মহিলা সমাজ

স্বপ্ন যখন ভেঙ্গে যায়

শেফা বেগম ফাতেমা প্রকাশিত হয়েছে: ২৮-০৫-২০১৯ ইং ০০:১১:৫৭ | সংবাদটি ২৩৫ বার পঠিত

মানুষ যখন স্বপ্ন দেখে, আশায় বুক বাঁধে, তখন হাজার বছর বাঁচতে ইচ্ছে হয়। আর সেই স্বপ্ন যখন ভেঙে যায় তখন মানুষ পাথর হয়ে যায় কথায় বলে অল্প শোকে কাতর অধিক শোকে পাথর। কিন্তু তারপরও সবকিছুকে অতিক্রম করে চলতে হয়, এটাই নিয়ম। এই পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় আপন মা বাবা। আর মা বাবার স্বপ্ন থাকে ছেলে মেয়েকে নিয়ে।
আমাদের এই সমাজে যদিও কোন মা বাবা মেয়েকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন না। কারণ মেয়েরা বিয়ে হয়ে গেলে চলে যাবে তাই তাদেরকে নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকে বেশি। বিশেষ করে আমাদের এই সমাজে একদিন প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, এডভোকেট হয়ে মা বাবার মুখ উজ্জ্বল করবে। দেশ ও জাতির জন্য গৌরব বয়ে আনবে, এই প্রতিক্ষার প্রহর গুণতে হয়ে যায় অনেকটা বছর। কিন্তু সেই ছেলে বা মেয়ে যখন সেই সুন্দর স্বপ্নটা ভেঙ্গে দেয় তখন তাদের কি বা করার থাকে। কান্না ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না মা-বাবার। এরকম হাজারও পরিবার আছে, মা বাবা অনেক কষ্ট করে জমিজমা বিক্রি করে ছেলেকে পড়ালেখা করান, তারপর দেখা যায় যে, কোন বড়লোক মেয়ের পাল্লায় পড়ে বিয়ে করে শ্বশুর বাড়িতে আশ্রয় নেয়। এই ছেলেকে পড়ালেখা করাতে পরিশ্রম হয়েছে, কষ্ট হয়েছে, তা কি করে একটি ছেলে বিবেক বুদ্ধি হারিয়ে একা সুখী হতে চায়। কিন্তু তারপরও কি সে সুখী হতে পারে।
মা বাবার যে হাহাকার বুকে তা একদিন ক্ষুরে ক্ষুরে ধ্বংস করে দেয়। শুধু এই দিকটি নয়। তাছাড়া অনেক আছে যে, চাকরির অযুহাতে গ্রামে মা বাবাকে রেখে শহরে এসে ঘর সংসার করছেন। শুধু মা বাবাকে প্রতি মাসে কিছু টাকা পাঠিয়ে দিলেই সকল দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়, এই ধারণা তাদের থাকে। ছেলেদেরকে নিয়ে মা বাবার এই হাহাকার নয়, আরও অনেক ঘটনা আছে যা অহরহ আমরা দেখতে পাই। অনেক ছেলে আছে যারা সঙ্গদোষে নষ্ট হয়, কেউবা নিজের দোষে নিজেকে দোষী করে। কারণ ছেলে বা মেয়ে যখন বড় হয় তখন তাকে কোন মা বাবাই চান না পরাধীনতার শিকলে বেঁধে রাখতে। কিংবা একটি ছেলে ও মেয়ে কখনও একা বড় হতে পারে না, এই সমাজ এই পরিবেশ সবকিছু মানুষের আয়ত্বে। পরিবেশ এই সমাজ পরিস্থিতির শিকারে অনেক খারাপ কাজ করতে বাধ্য করে। তা কতটুকু সত্য, জানিনা। কিন্তু তারপর একথা বলতে চাই যে, কোন কিছুই কিন্তু মানুষের আয়ত্তের বাইরে নয়। মানুষের হাত, পা, জ্ঞান, বুদ্ধি সবকিছু প্রভু দিয়েছেন, বুঝার জন্য, জানার জন্য বিবেক বিবেচনা করে সব কিছুর সাথে সামঞ্জস্য করে চলতে হবে। কেউ মন্দ কাজ করছে, সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঢেকে দিচ্ছে, তাই বলে নিজেকেও সেইভাবে পরিচালিত করতে হবে তাই নয়। নিজে যদি সেই পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে না পার, নিজেকে হাজার প্রতিকূলতা থেকে রক্ষা করে অন্যকেও সেই কুপথ থেকে সরে আসার জন্য অনুপ্রেরণা না জাগাও, তাহলে মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার কি দাম আছে।
এই পৃথিবীতে সৃষ্টির সেরা তারাই যারা নিজেকে অন্যের কল্যাণে নিবেদিত করেছেন। শুধু সেবা আর সাহায্য টাকা পয়সা দিয়ে নয় একজন মানুষকে সত্যের সন্ধান দেওয়া, ন্যায় পথে পরিচালিত করা, তার কর্মে তাকে উদ্যোগী করে তোলা, অনুপ্রেরণা দেওয়া সেটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড়। আর যারা এ ধরনের মহৎ কাজে নিয়োজিত তারাই শ্রেষ্ঠ, তারাই মহান। তারা মরেও অমর হয়ে থাকবেন মানুষের হৃদয়ে। তারাই প্রকৃত মানুষ। এ সমাজে এখনও এ ধরনের মানুষ আছে বলে এই সমাজ, এই পরিবেশ এখনও টিকে আছে। কিন্তু তার ব্যতিক্রম মানুষেরও অভাব নেই। অনেক আছে নিজের স্বার্থটাকে বড় মনে করেন, নিজেকে নিজে বড় করবে, অন্যের ভালমন্দ দেখার বা শুনার মত সময় নেই, এ ধরনের মানুষ স্বার্থসিদ্ধির জন্য এক ধরনের যুব সমাজকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। তাই এই ধরনের মানুষকে আমাদের চিহ্নিত করতে হবে। যারা আমাদের দেশ ও জাতির শত্রু। এই শত্রুদের কবলে পড়ে অনেক বিবেকহীন যুব সমাজ অন্ধকারে পা রেখে, মা বাবার স্বপ্নকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করে। যে কাজে খোদ ও দুনিয়াতে সুখ নেই, সে কাজ করে কখনও এই জীবনে শান্তি পেতে পারে না।
তাইতো আমাদের এই পরিবেশ, এই সমাজ, সমস্ত বিবেকহীনতার কারণে দিন দিন অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে। সমাজ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে সত্য সুন্দর পথ, নৈতিকতার দিক নিদর্শন। হারিয়ে যাচ্ছে মা বাবার স্বপ্ন। আজ এই পরিবেশ মরণব্যাধি এইডসকেও হার মানায়। ভাবতে বড় কষ্ট হয়, মা বাবা চান না কোন সন্তান কুপথে পরিচালিত হয়ে জীবনকে ধ্বংস করুক। একথা বাস্তব যে, ছেলে বা মেয়ে যদি জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন মা বাবার স্বপ্ন সার্থক হয়। আর যখন দেখা যায় কোন ছেলে নেশার তাড়নায় ধুকে ধুকে মা বাবার চোখের সামনে প্রাণ হারায়, তখন সেই অসহায় মা বাবা বেঁচে থেকেও মৃত্যুর যন্ত্রণা ভোগ করেন।
আমরা চাই না কোন মা বাবা তার ছেলে মেয়েকে নিয়ে দুশ্চিন্তা বা দুঃস্বপ্নের মধ্যে জীবন অতিবাহিত করুক। নিজের সুখের কথা ভাবতে একবারও যেন মা বাবার কথা মনে পড়ে। কারণ মা বাবার অভিশাপে কারো জীবন ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। যদিও কখনও মা বাবা সন্তানকে আশীর্বাদ ছাড়া অভিশাপ দেন না। প্রত্যেক পরিবারের ছেলেমেয়েরা যদি তাদের মা বাবাকে বুঝে সেই অনুযায়ী চলে তাহলে এই সমাজ, এই পরিবেশ সুস্থ ও সুন্দর হয়ে উঠবে। ভেঙে যাবে না মা বাবার গড়া স্বপ্ন। মা বাবার সুখই যেন আমাদের সুখ হয়ে দাঁড়ায়। এই হোক সকলের অঙ্গীকার।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT