচরণ থাকে তাকে শ্রেষ্ঠ জীব বলাটাই অন্যায় হবে। আর আমরা এটাও জানি যে, সৎ সঙ্গে স্বর্গ বাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ।
কাজেই মানুষকে বিবেকহীন আর খারাপ না বলে যারা খারাপ এবং বিবেকহীন কাজ করে শুধুমাত্র তাদেরকে যেন আমরা পরিহার করে চলতে পারি। আমরা যদি আমাদের ভেতরের বিবেকটাকে জাগ্রত করতে পারি এবং তাকে সঠিকভাবে কাজে পরিচালনা করতে সক্ষম হই তবেই আমরা আর অন্যায় কাজে লিপ্ত হবো না।
মানুষ যখন জন্মগ্রহণ করে তখন নিঃষ্পাপ হয়েই জন্মগ্রহণ করে। কোনো পরিবারের মা-বাবা সন্তান জন্মদানের প্রক্রিয়া থেকেই যদি সন্তানদের আচার-আচরণ, ব্যবহার, চিন্তা-চেতনা নিয়ে সঠিকভাবে শিক্ষা দিতে পারেন তবেই সে সন্তান বড় হয়ে মানুষের মতো মানুষ হবে এবং তার পরিবারের সুনাম বয়ে আনবে। সন্তান ভালো হলে শুধু পরিবারের সুনাম বয়ে আনবে না বরং সমাজ ও জাতি জন্য গর্ব এবং অহংকার। শুধুমাত্র সন্তান জন্ম দিলেই মা বাবা হওয়া যায় না। তাকে সঠিকভাবে লালন পালন করতে হয়। তাকে যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হয়। তবেই একজন মা-বাবা সার্থক মা-বাবা হিসেবেই গণ্য হবে। তাইতো মা-বাবার উচিত তাদের সন্তান যেন খারাপ পথে পা না বাড়ায় সে দিকে খেয়াল রাখা। আবার কোনো সন্তান যদি খারাপ পথে পা বাড়ায় তবে তাকে শুধু শাসন না করে তাদের সোহাগ ও বুঝানোর মধ্য দিয়ে সেই পথ থেকে ফিরিয়ে আনা, তা না হলে যেমন হবে মা-বাবার ক্ষতি ঠিক তেমনি হবে সমাজ ও জাতির ক্ষতি। আমরা একটি কথা জানি যে, পাপকে ঘৃণা কর পাপীকে নয় । কারণ জন্ম থেকে তো কেউ আর পাপী হয়ে জন্মায় না। বিভিন্ন ধরণের পারিপার্শ্বিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে হয়তো সে পাপকাজে লিপ্ত হয়। কাজেই প্রত্যেক মা-বাবা যদি তাদের সেই বিবেকবোধকে কাজে লাগিয়ে তাদের সন্তানকে সঠিকভাবে এবং সঠিকপথে ধাবিত করেন তাহলে তাদের সন্তান কখনও তাকে খারাপ পথে পরিচালনা করতে পারবে না। আর তাই তো প্রত্যেক মানুষের উচিত তার ভিতরের এই বিবেককে কাজে লাগিয়ে চলা। আর তার সেই বিবেককে যদি সে কাজে লাগিয়ে চলে তবে তাকে কখনও আদালতে যেতে হবে না।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT